সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চট্টগ্রাম

১৮৬৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ধরা পড়া ঐতিহাসিক গণ্ডার ‘বেগম’
বাংলাদেশে ১৮৬৮ সালে শেষবার ধরা পড়া গণ্ডার, এরপর চলে যায় লন্ডনের চিড়িয়াখানায়

আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গণ্ডার দিবস। একসময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণ্ডারের বিচরণ ছিল। ঐতিহাসিক নথি ও গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে ছিল জাভান গণ্ডার আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিচরণ করত সুমাত্রান গণ্ডার। তবে শিকার, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যায় এই বিশাল আকৃতির বন্যপ্রাণী। সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত গণ্ডার ‘বেগম’, যাকে চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর কাছ থেকে ধরার পর শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয়েছিল লন্ডন চিড়িয়াখানায়।   ঐতিহাসিক গবেষণা অনুযায়ী, বেগমকে ১৮৬৭ সালের শেষ দিকে অথবা ১৮৬৮ সালের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর আশপাশের এলাকা থেকে স্থানীয়রা ধরে। পরে ব্রিটিশ কর্মকর্তা এফ এইচ হুডের তত্ত্বাবধানে প্রাণীটিকে চট্টগ্রামে রাখা হয়। বেগমের শরীরে থাকা অস্বাভাবিক লোমশ কানসহ বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সে সময় ইউরোপীয় প্রাণীবিদদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে সুমাত্রান গণ্ডারের এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য প্রাণীবিজ্ঞানীদের কাছে ছিল বেশ আগ্রহের বিষয়।   এরপর বেগমকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটি প্রাণীটিকে সংগ্রহ করতে আগ্রহী ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাণী ব্যবসায়ী উইলিয়াম জ্যামরাখের মাধ্যমে ১৮৭১ সালের নভেম্বরে বেগমকে কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর সমুদ্রপথে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয় এবং ১৮৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেগম পৌঁছায় লন্ডন চিড়িয়াখানায়।   লন্ডন চিড়িয়াখানার নথি অনুযায়ী, বেগম সেখানে ১৮৭২ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮ বছর বেঁচে ছিল। ১৯০০ সালের ৩১ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স অন্তত ৩২ বছর এবং সম্ভবত প্রায় ৩৫ বছর ছিল। দীর্ঘ সময় বন্দি অবস্থায় বেঁচে থাকার কারণে বেগমকে দীর্ঘজীবী গণ্ডারগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে তার দেহাবশেষের কিছু অংশ লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়।   তবে বেগমকে বাংলাদেশের একেবারে শেষ গণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ ঐতিহাসিক নথিতে তার পরেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে গণ্ডারের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। ১৮৮০ সালে কক্সবাজারের কাছাকাছি এলাকা থেকে আরও একটি স্ত্রী সুমাত্রান গণ্ডার ধরা পড়েছিল। পরে সেটিকে কলকাতা চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।   এমনকি চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও পরে গণ্ডারের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। গবেষকদের সংকলিত ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি পূর্ব চট্টগ্রাম এলাকায় একটি গণ্ডার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এটিকেই ওই অঞ্চলে গণ্ডারের সর্বশেষ পরিচিত রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ১৮৬৮ সালে ধরা পড়া বেগম ছিল আলোচিত ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গণ্ডার, তবে তাকে বাংলাদেশের শেষ গণ্ডার বলা পুরোপুরি নির্ভুল নয়।   সুন্দরবনের গণ্ডারের ইতিহাসও ছিল আলাদা। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনে যে গণ্ডার বিচরণ করত, সেটি সুমাত্রান গণ্ডার নয়, বরং জাভান গণ্ডার। উনিশ শতক পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জাভান গণ্ডারের উপস্থিতির একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে। এমনকি ১৮৬০ সালের দিকে পূর্ব সুন্দরবনে একাধিক গণ্ডার দেখার বর্ণনাও পাওয়া যায়। পরে শিকার ও আবাসস্থলের পরিবর্তনসহ নানা কারণে এসব প্রাণীর সংখ্যা কমতে থাকে এবং বিশ শতকের শুরুর দিকেই সুন্দরবন থেকে গণ্ডার কার্যত হারিয়ে যায়।   বাংলাদেশ থেকে গণ্ডারের হারিয়ে যাওয়ার এই ইতিহাস তাই শুধু ‘বেগম’ নামের একটি প্রাণীর গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই ভূখণ্ডে একসময় বিচরণ করা একাধিক প্রজাতির গণ্ডারের বিলুপ্তির ইতিহাস। বর্তমানে বাংলাদেশের বন্য পরিবেশে কোনো গণ্ডারের অস্তিত্ব নেই। একসময় যে প্রাণী দেশের বনাঞ্চল ও নদীঘেরা এলাকায় বিচরণ করত, এখন তার অস্তিত্ব টিকে আছে মূলত ইতিহাস, গবেষণার নথি ও সংরক্ষিত দেহাবশেষে।   প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব গণ্ডার দিবস। গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি এবং তাদের সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা তৈরিই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের জন্য দিনটি একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেয়, একসময় এ দেশের বনভূমিতেও গণ্ডারের বিচরণ ছিল এবং মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সেই বন্যপ্রাণী আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ডিবিসি নিউজ
হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে বাছুরের জন্ম, দেখতে কৌতূহলী মানুষের ঢ্ল

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে একটি বাছুরের জন্ম হয়েছে। গত শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী পৌরসভার দুদু মিয়ার পাহাড় এলাকায় খামারি মো. মাসুদের গাভীটি বাছুরটির জন্ম দেয়। স্বাভাবিক চার পায়ের পাশাপাশি পিঠ ও পেছনের অংশে আরও তিনটি অতিরিক্ত পা থাকায় বাছুরটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বাছুরটি জীবিত ও সুস্থ রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    বাছুরটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারবাড়িতে ভিড় করছেন। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে বিরল শারীরিক গঠনের বাছুরটিকে একনজর দেখছেন। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।    ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাছুরটির মালিক মো. মাসুদ স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে। খবর পেয়ে হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। তবে মালিকপক্ষ বাছুরটি তাদের দেখাতে সম্মতি দেয়নি।   হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাবিল ফারাবী জানিয়েছেন, বাছুরটির এমন শারীরিক গঠনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালিকপক্ষকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়া অতিরিক্ত পা তৈরির নির্দিষ্ট কারণ এখনই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।    প্রাণিবিজ্ঞানে জন্মগতভাবে স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত অঙ্গ থাকার ঘটনাকে পলিমেলিয়া বলা হয়। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পা নিয়ে জন্মের নজির বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সাত পা-ওয়ালা একটি বাছুরের শারীরিক গঠন পরীক্ষা করে এমন জন্মগত অস্বাভাবিকতার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাটহাজারীর বাছুরটির ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের জন্মগত ত্রুটি রয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাচ্ছে না।    বাংলাদেশেও এর আগে সাত পা নিয়ে বাছুর জন্মের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে ফেনীর দাগনভূঞায় এমন একটি বাছুরের জন্মের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে ঘটনাতেও অতিরিক্ত তিনটি পা থাকার কথা জানানো হয় এবং স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা এটিকে জন্মগত ত্রুটির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছিলেন।    হাটহাজারীর বর্তমান ঘটনায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বাছুরটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চাইলেও মালিকপক্ষের সম্মতি না পাওয়ায় এখনো বিস্তারিত পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অতিরিক্ত তিনটি পায়ের গঠন, ভেতরের অস্থি ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। আপাতত বাছুরটি জীবিত ও সুস্থ থাকার তথ্যই পাওয়া গেছে। সূত্র: ডিবিসি নিউজ

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
চট্টগ্রামের খুলশী-জালালাবাদে যৌথ অভিযানে আটক বিদেশি নাগরিকরা
চট্টগ্রামে গোপন আস্তানায় অভিযান, চীনা-পাকিস্তানিসহ ৬৩ বিদেশি আটক

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে চীনা ও পাকিস্তানিসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে ৭০টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস বিশ্লেষণ করে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন ও অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কথিত জুয়া কার্যক্রমের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব ও অনলাইন মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি ও স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা তাসলিম হোসেন তুর্য। ছবি: সংগৃহীত
১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি, স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

ব্যবসা করার জন্য শ্বশুরের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে বহুজাতিক ব্যাংকের কর্মকর্তা তাসলিম হোসেন তুর্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।   চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জখম সনদ, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং উচ্চ আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে সম্প্রতি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে গত ২৩ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, তাসলিম হোসেন তুর্য ঢাকার গুলশানে সিটিব্যাংক এনএ-এর অপারেশনস অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করার কথা বলে স্ত্রী উম্মে রুম্মান সিদ্দিকীর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি।   অভিযোগে বলা হয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে চাপ ও নির্যাতন করা হয়। এমনকি তাঁর আপত্তিকর ছবি ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।   পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন তুর্য। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্ত্রীকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া জখম সনদেও ভুক্তভোগীর পিঠে ভোঁতা আঘাতের উল্লেখ রয়েছে।   ভুক্তভোগী উম্মে রুম্মান সিদ্দিকীর দাবি, ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর আচরণে নানা অসঙ্গতি দেখতে পান তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলেই তুর্য তাঁর ওপর চড়াও হতেন।   মারধরের পরদিন, ৫ অক্টোবর, স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান তুর্য। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সালিশী কাউন্সিলের মাধ্যমে একপক্ষীয়ভাবে তালাক কার্যকর দেখানো হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   বাদীপক্ষের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগ নিয়ে মামলা থেকে বাঁচতে তালাকের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন আসামি।   পরে ভুক্তভোগী আদালতে সি.আর মামলা দায়ের করেন। হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ তদন্ত শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেন।   বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়াছিন আরাফাতের দাবি, আসামি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং ভুক্তভোগীকে হুমকি দিচ্ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন বাতিলের পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। তবে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।   এরপর গত ২৩ আগস্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাসলিম হোসেন তুর্যের জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।   তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মীর তোফাজ্জল হোসেন আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল নির্দোষ। বাদীর আচরণগত সমস্যার কারণে নিয়ম মেনেই তালাক দেওয়া হয়েছে এবং যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।   জিয়াউল হক ইমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না: সারজিস
শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না: সারজিস

পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়েও অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।   বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন সারজিস আলম।   পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তার দাবি, এসব পরিষদে এমনভাবে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার চেয়ে অনেকে জেলা পরিষদের সদস্য হতে আগ্রহী। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হলে ২০ কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ থাকে।   জেলা পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবেরও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী থাকলেও কোরামবাজি ও দলীয় প্রভাবের কারণে তাদের অনেকে জেলা পরিষদে স্থান পাননি।   পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদগুলোর জন্য প্রতি বছর বড় অঙ্কের সরকারি বরাদ্দ আসে উল্লেখ করে সারজিস আলম প্রশ্ন তোলেন, এত বরাদ্দের পরও কেন সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তিনি দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।   বিএনপির বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   সারজিস আলম বলেন, বিএনপি একসময় আওয়ামী লীগের কাছে যে পদ্ধতিতে নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছিল, এখন তারাই একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল, বিএনপির সরকারের ক্ষেত্রে তা ছয় মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক সংগঠনকে নিজ নিজ রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। জনগণই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে তারা কোন দলকে সমর্থন করবে।   সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, এই জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার অভিযোগ, একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী জামায়াত-এনসিপি জোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।   এ সময় আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সারজিস আলম বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জুয়েলারি দোকানে ১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী
জুয়েলারি দোকানে ১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চুড়িগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ।   শুক্রবার বিকেলে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ এসব তথ্য জানান।   পুলিশ জানায়, পাঁচলাইশ থানার প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি দোকান রয়েছে। দোকানটির মালিক বিপ্লব বসাক। সেখানে রোমেন দে নামের ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রায় ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন।   গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের কর্মীরা স্বর্ণের অলংকারের মজুত মিলিয়ে দেখার সময় গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি মালিককে জানানো হলে তিনি বাসা থেকে দোকানের দিকে রওনা হন। মালিক আসছেন জানতে পেরে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে বেরিয়ে যান।   পরে দোকানের মজুত যাচাই করে দেখা যায়, রোমেনের দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। ওই চুড়িগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। পুলিশ জানায়, স্বর্ণের চুড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর বক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।   এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকান মালিক বিপ্লব বসাক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমামের নেতৃত্বে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।   এর ধারাবাহিকতায় ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা ৫৩টি চুড়ির মধ্যে ৪৬টি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।   রোমেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালী থানার কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিয়াখান নগরের ওই জুয়েলারি দোকান থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব চুড়ির ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম।   পরদিন ২০ আগস্ট শ্যামল সিংহকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছে থাকা আরও ৩৯টি চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে।   এরপর কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘সাহা জুয়েলার্স’ থেকে ১৬টি এবং বিভিন্ন বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আরও ২০টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ জানায়, বন্ধকি ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিটন মহাজনের কাছ থেকে একটি, সাগর কারিগরের কাছ থেকে পাঁচটি, পার্থ মহাজনের কাছ থেকে ১১টি এবং রুবেল মহাজনের কাছ থেকে তিনটি চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।   এ ছাড়া রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার ‘মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘শাহ আমানত জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি এবং চকবাজারের ‘ফেন্সী জুয়েলার্স’ থেকে দুটি ও ‘তাজমহল জুয়েলার্স’ থেকে একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।   সিএমপি জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ির মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত
আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক মেজবানি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২৩ আগস্ট, রোববার আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি। আয়োজন ঘিরে এরই মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন।   আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানি প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর আগে আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ:   মেজবানির প্রধান আকর্ষণই থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই মেজবানির জন্য গরু জবাই ও রান্নার প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে। বিপুলসংখ্যক অতিথির খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকরা।   রোববার সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে অতিথিদের জন্য মেজবানির খাবার পরিবেশন শুরু হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, মিলন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন।   নকীব খানকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ: এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। তার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকছেন প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।   নকীব খানের গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের জন্য এবারের আয়োজনটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।   র‍্যাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:   মেজবানি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে র‍্যাফেল ড্র। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে র‍্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি হিরের আংটি। ফলে মেজবানির খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি র‍্যাফেল ড্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   প্রস্তুতি নিয়ে যা জানালেন স্যাম রিয়া ও শামসুদ্দিন মাহমুদ:   আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্যাম রিয়া এবং তার স্বামী শামসুদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, মেজবানিকে সফল করতে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই গরু জবাইসহ মেজবানির মূল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।   রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। দুপুরের পর শুরু হবে মেজবানির খাবার পরিবেশন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলবে সঙ্গীত পরিবেশনা।   প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যের যোগসূত্র:   আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের আয়োজন করা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক জায়গায় এনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চট্টগ্রামের মেজবানি এবং দেশের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান আয়োজকরা।   স্যাম রিয়া এর আগে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশিদের আহ্বান:   আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেট থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই ও আমেরিকা বাংলা:   এবারের মেজবানি আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আমেরিকা বাংলা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির এই বড় আয়োজনের খবর, প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে দুই গণমাধ্যমই মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।   আগামী ২৩ আগস্টের এই আয়োজন তাই শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি নকীব খান ও অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গীত উপভোগেরও সুযোগ থাকছে।   আর মাত্র পাঁচ দিন পরই আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে এই মিলনমেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেজবানি স্মরণীয় একটি কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা
চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য এক আনন্দঘন মিলনমেলার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৩ আগস্ট আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন’ বা বাইটপো-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় পরিসরে আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ হবে।   চট্টগ্রামের সুস্বাদু মেজবানের পাশাপাশি এই আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের গানে গানে মাতাতে মঞ্চে উঠবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকিব খান এবং প্রতীক হাসানসহ আরও বেশ কয়েকজন গুণী শিল্পী। সুস্বাদু খাবার আর আড্ডার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র-এর ব্যবস্থা। এতে ভাগ্যবান বিজয়ীদের জন্য হিরের আংটি, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনসহ নানা মূল্যবান পুরস্কার জেতার সুযোগ রাখা হয়েছে।   আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য স্যাম রিয়া জানান, প্রবাসীদের এক ছাদের নিচে এনে আনন্দময় সময় উপহার দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি সবাইকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতে এই মেজবান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম। ছবি;সংগৃহীত
জাপানে গবেষণা ইন্টার্নশিপে সুযোগ পেলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (এনআইপিএস)-এর একটি প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা ইন্টার্নশিপে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নভেম্বরে তিনি জাপানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মলিকুলার নিউরোইমিউনোলজি ল্যাবরেটরিতে স্নায়ুবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।   এই ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে তাহিয়া বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ আলঝেইমার রোগ, স্মৃতিভ্রম এবং অন্যান্য স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ নিয়ে চলমান গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গবেষণায় মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, স্নায়ুকোষের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হবে।   তাহিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজ জীবন থেকেই গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর গবেষণাগারের সীমিত সুযোগ-সুবিধা তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার প্রস্তুতি নিতে অনুপ্রাণিত করে। নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছেন। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলেও বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।   তাহিয়া জানান, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং সিনিয়রদের দিকনির্দেশনা তাঁকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তাঁর লক্ষ্য ভবিষ্যতে মলিকুলার জেনেটিকস বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করা এবং মানবস্বাস্থ্যের জটিল রোগের সমাধানে অবদান রাখা।   স্থানীয় সূত্র এবং বিজ্ঞান সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রতিবছর খুব সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ধরনের গবেষণা ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে "প্রতি বছর মাত্র দুই থেকে তিনজন" নির্বাচিত হওয়ার দাবির স্বাধীন সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ তথ্যকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   তাহিয়ার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশ নিতে চাইলে শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, গবেষণার দক্ষতা, কার্যকর যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতি। তাঁর মতে, বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ তৈরি হয় নিজের সক্ষমতা গড়ে তোলার মাধ্যমে।

Unknown আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ৫ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে এবং তার আরও পাঁচ সহযোগীকে পৃথক অভিযানে আটক করা হয়। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী নজরদারির সফল পরিণতি হিসেবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।   পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম নিজেই ফোর্সের সঙ্গে এই অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রায় সাত দিন ধরে ডেভিড ইমনের গতিবিধির ওপর নিবিড় নজরদারি চালানোর পর বুধবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই যশোর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।   তবে এই সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রায়হানকে ধরার জন্য একই সময়ে অভিযান চালানো হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। পলাতক রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই ডেভিড ইমনকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি গত ১৩ জুলাই দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনায় তার নাম নতুন করে আলোচনায় আসে।   প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, হামলার মাত্র দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয়ে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। ফোনে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয়েছিল, চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। সেই অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করার জের ধরেই কার্যালয়ে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন
পালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি, নজির গড়লেন নীলাওয়ান রাখাইন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন এবং কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষা–সম্পর্কিত বিষয়ে পিএইচডির সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের নাম নয়, বরং দক্ষতা, গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাই উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর নীলাওয়ান রাখাইন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে নিজের একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেন।   তিনি ইংরেজি ভাষার শিক্ষক, 10 Minute School–এর কনটেন্ট ক্রিয়েটর, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিভিন্ন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি কক্সবাজারে নিজের সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘চালুং একাডেমি’, যেখানে প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   শুধু শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি নীলাওয়ান। ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটি উন্নয়নকে একসঙ্গে যুক্ত করে তিনি একটি শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল গড়ে তুলেছেন। সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন।   এর মধ্যে ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে Teaching and Learning, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটনে Curriculum and Instruction এবং কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে Curriculum and Instruction বিষয়ে ভর্তি ও অর্থায়নের সুযোগ পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে এসব পিএইচডি প্রোগ্রাম গবেষণাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ডক্টরাল ডিগ্রি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা সহকারী বা ফেলোশিপভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।    উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মানবিক বা ভাষাভিত্তিক বিষয়ে পড়াশোনা করলেও গবেষণা, শিক্ষাদান, নেতৃত্ব এবং কমিউনিটি উন্নয়নে ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা অর্জন করলে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। নীলাওয়ান রাখাইনের অর্জন সেই বাস্তবতারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।   তাঁর এই সাফল্য এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা, যারা মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করে দেয়। বাস্তবে লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণামুখী অভিজ্ঞতা থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার দরজা যে উন্মুক্ত হতে পারে, নীলাওয়ান রাখাইনের যাত্রা তারই প্রমাণ।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি সংগৃহীত
ভেলায় ভাসছে মরদেহের ভিডিও ভাইরাল, দাফনের মাটি না পাওয়ার দাবিতে যা জানাল প্রশাসন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলাগাছের ভেলায় একটি মরদেহ বহনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে দাবি করা হয়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার কারণে দাফনের জন্য মাটি না পেয়ে মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন এ দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে বলেছে, ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।   ঘটনাটি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি মোহাম্মদ ফোরকান। এলাকাটি বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে স্বজনরা মরদেহ বহনের জন্য কলাগাছ দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ভেলা ব্যবহার করেন।   সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে দাবি ছড়ানো হয়েছে তা সঠিক নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। ঘটনাস্থলে নৌকা না থাকায় যে ভেলায় তাঁরা মাছ ধরছিলেন, সেই ভেলাতেই মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হয়।   ইউএনও আরও বলেন, “দাফনের জন্য মাটি পাওয়া যায়নি বা মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দর্শক পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন, যা মূলত ‘ভিউ ব্যবসা’।”   জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওর দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ভিডিও বিশ্বাস ও প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি পুরোনো কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখান থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে অন্যত্র পুনরায় দাফন করা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।   ভাইরাল ভিডিওটি বন্যা পরিস্থিতির একটি বাস্তব দৃশ্য ধারণ করলেও, “দাফনের জন্য মাটি না পেয়ে মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে” — এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহটি যথাযথ ধর্মীয় নিয়ম অনুসরণ করেই দাফন করা হয়েছে।

Unknown জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা
রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা: পাঁচ অস্ত্রধারী শনাক্ত, গ্রেপ্তার নেই

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রোববার রাত ১০টা) এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলাও দায়ের হয়নি।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী চক্র ‘রায়হান গ্রুপ’-এর সদস্যরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঁচজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল।   স্থানীয়দের অভিযোগ, রাউজান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করে আসা রায়হান বাহিনীর সদস্যরা এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত। এই বাহিনীর নেতা রায়হান স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এমপি বলেছেন, অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।   চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অপকর্মে জড়ালেও তাদের কোনো প্রকৃত দলীয় পরিচয় নেই। তিনি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।   গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরীকে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।   সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চট্টগ্রামের আরেক আলোচিত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলায় অংশ নেয়। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, পূর্ব রাউজানের মোহাম্মদ জাহেদ এবং মোহাম্মদ আবছার। ফুটেজ অনুযায়ী, প্রথমে ইলিয়াস ও দিদার গুলি চালায়, পরে অন্যরা কাছ থেকে আরও গুলি করে নিশ্চিতভাবে হত্যার ঘটনা ঘটায়।   রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়হান বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১২টি হত্যাসহ ২৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে রয়েছে ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলা। অন্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।   স্থানীয়দের মতে, রাউজানের পূর্ব সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসব সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের পর তারা সেখানেই আশ্রয় নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাউজান ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত বেশির ভাগ সহিংস ঘটনার সঙ্গে পাহাড়কেন্দ্রিক এসব গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।   নিহত মাকসুদুল হকের পরিবার জানিয়েছে, তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, “কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। সিসিটিভিতে যাদের দেখা গেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হলে ঘটনার কারণ স্পষ্ট হবে।”   এদিকে, এলাকাজুড়ে কর্ণফুলী নদীর বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব খতিয়ে দেখা জরুরি।   রোববার বিকেলে বেতাগী ইউনিয়নের চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে মাকসুদুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিপুল মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জানাজার আগে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা বক্তব্যে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।   রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অস্ত্র হাতে দেখা পাঁচজনই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান: ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার ঠেকাতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি গোপন স্থাপনা থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা ৩০টি ড্রামে সংরক্ষিত ছিল।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।   অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা জ্বালানি তেল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।   ঘটনাটির বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় অবৈধভাবে জ্বালানি সরিয়ে নিয়ে তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছিল। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রেনে ভয়াবহ আগুন
সীতাকুণ্ডে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ আগুন: প্রাণ বাঁচাতে যাত্রীদের আর্তচিৎকার ও উদ্ধার অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলন্ত 'চট্টলা এক্সপ্রেস' ট্রেনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরে ট্রেনটি সীতাকুণ্ড এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটি বগিতে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনের ভেতরে থাকা শত শত যাত্রী প্রাণভয়ে আর্তচিৎকার শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যাত্রীদের গগনবিদারী চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং রেললাইনের পাশে ট্রেনটি থামলে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের তীব্রতা দেখে অনেক যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকেই লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে, যা ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। অগ্নিকাণ্ডে ট্রেনের একটি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরণের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি আলাদা করে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
খাল পার হচ্ছেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত
উৎসব নয়, ছিল কেবলই বেঁচে থাকার লড়াই: একাত্তরের ঈদের ফিরে দেখা ইতিহাস

১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর—পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিন্তু সেই ঈদ ছিল না উৎসবের, ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ এসেছিল এক ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে।   মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ধরপাকড় ও দখলদারিত্বের মধ্যে মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে চলছিল প্রতিরোধ যুদ্ধ। এমন দমবন্ধ পরিস্থিতিতেই আসে ঈদ।   যেখানে রমজান এলেই চট্টগ্রাম নিউমার্কেট ও রেয়াজুদ্দিন বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে একাত্তরে ছিল নিস্তব্ধতা। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকেই ন্যূনতম আয়োজনেই ঈদ পার করেছেন।   প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে—ঈদের দিনটিতে আনন্দের চেয়ে ভয়ই ছিল বেশি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ত প্রতিনিয়ত। তবুও মানুষের মনে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন।   কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল–এর পরিবারও সেই বাস্তবতার বাইরে ছিল না। তাঁর ছেলে আবুল মোমেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভয়, আশঙ্কা আর আশাবাদের মধ্যেই ঈদ এসেছিল। ঘরে ভালো খাবার হলেও কোনো উৎসব ছিল না।”   মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক মাহফুজুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঈদ উদ্‌যাপনের কোনো পরিবেশই ছিল না। বরং নিরাপত্তার কারণে অনেককে বাড়ি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরাধীন দেশে ঈদে উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রচারপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল।   চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যা শহরটিকে পরিণত করেছিল মৃত্যুপুরীতে। বন্দর, হালিশহর, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয় বড় বড় হত্যাকাণ্ড। অনেক জায়গায় নালা ও ম্যানহোল থেকেও উদ্ধার করা হয় লাশ।   ঈদের দিনও ছিল না নিরাপদ। পটিয়ার মনসা গ্রামে এক মায়ের কান্না আজও স্মৃতিতে জাগ্রত—যুদ্ধের কারণে মেয়েকে দেখতে না পারার বেদনা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। আবার কোথাও বাবাকে হারানো সন্তানের কান্না ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল।   ইতিহাস গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “ঈদের দিন নতুন কাপড় ছিল না, ছিল শুধু দুধের সেমাই আর ভয়ের মধ্যে কাটানো কিছু সময়।”   সেদিনের ঈদ ছিল না কোলাকুলি বা আনন্দের—ছিল নীরবতা, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবুও মানুষের অন্তরে ছিল একটিই বিশ্বাস—স্বাধীনতা আসবে, অন্ধকার কেটে যাবে। আজকের স্বাধীন দেশে আনন্দমুখর ঈদ উদ্‌যাপনের পেছনে তাই লুকিয়ে আছে সেই ত্যাগ, বেদনা আর সংগ্রামের ইতিহাস।

Unknown মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০