ইরানের বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ৩০টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান দিচ্ছে রাশিয়া
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই নিজেদের বিমানবাহিনীকে অভাবনীয় মাত্রায় শক্তিশালী করতে রাশিয়ার সঙ্গে বিশাল সামরিক চুক্তির পথে হেঁটেছে ইরান। জানা গেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তেহরানের কাছে ৩০টি অত্যাধুনিক ‘সু-৩৫’ ফাইটার জেট হস্তান্তর করতে যাচ্ছে মস্কো। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি যুদ্ধবিমানের উৎপাদন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ১০টি ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হতে যাচ্ছে ইরানের সবচেয়ে বড় সামরিক অস্ত্র চুক্তি। মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে মোট ৪৮টি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘সু-৩৫’ যুদ্ধবিমান কিনছে তেহরান। বর্তমানে ইরানের বিমানঘাঁটিগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে, যা শেষ হলেই এই যুদ্ধবিমানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
এই বৃহৎ চুক্তির পাশাপাশি ইরান সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি ব্যবহৃত ‘সু-৩০এসএম২’ দূরপাল্লার ফাইটার জেটেরও অর্ডার দিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের ‘সু-৫৭’ স্টিলথ ফাইটার জেট কেনার বিষয়েও দুপক্ষের আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিবর্তিত সামরিক ভারসাম্য ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, রাশিয়ার তৈরি এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিমানবাহিনীর আক্রমণ ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের আমলের পুরোনো এফ-৪ এবং এফ-৫ বিমান ব্যবহার করেই ইরান যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের নিশ্ছিদ্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার যুদ্ধ ব্যাসার্ধের সু-৩৫ যুক্ত হলে আঞ্চলিক আকাশসীমায় তেহরানের সামরিক প্রভাব ও আধিপত্য যে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনিজেকে পরিবারের ‘রাজা’ হিসেবে দেখতেন পঙ্কজ লাম্বা। স্ত্রী হর্ষিতা ব্রেল্লার কাছ থেকে চাইতেন সম্পূর্ণ আনুগত্য। এর কিছুদিন পরই ২৪ বছর বয়সী হর্ষিতাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। হর্ষিতার মরদেহ পরে পূর্ব লন্ডনের একটি গাড়ির বুট থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যার ঘটনায় পঙ্কজের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে অভিযোগ গঠন করা হলেও তিনি এখনো পলাতক। হর্ষিতা ভারতের দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন। পঙ্কজ লাম্বার সঙ্গে বিয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। তারা নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের করবিতে বসবাস শুরু করেন। নতুন দেশে নতুন সংসার নিয়ে হর্ষিতা শুরুতে উচ্ছ্বসিত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কের পরিস্থিতি বদলে যায়। হর্ষিতার পরিবারের ভাষ্য ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পঙ্কজ স্ত্রীর ওপর ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন। মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে তিনি নিজেকে পরিবারের ‘রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করতেন এবং হর্ষিতার কাছ থেকে সম্পূর্ণ আনুগত্য দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ২০২৪ সালের আগস্টে স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের কাছে যান হর্ষিতা। পুলিশের কাছে তিনি শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত তথ্যও দিয়েছিলেন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং হর্ষিতার সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আদালতের মাধ্যমে ২৮ দিনের জন্য একটি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স প্রোটেকশন অর্ডারও কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই সুরক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পঙ্কজ আবার হর্ষিতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান। পুলিশের ধারণা, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর করবিতে হর্ষিতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেদিন হর্ষিতা তাদের বলেছিলেন পঙ্কজ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। ওই রাতের পর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। চার দিন পর, ১৪ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে ব্রিসবেন রোডে রাখা একটি সিলভার ভক্সহল করসা গাড়ির বুট থেকে হর্ষিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। করবি থেকে ইলফোর্ডের দূরত্ব প্রায় ১০০ মাইল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হত্যার পর হর্ষিতার মরদেহ গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই পঙ্কজ যুক্তরাজ্য ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে মনে করছে ব্রিটিশ পুলিশ। ২০২৫ সালের মার্চে পঙ্কজ লাম্বার অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে হর্ষিতাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার প্রায় দেড় বছর পরও পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের মে মাসে হর্ষিতার বাবা-মা ও বোন ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়ে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। মেয়েকে হারানোর আগে তার নির্যাতনের অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর চান তারা। হর্ষিতার মৃত্যুর আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তার করা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ সামলানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যর্থতা নিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, পঙ্কজকে খুঁজে বের করে হর্ষিতার পরিবারের জন্য বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে। যে তরুণী বিয়ের পর নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন, তার সেই জীবন শেষ হয় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে। আর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় হর্ষিতার পরিবার অপেক্ষা করছে সেই একটি দিনের জন্য, যেদিন তাকে আদালতের মুখোমুখি করা যাবে।
‘তোমার আর ক্যারিয়ার হবে না’, সেই মেয়েটিই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব
গাজায় সমঝোতা ছাড়াই ফিরলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা, পরদিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬ ফিলিস্তিনি
তেলের দাম ও বৈশ্বিক বন্ডের চাপে ভারতের শেয়ারবাজারে টানা সপ্তম দিনের পতন
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাত আপাতত শেষ মুহূর্তে এড়ানো গেল। কানাডা থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং এখন চূড়ান্ত নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘চুক্তি’ হয়েছে। তবে সেটি এখনো প্রয়োজনীয় নথিপত্র চূড়ান্ত করার ওপর নির্ভরশীল। এই কারণেই কানাডার বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর বিবৃতি দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি সরাসরি চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে এমন ঘোষণা না দিয়ে বলেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনো শেষ করা বাকি। মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে ফোনে কথা হয়। চলতি সপ্তাহে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় আলোচনা। এর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছিল, সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপও তত বাড়ছিল। নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য পড়ার কথা ছিল। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, হকি সরঞ্জাম এবং কাঠজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারত। কানাডার মোট মার্কিনমুখী রপ্তানির তুলনায় এর পরিমাণ সীমিত হলেও ছোট ব্যবসা ও নির্দিষ্ট শিল্পের জন্য বড় চাপ তৈরির আশঙ্কা ছিল। দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশাধিকার। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে মার্কিন পণ্যের জন্য বিস্তৃত বাজার প্রবেশাধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে সমন্বয়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল ও মোটরযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কানাডা। বিশেষ করে কানাডার দুগ্ধ বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির বিধিনিষেধ নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি দীর্ঘদিনের। গাড়ির ওপর শুল্কও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাড়িতে কত শতাংশ মার্কিন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে শুল্ক আরও কমানোর ব্যবস্থাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। এই আলোচনার মধ্যে আরেকটি পুরোনো প্রকল্প নতুন করে সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প - কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন। কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিবহনের জন্য পরিকল্পিত বিতর্কিত প্রকল্পটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় বাতিল হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রকল্পটি আবারও আলোচনায় ফিরতে পারে। তবে তিন দিনের শুল্ক স্থগিতাদেশকে এখনই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য বিরোধের স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন চুক্তি হয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য তুলনামূলক সতর্ক। তার ভাষায়, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। কানাডার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৭২ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ফলে নতুন করে বড় শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং কর্মসংস্থানে চাপ তৈরির আশঙ্কা ছিল। একই সঙ্গে পাল্টা ব্যবস্থা নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারত। ফলে তিন দিনের এই বিরতি মূলত ওয়াশিংটন ও অটোয়াকে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আরও কিছুটা সময় দিল। এখন নজর থাকবে সেই নথিপত্রে - কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় দুই দেশের ‘চুক্তি’ হয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার শুল্ক যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলার সময় এখনো আসেনি।
কানাডার নতুন নিয়মে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, ঋণের ভারে দিশেহারা ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
ইউরোপে তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১৬ হাজার মৃ ত্যু, তবু এসি ব্যবহারে রাজি নন অনেক ইউরোপীয়
যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার হামলা, ৩১ টেরাবাইট গবেষণা তথ্য চুরিতে অভিযুক্ত ১৭ ইরানি হ্যাকার
আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর ওয়ান্টেড বা পলাতক আসামির তালিকায় নাম উঠেছে মেজর সিং নামের এক ব্যক্তির। ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুখ্যাত 'জাগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ' নামক একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী সিন্ডিকেটের সাথে মেজর সিংয়ের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই গ্যাংটি মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় তাদের গোপন আস্তানা গড়ে তুলেছিল এবং সেখান থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, মেজর সিং এবং তার এই চক্রটি ওই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে র্যাকেটিয়ারিং (সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণা) এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাচার সংক্রান্ত ভয়ংকর সব অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এই ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধী গ্যাংটিকে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। এই চক্রের মূলোৎপাটন করতে এফবিআই ইতোমধ্যেই মেজর সিংকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। তাকে ধরিয়ে দিতে বা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা এফবিআইয়ের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘আমরা অধৈর্য’, পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই
ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র, শীর্ষ কমান্ডারের স্বীকারোক্তি