নিউইয়র্ক সিটিতে দুই মিলিয়নেরও বেশি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বাসিন্দার জন্য ভাড়া না বাড়ানোর দাবিতে শত শত মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। আসন্ন ভাড়া নির্ধারণ বোর্ডের (Rent Guidelines Board) প্রাথমিক ভোটের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ‘টেন্যান্ট ব্লক’ নামক একটি আবাসন জোটের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মূলত শহরের শ্রমজীবী এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত চার বছরে বাড়িওয়ালাদের মুনাফা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়লেও সাধারণ মানুষের ওপর ভাড়া বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ফেডারেল সামাজিক সুবিধা হ্রাস এবং অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর তৎপরতার কারণে অনেক পরিবার এখন উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা দাবি করেন, ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ভবনের সংস্কারে ব্যয় না করে অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ফলে অনেক ভবনে তাপ ও গরম পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, আবাসন খাতের মালিকপক্ষ ভাড়া স্থগিতের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, ভাড়া না বাড়লে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অনেক সম্পত্তি দেউলিয়া বা বিক্রি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এ পরিস্থিতিতে তারা রাজ্য সরকারের কাছে কর-ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার দাবি জানিয়েছে।
যদিও নগর প্রশাসন আবাসন সংকট মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ এবং মেরামতের অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছে, তবে ভাড়াটিয়ারা একে পর্যাপ্ত মনে করছেন না। আসন্ন বোর্ডের চূড়ান্ত ভোটেই নির্ধারিত হবে নিউইয়র্ক সিটির কয়েক লাখ বাসিন্দার ভবিষ্যৎ এবং শহরের সামাজিক কাঠামো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ডের কারখানায় সেলফ-চেকআউট মেশিনের ত্রুটির কারণে অন্তত আরও চারজন কর্মীকে স্ন্যাকস চুরির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি কারখানার এক ইলেকট্রিশিয়ান মাত্র ১.৯৫ ডলারের একটি কুকি চুরির মিথ্যা অভিযোগে চাকরি হারানোর পর ঘটনাটি প্রথম দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ওই ইলেকট্রিশিয়ান ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে তিনি কুকির দাম পরিশোধ করেছিলেন। এরপরই মূলত কারখানার ভেতরে থাকা সেলফ-চেকআউট কিয়স্কগুলোর ত্রুটির বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে এবং বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়। নতুন করে চাকরি হারানো কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন ফোর্ডের মিশিগান অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে প্রায় নয় বছর ধরে কাজ করা নিক নাবোজনি। ৩৮ বছর বয়সী এই কর্মীকে এক প্যাকেট ডরিটোস এবং চিজযুক্ত রিটজ ক্র্যাকার্স চুরির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিক জানান, তিনি সেলফ-চেকআউট মেশিনে তার ডেবিট কার্ড ট্যাপ করেছিলেন এবং স্ক্রিনে পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণের সংকেত দেখার পরই স্ন্যাকসগুলো নিয়েছিলেন। ঘণ্টায় ৪০ ডলার বেতনে কাজ করা এবং ওভারটাইম মিলিয়ে বছরে সোয়া লাখ ডলারের বেশি আয় করা একজন মানুষ কেন সামান্য খাবারের জন্য নিজের ও পরিবারের জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলবেন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে সেই যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছেন নিক। ফোর্ডের অন্যান্য কর্মীরাও দীর্ঘদিন ধরে কারখানার ভেতরে থাকা অ্যারামার্ক (Aramark) কোম্পানির এই কিয়স্কগুলোর নানা ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। তাদের দাবি, মেশিনগুলোতে প্রায়ই পেমেন্ট আটকে যায়, ডাবল চার্জ কাটা হয় এবং স্ক্রিন ফ্রিজ হয়ে থাকে। সাধারণ কর্মীদের ওপর চুরির দায় চাপানোর এই ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে আসার পর ফোর্ড এবং খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যারামার্ক যৌথভাবে তাদের সেলফ-সার্ভ কিয়স্কগুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে সংবাদমাধ্যম ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস জানিয়েছে, স্ন্যাকস চুরির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া মিশিগানের অন্তত তিনজন কর্মীকে ইতিমধ্যে তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জুয়ার নেশা মেটাতে নিজ ক্লায়েন্টদের ৩ লাখেরও বেশি মার্কিন ডলার আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন এক সাবেক আইনজীবী। ৩৬ বছর বয়সী ওই আইনজীবীর নাম সার্জিও ভালদোভিনোস রামিরেজ। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ম্যানহাটন বিচের বাসিন্দা সার্জিও সম্প্রতি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে বড় অঙ্কের চুরি এবং অপর্যাপ্ত তহবিলের চেক প্রদানের মতো একাধিক ফেলোনি (গুরুতর অপরাধ) অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ১ লাখ বা তার বেশি ডলারের আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়ার বিশেষ অভিযোগও তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সার্জিও তার ক্লায়েন্টদের সাথে এই ভয়ংকর প্রতারণা করেন। বিভিন্ন আইনি মামলার নিষ্পত্তি বা ক্ষতিপূরণ বাবদ ক্লায়েন্টদের যে অর্থ পাওয়ার কথা ছিল, তিনি তা সুকৌশলে নিজের পকেটে ভরেন। শুধু তাই নয়, তিনি ক্লায়েন্টদের এমন কিছু চেক দিয়েছিলেন যা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাউন্স করেছিল। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সার্জিও তার জুয়া খেলার নেশার পেছনে ব্যয় করেছেন। এই জালিয়াতির কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার আইন পেশার সনদ বাতিল (ডিসবারড) করা হয়। দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে, সার্জিওকে তার সাজা ঘোষণার আগে ৫০ হাজার ডলার জমা দিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ফেরত দিতে হবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে এবং তাকে দুই বছরের জন্য স্টেট কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান এই ঘটনাকে একটি ‘তাসের ঘর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্টেট বার কর্মকর্তারা তার এই দ্বৈত আচরণের কথা জানতে পারার পর সব তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। তিনি শুধু আইন পেশাই হারাননি, এখন তাকে চুরি করা অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি কারাগারের সাজাও ভোগ করতে হবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় ১৩ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক কিশোরকে উদ্দেশ করে একজন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টের কথিত মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির চালক দাবি করছেন, তাঁর সৎভাইকে দেখে এজেন্ট বলেছেন, “সে যদি অবৈধ হয়, আমি তাকে নিয়ে যাব।” ঘটনাটি ঘটে লুইজিয়ানার স্লাইডেল এলাকায়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অ্যালান লরেয়ানো। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১৩ বছর বয়সী সৎভাই। ট্রাফিক স্টপের সময় বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তারা দুজনের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সম্পর্কে জানতে চান। ওই সময় লরেয়ানোর দাবি, এক এজেন্ট তাঁর সৎভাইকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন, যা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। এরপর তিনি পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আচরণ এবং ট্রাফিক স্টপের সময় নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন নিয়ে। তবে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পরিচয় যাচাইয়ের পর চালক ও তাঁর সৎভাই—দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যাচাই শেষে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যানবাহন থামিয়ে পরিচয় যাচাই করতে পারে। তবে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযানের সময় নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ, পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং বর্ণগত বা জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। লুইজিয়ানার এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর বর্ডার প্যাট্রোলের কার্যক্রম ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এজেন্টের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।