চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বোনকে কুপিয়ে হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় ছোট ভাইকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী। সোমবার (২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হালিশহর থানার ঈদগাহ বড় পুকুর দক্ষিণপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সেনোয়ারা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা সাবের আহমেদের স্ত্রী। হত্যার অভিযোগে আটক ছোট ভাইয়ের নাম জানে আলম। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সেনোয়ারার স্বামী ও ছেলে তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে ছিলেন। বাসায় একা থাকা অবস্থায় জানে আলম স্বর্ণালংকার নিতে গেলে বোন বাধা দেন। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে জানে আলম বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সন্দেহজনক আচরণ দেখে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনির চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
নিহতের ছেলে সেকান্দার হোসেন বলেন, তারাবির নামাজ শেষে বাসায় ফিরে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং দেখেন লোকজন তার মামাকে আটক করে রেখেছে।
হালিশহর থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সুলতান মোহাম্মদ আহসান উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জানে আলমকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বোনকে কুপিয়ে হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় ছোট ভাইকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী। সোমবার (২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হালিশহর থানার ঈদগাহ বড় পুকুর দক্ষিণপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেনোয়ারা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা সাবের আহমেদের স্ত্রী। হত্যার অভিযোগে আটক ছোট ভাইয়ের নাম জানে আলম। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সেনোয়ারার স্বামী ও ছেলে তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে ছিলেন। বাসায় একা থাকা অবস্থায় জানে আলম স্বর্ণালংকার নিতে গেলে বোন বাধা দেন। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে জানে আলম বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সন্দেহজনক আচরণ দেখে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনির চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহতের ছেলে সেকান্দার হোসেন বলেন, তারাবির নামাজ শেষে বাসায় ফিরে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং দেখেন লোকজন তার মামাকে আটক করে রেখেছে। হালিশহর থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সুলতান মোহাম্মদ আহসান উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জানে আলমকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় একটি গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ নকল টাকা উদ্ধারের দাবি করা হয়েছিল। তবে পুলিশের বিশেষ তদন্তে দেখা গেছে, ওই অভিযানটি ছিল সাজানো নাটক; প্রকৃতপক্ষে ঐদিন সেখানে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের সদস্যরা এক ব্যবসায়ীর নগদ পৌনে চার কোটি টাকা লুকিয়ে নিয়ে গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশের সোর্সের জবানবন্দি এবং বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি পুনরায় এবং অভ্যন্তরীণভাবে তদন্তে পেয়েছে যে, অভিযানের নামে টাকা লোপাটের বিষয়টি সত্য রয়েছে। তদন্তে পোস্টের হাতে আসা ভিডিও বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার এক সোর্স ঢাকায় পরিচিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে ওয়ারীর একটি বাসায় বিপুল টাকার খবর দেন। ৮ নভেম্বর রাতে ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার তারেক সেকান্দারের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের আভিযানিক টিম ওই বাসায় অভিযান চালায়। তল্লাশিতে একটি কক্ষে ৪–৫ কোটি টাকার মতো নগদ টাকা পাওয়া যায়। তল্লাশি চালানোর পর ডিবি পুলিশ ওই টাকা কয়েকটি ব্যাগে ভরে নিচে পাঠায়। পরে গণমাধ্যম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখানোর জন্য সেখানে ১০–১৫ লাখ টাকা এবং কিছু ব্যাগে জাল নোট রাখা হয় এবং অভিযানে আটক দুজনকে জাল টাকার সাথে জড়িত দেখানো হয়। পরে ওই তথ্য ভিত্তিতে পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সোর্স ও জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, অভিযান শেষের পর এএসআই সুম্ময় শর্মা সোর্সদের অর্থিক ‘মানি’ হিসেবে নগদ টাকা দেয় এবং ঘটনায় অংশগ্রহণকারী পুলিশের কিছু সদস্য টাকা ভাগের পেছনের পরিকল্পনাকে স্বীকার করেছে। পরে প্রকৃত মালিকের অভিযোগে এবং আলামতের ভিত্তিতে পুনঃতদন্ত শুরু হয়। ডিবি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও নির্দোষ ব্যাখ্যা না পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন তদন্ত শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল সিডিআর বিশ্লেষণে অপরাধীদের অবস্থান ও ঘটনাস্থলের তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তের একটি পর্যায়ে ডিবি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিদায়ের দিনে প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরেই বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ দাবি করেছেন, চিফ প্রসিকিউটরের পদটিকে ‘টাকা কামানোর হাতিয়ার’ বানিয়েছিল তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিচার প্রক্রিয়ায় ‘রাজসাক্ষী নাটক’ এবং অর্থের বিনিময়ে আসামিদের ছাড় দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের অভিযোগ অনুযায়ী, আশুলিয়ার আলোচিত লাশ পোড়ানো মামলার প্রধান আসামির স্ত্রীর কাছ থেকে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের কক্ষে ‘ভারী ব্যাগ’ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তিনি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং পরবর্তীতে ওই আসামিকে রাজসাক্ষী করে মামলা থেকে অব্যাহতির পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করা এবং রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিদের ছাড় দেওয়ার পেছনেও বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সুলতান মাহমুদের মতে, ট্রাইব্যুনালের ৩-৪ জনের একটি অসাধু চক্র শুরু থেকেই এই ধরনের ‘সেটলিং বাণিজ্য’ পরিচালনা করে আসছিল। এদিকে, এসব অভিযোগকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা হিংসা থেকে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল এবং আদালতের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। তার পাশে থাকা প্রসিকিউটর তামীম সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পরে গণমাধ্যমের কাছে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রসিকিউশন টিমের এমন অভ্যন্তরীণ কাদা ছোড়াছুড়ি এবং দুর্নীতির অভিযোগ দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।