১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর—পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিন্তু সেই ঈদ ছিল না উৎসবের, ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ এসেছিল এক ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে। মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ধরপাকড় ও দখলদারিত্বের মধ্যে মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে চলছিল প্রতিরোধ যুদ্ধ। এমন দমবন্ধ পরিস্থিতিতেই আসে ঈদ। যেখানে রমজান এলেই চট্টগ্রাম নিউমার্কেট ও রেয়াজুদ্দিন বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে একাত্তরে ছিল নিস্তব্ধতা। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকেই ন্যূনতম আয়োজনেই ঈদ পার করেছেন। প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে—ঈদের দিনটিতে আনন্দের চেয়ে ভয়ই ছিল বেশি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ত প্রতিনিয়ত। তবুও মানুষের মনে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন। কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল–এর পরিবারও সেই বাস্তবতার বাইরে ছিল না। তাঁর ছেলে আবুল মোমেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভয়, আশঙ্কা আর আশাবাদের মধ্যেই ঈদ এসেছিল। ঘরে ভালো খাবার হলেও কোনো উৎসব ছিল না।” মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক মাহফুজুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঈদ উদ্যাপনের কোনো পরিবেশই ছিল না। বরং নিরাপত্তার কারণে অনেককে বাড়ি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরাধীন দেশে ঈদে উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রচারপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যা শহরটিকে পরিণত করেছিল মৃত্যুপুরীতে। বন্দর, হালিশহর, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয় বড় বড় হত্যাকাণ্ড। অনেক জায়গায় নালা ও ম্যানহোল থেকেও উদ্ধার করা হয় লাশ। ঈদের দিনও ছিল না নিরাপদ। পটিয়ার মনসা গ্রামে এক মায়ের কান্না আজও স্মৃতিতে জাগ্রত—যুদ্ধের কারণে মেয়েকে দেখতে না পারার বেদনা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। আবার কোথাও বাবাকে হারানো সন্তানের কান্না ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল। ইতিহাস গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “ঈদের দিন নতুন কাপড় ছিল না, ছিল শুধু দুধের সেমাই আর ভয়ের মধ্যে কাটানো কিছু সময়।” সেদিনের ঈদ ছিল না কোলাকুলি বা আনন্দের—ছিল নীরবতা, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবুও মানুষের অন্তরে ছিল একটিই বিশ্বাস—স্বাধীনতা আসবে, অন্ধকার কেটে যাবে। আজকের স্বাধীন দেশে আনন্দমুখর ঈদ উদ্যাপনের পেছনে তাই লুকিয়ে আছে সেই ত্যাগ, বেদনা আর সংগ্রামের ইতিহাস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে চট্টগ্রামের সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী। চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন–কে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫–এর ২৬ (১) ও ২৬ (২) ধারায় আনা অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত সাত সাংবাদিক হলেন—দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এলে বাদী সাংবাদিক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলা ও ভাঙচুর এবং নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলে ধরেন। এ বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে হামলার অভিযোগ জানিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার বলেন, গণমাধ্যমে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় সাংবাদিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনার বিষয়েও সাংবাদিকেরা অবগত নন। বরং গত ৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের সময় সংঘবদ্ধভাবে কিছু ব্যক্তি পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় রিদুয়ান সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে শারীরিক হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অন্যদিকে মামলার বাদী রিদুয়ান সিদ্দিকী বলেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। বরং অভিযুক্ত এক সাংবাদিক তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি রিদুয়ান সিদ্দিকী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করেন চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। এদিকে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন। তারা দ্রুত মামলাটি প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য নিয়ে সোমবার এক বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। ভোর থেকে দিনভর চালানো অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। সবশেষ গত ১৯ জানুয়ারি র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন সন্ত্রাসী হামলায়। মূলত ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদক, অস্ত্র ও নানা অপরাধে আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল এই বিশাল এলাকায় আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জানান, আজ থেকে পুলিশ ও র্যাবের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন হলে সেখানে কামানও ব্যবহার করা হবে। জঙ্গল সলিমপুর হলো পাহাড় কেটে গড়া খাসজমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকা। প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ এখানে বসবাস করেন। এলাকার নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে ছিল। স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ইয়াসিন, রোকন ও রিদোয়ান গ্রুপসহ অন্যান্য গোষ্ঠী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। সাম্প্রতিক বছরের ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে র্যাব ও পুলিশের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে র্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি এবং উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় প্রশাসন বাধার সম্মুখীন হয়। এরপরও এলাকা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। এবারের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব ও পুলিশের স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করে প্রশাসনের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। কোথাও রাস্তার ওপর বড় ট্রাক রেখে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার ভেঙে ফেলা হয়েছে কালভার্ট। এমনকি একটি স্থানে নালার স্ল্যাবও তুলে ফেলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় সন্ত্রাসীদের একটি অংশ। ফলে অভিযানের আগের রাতেই এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, যাতে বাহিনীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন গত জানুয়ারিতে ওই এলাকায় অভিযানে যাওয়া এক র্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আলীনগরে যৌথ বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতেই এসব বাধা সৃষ্টি করা হয়। আলীনগরে প্রবেশের মূল সড়কে ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দেওয়া হয় এবং কাছাকাছি একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ছিন্নমূল ও আলীনগর জঙ্গল সলিমপুরের অংশ। ছিন্নমূল এলাকা পেরিয়ে আলীনগরে ঢোকার মুখে একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেটি সরিয়ে সামনে অগ্রসর হন। কিছু দূর যাওয়ার পর দেখা যায় একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে ওই অংশ ইট–বালি দিয়ে ভরাট করে বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি বড় অভিযান এবং এতে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের নিজস্ব সোর্স থাকায় তারা কোনোভাবে অভিযানের খবর পেয়ে থাকতে পারে। অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি জানান, অভিযান এখনো চলমান। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বা কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। রোববার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। অভিযান শুরুর আগে থেকেই জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। নিরাপত্তার কারণে অভিযানের সময় সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গত জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় করা মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি ধরতে গেলে সন্ত্রাসীরা ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তারা র্যাবের আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয় এবং চার সদস্যকে অপহরণ করে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনও সেখানে পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখতে এলাকাজুড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার ভোরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সকাল ছয়টায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। ভোরের আলো ফুটতেই ড্রোন ব্যবহার করে এলাকার কিছু স্পট চিহ্নিত করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর এপিসি ট্যাংক, পুলিশের জলকামান, সাজোয়াযান, ডগ স্কোয়াডসহ ভারি অস্ত্র সজ্জিত গাড়ি এবং অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে। র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযানটি জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সেনাবাহিনী, র্যাবের বিভিন্ন ইউনিট, চট্টগ্রাম মেট্রো ও রেঞ্জের পুলিশ এবং বিজিবি অংশগ্রহণ করছে। জঙ্গলের সলিমপুর এলাকায় রুকন ও ইয়াসিন বাহিনীর আধিপত্য মূলত পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং চাঁদা আদায় নিয়ে। এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনকে গ্রেফতার করতে গেলে র্যাবের ওপর হামলা চালায় তার বাহিনী। এই ঘটনায় একজন র্যাব কর্মকর্তা প্রাণ হারান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি এবং এখনও পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য চলছে। এই বাণিজ্য এবং দখল রক্ষা করতে এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় ২০–২৫ হাজার বাড়িতে আনুমানিক দেড় লাখ মানুষ বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত।
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বোনকে কুপিয়ে হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় ছোট ভাইকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী। সোমবার (২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হালিশহর থানার ঈদগাহ বড় পুকুর দক্ষিণপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেনোয়ারা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা সাবের আহমেদের স্ত্রী। হত্যার অভিযোগে আটক ছোট ভাইয়ের নাম জানে আলম। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সেনোয়ারার স্বামী ও ছেলে তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে ছিলেন। বাসায় একা থাকা অবস্থায় জানে আলম স্বর্ণালংকার নিতে গেলে বোন বাধা দেন। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে জানে আলম বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সন্দেহজনক আচরণ দেখে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনির চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহতের ছেলে সেকান্দার হোসেন বলেন, তারাবির নামাজ শেষে বাসায় ফিরে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং দেখেন লোকজন তার মামাকে আটক করে রেখেছে। হালিশহর থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সুলতান মোহাম্মদ আহসান উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জানে আলমকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়া আট বছরের শিশু ইরা আর বাঁচল না। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অংশ থেকে গলাকাটা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় শ্রমিকেরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ইরার বাড়ি কুমিরা এলাকায়। উদ্ধারস্থল তার বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিশু ইরার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চার অস্ত্রধারী মুখোশধারী ব্যক্তি বাসার পেছন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দ্বিতীয় তলার জানালার কাচ ভেঙে যায়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, এর আগে ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। সে সময়ও জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বার্তাও পাঠানো হয়। ঘটনার সময় বাসায় থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশের সদস্যদের অবহিত করলে তারা প্রস্তুতি নেন, তবে এর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, হামলাকারীরা একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে দ্রুত সরে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদাবাজির জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযুক্ত সাজ্জাদ আলী গণমাধ্যমে গুলির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এবং মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাঁশখালী আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চন্দ্রঘোনা আধুরপাড়া এলাকায় একটি প্রবাহমান খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে এক ব্যক্তিকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। নাজমুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও),-এর নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় দেখা যায় খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ দখল বা নির্মাণ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি খাল, জলাধার বা প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে চট্টগ্রামে একটি আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। তাই আমরা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে বিশেষ জোর দিচ্ছি। আমাদের ট্যাক্স নেট বাড়াতে হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে। পতেঙ্গায় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে পতেঙ্গায় একটি বড় পরিসরের হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান: এটি একটি জেনারেল হাসপাতাল হবে, তবে এখানে বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকবে। হাসপাতালের পাশাপাশি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং টেকনোলজিস্ট তৈরির জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুবিধার পাশাপাশি অবকাঠামোগত সম্ভাবনাগুলো যাচাই করা হচ্ছে। মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে '১১-তে ১১' নামে যে বিশেষ ঘোষণা ছিল, এই হাসপাতাল প্রকল্প তারই প্রথম দফার বাস্তবায়ন। এদিন তিনি নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শন করেন, যেখানে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান তাকে প্রকল্প এলাকার ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।
চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণ কেড়ে নিল আরও একটি প্রাণ। মা ও ছেলের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এই শোকাবহ সংবাদে স্তব্ধ পুরো এলাকা। সোমবার ভোরের সেই বিভীষিকা এখন এক পরিবারের সাত সদস্যের জীবন-মরণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩: জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা-ছেলেসহ মোট তিনজন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি ৭ জনের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আজ সকালে বার্ন ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গ্যাস লিকেজ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার জনিত দুর্ঘটনা রোধে এখন থেকে তিনটি মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। চট্টগ্রামের এই ঘটনার পাশাপাশি কুমিল্লা এবং রাজধানীর রায়েরবাজারেও একই ধরনের গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন আরও ৮ জন। ঘরোয়া গ্যাস সংযোগ এবং সিলিন্ডার ব্যবহারে সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রামের হালিশহরে সোমবার ভোরে একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নারী ও শিশু সহ নয়জন ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণটি ঘটেছে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। দগ্ধদের সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। দগ্ধদের মধ্যে আছেন: শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০)। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে স্থানীয়রা আগুন লাগার আগে দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার হয়নি। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের লিকের কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায় এবং তার ফলেই বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বাসায় মূলত দুই ভাইয়ের পরিবার থাকলেও, সম্প্রতি বিদেশ থেকে আরেক ভাই পরিবারসহ চিকিৎসার জন্য দেশে এসে অবস্থান করছিলেন। তিনটি পরিবারের সদস্যরাই এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর এবং হত্যার হুমকির অভিযোগে আহমেদ কবীর (৪৭) নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে খুলশী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিজেকে ‘অর্থনীতি’ নামক একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরের লালখান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে দক্ষিণ খুলশী গরিবুল্লাহ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিরাজকে (৪৫) একদল দুর্বৃত্ত বেআইনিভাবে ঘেরাও করে। এ সময় আসামিরা সিরাজের কাছে চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করার বিনিময়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এমনকি সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি আহমেদ কবীরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন—সৈয়দ মোহাম্মদ বাচ্চু (৪৩), মোহাম্মদ আবদুল মন্নান (৩৯) ও সৈয়দ মোহাম্মদ মাইনুল হক (৪০)। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাঁদাবাজি ও মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কবীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মাসুদ কামাল জানান, গ্রেফতার কবীর নিজেকে সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম নগরীর জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় একজন ক্রেতা ৯০ টাকায় এক ডজন ডিম, ৮০ টাকায় এক লিটার দুধ এবং ৭০০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস কিনতে পারছেন। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া পুরো রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন দুটি ট্রাকে করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ভোক্তা এই সুবিধা পাবেন। কম দামে নিত্যপণ্য পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। এদিকে দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দান সংলগ্ন সড়কের পাশেও সুলভ মূল্যে ডিম, মুরগি ও গরুর মাংস বিক্রি শুরু হয়েছে। সেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৭৫ টাকা এবং ডিম প্রতি হালি ৩২ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। দিনাজপুরে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি গরুর মাংস, দুটি মুরগি এবং তিন হালি ডিম কিনতে পারবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইনগতভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও বরিশালে গভীর রাতে ব্যানার টাঙানো, কার্যালয় খোলা এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামে পুলিশের সামনেই তৎপরতা: গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড় সংলগ্ন দোস্ত বিল্ডিংয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই সাইনবোর্ড টাঙান ছাত্রলীগ নেতারা। একই সময়ে লালদীঘি এলাকায় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায় একদল যুবককে। দীর্ঘক্ষণ ধরে এসব কাজ চললেও প্রশাসনের কোনো সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও সাধারণ ছাত্রজনতা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দোস্ত বিল্ডিংস্থ আওয়ামী লীগের সেই কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। বরিশালে রাতের আঁধারে ব্যানার: বরিশাল মহানগরীর সোহেল চত্বরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সোমবার গভীর রাতে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা বিশাল ব্যানার টাঙিয়ে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে মঙ্গলবার সকালে সেই ব্যানার আর দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, নিষিদ্ধ দলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া পুরোপুরি প্রশাসনের দায়িত্ব। পলাতক নেতাদের উসকানি: জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কার্যালয় খুলে জয়ের স্লোগান দিয়েছেন। এই প্রতিটি ঘটনা ভারত থেকে পরিচালিত সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। যা মূলত দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একটি বড় ছক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ছাত্রজনতার হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনের বক্তব্য: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করা হয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা না নেয়, তবে ছাত্রজনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের এই প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা এবং তার প্রেক্ষিতে ছাত্রজনতার অনড় অবস্থান দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটে চট্টগ্রামের নির্বাচনি ময়দানে এক অভূতপূর্ব ও বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে উঠেছে। নির্বাচনে চট্টগ্রামের অধিকাংশ আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হলেও, দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও মাঠের প্রচারণাকে পাশ কাটিয়ে অনেক আসনেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১৩ এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের ফলাফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মীরা বাজার, গ্রাম-গঞ্জ এবং ভোটকেন্দ্রের বাইরে ‘না’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তাদের মূল দাবি ছিল, এই সংস্কার প্রস্তাব গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারাকে ব্যাহত করবে। তবে বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ ভোটাররা প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য দেখালেও রাষ্ট্র সংস্কার বা গণভোটের প্রশ্নে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেছেন। চট্টগ্রামের আসনভিত্তিক ফলাফল একনজরে: চট্টগ্রামের বেশিরভাগ আসনে বিএনপির আধিপত্য থাকলেও গণভোটের রায় ছিল বৈচিত্র্যময়: চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই): বিএনপির নুরুল আমিন বিজয়ী। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১,১৮,১৯৮টি এবং ‘না’ ৮৮,৪৯০টি। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জয়ী হলেও ‘হ্যাঁ’ ভোট (১,২০,১৮২) ছাপিয়ে গেছে ‘না’ ভোটকে (৮৫,৬২২)। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): হুম্মাম কাদের চৌধুরী জয়ী। এখানেও ‘হ্যাঁ’ ভোট (৯৭,১৮৫) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং): সাঈদ আল নোমান জয়ী; ‘হ্যাঁ’ ভোট ১,৩২,১০০ এবং ‘না’ ৭১,৩৩৯। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): এই আসনটি ব্যতিক্রমী চিত্র দেখিয়েছে। এখানে সরওয়ার জামাল নিজাম জয়ী হয়েছেন এবং ভোটাররা দলীয় আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘না’ ভোটকে (১,২৪,৬২৯) জয়ী করেছেন, যেখানে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৮০,৫৮০ ভোট। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): এই আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জয়ী হয়েছেন। এখানেও সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১,৩৬,৮৪০টি। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে প্রার্থী হিসেবে বিএনপিকে পছন্দ করলেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই ‘হ্যাঁ’ বাক্সে সিল মেরেছেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনের এক ভোটার মোহাম্মদ শাহিন জানান, কেন্দ্রে গিয়ে পরিবেশ ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিনি শেষ মুহূর্তে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঠের প্রচারণা এবং ব্যালট বক্সের এই বিপরীতমুখী অবস্থান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের ভোটাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। দলীয় প্রার্থীর প্রতি সমর্থন থাকলেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পিছপা হননি। চট্টগ্রামের এই নির্বাচনি ফলাফল আগামীর রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক বিশাল নির্বাচনি মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের এক মর্মস্পর্শী অধ্যায় তুলে ধরেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অকুন্ঠ সমর্থন আর ভালোবাসার কারণেই আমি আজ আপনাদের সামনে জীবিত ফিরে আসতে পেরেছি।" প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, "দেশনেত্রী আজ আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে তিনি অমর হয়ে আছেন। আমার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন ছিল ম্যাডামের সাথে একসাথে জাতীয় সংসদে বসব, কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না।" বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অতীতে নিজের ওপর চলা অমানবিক নির্যাতনের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে দীর্ঘ সাত মাস ‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকতে হয়েছিল। সেই অন্ধকার দিনগুলো কাটিয়ে নতুন বাস্তবতায় তিনি এখন রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। হুমাম বলেন, "রাঙ্গুনিয়ার মাটিতে আজ মানুষের যে ঢল নেমেছে, তা প্রমাণ করে এটি ধানের শীষের অভেদ্য দুর্গ। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে এই ঐক্য ধরে রেখে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।" রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, "নির্বাচিত হলে এই জনপদে কোনো অবৈধ বালু উত্তোলন বা মাদকের ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে আমি নিজেই সরাসরি তদারকি করব।" বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে হুমাম কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী মাঠে জড়ো হতে থাকেন, যা এক পর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রাঙ্গুনিয়ার এই শোডাউন ধানের শীষের প্রার্থীদের মাঝে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। আজ রোববার সকাল আটটা থেকে 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ'-এর ডাকে শুরু হয়েছে এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। জেটি ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের পণ্য আমদানির প্রধান এই প্রবেশদ্বার। আসন্ন রমজান এবং জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এমন অচলাবস্থায় দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। পরিস্থিতি নিরসনে ইতিবাচক কোনো সমাধান না আসায় তারা এখন সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান ৪টি দাবি হলো: এনসিটি কোনো বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা না দেওয়া। বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যানের প্রত্যাহার। আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া। উল্লেখ্য, এর আগে নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করা হলেও, আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের নির্দেশে পরিস্থিতি আবারও জটিল আকার ধারণ করেছে। দ্রুত সমাধান না হলে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ এবং রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরণের ধস নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের রাজনৈতিক ময়দানে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার ফরিদুল আলম। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ও আশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে তিনি এক নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ডাক্তার ফরিদুল আলম বলেন, “জামায়াতে ইসলামী যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে দেশের প্রতিটি নাগরিক, চাই তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান হোন—সবাই পূর্ণ নিরাপত্তায় নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন। আমাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হবে আমরা সবাই এই পবিত্র বাংলাদেশের সন্তান।” বিগত দিনের অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ভীতি ও ভুল ধারণা ছড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ সচক্ষে দেখেছে জামায়াত কীভাবে মন্দির ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের জানমাল রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করেছে। মানুষের সেই ভুল ধারণা আজ ভেঙে গেছে।” গণসংযোগকালে তিনি আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র। যেখানে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এই জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে তিনি পটিয়াবাসীকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কালারপোল থানা জামায়াতের আমির মাস্টার নাছির উদ্দীন, সেক্রেটারি মো. ইব্রাহিম, আশিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সানাউল্লাহ নুরী এবং ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ শত শত সাধারণ ভোটার। পটিয়ার অলিগলিতে ডাক্তার ফরিদুল আলমের এই গণসংযোগে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রামের রাউজানে নির্বাচনি প্রচারণায় এখন ভোটের উত্তাপের চেয়েও বেশি কাজ করছে ‘বুলেটের আতঙ্ক’। ৮টি হত্যাসহ অন্তত ১৫টি মামলার আসামি এবং পুলিশের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান আলম এখন প্রকাশ্যেই নির্বাচনি মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, রাউজানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ এবং মোটরসাইকেল শোডাউনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই কুখ্যাত অপরাধী। সর্বশেষ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পূর্ব রাউজানের রশিদের পাড়ায় গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এক নির্বাচনী সমাবেশে রায়হানকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকশ মোটরসাইকেলের এক বিশাল বহর নিয়ে সেখানে হাজির হন রায়হান। তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গায়ে ছিল একই রঙের সাদা গেঞ্জি, যার সামনে লেখা ‘রায়হান এক্সপ্রেস’ এবং পেছনে প্রার্থীর ছবির নিচে লেখা ‘সৌজন্যে মোহাম্মদ রায়হান আলম’। সমাবেশ চলাকালীন মঞ্চে দাঁড়িয়ে রায়হানের সহযোগীরা ঘোষণা দেন, রায়হান আছে বলেই নাকি রাউজান শান্ত আছে! তারা ভোটারদের সাফ জানিয়ে দেন, রায়হানকে ‘সেইভ’ করতে হলে ধানের শীষের প্রার্থীকে জেতাতেই হবে। সমাবেশের পর রায়হান নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সেই ভিডিও শেয়ার করে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, রায়হান আলম কেবল পলাতকই নন, তিনি অত্যন্ত ভয়ংকর। তার বিরুদ্ধে রাউজান থানার ওসি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম জেলা ও নগরে অন্তত ১৩টি নতুন মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে, যার মধ্যে ছয়টিই হত্যা মামলা। যুবদল কর্মী আলমগীর, সেলিম ও ইব্রাহিমসহ একাধিক ব্যক্তিকে সরাসরি গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার ওপর। নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, রায়হান প্রকাশ্যে দিনের আলোতে তাদের আপনজনদের বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রায়হান এক সময় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার মামা ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন ‘সিলক্টেড’ ইউপি সদস্য। ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে তিনি এখন বিএনপি প্রার্থীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। রাউজানের সাধারণ মানুষ এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। যে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে, সে কীভাবে প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ভোটারদের ‘সাবধান’ হওয়ার হুমকি দিচ্ছে—এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে। নির্বাচনি নিরপেক্ষতা ও জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংশয়। সূত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় আজ এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভাষণ দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে বিএনপি প্রতিষ্ঠার স্মৃতি চারণ করে তিনি দাবি করেছেন, দলটির আদর্শিক পতন হয়েছে এবং এখন তাদের রাজনৈতিক দাফনের সময় এসেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল অলি বলেন, “জিয়াউর রহমান আর আমি মিলে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে ছিলাম, কিন্তু যখনই বুঝতে পারলাম তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন, তখনই আমি দল ত্যাগ করি। বর্তমানে বিএনপির দেশ চালানোর কোনো সামর্থ্য নেই। তারা ক্ষমতায় যাওয়া মানেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বন্দর দখল আর ব্যাংক লুটপাটের মহোৎসব।” জোটের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ১১ দলীয় জোট কারও ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি বলেন, “যারা নিজেদের ধর্ম ঠিকমতো পালন করে না, তারাই অন্যের ধর্মে হস্তক্ষেপের মিথ্যা ভয় দেখাচ্ছে। আমরা নারী বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার খর্ব করব না।” আগামী ১২ তারিখ ‘ব্যালট বিপ্লবে’র মাধ্যমে দেশবিরোধী সব অশুভ শক্তির ‘ভাতের হোটেল’ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী আনোয়ারার উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আনোয়ারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে সুষম উন্নয়ন হয়নি। কলকারখানা থাকলেও স্থানীয় শিক্ষিত যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না। আমরা জয়ী হলে এখানে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, যুবকদের জন্য আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং নারীদের জন্য আলাদা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব।” মাওলানা ইসমাঈল হক্কানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেকসহ নেজামে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আনোয়ারার এই বিশাল জনসভা এবং জনস্রোত প্রমাণ করছে যে, পরিবর্তনের হাওয়া এখন বন্দরনগরীর দক্ষিণাঞ্চলে প্রবলভাবে বইছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস