অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অথচ বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও আয়, সম্পদওসুযোগের বৈষম্য ক্রমেই বেড়েছে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সংকট, ন্যায়বিচারের দুর্বলতা, অর্থনীতিতে লিকেজ মডেলের বিস্তার এবং নীতিগত অকার্যকারিতার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে প্রত্যাশিতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগও বেসরকারি গবেষণাকারী সংস্থা পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টার (পিটিইআরসি) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকরা। সেমিনার অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্তও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি মানে শুধু জিডিপি বাড়ানো নয় বরং সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টিত হচ্ছে কিনা সেটিই মুখ্য বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক দশকে গড়ে৫-৬শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি। আয়বৈষম্যের সূচক বর্তমানে প্রায় দশমিক ৫-এর কাছাকাছি,যা উচ্চ বৈষম্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দেশের১০ শতাংশ মানুষ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে রাখছে,যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। তিনি আরো বলেন,খেলাপি ঋণ,অর্থ পাচার ওদুর্নীতির কারণে অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।এ অর্থ মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ যা একটি প্রভাবশালী শ্রেণী আত্মসাৎ করছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে একটি,মেঘাচ্ছন্ন অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে বহন করতে হবে। সমতা নয় বরং ন্যায়সংগত বণ্টন, সুশাসনও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব বলে আমি মনে করি।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন বলেন,উন্নয়ন মানে কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়।জিডিপির আকার বড় হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়,—এমন ধারণা থেকে বিশ্ব অনেকআগেই সরে এসেছে। উন্নয়ন চিন্তায় ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। ইনক্লুসিভ গ্রোথ মূলত নীতিনির্ভর ধারণা,যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব গোষ্ঠীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টন হচ্ছে কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অমর্ত্য সেনের ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষতাও সমবণ্টনের ভারসাম্য। এই ভারসাম্য আনতে প্রগ্রেসিভ ট্যাক্সেশন একটি কার্যকর নীতি হাতিয়ার। যার মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর নিয়ে দরিদ্রদের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।একর রাজস্বের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মানবসম্পদ উন্নয়ন,শিক্ষা, প্রশিক্ষণওস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। একই সঙ্গে গ্রাম ওশহরের মধ্যে অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করা, অর্থনীতির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল এমপাওয়ারমেন্ট নিশ্চিত করাও ইনক্লুসিভও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিডিপি বৃদ্ধি হলেও যদি তার সুফল সমানভাবে বণ্টিত না হয়, তবে প্রবৃদ্ধি অসম হয়ে পড়ে। বাস্তবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভূমি, শ্রম, পুঁজিও উদ্যোক্তার অবদান সমান নয়,কারো আয় বেশি আবার কারো কম। ফলে সবাই সমানভাবে প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে পারে না।’ পিটিইআরসির চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন,গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বাস্তবতায় আয়, ভোগ ও সম্পদবৈষম্য বেড়েছে। বৈষম্যের সূচক দশমিক৫-এ পৌঁছানো তারই প্রমাণ।জাতীয় সম্পদের বড় অংশ সীমিত জনগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার মূল কারণ হলো অর্থনীতিতে লিকেজ বা নিঃসরণ মডেলের বিস্তার। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অনৈতিকভাবে ব্যক্তি খাতে প্রবাহিত হয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছে, ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কল্যাণে রূপ নিচ্ছে না। বাজেটও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাজেট ট্রান্সপারেন্সি কম,বাজেটও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার প্রত্যাশার নিচে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে না পৌঁছানোয় দারিদ্র্য হ্রাস কার্যকর হচ্ছে না।দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়লেও ধনীদের ক্ষেত্রে কর ছাড় অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব ওমুদ্রানীতির সমন্বয়হীনতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতিও দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনাএ সংকটকে আরো গভীর করেছে।’ সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন,‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট নতুন বিষয় নয়, তবে নতুন রিসোর্স পারসন ওনতুন ভাবনা জানার জন্য এ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। দেশে সমস্যার অভাব নেই,,নীতিগত সমাধানও আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এর মূল কারণ দুটি,এক. অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশের অভাব এবং ২. ন্যায়বিচারের দুর্বলতা। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া বিচার নিশ্চিত করা যায় না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়,তখন লিকেজ মডেল তৈরি হয় এবং বিচার ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়।এ দুই জায়গায় সংস্কার ছাড়া নীতির সুফল আসবে না।’ সেমিনারের শেষে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে আলোচকরা বলেন, ‘বাংলাদেশে দেশীয়ও বিদেশী বিনিয়োগ কম আসার প্রধান কারণ নীতিগত অস্থিতিশীলতা, দুর্বল দেশীয় রেটিং,দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি এবং বাজার বৈচিত্র্যের অভাব। বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদিও স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ মানবসম্পদ, আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বহুমুখী উৎপাদন কাঠামো জরুরি। গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাহিম শাহারিয়ারের উপস্থাপনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল, প্রভাষক কাজী মান্না ইয়াসমিন, ফারহানা ইয়াসমিন, মুবাসিরা চৌধুরী নাবিলা, যোগাযোগও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শহিদুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকও শিক্ষার্থীরা। সেমিনারে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।এসব প্রস্তাবনার মধ্য থেকে তসলিমা জান্নাত,ওসমান ফারুকওসুমাইয়া তাবাসসুমের গবেষণা প্রস্তাবনাকে পুরস্কৃত করে পিটিইআরসি। পাশাপাশি গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপনকারী আরো পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সংস্থাটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল