অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অথচ বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও আয়, সম্পদওসুযোগের বৈষম্য ক্রমেই বেড়েছে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সংকট, ন্যায়বিচারের দুর্বলতা, অর্থনীতিতে লিকেজ মডেলের বিস্তার এবং নীতিগত অকার্যকারিতার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে প্রত্যাশিতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগও বেসরকারি গবেষণাকারী সংস্থা পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টার (পিটিইআরসি) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকরা। সেমিনার অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্তও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি মানে শুধু জিডিপি বাড়ানো নয় বরং সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টিত হচ্ছে কিনা সেটিই মুখ্য বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক দশকে গড়ে৫-৬শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি। আয়বৈষম্যের সূচক বর্তমানে প্রায় দশমিক ৫-এর কাছাকাছি,যা উচ্চ বৈষম্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দেশের১০ শতাংশ মানুষ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে রাখছে,যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।
তিনি আরো বলেন,খেলাপি ঋণ,অর্থ পাচার ওদুর্নীতির কারণে অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।এ অর্থ মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ যা একটি প্রভাবশালী শ্রেণী আত্মসাৎ করছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে একটি,মেঘাচ্ছন্ন অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে বহন করতে হবে। সমতা নয় বরং ন্যায়সংগত বণ্টন, সুশাসনও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব বলে আমি মনে করি।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন বলেন,উন্নয়ন মানে কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়।জিডিপির আকার বড় হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়,—এমন ধারণা থেকে বিশ্ব অনেকআগেই সরে এসেছে। উন্নয়ন চিন্তায় ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। ইনক্লুসিভ গ্রোথ মূলত নীতিনির্ভর ধারণা,যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব গোষ্ঠীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টন হচ্ছে কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
অমর্ত্য সেনের ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষতাও সমবণ্টনের ভারসাম্য। এই ভারসাম্য আনতে প্রগ্রেসিভ ট্যাক্সেশন একটি কার্যকর নীতি হাতিয়ার। যার মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর নিয়ে দরিদ্রদের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।একর রাজস্বের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মানবসম্পদ উন্নয়ন,শিক্ষা, প্রশিক্ষণওস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। একই সঙ্গে গ্রাম ওশহরের মধ্যে অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করা, অর্থনীতির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল এমপাওয়ারমেন্ট নিশ্চিত করাও ইনক্লুসিভও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিডিপি বৃদ্ধি হলেও যদি তার সুফল সমানভাবে বণ্টিত না হয়, তবে প্রবৃদ্ধি অসম হয়ে পড়ে। বাস্তবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভূমি, শ্রম, পুঁজিও উদ্যোক্তার অবদান সমান নয়,কারো আয় বেশি আবার কারো কম। ফলে সবাই সমানভাবে প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে পারে না।’
পিটিইআরসির চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন,গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বাস্তবতায় আয়, ভোগ ও সম্পদবৈষম্য বেড়েছে। বৈষম্যের সূচক দশমিক৫-এ পৌঁছানো তারই প্রমাণ।জাতীয় সম্পদের বড় অংশ সীমিত জনগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার মূল কারণ হলো অর্থনীতিতে লিকেজ বা নিঃসরণ মডেলের বিস্তার। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অনৈতিকভাবে ব্যক্তি খাতে প্রবাহিত হয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছে, ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কল্যাণে রূপ নিচ্ছে না।
বাজেটও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাজেট ট্রান্সপারেন্সি কম,বাজেটও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার প্রত্যাশার নিচে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে না পৌঁছানোয় দারিদ্র্য হ্রাস কার্যকর হচ্ছে না।দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়লেও ধনীদের ক্ষেত্রে কর ছাড় অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব ওমুদ্রানীতির সমন্বয়হীনতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতিও দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনাএ সংকটকে আরো গভীর করেছে।’
সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন,‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট নতুন বিষয় নয়, তবে নতুন রিসোর্স পারসন ওনতুন ভাবনা জানার জন্য এ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। দেশে সমস্যার অভাব নেই,,নীতিগত সমাধানও আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এর মূল কারণ দুটি,এক. অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশের অভাব এবং ২. ন্যায়বিচারের দুর্বলতা। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া বিচার নিশ্চিত করা যায় না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়,তখন লিকেজ মডেল তৈরি হয় এবং বিচার ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়।এ দুই জায়গায় সংস্কার ছাড়া নীতির সুফল আসবে না।’
সেমিনারের শেষে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে আলোচকরা বলেন, ‘বাংলাদেশে দেশীয়ও বিদেশী বিনিয়োগ কম আসার প্রধান কারণ নীতিগত অস্থিতিশীলতা, দুর্বল দেশীয় রেটিং,দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি এবং বাজার বৈচিত্র্যের অভাব। বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদিও স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ মানবসম্পদ, আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বহুমুখী উৎপাদন কাঠামো জরুরি। গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাহিম শাহারিয়ারের উপস্থাপনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল, প্রভাষক কাজী মান্না ইয়াসমিন, ফারহানা ইয়াসমিন, মুবাসিরা চৌধুরী নাবিলা, যোগাযোগও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শহিদুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকও শিক্ষার্থীরা।
সেমিনারে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।এসব প্রস্তাবনার মধ্য থেকে তসলিমা জান্নাত,ওসমান ফারুকওসুমাইয়া তাবাসসুমের গবেষণা প্রস্তাবনাকে পুরস্কৃত করে পিটিইআরসি। পাশাপাশি গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপনকারী আরো পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সংস্থাটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
চাকরির প্রস্তুতি ও পরীক্ষাসহ ব্যক্তিগত নানা কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এবার ক্যাম্পাসেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা এসব শিক্ষার্থীর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) যৌথভাবে বিশেষ উপহার ও গণভোজের আয়োজন করেছে। রাকসু সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাস অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ উপহার হিসেবে ছাত্রদের জন্য পাঞ্জাবি এবং ছাত্রীদের জন্য থ্রি-পিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি বড় গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও থাকছে বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা। রাকসু নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে তারা পালাক্রমে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে প্রশাসন ও হলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে ছুটির সময়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। প্রিয়জনদের ছেড়ে ক্যাম্পাসে থাকা এসব শিক্ষার্থীর মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতেই এই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদকঃ রাফাসান আলম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে বুধবার (১১ মার্চ) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি মোস্তফা কামাল খান জানান, অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়ার আগে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ঢাকা-টুঙ্গিপাড়া ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা ২০২৬’ নামে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মসূচির কারণে আলোচনায় ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার দ্বারা মারধরের শিকার হন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, তিনি ফেসবুকে ‘গণকান্নার’ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর ধানমন্ডি ৩২-এ গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফেসবুকে একটি কমেন্টকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে রাকসু সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ তার নেতাদের সঙ্গে কার্যালয়ে এসে এই বিষয়টি নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। মারুফ অভিযোগ করেছেন, কমেন্টে আম্মার প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে নানা গালি দিয়ে নৈতিক স্খলনের প্রকাশ করেছেন। তারা রাকসুর সভাপতি ড. সলেহ হাসান নকিবের কাছে বিষয়টি জানাতে যাচ্ছেন। সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছেন, ‘একটি কমেন্টকে টেনে যে বিষয়গুলো তৈরি হয়েছে, তা অনেকটা টাচ-করবিনা পলিটিক্সের মতো হয়ে গেছে। তারা মিডিয়া অ্যাটেনশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে।’ ঘটনার পূর্বপ্রেক্ষিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ রাকসু সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘রাকসু ফরজ কাজ বাদ দিয়ে নফল কাজে বেশি মনোযোগী। হবেই না বা কেন?’ এ পোস্টের কমেন্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেন, “চুলকানি শুরু মলমের নাম নুরু।”