সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চিকিৎসা গবেষণা

ময়মনসিংহ থেকে অক্সফোর্ড, চিকিৎসা গবেষণায় ডা. ফারাহ দিভা খান
ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে অক্সফোর্ড! লন্ডনে চিকিৎসা ও গবেষণায় ডা. ফারাহ দিভা খান

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. ফারাহ দিভা খান। বর্তমানে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের সঙ্গে অনারারি ক্লিনিক্যাল ফেলো হিসেবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সার্জারি ও হৃদ্‌রোগবিষয়ক গবেষণায় কাজ করছেন তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চিকিৎসা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, সেই জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসাশিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।   ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারাহ দিভা খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্জিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণায় যুক্ত হন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল এই শাখায় পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষার সময় একাধিক বৃত্তি ও সম্মাননা অর্জন করেন ফারাহ। এর মধ্যে রয়েছে টিউরিং স্কলারশিপ, ইউরোফিনস সায়েন্টিফিক অ্যাওয়ার্ড এবং মিরান্ডা ব্রাউন ডাইভারসিটি লিডারশিপ স্কলারশিপ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব সার্জিক্যাল সায়েন্সেসও তাঁর মিরান্ডা ব্রাউন স্কলারশিপ অর্জনের বিষয়টি প্রকাশ করে। এসব অর্জন তাঁকে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর বিশেষ আগ্রহ হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচার ও কার্ডিওথোরাসিক সার্জারিতে। উচ্চশিক্ষার অংশ হিসেবে মিসরের আসওয়ান হার্ট সেন্টারেও প্রশিক্ষণ ও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের হৃদ্‌রোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য পরিচিত। সেখানে কাজের অভিজ্ঞতা উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতির পাশাপাশি সীমিত সম্পদের মধ্যে রোগীদের সেবা দেওয়ার গুরুত্ব বুঝতে তাঁকে সহায়তা করেছে বলে আগের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ফারাহ। শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, গবেষণাতেও নিজের অবস্থান তৈরি করছেন এই বাংলাদেশি চিকিৎসক। ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর চিলড্রেনস সার্জারির আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কর্মসূচিতে তাঁর একটি গবেষণা উপস্থাপনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। গবেষণাটিতে শিশুদের হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রয়োজন এবং মৃত্যুঝুঁকি পূর্বাভাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়। চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়ন ও ঝুঁকি নির্ধারণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের এই ক্ষেত্রটি তাঁর গবেষণার আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ ছিল না তাঁর জন্য। বাংলাদেশের মতো একটি দেশ থেকে এসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে তাঁকে। বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের মতো কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পেশায় একজন নারী এবং বিদেশে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জনকারী চিকিৎসক হিসেবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এসব বাধা মোকাবিলায় নিয়মিত পরিশ্রম, নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা তরুণ চিকিৎসকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চান ফারাহ। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন তিনি। ২০২৬ সালের মে মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি একাডেমিক আয়োজনেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সেখানে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সামনে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণার সুযোগ এবং চিকিৎসার পাশাপাশি একাডেমিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। ফারাহ দিভা খানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন। তিনি চান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত উন্নত প্রশিক্ষণ, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় কাজে লাগাতে। একই সঙ্গে তরুণ চিকিৎসকদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলা এবং তাঁদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে চান তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে অক্সফোর্ড হয়ে লন্ডনের চিকিৎসা ও গবেষণার অঙ্গনে তাঁর এই যাত্রা এখন সেই বৃহত্তর লক্ষ্যেরই অংশ। সূত্র: Spike Story

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
আলঝেইমারের মতো জৈবিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আফ্রিকান গ্রিন বানর। ছবি: সংগৃহীত
আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় নতুন পথ দেখাচ্ছে আফ্রিকান বানর

আলঝেইমার রোগের মতো মস্তিষ্কে পরিবর্তন তৈরি হওয়ার পরও এক বছর ধরে স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায় স্বাভাবিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আফ্রিকান গ্রিন বানর। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, প্রাণীগুলোর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আলঝেইমারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আণবিক পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ধরে থাকলেও আচরণ বা স্মৃতিতে তার স্পষ্ট প্রভাব দেখা যায়নি। এই ফলাফল রোগটির প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।   গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Communications Biology-তে। ইয়েল ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভার্সিওর বিজ্ঞানীরা এতে অংশ নেন। গবেষণায় আফ্রিকান গ্রিন বানরকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো, মানুষের সঙ্গে তাদের শারীরবৃত্তীয় ও জৈব রাসায়নিক মিল তুলনামূলকভাবে বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বানরদের মস্তিষ্কেও অ্যামিলয়েড-বিটা ও টাউ-সম্পর্কিত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যা আলঝেইমার গবেষণায় তাদের সম্ভাবনাময় প্রাণী মডেলে পরিণত করেছে।   গবেষণায় মোট আটটি স্ত্রী আফ্রিকান গ্রিন বানরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি অ্যামিলয়েড-বিটা অলিগোমার দেওয়া হয়, আর তিনটিকে নিয়ন্ত্রণদলের জন্য ভিন্ন দ্রবণ দেওয়া হয়। চার সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে তিনবার করে মোট ১২ বার এই প্রয়োগ করা হয়। অ্যামিলয়েড-বিটা হলো এমন এক ধরনের প্রোটিন, যা আলঝেইমার রোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গবেষকেরা বিশেষভাবে এর ছোট প্রোটিনগুচ্ছ বা অলিগোমারের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন, কারণ এগুলো বড় প্লাক তৈরির আগেই স্নায়ুকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।   চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর বানরগুলোর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করা হয়। একটি পর্দায় তাদের একটি নির্দিষ্ট আকৃতি দেখানো হয় এবং কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন আকৃতির মধ্য থেকে আগেরটি শনাক্ত করতে বলা হয়। গবেষকদের প্রত্যাশার বিপরীতে, অ্যামিলয়েড-বিটা প্রয়োগ করা বানরগুলোর স্মৃতিশক্তিতে পরবর্তী এক বছরে এই পরীক্ষায় কোনো স্পষ্ট অবনতি দেখা যায়নি। অর্থাৎ মস্তিষ্কে আলঝেইমারের মতো জৈবিক পরিবর্তন থাকলেও তা ওই আচরণগত পরীক্ষায় দৃশ্যমান স্মৃতিহ্রাসে পরিণত হয়নি।   তবে এক বছর পর নেওয়া মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের তরল, অর্থাৎ সেরিব্রোস্পাইনাল তরল বা মস্তিষ্ক-মেরুরসের পরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। এতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত C3 নামের একটি প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে ছিল। রক্তনালি ও রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কয়েকটি প্রোটিনেও নিয়ন্ত্রণদলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়। সামগ্রিকভাবে এসব পরিবর্তন দেখায়, আচরণে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও স্নায়ুতন্ত্রের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী জৈবিক পরিবর্তন চলতে পারে।   গবেষকদের কাছে এই ফলাফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শুধু স্মৃতিশক্তির পরীক্ষা দিয়ে আলঝেইমারের প্রাথমিক পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। কোনো ব্যক্তির আচরণ বা স্মৃতিতে সমস্যা প্রকাশ পাওয়ার আগেই শরীরের তরল বা মস্তিষ্ক-মেরুরসে নির্দিষ্ট প্রোটিনের পরিবর্তন ধরা পড়তে পারে। গবেষণায় ১ মিলিলিটারেরও কম পরিমাণ সেরিব্রোস্পাইনাল তরল থেকে প্রোটিনের বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের শরীরে তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মকভাবে রোগের জৈবিক চিহ্ন অনুসরণের সম্ভাবনা তৈরি করছে।   আফ্রিকান গ্রিন বানরকে এ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ মনে করার আরেকটি কারণ হলো, ইঁদুরের তুলনায় মানুষের সঙ্গে তাদের শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের মিল বেশি। তাদের মস্তিষ্কের গঠন, রক্তনালির বৈশিষ্ট্য, প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া এবং আয়ুষ্কালের মতো বিষয় মানুষের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বয়স বাড়লে এই বানরদের মস্তিষ্কে অ্যামিলয়েড-বিটা প্লাক ও টাউ-সম্পর্কিত পরিবর্তনও স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। এর ফলে মানুষের আলঝেইমারের একেবারে শুরুর পর্যায় বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রাণী মডেলটি গবেষকদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।   এর আগে পরিচালিত গবেষণাতেও আফ্রিকান গ্রিন বানরের ওপর অ্যামিলয়েড-বিটা অলিগোমার প্রয়োগের পর মস্তিষ্কের স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত অঞ্চলে টাউ প্রোটিনের পরিবর্তন এবং প্রদাহের লক্ষণ পাওয়া গিয়েছিল। এসব পরিবর্তনের কিছু কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। নতুন গবেষণাটি সেই অনুসন্ধানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে ১২ মাস পর প্রাণীগুলোর সেরিব্রোস্পাইনাল তরলে কী ধরনের পরিবর্তন থেকে যাচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করেছে।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বানরগুলোর মধ্যে পাওয়া এই আণবিক পরিবর্তনকে সরাসরি মানুষের প্রাথমিক আলঝেইমার রোগের সমতুল্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণাটির নমুনার আকারও ছোট ছিল। তাই মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন রোগের সূচনালগ্নে দেখা যায় কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে মানুষের রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে এসব প্রোটিনের পরিবর্তন তুলনা করা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।   তারপরও গবেষণাটির সম্ভাব্য গুরুত্ব কম নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার অনেক আগেই শরীরে স্থায়ী হয়ে থাকা নির্দিষ্ট প্রোটিনের পরিবর্তন শনাক্ত করা গেলে আলঝেইমার রোগের প্রাথমিক পর্যায় পর্যবেক্ষণের নতুন উপায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বানরগুলোর মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও কেন তারা দ্রুত স্পষ্ট জ্ঞানীয় অবনতিতে পৌঁছায়নি, সেই বিষয়টি বোঝা গেলে রোগের অগ্রগতি ঠেকানোর সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রক্রিয়াও শনাক্ত করা যেতে পারে।   গবেষকেরা তাই আফ্রিকান গ্রিন বানরকে শুধু আলঝেইমারের মতো পরিবর্তন তৈরি করার প্রাণী মডেল হিসেবে নয়, বরং রোগের প্রাথমিক জৈবিক চিহ্ন, রোগের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন। মানুষের ক্ষেত্রে এসব ফলাফল কতটা প্রযোজ্য হবে, তা ভবিষ্যৎ গবেষণায় নির্ধারিত হবে। তবে নতুন এই অনুসন্ধান অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে, স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা দেখা দেওয়ার আগেই আলঝেইমারের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবর্তন স্নায়ুতন্ত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।   সূত্র: Communications Biology, ইয়েল ইউনিভার্সিটির মলিকুলার বায়োফিজিক্স অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
চুল পড়া রোধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কার বিশেষজ্ঞদের আশাবাদী করে তুলেছে। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা

তীব্র চুল পড়ার রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য নতুন আশার খবর দিয়েছেন গবেষকেরা। বাতসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় আগে থেকেই ব্যবহৃত একটি ওষুধ গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা বা অ্যালোপেশিয়া রোগীদের চুল গজাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। তৃতীয় ধাপের দুটি বড় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধটির উচ্চমাত্রা গ্রহণকারী রোগীদের প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ ২৪ সপ্তাহের মধ্যে মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পেয়েছেন।   গবেষণায় ব্যবহৃত ওষুধটির নাম আপাডাসিটিনিব। এটি মুখে খাওয়ার একটি জ্যানাস কাইনেজ বা JAK ইনহিবিটর, যা শরীরের নির্দিষ্ট রোগপ্রতিরোধী সংকেত নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা চুলের গোড়ায় আক্রমণ করে চুল পড়ার কারণ হতে পারে। নতুন গবেষণায় এই রোগপ্রতিরোধী প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়েছে।   ‘জেএএমএ ডার্মাটোলজি’তে প্রকাশিত দুটি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ১২ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৩৯৯ জন রোগী অংশ নেন। বিশ্বের ২৪৮টি গবেষণাকেন্দ্রে এসব পরীক্ষা পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার মাথার অন্তত অর্ধেক চুল পড়ে গিয়েছিল এবং গবেষণার শুরুতে গড়ে প্রায় ৮৪ শতাংশ মাথার চুল হারিয়েছিলেন তারা।   গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের প্রতিদিন ১৫ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব, ৩০ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব অথবা প্লাসিবো দেওয়া হয়। ২৪ সপ্তাহ পর দেখা যায়, কম মাত্রার ওষুধ গ্রহণকারীদের প্রায় ৪৫ শতাংশের মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে এসেছে। আর ৩০ মিলিগ্রাম মাত্রা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ। বিপরীতে প্লাসিবো গ্রহণকারীদের মাত্র ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ একই মাত্রার চুল ফিরে পেয়েছেন।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষণায় শুধু মাথার চুল নয়, ভ্রু ও চোখের পাতার চুলের ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা গেছে। কিছু রোগীর মাথার চুল পুরোপুরি ফিরে আসার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।   অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা সাধারণ বংশগত চুল পড়ার মতো নয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় রোগপ্রতিরোধী সমস্যা, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা ভুল করে চুলের গোড়াকে আক্রমণ করে। ফলে মাথায় ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়া থেকে শুরু করে পুরো মাথা, ভ্রু, চোখের পাতা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশের চুলও পড়ে যেতে পারে। রোগটির ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।   আপাডাসিটিনিবের কার্যপ্রক্রিয়াও এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি JAK-1 নামের একটি প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধী সংকেত পরিবহনে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ চুলের গোড়াকে বাইরে থেকে উদ্দীপিত করার বদলে ওষুধটি রোগটির পেছনে থাকা রোগপ্রতিরোধী প্রক্রিয়ার একটি অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করে।   তবে গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে সবার জন্য নিশ্চিত সমাধান হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ ২৪ সপ্তাহ পরও প্রায় অর্ধেক রোগী পরীক্ষায় নির্ধারিত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পাওয়ার মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ওষুধ ব্যবহারের পর চুলের এই পুনরুদ্ধার কতটা স্থায়ী হবে এবং ওষুধ বন্ধ করলে কী ঘটবে, সেটিও আরও গবেষণায় জানতে হবে।   ওষুধটির নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ওপরের শ্বাসনালির সংক্রমণ, ব্রণ, রক্তে ক্রিয়েটিন ফসফোকাইনেজের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং নাক-গলার সংক্রমণের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ১৫ মিলিগ্রাম গ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ, ৩০ মিলিগ্রাম গ্রহণকারীদের ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্লাসিবো গ্রহণকারীদের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে দেখা যায়। গবেষকেরা পরীক্ষায় নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির সংকেত পাননি বলে জানিয়েছেন।   তবে আপাডাসিটিনিব সাধারণ কোনো চুল পড়ার ওষুধ নয়। এটি একটি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক রোগপ্রতিরোধী ওষুধ এবং এর আগে থেকেই বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তালিকায় আপাডাসিটিনিবের অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে, তবে গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে এর অনুমোদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   অন্যদিকে, ইউরোপে পরিস্থিতি এগিয়েছে আরও এক ধাপ। গত ২৯ জুলাই ইউরোপীয় কমিশন ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় আপাডাসিটিনিবের অনুমোদন দিয়েছে। ইউরোপীয় অনুমোদনের ভিত্তি ছিল এই তৃতীয় ধাপের UP-AA গবেষণা কর্মসূচির ফলাফল।   অ্যালোপেশিয়ার চিকিৎসায় JAK ইনহিবিটর শ্রেণির ওষুধ ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অ্যালোপেশিয়ার জন্য বারিসিটিনিব, রিটলেসিটিনিব এবং ডিউরুক্সোলিটিনিবের মতো JAK-সম্পর্কিত ওষুধ অনুমোদিত রয়েছে। ফলে আপাডাসিটিনিবের নতুন ফলাফল এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে আরও একটি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।   তবে JAK ইনহিবিটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA এই শ্রেণির কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনা, ক্যানসার, রক্ত জমাট বাঁধা এবং মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। আপাডাসিটিনিবের ক্ষেত্রেও এর রোগপ্রতিরোধী কার্যপ্রক্রিয়ার কারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণার ফল তাই গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আপাডাসিটিনিব গ্রহণের সুযোগ নেই। কার জন্য এই ওষুধ উপযুক্ত, কী মাত্রায় ব্যবহার করা হবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কতটা, তা রোগীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য ওষুধের ওপর নির্ভর করে।   সব মিলিয়ে, তীব্র অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় আপাডাসিটিনিবের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। ২৪ সপ্তাহেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর মাথার চুল ফিরে আসা এবং কিছু রোগীর সম্পূর্ণ চুল পুনরুদ্ধার চিকিৎসকদের আশাবাদী করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
শিশুর মৃত্যুর পর গবেষণা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
পরীক্ষামূলক জিন থেরাপিতে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু, ৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা পরিবার তুলল গুরুতর অভিযোগ

চীনে বিরল জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসায় পরিবার প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করেছিল। নতুন ধরনের জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হবে এমন আশাই দেখানো হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রমাণ ছাড়াই চিকিৎসাটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারকে পূর্ণাঙ্গভাবে জানানো হয়নি।   বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির পরিবারের অনুরোধে তার প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে তাকে ‘মেই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। মেই বিরল সিএইচডি৩ (CHD3) জিনের পরিবর্তনের কারণে স্নাইডার্স ব্লক-ক্যাম্পো সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিল। এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত বুদ্ধিবিকাশ, ভাষা ও শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলেও এটি সাধারণত প্রাণঘাতী নয় এবং সময়ের সঙ্গে দ্রুত অবনতি ঘটে না।   মেইয়ের শিক্ষকরা তার লেখালেখি ও ভাষাগত দক্ষতার দুর্বলতার কথা অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়। সেসময় গবেষক জিলং কিউ তাদের ‘বেস এডিটিং’ নামে অত্যাধুনিক জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার প্রস্তাব দেন। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যা এখনো বিশ্বজুড়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে এবং মানুষের ওপর এর ব্যবহার খুবই সীমিত।   সায়েন্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউ নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে খুব কম গবেষকই এই প্রযুক্তিতে দক্ষ। তবে তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের একজন। জিন থেরাপিতে সাধারণত বিশেষ ধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে কোষে জিন পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু মেইয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্ক, যেখানে পৌঁছাতে রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার) বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। সে কারণে চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করাতে হয়েছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগের আগে গবেষককে ইঁদুর ও বানরের ওপর সফল পরীক্ষা দেখাতে হতো। কিউ পরিবারকে জানান, ইঁদুরের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরে তিনি বানরের মস্তিষ্কের কিছু ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, চিকিৎসাটি নিরাপদ এবং কার্যকর।   তবে সায়েন্স যখন স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সেই তথ্য ও ছবি পর্যালোচনা করায়, তারা ছবিগুলোকে পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবরসায়নবিদ ডেভিড স্যান্ডার্স বলেন, উপস্থাপিত তথ্য এতটাই দুর্বল ছিল যে এর ভিত্তিতে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর মতো আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়ার কথা নয়।   আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মেইয়ের চিকিৎসার এক মাস আগে একই থেরাপি দেওয়া চারটি বানরের সবারই মাঝারি থেকে গুরুতর লিভারের ক্ষতি হয়। তাদের মধ্যে একটির কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জিন থেরাপির পরিচিত ও প্রাণঘাতী জটিলতা ‘থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথি’-র লক্ষণ হতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসা চালিয়ে নিতে গবেষক দলের পক্ষ থেকে পরিবারকে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনকি গবেষণা দলের কয়েকজন সদস্যের ব্যক্তিগত হিসাবেও অর্থ পাঠাতে বলা হয়। এর মধ্যে একটি গবেষণাগারের দায়িত্বে থাকা এক গবেষককে সরাসরি এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব লেনদেন নিয়ে পরিবারের মধ্যেও ধীরে ধীরে উদ্বেগ তৈরি হয়।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, মেইয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে ভাইরাসবাহী উপাদানের বিরুদ্ধে শরীরে আগে থেকে অ্যান্টিবডি থাকা। তা ছাড়া চিকিৎসাটি ‘তুলনামূলকভাবে নিরাপদ’ বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হয়। পরের মাসে মেইয়ের মেরুদণ্ডের তরলে বিপুল পরিমাণ ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়, যাতে তা মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই মেইয়ের জ্বর দেখা দেয়। এরপর তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, যা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও পরদিন তার মৃত্যু হয়।   হাসপাতালের জরুরি নৈতিকতা কমিটির তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, চিকিৎসাজনিত জটিলতার কারণেই মেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথির কথা উল্লেখ করা হয়, যা বানরের পরীক্ষাতেও দেখা গিয়েছিল।   এ ঘটনার পর হাসপাতালকে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার জরিমানা করা হয়। আর যে চিকিৎসক পরিবারকে চিকিৎসাটি তুলনামূলক নিরাপদ বলেছিলেন, তাকে মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এদিকে মেইয়ের পরিবার গবেষক জিলং কিউকে তার গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। শুরুতে তিনি রাজি হলেও পরে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচার কিউর গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। তবে সেখানে মেইয়ের মৃত্যুর কোনো উল্লেখ ছিল না। পরিবার বিষয়টি নেচার কর্তৃপক্ষকে জানালেও সাময়িকীটি জানায়, অভিযোগগুলো তথ্যের নির্ভুলতার আওতার বাইরে পড়ে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।   সায়েন্স-এর প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন জানিয়েছে, তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গবেষণায় নৈতিকতা, রোগীর সম্মতি, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার নিরাপত্তা এবং গবেষণার তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে নেচারে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য ও ছবিগুলোর স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০