রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশ আয়োজিত ঢাকা সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক স্লোগান ও রাষ্ট্রীয় প্রতীকের পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে বক্তব্য শেষ করা হতো “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে, বর্তমানে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” ব্যবহৃত হচ্ছে। তার মতে, শুধু রাজনৈতিক প্রতীক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও সামাজিক সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমাজে নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি সুশীল সমাজ ও নারী অধিকারকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে অনেকেই নীরব থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগীয় নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের দলীয়করণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি ব্যাহত হচ্ছে। তাই তিনি দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানান এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে জনকল্যাণে নিয়োজিত করা যায়। ইফতার মাহফিলে ব্রিটিশ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, স্পেন ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এনসিপি নেতাদের মধ্যে সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাতিল করতে আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই রায়কে অকার্যকর করতে আদালতকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, বিচার বিভাগকে দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো এবং তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া দলের মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী–ও বক্তব্য দেন।
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় শিশু তাসলিমা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামপুরার উলন এলাকায় নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি একটি গর্হিত অপরাধ। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এলাকা ও প্রভাবশালী যেকোনো ব্যক্তি হলেও তা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না; পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ঘোষণার পরও মব কালচারের ঘটনা ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির সময় শেষ হয়ে এসেছে এবং প্রথম অধিবেশনে সংস্কার ও রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিনা কারণ ও বিনা অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারে নানা ধরনের হস্তক্ষেপের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং ভিকটিম ও সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় কেবল শেখ হাসিনার পতন নয়, বরং পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অবসান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল তাদের। যেখানে স্বৈরাচার, বৈষম্য ও অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি হবে না এবং মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হবে। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের সংকটে ছাত্ররা এগিয়ে এলেও বারবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর যেমনটি হয়েছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও তেমনই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফল ভোগ করছে রাজনৈতিক শক্তিগুলো, আর সংস্কার ও বিচারের দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। সংস্কার পরিষদে বিএনপির শপথ না নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দলটি। সংবিধানের দোহাই দিয়ে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিকভাবে গভর্নরকে সরিয়ে দিয়ে একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আর্থিক লুটপাটের পথ আরও প্রশস্ত হচ্ছে। তিনি যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের আহ্বান জানান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। নানা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া হয়েছে এবং সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণে এনে আইন ও বিচার নিজেদের মতো পরিচালনার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন রাজপথে গড়াতে বাধ্য হবে। তবে সংসদের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন, যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকারসহ অন্যান্য নেতারা।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার বিকালে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ কারণে তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না। সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিশংসনের দাবি জানানোর পাশাপাশি গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেফতার করার আহ্বান জানান তিনি।
এককেন্দ্রীক ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বহুভাষা এবং বহুসংস্কৃতির এক নতুন ও উদার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ভাষা ও সংস্কৃতির এই নতুন রাজনৈতিক এবং সামাজিক দর্শন তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের প্রতীক হলেও দীর্ঘ সময় ধরে একে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ফ্রেমে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষা কখনো একরৈখিক বা বিচ্ছিন্ন ছিল না; এটি সবসময়ই সমন্বয় ও সংলাপের মাধ্যমে সভ্যতা নির্মাণ করেছে। বৈচিত্র্যকে ধারণ করা এবং বহুত্বকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করাই হলো বাংলার প্রকৃত ঐতিহ্য।” তিনি আরও দাবি করেন, একটি ভাষা তখনই সমৃদ্ধ হয় যখন সেটি আত্মবিশ্বাসের সাথে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়। নাহিদ ইসলামের মতে— আরবি, ফারসি, উর্দু, সংস্কৃত, পালি, ইংরেজির পাশাপাশি চাকমা ও মারমাসহ সকল জনজাতির ভাষা বাংলার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমনকি চর্যাপদের ঐতিহ্য থেকে শুরু করে সুফি সাহিত্য এবং বর্তমানের আঞ্চলিক ভাষাগুলোও (সিলেটী বা চাঁটগাইয়া) আমাদের অগ্রগতির সমান অংশীদার। নতুন বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে ৪ দফা করণীয়: নাহিদ ইসলাম সমৃদ্ধ জাতি গঠনে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন: ১. রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পূর্ণ ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করা। ২. প্রতিটি ক্ষুদ্র ও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষার যথাযথ মর্যাদা সংরক্ষণ করা। ৩. বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও জ্ঞান অর্জনের জন্য বিদেশি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া। ৪. ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করা। বাংলাদেশ হবে বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ, যেখানে বৈচিত্র্য, সংলাপ এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলনই আমাদের জাতির মূল শক্তি হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ! তাঁর এই উদার সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এটি তার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন। শুক্রবার রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়া ১১ দলীয় জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের মাজার জিয়ারত করবেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করবেন। মহান একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি সরকারি দল বিএনপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ কার্যকর করার আহ্বান জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা এই ফলাফল মেনে নিয়ে এগোতে চেয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে এনসিপি শপথ গ্রহণ করেছে। তবে শপথের প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারি দল বিএনপি শপথ গ্রহণ না করে জনগণের সঙ্গে এবং সংস্কারের পক্ষের মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে নতুন এক বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যদি কোনো কারণে এই গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তবে বর্তমান সরকারের নৈতিক ও আইনি বৈধতাও সংকটের মুখে পড়বে। নাহিদ ইসলাম মনে করেন, এই সরকার জনআকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া বিশাল জনম্যান্ডেটের ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে আদালতের রায়ে যদি সেই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তবে তা পুরো শাসনব্যবস্থার ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের এই কড়া বার্তা মূলত বিচার বিভাগ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উভয়ের জন্যই একটি বিশেষ সংকেত। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গণভোটের ফলাফলই এই সরকারের টিকে থাকার প্রধান উৎস। যদি আইনি মারপ্যাঁচে সেই ফলাফল বাতিল হয়, তবে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে এক বিশাল সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা দেশকে আবারো অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকা-১১ আসনের ফলাফল ও ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কারচুপি, ভয়ভীতি এবং ফলাফল পরিবর্তনের যে সংস্কৃতি দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি নির্বাচনের দিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, বাড্ডা আদর্শনগর বিদ্যা নিকেতন কেন্দ্রে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকতের অবৈধ প্রবেশ এবং অবস্থান নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভোটের দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের লাইভ প্রতিবেদনে স্পষ্ট দেখা গেছে, অন্য দলের পোলিং এজেন্টদের নির্ধারিত আসনে বসে কিছু ব্যক্তি সরাসরি বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং নাম উচ্চারণ করছিলেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে নাহিদ বলেন, “প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আমি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলের কাগজে সেই ব্যবধান রহস্যজনকভাবে এবং হঠাৎ করেই কমিয়ে ফেলা হয়েছে। ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিএনপি প্রার্থীর ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার ও এজেন্টদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় যে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল সুপরিকল্পিত। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এ ধরণের চাক্ষুষ অনিয়ম ও কারচুপি করে তাঁকে দমানো যাবে না। জনগণের পবিত্র রায়কে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত জনগণই তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে তরুণ এই নেতার এমন কঠোর অবস্থান বর্তমানে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনী জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। সৌজন্য আর ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দিতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তেরোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আগামীকাল তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাথে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য: সাক্ষাতের সময়: আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শফিকুর রহমানের বাসভবনে এবং রাত ৮টায় বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। নিশ্চিত বার্তা: বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বিবিসি বাংলাকে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্দেশ্য: বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ‘ইতিবাচক রাজনীতির অংশ’ হিসেবে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পর শীর্ষ নেতাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগামীর রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে শুরু হয়েছে নতুন আইনি জটিলতা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল ও স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। ডোমিনিকার কথিত নাগরিকত্ব ও ভুয়া পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই রিটটি দায়ের করেন একই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশনের সচিব, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং মো. নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনে দাবি করা হয়, মো. নাহিদ ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, যা বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদের জন্য অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত। তবে এই অভিযোগের নেপথ্যে থাকা তথ্যের সত্যতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাহিদ ইসলামের নামে একটি পাসপোর্টের ছবি ভাইরাল হলে ২০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেক সংস্থা 'রিউমর স্ক্যানার' তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ওই পাসপোর্টটি সম্পূর্ণ ভুয়া। অনলাইন থেকে একটি সাধারণ টেমপ্লেট ডাউনলোড করে এটি তৈরি করা হয়েছে এবং নাহিদ ইসলামের ডোমিনিকার নাগরিকত্বের কোনো ভিত্তি নেই। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তে এমন আইনি পদক্ষেপ ঢাকা-১১ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। উল্লেখ্য, গুলশান ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসনে এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই হচ্ছে। এই আসনে ৪ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি ভোটারের মন জয়ে লড়ছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির নাহিদ ইসলাম, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী। এখন আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে এই আসনের চূড়ান্ত ভোটের লড়াই কোন দিকে মোড় নেবে।
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশবাসী যদি তাঁদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তবে বিভিন্ন বাহিনী ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত লুকিয়ে থাকা সব অপরাধীকে শনাক্ত করে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে এনসিপি ৩০টি আসনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও আমলারা এই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যা দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থ উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিলেও অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। বরং ফ্যাসিবাদী শাসনের সুবিধাভোগী কিছু আমলা ও তথাকথিত বিশেষজ্ঞের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি সরকার গঠন করলে লুটপাট ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। সাবেক শাসকগোষ্ঠীর সহযোগী ব্যবসায়ী, আমলা ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে। পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে অতি নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতা জোরদারে সার্ক পুনর্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আসিয়ানে যোগদানের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সময় পুলিশ বাহিনী দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ গত ১৫ বছরে যেসব পুলিশ সদস্য হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন, তাঁদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। নারীর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে ঘর পর্যন্ত সর্বত্র নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং রাষ্ট্রের সব স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। কৃষিখাত প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সার, বীজ ও কৃষিঋণ বিতরণে বিদ্যমান অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করা হবে। প্রকৃত কৃষকদের কাছে সহজ শর্তে কৃষিঋণ পৌঁছে দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ কখনোই আফগানিস্তান হবে না। এটি থাকবে বাংলাদেশই—মালয়েশিয়া বা তুরস্কের মতো ধর্মানুরাগী, উদার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে, যেখানে ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায়, আর রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইন ও ইনসাফের ভিত্তিতে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর বাড্ডায় এক বিশাল জনসভায় নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের আয়োজিত এই জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন, তাদের জোট ক্ষমতায় আসলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সাহসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান একটি চমকপ্রদ উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “আমরা নাহিদ ইসলামকে ‘বাংলাদেশ’ নামের উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবে বসিয়ে দেব। আর আমরা প্রবীণ নেতারা পেছনের সিটে যাত্রী হিসেবে থাকব। ইনশাআল্লাহ, আমরা বিশ্বাস করি তারুণ্যের এই নেতৃত্বে দেশ সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে যাবে।” বক্তব্যে তিনি অতীতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এদেশের মানুষ অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী হওয়া সত্ত্বেও এতদিন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি কেবল নেতৃত্বের সততার অভাবে। অতীতের নেতারা নিজেদের হাতকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার শপথ রক্ষা করতে পারেননি। ১১ দলীয় জোট সেই কলঙ্ক ঘুচিয়ে একটি স্বচ্ছ ও আমানতদার রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে বাড্ডা ও সংলগ্ন এলাকায় আজ ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুপুরের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী ডিআইটি প্রজেক্ট মাঠে জড়ো হন। নির্বাচনি আমেজ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস