ঈদের ছুটিতে মেট্রোরেল চলাচলের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে মেট্রোরেল চলাচলের নতুন সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬)। আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার দেশে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও সরকারি ছুটির বাকি ছয় দিন তা স্বাভাবিক নিয়মে চালু থাকবে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ছুটির দিনগুলোতে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় এবং মতিঝিল থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে, উত্তরা উত্তর থেকে সর্বশেষ ট্রেনটি রাত সাড়ে ৯টায় এবং মতিঝিল থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়বে। এই সময়ে ট্রেনগুলো ১২ থেকে ১৫ মিনিট বিরতিতে চলাচল করবে। তবে যাত্রীদের চাপের ওপর ভিত্তি করে ট্রিপের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানো হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
টিকিট কেনা ও রিচার্জের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ৬টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত একক যাত্রার টিকিট কেনা এবং এমআরটি বা র্যাপিড পাসে টাকা রিচার্জ করা যাবে। তবে ঈদের পরদিন ২৯ মে শুক্রবার টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ভিন্ন সূচি অনুসরণ করা হবে। এদিন উত্তরা উত্তর স্টেশনে বেলা ২টা ৪৫ মিনিট এবং মতিঝিল স্টেশনে বেলা ৩টা ৫ মিনিট থেকে একক যাত্রার টিকিট ও র্যাপিড পাস কেনা যাবে। ছুটির এই পুরো সময়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটের পর সব স্টেশনেই টিকিট বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এই রুটে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কের পাশাপাশি সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকট। বহরে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিদ্যমান ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো যাচ্ছে না। এই সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে আগামী বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে বর্তমানে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল থেকে উড়োজাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং নতুন রুটে ফ্লাইট বাড়াতে লিজে উড়োজাহাজ আনার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এর আগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমান ও বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সব জায়গায় পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু হলে সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিমানবন্দরটি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে জানান তিনি। নিউইয়র্কের সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্য আইকাও অডিটের ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মানের গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
৪ হত্যাকাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, দোষী হলে ছেলের শাস্তিও চান সিদ্ধার্থের বাবা
বিটিভির বিতর্কের মঞ্চ থেকে হার্ভার্ড হয়ে মস্তিষ্ক গবেষণায় রেবেকা
পরীমণিকে ৩ কোটি টাকার গাড়ি দেন ‘পুতুলের সাবেক স্বামী’ মাসরুর, বিতর্কে জড়ায় সিটি ব্যাংকের মাসরুরের নাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ১৭১ নম্বর কক্ষ একসময় ছিল চার তরুণের ঠিকানা। তাঁদেরই দুজন ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তখন তাঁরা পরিচিত ছিলেন না রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে। ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের তরুণ ছাত্র, একই হলের আবাসিক, একই রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সময়ের বন্ধুত্বই কয়েক দশক পরও টিকে আছে। বর্তমানে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দেশের অন্যতম পরিচিত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন মির্জা ফখরুল ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁরা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষে থাকতেন। একই ঘরে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ইতিহাসবিদ আহমেদ কামাল ও রাজনীতিবিদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। চারজনই সে সময়ের বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ, সমাজ, বৈষম্য ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, একই রাজনৈতিক আবহ এবং হলজীবনের ঘনিষ্ঠতার মধ্য দিয়েই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সেই সময়ের জীবন অবশ্য খুব শান্ত ছিল না। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এক স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন, তৎকালীন আইয়ুবপন্থী ছাত্রসংগঠন এনএসএফের কর্মীরা তাঁদের কক্ষে অন্তত দুবার হামলা চালিয়ে ঘর তছনছ করেছিল। ওই সময় তিনি হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হওয়ার পর চার বন্ধুর পথ ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়। মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে পৌঁছান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বেছে নেন অর্থনীতি, গবেষণা ও শিক্ষকতার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উন্নয়ন, দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা রয়েছে। ২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। তবে পেশা ও রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য তাঁদের বন্ধুত্বে ছেদ ঘটায়নি। ২০২০ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের জন্মদিনে তাঁর বাসায় মির্জা ফখরুল, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আহমেদ কামাল একসঙ্গে আড্ডা দেন। ওই সময় ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় পর চার পুরোনো বন্ধু একসঙ্গে বসেছিলেন এবং যেন কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোতে। সাম্প্রতিক সময়েও সেই বন্ধুত্বের কথা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, মির্জা ফখরুল তাঁর শিক্ষাজীবনের বন্ধু ও সাবেক রুমমেট। একই সময়ে শিক্ষা ও প্রশাসনে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজতে তিনি বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শও করেছিলেন বলে জানান। এখন তাঁদের পরিচয়ের পরিধি অনেক বড়। একজন দেশের রাষ্ট্রপতি, অন্যজন অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের জগতে সুপরিচিত মুখ। কিন্তু তাঁদের দীর্ঘ জীবনের গল্পের শুরু হয়েছিল একই জায়গা থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ১৭১ নম্বর কক্ষ। সেই কক্ষের চার তরুণের জীবন পরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৌঁছেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে। আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ হয়ে উঠেছেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক। সময় তাঁদের পরিচয় বদলে দিয়েছে, দায়িত্ব বদলে দিয়েছে, পথও আলাদা করেছে। কিন্তু কয়েক দশক পরও তাঁদের গল্পের শুরুর জায়গাটি একই রয়ে গেছে।
ইয়াবা সেবন করে ধরা পরে পরিচয় গোপন রাখতে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা
শিক্ষক পড়েছিলেন ছাদে, স্ত্রী-মেয়ে সিঁড়িতে আর ছেলে খাটের নিচে
ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশ পরিদর্শকের মৃত্যু
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান। নতুন চার মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের একই দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। অন্যদিকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য। হুমায়ুন কবির এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন ছয় সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও বিস্তৃতি ঘটল। তাদের দায়িত্ব বণ্টন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে নতুন করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
বিশ্বের ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নুরুউদ্দীন জাকারিয়ার বিশ্বজয়