ইরানের ওপর সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলাগুলো মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি দায় রয়েছে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা বাড়ছে, তার পরিণতি ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে।
সোমবার (৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘেই বলেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বৃহত্তর কৌশলগত সমন্বয়ের অংশ।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বাঘেইর ভাষ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির অবস্থান ‘রাজনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ওই শিল্প কমপ্লেক্সের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এরই মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে। ওই সময়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর আঘাত হানে।
পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে।
তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং আশপাশের জলপথে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বা ইসরায়েলের মালিকানাধীন কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। গোষ্ঠীটি বলছে, গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর অব্যাহত হামলার প্রতিবাদেই তারা এই নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবিও করেছে। বিবৃতিতে হুতিরা সতর্ক করে জানায়, ইসরায়েল যদি তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে কিংবা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায়, তাহলে তারাও নিজেদের হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। তাদের ভাষ্য, এই অবস্থান শুধু ইয়েমেনের স্বার্থে নয়; বরং ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেওয়া হয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনসহ পুরো অঞ্চলের জনগণের বিরুদ্ধে ‘অন্যায় ও অবরোধ’ চলতে থাকলে তারা নীরব থাকবে না এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এদিকে রোববার রাত থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান ইসরায়েলের একাধিক স্থাপনায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ সময় হুতিরাও ওই হামলায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, তারা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন জাফা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিদের এই নতুন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এখানে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: দ্য ন্যাশনাল
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হিব্রু ভাষায় সংক্ষিপ্ত একটি পোস্টে লেখেন, ‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে।’ এর আগে ইরান থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পরপরই বেন-গভির এই মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে একাধিক পোস্টে জানায়, রোববার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরান থেকে আসা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর হোম ফ্রন্ট কমান্ড বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেয়। অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিহ অঞ্চলের বেসামরিক হতাহতের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করে। আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আজ রাতের অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে এর জবাব আরও বিস্তৃত হবে এবং এই অঞ্চলের সব আমেরিকান-জায়নবাদী লক্ষ্যবস্তু এতে অন্তর্ভুক্ত হবে।’ বেন-গভিরের মন্তব্য এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়তে থাকায় যুদ্ধের প্রভাব এখন দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। মস্কো অঞ্চলের আবাসিক ভবন, সেন্ট পিটার্সবার্গের আশপাশের এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি জনমনে অস্বস্তি ও যুদ্ধ ক্লান্তির অনুভূতি বাড়ছে। গত ১৭ মে মস্কোর উপকণ্ঠের জেলেনোগ্রাদ এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হন ৫৬ বছর বয়সী এলেনা ভ্লাদিমিরোভনা। ভোররাতে ড্রোনের শব্দে ঘুম ভাঙার পর তিনি জানালা দিয়ে একাধিক ড্রোন দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর একটি বিস্ফোরণে তার অ্যাপার্টমেন্টের একটি কক্ষে আগুন ধরে যায়। এলেনা জানান, তিনি ও তার ছেলে প্রথমে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা পোষা কুকুরকে নিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান। ওই হামলায় ভবনের কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন ইউক্রেন ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। এতে মস্কো অঞ্চলে অন্তত তিনজন নিহত হন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওই হামলাকে “সম্পূর্ণ ন্যায্য” বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ইউক্রেন রাশিয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মস্থান সেন্ট পিটার্সবার্গেও সম্প্রতি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালে শহরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। পরে নতুন হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। ক্রনস্টাড এলাকার এক বাসিন্দা জানান, রাতভর ড্রোনের গুঞ্জন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দে ঘুমানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ভবনটি আক্রান্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা আতঙ্কিত ছিলেন। ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের আঘাতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় পেট্রোল রেশনিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে অর্থনৈতিক সংকোচন, ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন সীমাবদ্ধতা, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ফ্রান্সভিত্তিক গবেষক ও সামাজিক নৃতত্ত্ববিদ আলেকজান্দ্রা আরখিপোভা বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর বাসিন্দাদের কাছে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে যুদ্ধ তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে না। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। জেলেনোগ্রাদের বাসিন্দা ম্যাকসিম, যিনি নিরাপত্তার কারণে নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, ড্রোন হামলার পর তার বাসার দরজা কর্তৃপক্ষ ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেছে। এতে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “মানুষ মারা যাচ্ছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই যুদ্ধের সমাপ্তি হওয়া উচিত।” রাশিয়ার স্বাধীন জরিপ সংস্থা লেভাদা সেন্টারের এপ্রিল মাসের এক জরিপে দেখা যায়, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা শান্তি আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন ২৭ শতাংশ। মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে খিমকি শহরেও একই দিনে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানে। স্থানীয় বাসিন্দা নাদেজদা বলেন, হামলার পর থেকে সামান্য শব্দেও তিনি চমকে ওঠেন। আরেক বাসিন্দা ইয়েলেনা জানান, হামলার রাতে দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে ড্রোনের শব্দ শুনেছেন তারা। তার প্রত্যাশা, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।