আবাসন সংকট

নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অনেক অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন সংকটের মধ্যেও নিউইয়র্কে খালি পড়ে আছে ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট

নিউইয়র্ক সিটিতে একদিকে যখন আবাসন সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে রয়েছে। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরের পাঁচটি বরো মিলিয়ে প্রায় ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি সংস্কার ব্যয়, ভাড়া বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এসব বাসা নতুন ভাড়াটিয়াদের কাছে হস্তান্তর করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক বাড়ির মালিক।   দ্য সিটি রিপোর্টার রাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের শূন্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এক দশক আগে, ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তথ্যগুলো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবনের মালিকদের স্বপ্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগ্রহ করেছে ডিভিশন অব হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল।   করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ সালে এই শূন্যতার হার সাময়িকভাবে ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। সে সময় নিউইয়র্ক সিটির জনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ম্যানহাটন ছাড়া শহরের বাকি চারটি বরোতেই খালি অ্যাপার্টমেন্টের হার বেড়েছে। তবে কোন কারণে এসব অ্যাপার্টমেন্ট খালি রয়েছে বা কতগুলো বাসায় সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে তথ্যভান্ডারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা নেই।   ব্রঙ্কসভিত্তিক ইউনিভার্সিটি নেবারহুড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক ব্রেন্ডন মিচেলের মতে, মহামারির সময় উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অনেক মামলা জমে ছিল। পরে আদালত সেগুলো নিষ্পত্তি শুরু করলে কিছু অ্যাপার্টমেন্ট খালি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন নিউইয়র্ক অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর কর্মকর্তা মাইকেল জনসন। তার দাবি, সমস্যার মূল কারণ অর্থনৈতিক। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করতে যে ব্যয় হয়, নির্ধারিত ভাড়ায় তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না।   তার ভাষায়, শহরে আবাসনের চাহিদা ব্যাপক হলেও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কিছু অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নতুন ভাড়াটিয়ার কাছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু কম ভাড়ার ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে সংস্কার ব্যয় আদায় করা কঠিন হওয়ায় অনেক মালিক সেগুলো খালিই রেখে দিচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় এলাকায় ভবন মালিকদের পরিচালন মুনাফা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কুইন্সে তা বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ, ব্রুকলিনে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রঙ্কসে পরিচালন আয় কমেছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসব ভবনের অনেক মালিকের দাবি, বড় ধরনের সংস্কার করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের নেই। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরোনো চার শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ সংস্কার করতে ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। অথচ মাসিক ভাড়া যদি মাত্র ৮০০ ডলার হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাড়া বৃদ্ধির আইনি সীমাবদ্ধতা। নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড নির্দিষ্ট সীমার বাইরে ভাড়া বাড়ানোর অনুমতি দেয় না। সম্প্রতি সংস্থাটি আগামী দুই বছরের জন্য ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছে। এছাড়া ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কার্যকর হওয়া হাউজিং স্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড টেন্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি হলেও মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে পারেন না।   ব্রঙ্কসের ৫০টি ভবন পরিচালনাকারী সাইকামোর বার্চ ম্যানেজমেন্ট-এর সভাপতি মার্ক বোরবো বলেন, অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীর মতে, বর্তমান নিয়মে বড় ব্যয়ে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে আর্থিক লাভ করা কঠিন। কারণ সংস্কারের পরও ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ নেই।   আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে আবাসন সংকট নিরসনে শুধু নতুন ভবন নির্মাণই নয়, দীর্ঘদিন খালি থাকা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো কীভাবে আবার বাজারে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিও এখন বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও ভাড়া কমাতে বড় পদক্ষেপ, সিনেটে পাস হলো দ্বিদলীয় আবাসন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার ক্রমবর্ধমান খরচ কমাতে এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় বিল সিনেটে ব্যাপক সমর্থনে পাস হয়েছে। আইনপ্রণেতারা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগ আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে বাড়ির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করবে।   সোমবার সিনেটে ‘২১শ শতাব্দীর রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’ ৮৫–৫ ভোটে পাস হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সমর্থন পাওয়া এই বিল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ির দাম ও ভাড়া দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আবাসন সংকট একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিলটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় আবাসন নীতিগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আইনটিতে নতুন বাড়ি নির্মাণের পথে থাকা বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধা কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, নতুন আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে একক পরিবারের বাড়ি কেনায় বড় কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের প্রভাব সীমিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   বিলটি চূড়ান্ত করার আগে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সংস্করণ তৈরি করা হয়। সিনেট ব্যাংকিং কমিটির চেয়ারম্যান টিম স্কট বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা কাজের ফল হিসেবে এই আইন আবাসন খরচ কমানো, সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সিনেট ব্যাংকিং কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, নতুন আইন আবাসন নির্মাণে বিদ্যমান বাধা দূর করবে এবং বাজারে আরও বাড়ি যোগ করতে সহায়তা করবে। তার মতে, আবাসনকে শুধু বিনিয়োগের পণ্য হিসেবে না দেখে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।   হোয়াইট হাউসও বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষ করে একক পরিবারের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা সীমিত করার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিলটিতে ৪৫টিরও বেশি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে আবাসন নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, উদ্ভাবনী আবাসন তহবিল গঠন এবং প্রবীণদের জন্য আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেন, এই আইন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও এই বিলের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন প্রমাণ করে যে আবাসন সংকট এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনুমোদন পেলে এটি আইনে পরিণত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।

Unknown জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ গৃহহীন মানুষের সংখ্যা, আবাসন সংকটে উদ্বেগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্য যেকোনো বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে প্রবীণ গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজ্যের বর্তমান আবাসন ব্যবস্থা এমন বহু প্রবীণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না, যারা আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে বেশি সহায়তা চান, কিন্তু হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে থাকার প্রয়োজন নেই।   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এজিংয়ের এক শুনানিতে এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবাসন ও প্রবীণ কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি হাজারো প্রবীণকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।   স্যাক্রামেন্টোভিত্তিক সামাজিক সেবা প্রতিষ্ঠান এল হোগার কমিউনিটি সার্ভিসেসের প্রধান নির্বাহী জেনেল কাজারেস বলেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এসব কারণে স্থায়ী আবাসন খুঁজে পেতে তাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়।   তিনি বলেন, অনেক প্রবীণ এমন এক ধরনের সহায়তা চান, যা স্বাধীনভাবে বসবাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মাঝামাঝি অবস্থানে পড়ে। কিন্তু এই ধরনের আবাসন ব্যবস্থারই সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে। শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে গৃহহীন একক প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি। তাদের মধ্যে অনেকেই জীবনের প্রথমবারের মতো গৃহহীনতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন।   রাজ্যজুড়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ বর্তমানে গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কাউন্টিতে গৃহহীন জনগোষ্ঠীর ২৫ থেকে ২৯ শতাংশই প্রবীণ। ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন নীতিবিষয়ক সংগঠন লিডিংএজ ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী পরিচালক হ্যারিসন লিন্ডার বলেন, এটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এবং তাদের জন্য কী ধরনের সমাধান প্রয়োজন, তা নিয়ে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণদের গৃহহীন হয়ে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা কমে যায়, আয় সীমিত হয়, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে এবং একই সময়ে আবাসনের খরচও নাগালের বাইরে চলে যায়। লিন্ডারের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও প্রায় ৩২ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি তাদের মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি শুধু বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করেন। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি আবাসন-সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।   চাহিদা বাড়লেও সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনের সরবরাহ সেই তুলনায় খুবই কম। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরো ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনের ইউনিট রয়েছে মাত্র ৯০ হাজারের মতো। অথচ নতুন একটি ভর্তুকিপ্রাপ্ত আবাসন ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হতে পারে ৭ লাখ ডলারেরও বেশি।   সান্তা ক্লারা কাউন্টির সর্বশেষ গৃহহীনতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শিশু থাকা পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী বাসস্থানে জায়গা পেয়ে যায়। কিন্তু একা বসবাসকারী প্রবীণরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই সুযোগ পান না। ফলে তাদের বড় অংশকে খোলা আকাশের নিচে বা অনিরাপদ পরিবেশে থাকতে হয়।   এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন ৬১ বছর বয়সী স্টিভ গ্যাসকিল। তিনি স্যাক্রামেন্টোর একটি প্রবীণ আবাসনে বসবাস করেন। কমিশনের শুনানিতে তিনি জানান, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাবহাবে কাজ করে কোনোমতে ১ হাজার ৩০০ ডলারের ভাড়া পরিশোধ করতেন। কিন্তু ভাড়া বাড়ার পর তিনি আর তা বহন করতে পারেননি।   পরে দীর্ঘ সময় আবেদন করার পর একটি সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনে জায়গা পান তিনি। গ্যাসকিল বলেন, “আমরা এখনো বেঁচে আছি। শুধু মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য একটু সহায়তা প্রয়োজন।” তবে সব প্রবীণের ভাগ্যে গ্যাসকিলের মতো সুযোগ জোটে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই আবাসনের অনুমোদন পাওয়ার আগেই রাস্তায় নেমে যেতে বাধ্য হন। আর একবার গৃহহীন হয়ে গেলে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে।   ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এজিংয়ের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির স্বাস্থ্য উদ্যোগের দীর্ঘদিনের পরিচালক ডেভিড লিন্ডেম্যান বলেন, রাস্তায় বসবাস করলে বয়সজনিত সমস্যাগুলো আরও দ্রুত ও তীব্র আকার ধারণ করে।   গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, প্রতিকূল আবহাওয়া, অপুষ্টি, চিকিৎসার অভাব এবং অনিরাপদ জীবনযাপনের কারণে গৃহহীন মানুষদের মধ্যে ‘দ্রুত বার্ধক্য’ দেখা দেয়। ফলে ৫০ বছর বয়সী একজন গৃহহীন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনেক সময় ৭০ বছর বয়সী কোনো নিরাপদ বাসস্থানে থাকা মানুষের মতো হয়ে যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, উপযুক্ত আবাসনের অভাবে বহু প্রবীণকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা অস্থায়ী আবাসনে থাকতে হয়। এতে যেমন তাদের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সরকারি ব্যয়ও বেড়ে যায়।   তাদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তাসম্পন্ন সাশ্রয়ী আবাসন দ্রুত সম্প্রসারণ করা না হলে আগামী বছরগুলোতে গৃহহীনতার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ‘রেন্ট ফ্রিজ’ দাবিতে বিক্ষোভ, ২৪ লাখ ভাড়াটিয়ার জন্য ভাড়া না বাড়ানোর আহ্বান

নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ২৪ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত বা ‘রেন্ট ফ্রিজ’ করার দাবিতে মঙ্গলবার ম্যানহাটনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লক, CAAAV এবং ম্যানহাটনের বিভিন্ন ভাড়াটিয়া সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন।   সমাবেশের আগে জোয়ান অব আর্ক পার্কে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রামলাইন ও নৃত্যের আয়োজন করা হয়। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সিম্ফনি স্পেসে পৌঁছে সমাবেশ করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভাড়া না বাড়ানোই সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ।   আয়োজকদের দাবি, গত মাসে নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের প্রাথমিক ভোটে এক ও দুই বছরের নবায়নযোগ্য লিজের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, দুই বছরের লিজেও প্রথমবারের মতো ভাড়া না বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে।   নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার বলেন, ভাড়াটিয়ারা বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল সামাজিক সুবিধা কমে যাওয়া এবং অভিবাসন অভিযানের মতো নানা চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বাড়িওয়ালার পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। এ কারণে এক ও দুই বছরের লিজে ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   আয়োজক সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বাসস্থান নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য উচ্ছেদ এবং অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।   তাদের দাবি, সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাড়া স্থগিত রাখলে অধিকাংশ বাড়িওয়ালার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। পাশাপাশি ভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়িওয়ালাদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিও বিদ্যমান রয়েছে।   সমাবেশে বক্তব্য দেন চায়নাটাউনের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা এবং CAAAV-এর ভাড়াটিয়া নেতা শুঝেন লিউ। তিনি বলেন, গত ৩১ বছরে তাঁর ভবনের মালিক একাধিকবার পরিবর্তিত হলেও ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।   তাঁর অভিযোগ, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহিতা বাড়ানোর পরিবর্তে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করে। তাই তিনি সব ধরনের লিজে ‘রেন্ট ফ্রিজ’ কার্যকর করার আহ্বান জানান।   সংগঠনগুলোর দাবি, নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়ারা শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে ভাড়া বাড়লেও অনেক ভবনে বসবাসের পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং গরম পানি ও তাপ সরবরাহের মতো মৌলিক সেবা নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে।   তারা আরও অভিযোগ করে, কিছু বাড়িওয়ালা ভবন সংস্কারের পরিবর্তে ভাড়ার অর্থ ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, বাড়িওয়ালাদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সম্পত্তি কর, বীমা এবং অন্যান্য পরিচালন খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া ভবন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে।   রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে থাকে। এখন বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি | ছবি: সংগৃহীত
আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের মুখে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ২২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট মোকাবিলায় মেয়র জোহরান মামদানির ঘোষিত ২২ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী এক দশকে ২ লাখ সাশ্রয়ী ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত আবাসন নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ বিদ্যমান ইউনিট সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা’ কর্মসূচিকে সমালোচকেরা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করছেন।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে করদাতাদের অর্থ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। মেয়র মামদানির প্রশাসনের দাবি, নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয় এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংকট মোকাবিলায় এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ফক্স নিউজের কলাম গবেষক নিকোল হুয়ার ও অ্যানি হেইম পরিকল্পনাটিকে ‘ব্যর্থ সমাজতান্ত্রিক নীতি’ এবং ‘অবাস্তব প্রস্তাব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   সমালোচকদের মতে, নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের মূল কারণ আবাসনের সরবরাহ ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত সীমাবদ্ধতা। তাদের দাবি, উচ্চ কর, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন আবাসন নির্মাণকে নিরুৎসাহিত করেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আবাসন নির্মাণ সহজ করা গেলে সংকট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে মামদানির পরিকল্পনা সেই পথের বিপরীত দিকে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।   এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দীর্ঘদিন অবহেলিত বা জীর্ণ আবাসিক ভবনের মালিকানা ব্যক্তিগত বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট, অলাভজনক সংস্থা অথবা ভাড়াটেদের সংগঠনের হাতে হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করা। মেয়র মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ভবনগুলো সংরক্ষণ করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।   তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ‘কমিউনিটি অপরচুনিটি টু পারচেজ অ্যাক্ট (২০২৫)’-এর আওতায় অলাভজনক সংস্থা ও ভাড়াটে গোষ্ঠীগুলোকে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব ভবন উন্মুক্ত বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বিক্রির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, এতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ কমে যাচ্ছে।   এদিকে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সরকারি আবাসন ব্যবস্থাগুলোর একটি পরিচালনা করছে। সংস্থাটির অধীনে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার অ্যাপার্টমেন্টে ৫ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করেন। সমালোচকদের বক্তব্য, সরকারি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান না করেই আরও বেশি সম্পত্তি সরকারি অনুমোদিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ কার্যকর হবে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে।   হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের কয়েকজন গবেষক পরিকল্পনার কিছু অংশের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর সরকারি প্রভাব বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা এই নীতিকে কার্ল মার্ক্সের সম্পদ পুনর্বণ্টন ধারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন।   বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নিউইয়র্কের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডও। এই বোর্ড শহরের প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ইউনিটের ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণ করে। সমালোচকদের দাবি, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে বাড়িওয়ালাদের মুনাফা সীমিত হয়ে যায়, যা ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হ্রাস পায়।   মামদানি প্রশাসন ‘রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিংস’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে ভাড়াটেরা তাদের আবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবহেলনাকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।   ন্যাশনাল মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং কাউন্সিলের তথ্য উদ্ধৃত করে সমালোচকেরা দাবি করেছেন, ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রণমুক্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার মতো সরবরাহমুখী নীতিই আবাসনের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বেশি কার্যকর হতে পারে।   সমালোচকদের আরও দাবি, ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনা আবাসন খাতে ব্যক্তিগত পুঁজি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাদের মতে, শত শত কোটি ডলার সরকারি ব্যয়ের পরিবর্তে আবাসন নির্মাণে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো হলে ডেভেলপাররাই নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারতেন।   অন্যদিকে মেয়র মামদানি ও তার প্রশাসন বলছে, সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি দূর করতে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ অপরিহার্য। ফলে প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি নিয়ে নিউইয়র্কের আবাসন নীতি, সরকারি হস্তক্ষেপ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

তাবাস্সুম জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বাড়ছে গৃহহীনদের সংখ্যা। ছবি: মিন্ট
নিউইয়র্ক সিটিতে ভাউচার তহবিল সংকটে আবাসন সংকটের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ

নিউইয়র্ক সিটিতে হাউজিং ভাউচার তহবিল সংকট ঘিরে বড় ধরনের আবাসন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে প্রায় ১২ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়তে পারেন।   তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শহরের প্রায় ৫ হাজার ২০০ পরিবার হাউজিং ভাউচার সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে শিশু ও পরিবারের সদস্যসহ মোট ১২ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন।   আবাসন অধিকারকর্মীরা জানান, সংকটটি নিউইয়র্কের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিন এলাকায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।   নিউইয়র্ক হাউজিং কনফারেন্সের প্রতিনিধি ব্রেন্ডন চেনি বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। যারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা এই সহায়তার ওপরই নির্ভরশীল।   তিনি আরও জানান, ভাউচার কর্মসূচিটি বহু নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জীবনরেখার মতো কাজ করছে। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অনেক পরিবার বাসস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।   নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ফেডারেল পর্যায়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও বাসিন্দাদের সহায়তা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির ফেডারেল অর্থায়ন ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে অংশগ্রহণকারীদের পাবলিক হাউজিং অপেক্ষমাণ তালিকায় আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে সেখানে ইতোমধ্যে দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা রয়েছে।   এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রুকলিনের বাসিন্দা লাশোন স্মিথ বলেন, এটি মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। বাসস্থান হারালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

Unknown মে ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ; উচ্ছেদের আশঙ্কায় অভিবাসী ও শ্রমজীবীরা

নিউইয়র্ক সিটিতে দুই মিলিয়নেরও বেশি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বাসিন্দার জন্য ভাড়া না বাড়ানোর দাবিতে শত শত মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। আসন্ন ভাড়া নির্ধারণ বোর্ডের (Rent Guidelines Board) প্রাথমিক ভোটের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ‘টেন্যান্ট ব্লক’ নামক একটি আবাসন জোটের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মূলত শহরের শ্রমজীবী এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত চার বছরে বাড়িওয়ালাদের মুনাফা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়লেও সাধারণ মানুষের ওপর ভাড়া বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ফেডারেল সামাজিক সুবিধা হ্রাস এবং অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর তৎপরতার কারণে অনেক পরিবার এখন উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা দাবি করেন, ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ভবনের সংস্কারে ব্যয় না করে অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ফলে অনেক ভবনে তাপ ও গরম পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে।   অন্যদিকে, আবাসন খাতের মালিকপক্ষ ভাড়া স্থগিতের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, ভাড়া না বাড়লে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অনেক সম্পত্তি দেউলিয়া বা বিক্রি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এ পরিস্থিতিতে তারা রাজ্য সরকারের কাছে কর-ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার দাবি জানিয়েছে।   যদিও নগর প্রশাসন আবাসন সংকট মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ এবং মেরামতের অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছে, তবে ভাড়াটিয়ারা একে পর্যাপ্ত মনে করছেন না। আসন্ন বোর্ডের চূড়ান্ত ভোটেই নির্ধারিত হবে নিউইয়র্ক সিটির কয়েক লাখ বাসিন্দার ভবিষ্যৎ এবং শহরের সামাজিক কাঠামো।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে দখলদারদের কবলে ৫৪৮ সরকারি আবাসন, গ্রেপ্তার ৮১

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি আবাসন দখলের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত তিন বছরে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির মালিকানাধীন অন্তত ৫৪৮টি খালি বাসা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টিগেশনের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়মিত পরিদর্শনের ঘাটতির কারণে খালি পড়ে থাকা আবাসনগুলো সহজেই দখল করে নিচ্ছে অসাধু চক্র।   ডিওআই জানায়, অনেক ক্ষেত্রে এসব আবাসন দীর্ঘদিন খালি থাকলেও তা পর্যবেক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দখলদাররা সুযোগ পেয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে। হাউজিং কর্মকর্তাদের মতে, দখলের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে সম্প্রতি খালি হওয়া বা সংস্কারের আওতায় থাকা অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে। বিশেষ করে যেখানে সীসাযুক্ত রং বা অ্যাসবেস্টস অপসারণের কাজ চলছিল, সেসব জায়গাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ' কিছু ক্ষেত্রে এসব দখলকৃত বাসায় অপরাধ চক্রের সম্পৃক্ততারও প্রমাণ মিলেছে। ব্রঙ্কসের মিচেল হাউসেসে একটি খালি অ্যাপার্টমেন্টে একজন নারীকে বসবাস করতে দেখা যায়। ব্রুকলিনের সার্ফসাইড গার্ডেনসে অভিযানে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আর কাসল হিল হাউসেসে একটি খালি ফ্ল্যাট থেকে এক গ্যাং সদস্যের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।   এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সুপারিশ করেছে ডিওআই। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং আইন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্দেহভাজন ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   এ বিষয়ে সিটি কাউন্সিলর অ্যালেক্সা অ্যাভিলেস বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি আবাসন সংকটে থাকা পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি আবাসনের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় বর্তমানে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেক পরিবার এক দশকের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন।

Unknown এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০