তেহরান

ছবি - সংগৃহিত
ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা চূর্ণ করে তেল আবিবে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ইতিহাসে এবার ইসরায়েলে সবচাইতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।   বুধবার চালানো এই হামলায় কেঁপে উঠেছে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।   হামলার সময় সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।   উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, বেশ কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।   একটি ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করছিল যা জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   তেল আবিব ছাড়াও শেফেলা এবং জেরুজালেম এলাকায় সতর্ক সংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানে ভয়াবহ পাল্টা হামলা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।   তেহরানের কয়েক ডজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়েছে যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।   এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।   এর পর থেকেই ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে।   মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। জর্ডান ও ইরাকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।   বড় শক্তিগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে প্রতিদিন আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে।   বিশ্ববাসী এখন চরম উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছে যে এই সংঘাতের শেষ কোথায়।   আপাতত কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না যা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনও দেশেই অবস্থান করছেন

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজের দেশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন না।   রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেদভ বলেন, “জনগণের বোঝা উচিত, তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, নতুন নেতা দেশে আছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত আছেন।”   তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিই মূল কারণ। এখনও পর্যন্ত খামেনির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।   এর আগে বিভিন্ন মহলে খামেনির অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। জনসমক্ষে না আসায় এমন গুঞ্জন ছড়ায় যে, তার বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেঁচে আছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ইরানের রাজধানী তেহরান -পুরোনো ছবি
তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে

ইরানের রাজধানী তেহরানে রোববার (২৯ মার্চ) ভোরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সঠিক স্থান ও কারণ সম্পর্কে পরে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে।   বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিকরা উত্তর তেহরানে সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ওই সময়ে সেখানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   পরবর্তীতে আলজাজিরা জানায়, বাংলাদেশ সময় সকাল প্রায় ১১টায় উত্তর তেহরানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ ধরা পড়ে। এরপর সাংবাদিকরা একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি ওঠতে দেখেছেন।   উল্লেখ্য, ওই এলাকায় অনেক সামরিক স্থাপনা থাকলেও সাধারণ মানুষের আবাসস্থলও রয়েছে। তাই নতুন হামলার সঠিক লক্ষ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে সংঘর্ষ চলছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, যা সামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি অসংখ্য বেসামরিক স্থাপনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল
তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনা ঘটে শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে।   ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য উদ্ধৃত করে আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তায় আরও এক দেশের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা

হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে চালু করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার তেহরান জানায়, স্পেনের পক্ষ থেকে আসা অনুরোধ তারা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, যেসব জাহাজ ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশের’ নয়, সেগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রণালী পার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। ইউরোপীয় কোনো দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের বার্তা এই প্রথম দিল ইরান।   স্পেন শুরু থেকেই মার্কিন-ইসরাইলি হামলার সমালোচনায় সরব ছিল এবং এই অভিযানকে ‘অবৈধ’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্পেনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি স্পেনের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে তেহরান। তাই মাদ্রিদের অনুরোধগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘকে জানায়, ‘অশত্রু’ দেশের জাহাজগুলো প্রয়োজনীয় সমন্বয় করলে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে।   ইরানের অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত। তবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কিছু দেশের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হচ্ছে।   সম্প্রতি থাইল্যান্ডের একটি তেলবাহী জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করেছে। একইভাবে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ইরান ইতোমধ্যে ১০টি তেলবাহী জাহাজকে প্রণালী পার হতে দিয়েছে। এসবের মধ্যে পাকিস্তানের পতাকাবাহী কিছু জাহাজও রয়েছে।   অন্যদিকে, স্পেনের বাণিজ্যিক নৌবহর তুলনামূলকভাবে ছোট। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বর্তমানে তাদের বহরে ৯১টি জাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি তেলবাহী ও গ্যাসবাহী জাহাজও অন্তর্ভুক্ত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
সিরিয়ার দক্ষিণে ইসরাইলের নতুন হামলা
সিরিয়ার দক্ষিণে ইসরাইলের নতুন হামলা

ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের জেরে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে প্রতিরোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। টানা ২১ দিন ধরে চলমান এই সংঘাতের মাঝেই নতুন করে আরেকটি মুসলিম দেশে আঘাত হেনেছে ইসরাইল।   শুক্রবার (২০ মার্চ) ইসরাইলি বাহিনী জানায়, তারা সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল একটি কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্রাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।   ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আস-সুওয়ায়দা অঞ্চলে দ্রুজ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সিরীয় কর্তৃপক্ষের কথিত হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই অভিযান পরিচালনা করেছে, যা বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সংঘটিত হয়।   তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।   সূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করলেন প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, দেশের গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমার প্রিয় সহকর্মী ইসমাইল খাতিব, আলী লারিজানি ও আজিজ নাসিরজাদেহ এবং তাদের পরিবারের কিছু সদস্য ও সঙ্গীদের হত্যাকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”   এর আগে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। সূত্র মতে, ইসরায়েল রাতভর চালানো এক অভিযানে ইসমাইল খাতিবকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে। তবে তেহরান এই হামলার বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।   সোমবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আলী লারিজানি ও বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানির জানাজা তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, জানাজায় হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং নিহত দুই কর্মকর্তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।   ইসরায়েলের দাবি সত্য হলে, এটি গত দু’দিনের মধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর সংঘটিত তৃতীয় বড় হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড হবে। মঙ্গলবারের হামলায় আলী লারিজানি ও গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হওয়ার খবর আগে প্রকাশিত হয়েছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল দাবি: তেহরানের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আলি লারিজানি হত্যার চেষ্টা

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি হত্যার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। যদিও ইরান বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি একটি সূত্র জানিয়েছে, লারিজানি নিহত হয়েছেন এবং হামলায় ইরানি অভ্যন্তরীণ সহায়তা ছিল। সূত্র জানায়, তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা লারিজানির সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, যা ব্যবহার করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী হামলা পরিচালনা করেছে।   ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানের বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই আমাদের লারিজানিকে শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন, যার মধ্যে গত শুক্রবারের কুড়্দস দিবসের র‌্যালি অন্যতম। এ সময় তিনি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন, যা তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল।”   এই ঘটনায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দাপটে অসহায় ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান। তেহরানের অনুমতি ছাড়া এই সরু জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল এবং সমুদ্রপথে পরিবহন হওয়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে বর্তমানে এই সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে ইউরোপে গ্যাসের দামও ঊর্ধ্বমুখী।   এই পরিস্থিতিতে চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে যৌথভাবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন। এখন জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা তার প্রশাসনের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।   যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে, বাড়ছে উত্তেজনা যুদ্ধের ১৬তম দিনে এসে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন। অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের আলোচনায় রাজি নয়। ফলে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   মিত্রদের সহায়তা চাইছেন ট্রাম্প শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি তেহরানের শত্রুদের জন্য বন্ধ থাকবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই জলপথে অন্তত ১৬টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আগে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো সাড়া মেলেনি।   বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া জাপান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-এর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। চীন সংঘাত দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। অন্যদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহী রণতরী পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে এবং এটি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের অনুরোধ সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে।   ইরানে হামলা অব্যাহত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার রাত এবং রোববার সকালে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী তেহরান-এর দক্ষিণে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়া শিরাজ শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের অভিযানে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের হাজারো সদস্য হতাহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন বলেন, সামনে আরও হাজারো লক্ষ্যবস্তু রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালিয়ে যাবে।   ইরানের পাল্টা হামলা রোববার ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তাদের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব হামলার দায় অস্বীকার করে ইরান বলেছে, শত্রুপক্ষ তাদের ড্রোনের নকল ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে যাতে দায় তেহরানের ওপর চাপানো যায়।   সমঝোতায় অনাগ্রহ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সমঝোতা করতে চাইছে, কিন্তু তিনি এতে রাজি নন। মার্কিন গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতায় অবশ্যই ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোনো সম্ভাবনা নেই।   নেতানিয়াহু নিয়ে গুজব এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়ালেও তার দপ্তর জানিয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন। তবে পরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   লেবাননেও সংঘাত ইসরাইল লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লেবাননের জনগণকে রক্ষায় তারা ইসরাইলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ ও ফ্রান্স। তবে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার জানিয়েছেন, লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন হামলায় নিহত ৮৪ ইরানি নাবিকের জানাজা বুধবার

মার্কিন সাবমেরিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনার–এর ৮৪ নাবিকের জানাজা ও শোকমিছিল আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। ৪ মার্চের ওই হামলার ঘটনায় নিহত নাবিকদের স্মরণে রাজধানী তেহরানে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মধ্য তেহরান–এ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। নিহত নাবিকদের স্মরণে হাজারো মানুষ এতে অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এ ছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।   এর আগে গত শুক্রবার শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত নাবিকদের মরদেহ তেহরানে পাঠানো হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র অবস্থায় থাকার সময় একটি মার্কিন সাবমেরিনের ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে যুদ্ধজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে জাহাজে থাকা ৮৪ জন নাবিক নিহত হন।   সূত্র : আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধবিরতি চায়নি, সমঝোতার কথাও বলেনি: আরাকচি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার আলোচনা চায়নি।   সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আলোচনায় বসতে চায়। তবে তিনি বলেছেন, তেহরানের দেওয়া শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য নয় বলেই তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি নন।   এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ–এর ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।   তার ভাষায়, “আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে কেন কথা বলব? কারণ আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় ছিলাম, আর সেই সময়ই তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।”   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই সংঘাত মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে শুরু হয়েছে। তার দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং ইরান এখন আত্মরক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন, কোনো সমস্যা নেই: ইরান

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি–এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, খামেনির শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।   শনিবার ‘এমএস নাউ’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা পুরোপুরি সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার দায়িত্ব পালন করছেন।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, মুজতবা খামেনি সম্ভবত আহত হয়েছেন এবং তার শরীরে গুরুতর আঘাত বা অঙ্গহানির আশঙ্কা রয়েছে।   এই দাবি অস্বীকার করে আরাগচি বলেন, খামেনির কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তিনি ইতোমধ্যেই জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন এবং তার দায়িত্ব আগের মতোই পালন করে যাবেন।   এদিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম ভাষণেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুজতবা খামেনি। তিনি ইঙ্গিত দেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।   একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলে দেওয়া হবে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি: অস্তিত্বের সংকটে এক রহস্যময় উত্তরাধিকারী

এক উত্তাল ও অনিশ্চিত সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেন মোজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় ‘সুপ্রিম লিডার’।   তবে এমন এক মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান তার ইতিহাসের কঠিনতম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, বংশপরম্পরা ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা এখন তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাবার ছায়া থেকে ক্ষমতার শীর্ষে মোজতবা খামেনি গত কয়েক দশক ধরে তার বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। ইরানের প্রভাবশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে মনোনীত করার পরপরই কট্টরপন্থিরা রাজপথে নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন। দেশটির সকল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নতুন কমান্ডারের প্রতি 'শেষ রক্তবিন্দু' দিয়ে অনুগত থাকার শপথ নিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রের গায়েও লেখা ছিল, "আপনার সেবায় নিয়োজিত, সৈয়দ মোজতবা"। ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিশোধের আগুন মোজতবার এই উত্থান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সাম্প্রতিক সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি শুধু বাবাকেই হারাননি, হারিয়েছেন মা, স্ত্রী এবং এক সন্তানকেও। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাকে আরও রহস্যময় ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই মোজতবাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা। গত রাতেই তেহরানের রাজপথে "মোজতবার মৃত্যু চাই" স্লোগান শোনা গেছে। বিরোধীদের মতে, তার শাসনামলে ইরান আরও কট্টরপন্থি ও দমনমূলক হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার নেতৃত্বকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তিনি বেশিদিন টিকবেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকে ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রহস্যময় ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ মোজতবা খামেনি বরাবরই জনসমক্ষে আসতে অপছন্দ করেন। তার কোনো পাবলিক বক্তৃতার রেকর্ড নেই এবং তিনি কখনো আনুষ্ঠানিক সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি। তবে ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সাথে তার গভীর সম্পর্ক তাকে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেউ কেউ তাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ইরানি সংস্করণ’ হিসেবে দেখছেন—যিনি কি না কঠোর হাতে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেও কিছুটা সামাজিক পরিবর্তনের আভাস দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝে মোজতবা খামেনি ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে জরুরি বৈঠকে বসছে বিশেষজ্ঞ পরিষদ

এক ঐতিহাসিক এবং সংকটময় মুহূর্তে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী ও নীতি-নির্ধারক পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি জরুরি অধিবেশনে মিলিত হতে যাচ্ছে।  পরিষদের অন্যতম সদস্য আয়াতুল্লাহ মোজাফারি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ডামাডোল ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি ইরানের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্ব পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে কাকে বেছে নেবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন ধর্মীয় স্কলার ও বিশেষজ্ঞ সদস্য গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা নির্বাচন করবেন। পরিষদের এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষমতার উত্তরসূরি নিশ্চিত করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে চায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
গত রাতভর মেহরাবাদ বিমানবন্দরসহ রাজধানীজুড়ে বড় আকারে হামলা চালানো হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েল ধ্বংস করেছে ইরানের ১৬ বিমান

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গত রাতভর তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেহরাবাদ বিমানবন্দর সহ রাজধানীজুড়ে বড় আকারে হামলা চালানো হয়েছে।   ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, কুদস ফোর্স বিমানবন্দরটি লেবাননের হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত। তবে এই দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষও এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।   ইরান ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হয়েছে, ইসরাইলের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আরও কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের খারাপ আচরণের কারণে কিছু এলাকা ও গোষ্ঠী এখন সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আগ্রাসনের মুখে তারা কখনও আত্মসমর্পণ করবেন না।   সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার বিস্তারও আশঙ্কার কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ইসরায়েলি হামলা

ইরানের রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার ভোরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে বিমানবন্দরের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। অপর একটি ফুটেজে দেখা গেছে, একের পর এক হামলার কারণে বিমানবন্দরে আগুনের বিশাল গোলা তৈরি হয়েছে।   এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে বিস্তৃতভাবে হামলা চালাচ্ছে এবং মূলত ইরানের সরকারি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে। হামলার ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।   সূত্র: বিবিসি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ইরান বলছে স্থল অভিযান হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’, যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তেহরান
ইরান বলছে স্থল অভিযান হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’, যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তেহরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও বাড়লে সম্ভাব্য স্থল অভিযানসহ যেকোনো সামরিক পরিস্থিতির জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে প্রতিপক্ষের জন্য তা “ভয়াবহ পরিণতি” ডেকে আনবে।   বৃহস্পতিবার NBC News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত, এমনকি স্থল অভিযান হলেও। আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি, এবং আমরা নিশ্চিত যে আমরা মোকাবিলা করতে পারব—এটি তাদের জন্য বিপর্যয় হবে।”     ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অস্থিতিশীল করতে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করতে পারে—এমন খবরের কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের দাবি ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসও অস্বীকার করেছে।   তিনি বলেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।   এখনই যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা নয় আরাঘচি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো নতুন আলোচনা বা যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়।   তার অভিযোগ, “আমরা তাদের সঙ্গে দুইবার আলোচনা করেছি, আর প্রতিবারই আলোচনার মাঝখানে তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”   তিনি ইঙ্গিত দেন যে ২০২৫ সালের জুনে শুরু হওয়া সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর ইরান নতুন করে আলোচনায় বসার কারণ দেখছে না।   হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই, তবে সতর্কতা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন,   এ মুহূর্তে ইরানের এটি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে যুদ্ধ বাড়লে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।   তার ভাষায়, “প্রণালী বন্ধ করা হয়নি, কিন্তু জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ভয়ে এড়িয়ে চলছে—কারণ তারা আশঙ্কা করছে যে যেকোনো পক্ষের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।”

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যু কি খামেনির নিজেরই লেখা শেষ চিত্রনাট্য? বাঙ্কার প্রত্যাখ্যান ও এক ‘রহস্যময়’ বিদায়

পশ্চিম এশিয়ার একনায়কদের বিদায় সচরাচর সসম্মানে হয় না। গাদ্দাফিকে পাওয়া গিয়েছিল নর্দমায়, সাদ্দাম হোসেনকে গর্ত থেকে টেনে বের করেছিল মার্কিন বাহিনী। এমনকি হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের শেষ মুহূর্তের সঙ্গী ছিল ধুলোবালি আর একটি ভাঙা লাঠি। কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা থাকার পর আয়াতোল্লা আলি খামেনির প্রস্থান কি কেবলই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সাফল্য, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে খামেনির নিজস্ব কোনো মাস্টারস্ট্রোক? বাঙ্কার প্রত্যাখ্যান ও শাহাদতের পরিকল্পনা সূত্র বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন তেহরানে তাঁর বাসভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হয়, তখন উপদেষ্টারা তাঁকে সুরক্ষিত বাঙ্কারে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু খামেনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবারসহ নিজের সাধারণ বাসভবনেই অবস্থান করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং ছিল পরিকল্পিত। মৃত্যুর ১২ দিন আগে দেওয়া তাঁর শেষ ভাষণে তিনি কারবালার যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, "আমার মতো কেউ ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার করবে না।" অর্থাৎ, তিনি আগেই নিজের মৃত্যুর ধরন ঠিক করে নিয়েছিলেন। মৃতপ্রায় আন্দোলনে নতুন প্রাণের সঞ্চার খামেনি জানতেন, বাঙ্কারে লুকিয়ে মারা যাওয়া মানে পরাজয়। আর প্রকাশ্য হামলায় মৃত্যুবরণ করলে তা হবে ‘শাহাদত’। ঠিক তা-ই হয়েছে। যে ইরানে কিছুদিন আগেও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছিল, খামেনির মৃত্যুর পর সেখানে এখন শোকের ঢল। ঝিমিয়ে পড়া ইসলামি বিপ্লবী আন্দোলন যেন নতুন সঞ্জীবনী মন্ত্র খুঁজে পেয়েছে। ক্ষমতার রদবদল ও কট্টরপন্থীদের উত্থান খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপন্থীদের সরিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে শুরু করেছে কট্টরপন্থীরা। অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে আলিরেজা আরাফির নাম উঠে আসার পাশাপাশি খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনির পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। এমনকি খামেনির নিজের জারি করা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ’ সংক্রান্ত ফতোয়াটিও এখন বাতিলের পথে, যা ইরানকে পুরোদস্তুর পারমাণবিক শক্তিতে রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করতে পারে। অস্থিতিশীল পশ্চিম এশিয়া খামেনির এই ‘পরিকল্পিত’ প্রস্থান শিয়া বিশ্বকে উস্কে দিয়েছে। পাকিস্তান থেকে ইরাক—সর্বত্র মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থে আঘাত হানছে বিক্ষোভকারীরা। হিজবুল্লাহ এবং হাউথিরা নতুন করে হামলা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, নিজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরানের নড়বড়ে শাসনব্যবস্থাকে আরও কয়েক দশকের অক্সিজেন দিয়ে গেলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনি। তিনি বাঙ্কারে বসে মর্যাদাহীন মৃত্যু নয়, বরং নিজের আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার যে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন, তা বর্তমানে সফল বলেই মনে হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি
যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ উদ্যোগে ইরানের সাফ জবাব

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।   সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি–এর মৃত্যুর পর ওমানের মধ্যস্থতায় লারিজানি নাকি পুনরায় সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে এ দাবিকে নাকচ করে দেন তিনি।   সবশেষ পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয় গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের Geneva শহরে। এরপর সোমবার অস্ট্রিয়ার Vienna–তে আরেক দফা আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শনিবার ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ওই হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা যায়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
উত্তাল নাখশ-ই জাহান স্কয়ার
সর্বোচ্চ নেতা খামেনির প্রয়াণে উত্তাল নাখশ-ই জাহান স্কয়ার, শোকাতুর মানুষের ঢল

তেহরান, ইরান — মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনার মুহূর্তে ইরানের ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানে সমবেত হয়েছেন হাজার হাজার শোকাতুর মানুষ।  দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে এবং এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক নাখশ-ই জাহান স্কয়ার এখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ইরানের ইংরেজি ভাষার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশাল জনতা এই ঐতিহাসিক চত্বরে জড়ো হয়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করছেন। উল্লেখ্য, শনিবার তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার খবরটি আজ রবিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে ইরান সরকার। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোকের পাশাপাশি প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে ইসফাহানের রাজপথ। তেহরানসহ অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও একই ধরণের গণজমায়েত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি হাতে তার সমর্থনে মিছিল করছে জনগণ। ছবি আলজাজিরার।
ইরানে ট্রাম্পের আহ্বান ব্যর্থ, খামেনির পক্ষে প্রতিবাদ মিছিল

ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। হামলায় বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তিনি ইরানি জনগণকে দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য আহ্বান জানান।     শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের জনগণ, আপনাদের সহায়তায় আমরা হামলা চালাচ্ছি। রাস্তায় নেমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করুন।’ তবে তার আহ্বানকে কেউ সাড়া দেয়নি বলে কোনো প্রতিবেদনে দেখা যায়নি।     অন্যদিকে, ট্রাম্পের আহ্বানকে উপেক্ষা করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবপন্থী জনগণ রাস্তায় নামে। তারা তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি হাতে মিছিল করে এবং তার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এই প্রতিবাদী সমাবেশ ইরানি জনগণের উচ্চ সমর্থন প্রদর্শন করছে।   সূত্র: আলজাজিরা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0