তদন্ত

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: রহস্য ঘনীভূত, উঠছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামিল ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। সে কাউকে কিছু না বলে চলে যাবে—এটা কল্পনাও করতে পারি না।” একইভাবে বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্ত বোনের নিরাপদ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   নিখোঁজের দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামিল তার বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে যান। সকাল ১১টার দিকে তার ফোন সর্বশেষ বাসার আশপাশেই শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিজ্ঞান ভবনে ছিলেন। তিনি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও খাবারের বাক্স রেখে বের হন—সঙ্গে ছিল কেবল ফোন ও পার্স। বিকেল ৫টার দিকে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাস এলাকায় পাওয়া যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অপহরণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কেউই অভিবাসন হেফাজতে নেই।   এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনই যৌক্তিক নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও এগুলো ঘটতে পারে। তবুও একাধিক মিল—যেমন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, পাসপোর্ট রেখে যাওয়া—তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তদন্তে অগ্রগতি নেই এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।   তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজের ঘটনা নয় এবং দ্রুত উদ্ধারই এখন সবচেয়ে জরুরি। যে কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
সংসদের শব্দযন্ত্রে গোলযোগ কি স্যাবোটাজ? তদন্তে নামছে বিশেষজ্ঞরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সাউন্ড সিস্টেমে সৃষ্ট নজিরবিহীন গোলযোগের নেপথ্যে কোনো ‘ইচ্ছাকৃত অন্তর্ঘাত’ বা স্যাবোটাজ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। চিফ হুইপ জানান, আগামী ৩রা এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের ধারণা এখানে একটি স্যাবোটাজ হয়ে থাকতে পারে। তাই দুটি বিষয়কে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি—প্রথমত এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, আর দ্বিতীয়ত কারিগরি ত্রুটি থাকলে তার স্থায়ী সমাধান কী?" উল্লেখ্য, গত ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই শব্দযন্ত্রের চরম বিভ্রাটে বিঘ্নিত হয় কার্যক্রম, যার ফলে বেশ কিছুক্ষণ অধিবেশন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। পরবর্তী কার্যদিবসেও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সাউন্ড সিস্টেমের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের আবাসন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। যানজট এড়ানো এবং সংসদীয় কাজে গতিশীলতা আনতেই সকল সংসদ সদস্যকে সংসদ ভবনের কাছাকাছি আবাসন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
সিআইডির নতুন প্রধান মোসলেহ উদ্দিন ও বিদায়ী প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।
সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোসলেহ উদ্দিন

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পেল নতুন অভিভাবক। অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা আজ বুধবার (২৫ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক জাঁকজমকপূর্ণ বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই রদবদল সম্পন্ন হয়। একই অনুষ্ঠানে বিদায়ী সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম-কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সিআইডিকে আরও গতিশীল এবং জনগণের আস্থার সুদৃঢ় প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "সিআইডির অর্জিত সুনাম ও ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।" অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ তার মেয়াদে ৫ আগস্ট পরবর্তী জটিল পরিস্থিতি এবং মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডির সাফল্যের কথা স্মরণ করেন। ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের এই চৌকস কর্মকর্তা এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটসহ ডিএমপি, সিএমপি এবং বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশসহ ১৫ দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন তদন্ত শুরু করেছে। সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুরু হওয়া এই তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ ১৫টি দেশের নাম রয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই ঘোষণা দেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউজ এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তবে দমে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার 'অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা'র অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পথে হাঁটছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, এই তদন্তের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মধ্যেই চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর নতুন করে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে আরোপিত অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়াশিংটন। তদন্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদি তদন্তে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যের প্রমাণ মেলে, তবে সেই দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপাবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও এই তদন্ত তালিকা থেকে কানাডাকে বাদ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে মূলত ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারে তাদের শুল্ক নীতিকে আরও জোরালোভাবে কার্যকর করার সুযোগ খুঁজছে। আগামী সপ্তাহে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের আগে এই ঘোষণা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন
এপস্টিন কেলেঙ্কারি: এবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি বিল ক্লিনটন

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে অবশেষে মার্কিন আইন প্রণেতাদের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।  একটি বিশেষ রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে তিনি এই বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে নিজের জবানবন্দি দেবেন। ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর ক্লিনটনই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি কংগ্রেস প্যানেলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এর আগে একই কমিটির কাছে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা ধরে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সাক্ষ্যদানকালে হিলারি দাবি করেন, এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। তবে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটিকে তিনি ‘পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক থিয়েটার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টিনের ব্যক্তিগত নথিপত্রে বিল ক্লিনটনের ছবি পাওয়া যাওয়ার পর থেকেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। এর আগে ক্লিনটন নিজেও এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করার কথা স্বীকার করেছিলেন। এখন তদন্ত কমিটির জেরায় কোন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
কনডম । সংগৃহীত
ছাত্রী হোস্টেলে মিলল বালতিভর্তি কনডম, সুপার ও বিভাগীয় প্রধানকে অব্যাহতি

সিলেটের একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে বালতিভর্তি যৌন সুরক্ষাসামগ্রী (কনডম) পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।   আন্দোলনের মুখে হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।   বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে সম্প্রতি ছাত্রী হোস্টেলে বিপুল পরিমাণ কনডম পাওয়া গেছে এমন দাবিকে সামনে রেখে তারা দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।   কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কলেজে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। পরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে হোস্টেল-সংক্রান্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   প্রত্যক্ষদর্শী ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অস্থায়ীভাবে ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না। পরবর্তীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে বাথরুমে বালতিভর্তি কনডমের প্যাকেট দেখতে পান তারা।   এ ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পোস্ট দিলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। বিকেল পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।   শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন বলে জানান।   প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাজপ্রাসাদে পুলিশের তল্লাশি, তদন্তের কেন্দ্রে প্রিন্স অ্যান্ড্রু

ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক সংকট তৈরি করে রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর-এর সাবেক বাসভবন ও রাজকীয় প্রাসাদে তল্লাশি চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি গোপনীয় নথি পাচারের অভিযোগে এই তদন্ত চলছে।   শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে অ্যান্ড্রুর পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসার ছবি প্রকাশের পর থেমস ভ্যালি পুলিশ এ তল্লাশি অভিযান শুরু করে।   গত বৃহস্পতিবার, নিজের ৬৬তম জন্মদিনে অ্যান্ড্রুকে ‘মিসকন্ডাক্ট ইন পাবলিক অফিস’ বা সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরসংক্রান্ত স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিবেদন এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জেফরি এপস্টাইনকে সরবরাহ করেছিলেন।   পুলিশ হেফাজতে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অ্যান্ড্রুকে মুক্তি দেওয়া হলেও তিনি বর্তমানে ‘তদন্তাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন। রয়টার্স প্রকাশিত এক ছবিতে তাকে রেঞ্জ রোভার গাড়ির পেছনের সিটে বিমর্ষ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা যায়।   এ ঘটনায় বাকিংহাম প্যালেস থেকে এক বিবৃতিতে রাজা চার্লস তৃতীয় জানান, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং তদন্তে পুলিশের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগেই তিনি ভাই অ্যান্ড্রুকে রাজকীয় খেতাব ও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন।   শুক্রবার বার্কশায়ারের ‘রয়্যাল লজ’, যা দীর্ঘদিন অ্যান্ড্রুর বাসভবন ছিল, সেখানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে অ্যান্ড্রুর বর্তমান বাসভবন ‘উড ফার্ম’-এও অভিযান চালায় পুলিশ।   এই ঘটনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও লেবার দলের একাধিক নেতা রাজপরিবারের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা রক্ষায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৯৩৬ সালে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগের পর এটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তটি অত্যন্ত জটিল এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।   তথ্য: রয়টার্স।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
Norway to probe Epstein
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নরওয়েতে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের এবং যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইউরোপজুড়ে। এই কেলেঙ্কারির জেরে এবার নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর দুর্নীতির’ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।   শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন সংক্রান্ত কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশ করেছে। সেই নথিতে নরওয়ের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, রাজপরিবারের সদস্য এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে এপস্টাইনের গভীর সম্পর্কের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।   তদন্তের মুখে যারা:   ১. থর্বজর্ন জাগল্যান্ড: নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং নোবেল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এপস্টাইনের কাছ থেকে উপহার, ভ্রমণ সুবিধা এবং ঋণ গ্রহণ করেছেন। নরওয়ের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন ইউনিট (Okokrim) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তার কূটনৈতিক দায়মুক্তি (immunity) বাতিলের জন্য দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   ২. ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট: নরওয়ের রাজবধু মেটে-মারিটের সঙ্গে এপস্টাইনের কয়েকশ ইমেইল বিনিময়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি এপস্টাইনের ফ্লোরিডার বাসভবনে তার থাকার প্রমাণও মিলেছে। এই ঘটনায় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং একে ‘বিব্রতকর’ ও তার ‘ভুল বিচার’ বলে অভিহিত করেছেন।   ৩. বোর্জ ব্রেন্ডে: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) বর্তমান প্রধান এবং নরওয়ের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এপস্টাইনের সঙ্গে তার নৈশভোজ এবং যোগাযোগের বিষয়ে ডাবোসের এই সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।   ৪. মোনা জুল ও তেরজে রোড-লারসেন: বিখ্যাত ওসলো চুক্তির মধ্যস্থতাকারী এই প্রভাবশালী দম্পতির নামও নথিতে এসেছে। জর্ডানে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মোনা জুলকে এরই মধ্যে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ইউরোপে প্রভাব: নরওয়ের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও এই কেলেঙ্কারির ধাক্কা লেগেছে। ফ্রান্সে সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী জ্যাক ল্যাং এবং স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও এপস্টাইন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্ত বা পদত্যাগের চাপের মুখে রয়েছেন।   নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর জানিয়েছেন, এই নতুন তথ্যগুলো অনেক প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে যার উত্তর পাওয়া জরুরি। দেশটির সংসদও এই পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যাকারী জেফরি এপস্টাইনের এই কালো অধ্যায় এখন বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্যারিয়ার ও সম্মানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি চিকিৎসা গবেষক ডঃ জহরা শোকরি ভারনিয়াব এবং তার স্বামী আশকান পুরাভারি ল্যাঙরউডি | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড জটিলতায় অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার রোগীর চিকিৎসক ডা. ফয়সাল

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৯, ২০২৬ 0