বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ সালের জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর হতে যাওয়া এই চুক্তিতে এসেছে বড় ধরনের রদবদল। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা গেছে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এবং তারকা পেসার তাসকিন আহমেদের অবনমন (ডিমোশন)। এছাড়া, এবার বিসিবির ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে শীর্ষ ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে কোনো ক্রিকেটারই জায়গা পাননি। গত বছরের ২২ জনের তালিকা বাড়িয়ে এবার ২৮ জন ক্রিকেটারকে চুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। পারফরম্যান্স, ফর্ম এবং সব ফরম্যাটে নিয়মিত উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ক্রিকেটারদের এ, বি, সি ও ডি—এই চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। তাসকিন আহমেদ গতবার একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকলেও, লাল বলের ক্রিকেট থেকে বিরতিতে থাকায় এবার তাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় মুশফিকুর রহিমের ঠাঁই হয়েছে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। বিসিবি জানিয়েছে, যারা তিন ফরম্যাটেই (টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) নিয়মিত খেলছেন এবং পারফর্ম করছেন, তাদের জন্য এই চুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তরুণ ক্রিকেটার যেমন তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন এবং নাহিদ রানাদের ওপর আস্থা রেখে তাদের ভালো ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। বিসিবির নির্বাচক প্যানেলের মতে, নিয়মিত খেলার মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও বেতন কাঠামো: বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, যারা একাধিক ফরম্যাটে খেলছেন, তারা আর্থিক ও মর্যাদাগত দিক থেকে তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছেন। বিশেষ করে হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানার মতো উদীয়মান পেসারদের ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তি দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।
কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন লম্বরী ও মিঠাপানিরছড়া সৈকতের পৃথক দুটি স্থান থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। সৈকতের বালুচরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় জেলেরা পুলিশে খবর দিলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে জোয়ারের স্রোতে মরদেহ দুটি তীরের আলাদা স্থানে ভেসে আসে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য এগুলোকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। এটি কি কোনো নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভ ও সংলগ্ন সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে।
দীর্ঘ ৫৫৯ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকাল শেষ করে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন 'যমুনা' ছাড়ছেন বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদটি বিলুপ্ত হয়। এরপরই রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—ড. ইউনূসের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়? বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছেড়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত তার নিজস্ব বাসভবনে ফিরে যাবেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি যমুনা ছেড়ে সেখানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল শপথ অনুষ্ঠান শেষে তিনি কোনো বাড়তি প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ নাগরিক হিসেবে যমুনায় ফিরে যান, যা তার সাদামাটা জীবনধারারই প্রতিফলন। এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় বাসভবন হিসেবে ‘যমুনা’ ব্যবহার করতে পারেন। তবে দীর্ঘ সময় পর ভবনটিতে কিছু সংস্কার কাজ প্রয়োজন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠতে আরও অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে দেশের হাল ধরেছিলেন এই নোবেলজয়ী। সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তার ঐতিহাসিক দায়িত্বের অবসান ঘটল। জানা গেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শেষে ড. ইউনূস পুনরায় তার আগের পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করবেন। বিশেষ করে দেশের ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত ১৭ মার্চ অনুমোদন পাওয়া 'গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়' এর দেখভাল করবেন তিনি। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন এই মিশনে নিজেকে যুক্ত করার মাধ্যমেই তার পরবর্তী দিনগুলো কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ২ দিন পর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা ভোগ করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবশ্যিকভাবে যোগদান বা রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। প্রতিদিনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করতে হবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত তিন হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনের কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopa.gov.bd-এ পাওয়া যাবে। আজ শুক্রবার অধিদপ্তরের সংশোধিত এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের উল্লেখযোগ্য শর্তের মধ্যে রয়েছে- নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে তার চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার যেরূপ স্থির করবে সেরূপ পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেককে দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল অনূর্ধ্ব দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন মর্মে ধরে নেওয়া হবে এবং এ নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই তালিকা অনুযায়ী, আসন্ন এই দ্বৈত নির্বাচনে বাংলাদেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের দেওয়া তথ্যমতে, এবারের মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের বা হিজড়া ভোটার হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিবর্তন ও গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আসনভিত্তিক ভোটার বিন্যাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছেন গাজীপুর-২ আসনে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। এর বিপরীতে ঝালকাঠি-১ আসনে সবচেয়ে কম ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, চূড়ান্ত এই তালিকার ভিত্তিতেই এখন দ্রুতগতিতে ব্যালট পেপার মুদ্রণ এবং ভোটকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেহেতু ভোটারদের এবার সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নেও ভোট দিতে হবে, তাই ভোট গ্রহণ ও গণনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা এবং অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশন আগেভাগেই সতর্কবার্তা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে যে, ভোটারদের এনআইডি সংগ্রাহ করা বা কোনো ধরনের উপহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা বা আদালতের নির্দেশনা থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার প্রক্রিয়াও সচল রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটারের অংশগ্রহণ এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভোটারদের নিরাপত্তা এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস