রাজধানীর হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের প্রধান জামাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মুসল্লিরা অংশ নেন। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের পর খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও সেবামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজুর ব্যবস্থা এবং সংরক্ষিত নামাজের স্থান রাখা হয়। পাশাপাশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। মুসল্লিদের সুবিধার্থে জাতীয় ঈদগাহে পর্যাপ্ত ওজুখানা, মেডিকেল টিম এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাড়ে তিন হাজার নারীসহ প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্বের আবহে জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সম্পন্ন হয়।
সাম্য, ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদ্যাপিত মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের মতো এ ঈদে চাঁদ দেখার অপেক্ষা থাকে না। নির্ধারিত তারিখ জানা থাকায় আগেভাগেই শুরু হয় প্রস্তুতি। পশু কেনা, কোরবানির আয়োজন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের জন্য গ্রামে ফেরা, সবকিছুই সম্পন্ন করেন মানুষ আগে থেকেই। এবারের ঈদ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাওরের ফসলহানি, হাম রোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। আয়-ব্যয়ের টানাপোড়েনের মধ্যেও মানুষ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রস্তুত হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলনের আনন্দেই খুঁজে নেওয়া হচ্ছে স্বস্তির মুহূর্ত। কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন, "ঈদজ্জোহার চাঁদ হাসে ঐ এলো আবার দুস্রা ঈদ কোরবানি দে কোরবানি দে শোন্ খোদার ফর্মান তাকিদ।" দেশজুড়ে ঈদের জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে। নতুন অথবা পরিষ্কার পোশাক পরে, সুগন্ধি মেখে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করছেন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা। ঈদুল আজহার মূল অনুষঙ্গ কোরবানি। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন। ইসলামী বিধান অনুযায়ী আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমার ঈদগাহের কাছে না আসে।” বাংলাদেশে সাধারণত গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেওয়া হয়। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে দুম্বা, ভেড়া ও উট কোরবানির প্রচলন রয়েছে। এ অঞ্চলে অতীতে ছাগল কোরবানির প্রচলন বেশি থাকায় ঈদুল আজহা ‘বকরিদ’ নামেও পরিচিত ছিল। দেশভাগের পর গরু কোরবানির হার ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। ইসলামে কোরবানির মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রেও মানবিকতা ও সামাজিক ন্যায়ের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোরবানিদাতা নিজের জন্য এক অংশ রেখে বাকি অংশ আত্মীয়স্বজন ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। এর মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঈদুল আজহার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ঘটনা। মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে পুত্রকে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। পরে আল্লাহর ইচ্ছায় হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। সেই ঘটনার স্মৃতিতেই মুসলমানরা প্রতি বছর কোরবানি করেন। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং মনের ভেতরের লোভ-লালসা ও কুপ্রবৃত্তিকে দমন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। পবিত্র কোরআনের সুরা হজের ৩৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর মাংস বা রক্ত পৌঁছায় না, পৌঁছে মানুষের তাকওয়া। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মোট পাঁচটি ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় এবং পরবর্তী জামাতগুলো সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বাইরে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানেও বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা এসব জামাতে অংশ নিতে সমবেত হয়েছেন। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকতে পারে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে মুসলিম বিশ্বের দ্বারে এসেছে। তিনি আল্লাহর কাছে দেশ, জাতি ও সমগ্র মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কামনা করেন। ঈদ উপলক্ষে টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ আয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশুসদনে বিশেষ খাবার পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে খোলা মাঠ ও মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার। ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পার্ক, স্কুলের খেলার মাঠ, পার্কিং লট এবং মসজিদসংলগ্ন সড়ক ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন। শুক্রবার ও শনিবার নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরোতে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। যেসব মসজিদ খোলা মাঠে নামাজের আয়োজন করেছে, সেখানে সাধারণত একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আর মসজিদের ভেতরে আয়োজন করা হলে সর্বোচ্চ চারটি পর্যন্ত জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ স্থানে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগও থাকবে। নিউইয়র্ক ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এবার ছয়টি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এসব জামাত আয়োজন করা হবে। জ্যামাইকার জামাইকা মুসলিম সেন্টারের পক্ষ থেকে থমাস এডিসন স্কুল মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় বায়তুল জান্নাহ জামে মসজিদের উদ্যোগে সড়কের ওপর জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দূরে কোরবানি কাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের সুবিধার্থে ভোরে বিশেষ জামাতের আয়োজনও করা হয়েছে। ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে বাংলাবাজার জামে মসজিদের আয়োজনে পিএস ১০৬ স্কুলের মাঠে খোলা আকাশের নিচে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টি হলে সেখানে একাধিক সময়সূচিতে জামাতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওজোন পার্ক, ব্রুকলিন, ম্যানহাটনসহ বিভিন্ন এলাকায় মসজিদভিত্তিক ও খোলা মাঠে ঈদের জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্থানে বৃষ্টি পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ম্যানহাটনের ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে সকাল থেকে চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আস-সাফা ইসলামিক সেন্টারেও তিনটি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘নো পার্কিং’ নির্দেশনা, পুলিশ টহল এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে। ঈদ জামাত ঘিরে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় মুসল্লিদের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে মেট্রোরেল চলাচলের নতুন সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬)। আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার দেশে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও সরকারি ছুটির বাকি ছয় দিন তা স্বাভাবিক নিয়মে চালু থাকবে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ছুটির দিনগুলোতে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় এবং মতিঝিল থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে, উত্তরা উত্তর থেকে সর্বশেষ ট্রেনটি রাত সাড়ে ৯টায় এবং মতিঝিল থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়বে। এই সময়ে ট্রেনগুলো ১২ থেকে ১৫ মিনিট বিরতিতে চলাচল করবে। তবে যাত্রীদের চাপের ওপর ভিত্তি করে ট্রিপের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানো হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। টিকিট কেনা ও রিচার্জের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ৬টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত একক যাত্রার টিকিট কেনা এবং এমআরটি বা র্যাপিড পাসে টাকা রিচার্জ করা যাবে। তবে ঈদের পরদিন ২৯ মে শুক্রবার টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ভিন্ন সূচি অনুসরণ করা হবে। এদিন উত্তরা উত্তর স্টেশনে বেলা ২টা ৪৫ মিনিট এবং মতিঝিল স্টেশনে বেলা ৩টা ৫ মিনিট থেকে একক যাত্রার টিকিট ও র্যাপিড পাস কেনা যাবে। ছুটির এই পুরো সময়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটের পর সব স্টেশনেই টিকিট বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় গ্রাহকদের সুবিধার্থে ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন বা এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিতে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করাসহ কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য বুথগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের বুথ পরিদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতি রোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার পাশাপাশি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ও কিউআর কোড সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে বলা হয়েছে। অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনে টু ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো এমএফএস সেবাগুলোতেও এজেন্ট পর্যায়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে এবং গ্রাহক হয়রানি রোধে সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা দরে) প্রায় ৩০ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে তুলনায় চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ কোটি ডলারের বেশি। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা এ প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এভাবে আয় আসতে থাকলে ঈদের আগে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে প্রবাসী আয় বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। আজ চারটি ব্যাংক থেকে সাত কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু পশু কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, তাকওয়া, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা। কুরবানির সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে ধর্মীয় বিধান, তেমনি রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক দিকও। কিন্তু প্রতি বছর অসচেতনতা, তাড়াহুড়া এবং সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা কুরবানির গোশতের গুণগত মান নষ্ট করে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ায়। এসব ভুল শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও ক্ষতিকর হতে পারে। কুরবানির সময় সাধারণ কিছু ভুল ও তার সঠিক দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো। জবাইয়ের সময় যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয় ও সঠিক পদ্ধতি: কুরবানির অন্যতম বড় ভুল হলো শরিয়তসম্মত জবাই পদ্ধতি অনুসরণ না করা, যেমন— ধারালো ছুরি ব্যবহার না করা, পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া কিংবা এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা। আরেকটি গুরুতর ভুল হলো, জবাইয়ের পর পশুর পুরোপুরি প্রাণ বের হওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানো বা দ্রুত প্রাণ বের করার জন্য গলার স্থান বা মেরুদণ্ডে ধারালো ছুরির আগা দিয়ে আঘাত করা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে, এতে পশুর মেরুরজ্জুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পশু আকস্মিক শক বা হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়ার ব্যাঘাতে মারা যেতে পারে। ফলে শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে রক্ত বের হতে পারে না এবং গোশতে জমাট রক্ত থেকে গোশতের গুণগত মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। সঠিক নিয়ম হলো প্রধান রগগুলো কেটে পশুর শরীর থেকে পর্যাপ্ত রক্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া। গরম গোশত সংরক্ষণ ও ধোয়ার ভুল পদ্ধতি: কুরবানির পরপরই গরম গরম গোশত রান্না করে খাওয়া কিংবা তাড়াহুড়া করে পলিথিনে ভরে স্তূপ করে রাখা বড় ধরনের ভুল। বৈজ্ঞানিকভাবে, জবাইয়ের পর গোশত অন্তত ৬ ঘণ্টা ঠান্ডা পরিবেশে রাখা বা ‘চিলিং’ করা উত্তম, যা গোশত নরম করে, স্বাদ উন্নত করে এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। গরম অবস্থায় গোশত প্যাকেট বা স্তূপ করে রাখলে ভেতরে তাপ আটকে দ্রুত জীবাণু বৃদ্ধি ও পচনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া গোশত কাটার পর অতিরিক্ত পানি দিয়ে বারবার ধোয়ার ফলে গোশতের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবং পানির ছিটা থেকে জীবাণু রান্নাঘরের সিঙ্ক বা অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে গোশতে দৃশ্যমান ময়লা, লোম বা জমাট রক্ত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত গোশত খাওয়ার ঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ: কুরবানির দিনে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত গোশত বেশি পরিমাণে খেলে বদহজম, গ্যাসট্রিক, অ্যাসিডিটি, উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা, রক্ত ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা, ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া কিংবা রাস্তা দখল করার কারণে পরিবেশ দূষণ হয় এবং রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘ সময় রক্ত ও বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, মাছি ও সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তাই নির্দিষ্ট স্থানে পরিচ্ছন্নভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা জরুরি। কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিফলন। তাই শরিয়তের বিধান, স্বাস্থ্যবিধি ও বৈজ্ঞানিক দিক মাথায় রেখে সঠিকভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা সবার দায়িত্ব। সচেতনতা ও সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানি করলে একদিকে যেমন ইবাদতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজও থাকে নিরাপদ, সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত।
পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী ছয় দিনের সরকারি ছুটি অনুমোদন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর মন্ত্রিপরিষদ। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আরবি বছরের শেষ মাস জিলহজ আগামী ১৮ মে থেকে শুরু হতে পারে। এই মাসের ৯ তারিখে পালিত হয় আরাফাতের দিন এবং ১০ জিলহজ উদযাপিত হয় ঈদুল আজহা। আরাফাতের দিনই হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়, যখন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন। এই হিসাব অনুযায়ী, ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরদিন ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ মাথায় রেখেই ছুটির সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, ২৬ মে হজ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে। এরপর ২৭ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ঈদুল আজহার ছুটি থাকবে। যেহেতু দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার ও রোববার, তাই ৩০ ও ৩১ মে সেই ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট ছুটি দাঁড়াচ্ছে ছয় দিন। একই সময়সূচির ভিত্তিতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমান—এ একই সময়ে ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-এ ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার প্রথার কারণে সাধারণত একদিন পরে ঈদ পালিত হয়। সে অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে ২৮ মে ঈদুল আজহা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে জিলহজের চাঁদ দেখার ওপর, যা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।