ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সাউন্ড সিস্টেমে সৃষ্ট নজিরবিহীন গোলযোগের নেপথ্যে কোনো ‘ইচ্ছাকৃত অন্তর্ঘাত’ বা স্যাবোটাজ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। চিফ হুইপ জানান, আগামী ৩রা এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের ধারণা এখানে একটি স্যাবোটাজ হয়ে থাকতে পারে। তাই দুটি বিষয়কে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি—প্রথমত এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, আর দ্বিতীয়ত কারিগরি ত্রুটি থাকলে তার স্থায়ী সমাধান কী?" উল্লেখ্য, গত ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই শব্দযন্ত্রের চরম বিভ্রাটে বিঘ্নিত হয় কার্যক্রম, যার ফলে বেশ কিছুক্ষণ অধিবেশন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। পরবর্তী কার্যদিবসেও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সাউন্ড সিস্টেমের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের আবাসন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। যানজট এড়ানো এবং সংসদীয় কাজে গতিশীলতা আনতেই সকল সংসদ সদস্যকে সংসদ ভবনের কাছাকাছি আবাসন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পেল নতুন অভিভাবক। অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা আজ বুধবার (২৫ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক জাঁকজমকপূর্ণ বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই রদবদল সম্পন্ন হয়। একই অনুষ্ঠানে বিদায়ী সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম-কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সিআইডিকে আরও গতিশীল এবং জনগণের আস্থার সুদৃঢ় প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "সিআইডির অর্জিত সুনাম ও ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।" অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ তার মেয়াদে ৫ আগস্ট পরবর্তী জটিল পরিস্থিতি এবং মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডির সাফল্যের কথা স্মরণ করেন। ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের এই চৌকস কর্মকর্তা এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটসহ ডিএমপি, সিএমপি এবং বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন তদন্ত শুরু করেছে। সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুরু হওয়া এই তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ ১৫টি দেশের নাম রয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই ঘোষণা দেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউজ এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তবে দমে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার 'অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা'র অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পথে হাঁটছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, এই তদন্তের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মধ্যেই চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর নতুন করে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে আরোপিত অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়াশিংটন। তদন্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদি তদন্তে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যের প্রমাণ মেলে, তবে সেই দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপাবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও এই তদন্ত তালিকা থেকে কানাডাকে বাদ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে মূলত ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারে তাদের শুল্ক নীতিকে আরও জোরালোভাবে কার্যকর করার সুযোগ খুঁজছে। আগামী সপ্তাহে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের আগে এই ঘোষণা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে অবশেষে মার্কিন আইন প্রণেতাদের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। একটি বিশেষ রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে তিনি এই বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে নিজের জবানবন্দি দেবেন। ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর ক্লিনটনই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি কংগ্রেস প্যানেলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এর আগে একই কমিটির কাছে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা ধরে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সাক্ষ্যদানকালে হিলারি দাবি করেন, এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। তবে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটিকে তিনি ‘পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক থিয়েটার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টিনের ব্যক্তিগত নথিপত্রে বিল ক্লিনটনের ছবি পাওয়া যাওয়ার পর থেকেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। এর আগে ক্লিনটন নিজেও এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করার কথা স্বীকার করেছিলেন। এখন তদন্ত কমিটির জেরায় কোন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।
সিলেটের একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে বালতিভর্তি যৌন সুরক্ষাসামগ্রী (কনডম) পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে সম্প্রতি ছাত্রী হোস্টেলে বিপুল পরিমাণ কনডম পাওয়া গেছে এমন দাবিকে সামনে রেখে তারা দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কলেজে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। পরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে হোস্টেল-সংক্রান্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অস্থায়ীভাবে ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না। পরবর্তীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে বাথরুমে বালতিভর্তি কনডমের প্যাকেট দেখতে পান তারা। এ ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পোস্ট দিলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। বিকেল পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন বলে জানান। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক সংকট তৈরি করে রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর-এর সাবেক বাসভবন ও রাজকীয় প্রাসাদে তল্লাশি চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি গোপনীয় নথি পাচারের অভিযোগে এই তদন্ত চলছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে অ্যান্ড্রুর পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসার ছবি প্রকাশের পর থেমস ভ্যালি পুলিশ এ তল্লাশি অভিযান শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার, নিজের ৬৬তম জন্মদিনে অ্যান্ড্রুকে ‘মিসকন্ডাক্ট ইন পাবলিক অফিস’ বা সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরসংক্রান্ত স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিবেদন এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জেফরি এপস্টাইনকে সরবরাহ করেছিলেন। পুলিশ হেফাজতে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অ্যান্ড্রুকে মুক্তি দেওয়া হলেও তিনি বর্তমানে ‘তদন্তাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন। রয়টার্স প্রকাশিত এক ছবিতে তাকে রেঞ্জ রোভার গাড়ির পেছনের সিটে বিমর্ষ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনায় বাকিংহাম প্যালেস থেকে এক বিবৃতিতে রাজা চার্লস তৃতীয় জানান, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং তদন্তে পুলিশের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগেই তিনি ভাই অ্যান্ড্রুকে রাজকীয় খেতাব ও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। শুক্রবার বার্কশায়ারের ‘রয়্যাল লজ’, যা দীর্ঘদিন অ্যান্ড্রুর বাসভবন ছিল, সেখানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে অ্যান্ড্রুর বর্তমান বাসভবন ‘উড ফার্ম’-এও অভিযান চালায় পুলিশ। এই ঘটনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও লেবার দলের একাধিক নেতা রাজপরিবারের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা রক্ষায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৯৩৬ সালে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগের পর এটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তটি অত্যন্ত জটিল এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তথ্য: রয়টার্স।
প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের এবং যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইউরোপজুড়ে। এই কেলেঙ্কারির জেরে এবার নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর দুর্নীতির’ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন সংক্রান্ত কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশ করেছে। সেই নথিতে নরওয়ের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, রাজপরিবারের সদস্য এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে এপস্টাইনের গভীর সম্পর্কের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তের মুখে যারা: ১. থর্বজর্ন জাগল্যান্ড: নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং নোবেল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এপস্টাইনের কাছ থেকে উপহার, ভ্রমণ সুবিধা এবং ঋণ গ্রহণ করেছেন। নরওয়ের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন ইউনিট (Okokrim) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তার কূটনৈতিক দায়মুক্তি (immunity) বাতিলের জন্য দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২. ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট: নরওয়ের রাজবধু মেটে-মারিটের সঙ্গে এপস্টাইনের কয়েকশ ইমেইল বিনিময়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি এপস্টাইনের ফ্লোরিডার বাসভবনে তার থাকার প্রমাণও মিলেছে। এই ঘটনায় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং একে ‘বিব্রতকর’ ও তার ‘ভুল বিচার’ বলে অভিহিত করেছেন। ৩. বোর্জ ব্রেন্ডে: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) বর্তমান প্রধান এবং নরওয়ের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এপস্টাইনের সঙ্গে তার নৈশভোজ এবং যোগাযোগের বিষয়ে ডাবোসের এই সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। ৪. মোনা জুল ও তেরজে রোড-লারসেন: বিখ্যাত ওসলো চুক্তির মধ্যস্থতাকারী এই প্রভাবশালী দম্পতির নামও নথিতে এসেছে। জর্ডানে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মোনা জুলকে এরই মধ্যে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপে প্রভাব: নরওয়ের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও এই কেলেঙ্কারির ধাক্কা লেগেছে। ফ্রান্সে সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী জ্যাক ল্যাং এবং স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও এপস্টাইন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্ত বা পদত্যাগের চাপের মুখে রয়েছেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর জানিয়েছেন, এই নতুন তথ্যগুলো অনেক প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে যার উত্তর পাওয়া জরুরি। দেশটির সংসদও এই পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যাকারী জেফরি এপস্টাইনের এই কালো অধ্যায় এখন বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্যারিয়ার ও সম্মানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।