সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নবদম্পতি

হানিমুনে জলহস্তীর আক্রমণ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে জলহস্তীকেই ঘুষি মারলেন স্ত্রী
হানিমুনে জলহস্তীর আক্রমণ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে জলহস্তীকেই ঘুষি মারলেন স্ত্রী

বিয়ের মাত্র ১০ দিন পর হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের এক নবদম্পতি। আফ্রিকার বতসোয়ানায় নৌকায় ঘোরার সময় বিশাল এক জলহস্তী হঠাৎ আক্রমণ করে স্বামীকে মুখে তুলে পানির নিচে টেনে নেয়। চোখের সামনে স্বামীর এমন অবস্থা দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলহস্তীটির দিকে এগিয়ে যান স্ত্রী। একপর্যায়ে প্রাণীটিকে একের পর এক ঘুষি মারতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জলহস্তীটি তাঁর স্বামীকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ওই ব্যক্তি। ঘটনার প্রায় এক বছর পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ টেলিভিশনে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন দম্পতি।   মার্কিন সাময়িকী পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দম্পতির নাম স্যাম ম্যাকি ও আনা ম্যাকি। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পোর্ট অ্যাঞ্জেলেস শহরের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের পর হানিমুন করতে আফ্রিকার বতসোয়ানায় গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে বিখ্যাত ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় সাফারি করার সময় জলহস্তীর আক্রমণের শিকার হন ৩১ বছর বয়সী স্যাম।   দম্পতি জানান, পর্তুগালের সমুদ্রসৈকতে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। এর মাত্র ১০ দিন পর তাঁরা বতসোয়ানায় পৌঁছান। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল আফ্রিকার বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার। সেই উদ্দেশ্যে ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় একটি সাফারি ট্যুরে অংশ নেন তাঁরা। কিন্তু আনন্দের সেই সফর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।   ঘটনার দিন একজন স্থানীয় গাইডের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মোকোরো নামের সরু নৌকায় চড়ে জলাভূমি ঘুরে দেখছিলেন স্যাম ও আনা। মোকোরো সাধারণত গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় এবং বতসোয়ানার জলাভূমিতে পর্যটকদের ঘোরানোর জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত। নৌকায় ওঠার আগে গাইডরা তাঁদের দূরে থাকা একটি জলহস্তী দেখিয়ে সতর্ক করেছিলেন। প্রাণীটি গভীর পানির একটি এলাকায় অবস্থান করছিল। পর্যটকদের ওই এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।   তবে কিছুক্ষণ পর তাঁদের নৌকাটি দলের অন্য নৌকাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, নৌকাটি সেই গভীর পানির দিকেই চলে এসেছে, যেখানে জলহস্তীটি ছিল। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই পানিতে বিকট শব্দ শুনতে পান স্যাম। পেছনে তাকিয়ে দেখেন, মুখ হাঁ করে একটি বিশাল জলহস্তী তাঁদের নৌকার দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে।   শুক্রবার ব্রিটিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান গুড মর্নিং ব্রিটেনে স্যাম জানান, জলহস্তীটিকে দেখে তাঁর প্রথম চিন্তা ছিল নৌকা থেকে যেন পানিতে পড়ে না যান। তাই তিনি নৌকার দুই পাশ শক্ত করে ধরে রাখেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণীটি তাঁকে আঘাত করে।   স্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, জলহস্তীটি তাঁর শরীরের মাঝামাঝি অংশ বিশাল চোয়ালের মধ্যে আটকে ফেলে এবং পানির নিচে টেনে নেয়। আক্রমণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তিনি কিছুক্ষণ বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। শরীরে প্রচণ্ড অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে প্রথমে তেমন ব্যথাও অনুভব করেননি। পরে সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতাকে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।   জলহস্তীর ধাক্কায় নৌকা থেকে পানিতে ছিটকে পড়েন আনা এবং তাঁদের গাইডও। পানির ওপর উঠে আনা দেখতে পান, তাঁর স্বামী জলহস্তীটির মুখের মধ্যে আড়াআড়িভাবে আটকে আছেন। এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান তিনি। কয়েক মুহূর্তের জন্য তাঁর মনে হয়েছিল, স্যাম হয়তো আর বেঁচে নেই।   আনা জানান, সেই মুহূর্তে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কোনো ধরনের অস্ত্র বা আত্মরক্ষার সরঞ্জাম তাঁর কাছে ছিল না। কিন্তু স্বামীকে প্রাণীটির মুখ থেকে উদ্ধার করার জন্য সামনে এগিয়ে যান। এরপর হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জলহস্তীটিকে ঘুষি মারতে শুরু করেন।   গুড মর্নিং ব্রিটেনে আনা বলেন, তাঁর মাথায় তখন একের পর এক চিন্তা আসছিল। ঘটনাটি সত্যি কি না, স্যাম বেঁচে আছেন কি না, কিংবা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হবে কি না, কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্যাসকাডিয়া ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একপর্যায়ে জলহস্তীটি স্যামকে ছেড়ে দিয়ে পেছনে সরে যায়। সেই সুযোগে আনা তাঁর স্বামীকে নিয়ে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে স্যামের শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছে।   স্যাম জানান, পানির ওপর উঠে আসার পর তিনি স্ত্রীর দিকে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাঁ পা কোনোভাবেই নড়ছিল না। মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ দিলেও পা সাড়া দিচ্ছিল না। তখনই বুঝতে পারেন, আক্রমণে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছেন।   স্বামীর শারীরিক অবস্থা দেখে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন আনা। কিন্তু দুর্গম জলাভূমি এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সহজ ছিল না। উদ্ধার ও পরিবহনের বিভিন্ন জটিলতার কারণে চিকিৎসা শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।   ক্যাসকাডিয়া ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, আক্রমণের পর স্যামকে ব্যথা কমানোর ওষুধ দিতে ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল। আর প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় থাকার কারণে তাঁর জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।   হাসপাতালে নেওয়ার পর স্যামের জরুরি ভিত্তিতে পেটের অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর শরীরের ক্ষত বন্ধ করতে ২০টি স্ট্যাপল ব্যবহার করতে হয়েছিল। চিকিৎসার সময় ঘাড় ও হাতে আইভি লাইন বসানো হয়। পাশাপাশি তাঁকে ফিডিং টিউব এবং ভেন্টিলেটরের সহায়তায় রাখতে হয়েছিল।   দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন স্যাম। তবে এখনো শরীরের কিছু অংশে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে জানান, ভয়াবহ সেই ঘটনার পরও তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন।   আক্রমণের সময় স্ত্রী কীভাবে জলহস্তীটির সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, সেটি স্যাম পরে জানতে পেরেছিলেন। তখন তিনি নিজের জীবন রক্ষায় স্ত্রীর ভূমিকার কথা বুঝতে পারেন। দম্পতির কাছে ঘটনাটি তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে রয়েছে।   এই ঘটনার পর স্যামের জীবনে আরও একটি পরিবর্তন এসেছে। সুস্থ হওয়ার পর তিনি মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বানানোর কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বর্তমানে নিজের তৈরি মাটির জিনিস বিক্রি করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কেটবোর্ড কেনার অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি।   স্যাম ও আনা তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লিখেছেন। এখন সেটি প্রকাশের জন্য প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের আশা, নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে তুলে ধরতে পারলে বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি ভ্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।   পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাম ও আনা একে অপরকে চেনেন স্কুলজীবন থেকে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক। বিয়ের পর প্রথম বড় সফরেই এমন দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি তাঁরা।   আনা বলেন, ঘটনাটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। তবে এখন তাঁরা বেঁচে থাকার সুযোগ পাওয়াটাকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন। স্যাম তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং এত বছরের সম্পর্কের পর আরও কিছু সময় একসঙ্গে কাটাতে পারছেন বলে তিনি কৃতজ্ঞ।   আফ্রিকার জলাভূমিতে জলহস্তী পর্যটকদের জন্য গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে। বিশাল আকৃতি এবং তুলনামূলক শান্ত চেহারা দেখে অনেক সময় প্রাণীটিকে নিরীহ মনে হলেও জলহস্তী অত্যন্ত শক্তিশালী ও আঞ্চলিক আচরণসম্পন্ন বন্যপ্রাণী। বিশেষ করে পানিতে নিজের অবস্থান বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে মনে করলে দ্রুত আক্রমণ করতে পারে।   স্যাম ও আনার অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বন্যপ্রাণী দেখার সময় স্থানীয় গাইডের সতর্কতা ও নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁদের এই ঘটনা একটি নবদম্পতির বেঁচে ফেরার ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
হানিমুনে গিয়ে বার্সেলোনায় আগুনে পুড়তে থাকা নার্সারির ২০ শিশু উদ্ধার করেন দম্পতি
হানিমুনে গিয়ে বার্সেলোনায় আগুনে পুড়তে থাকা নার্সারির ২০ শিশু উদ্ধার করেন দম্পতি

স্পেনের বার্সেলোনায় হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে একটি নার্সারি থেকে প্রায় ২০ শিশু উদ্ধার করে আলোচনায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নবদম্পতি ডোরান স্মিথ ও ডেভিড স্কুইলান্তে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় আগুনের খবর পেয়ে দমকলকর্মীদের অপেক্ষা না করে ভবনের ভেতরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুদের নিরাপদে বের করে আনতে সহায়তা করেন তারা। ঘটনাটি নিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।   ডোরান ও ডেভিড রোড আইল্যান্ডের ব্রিস্টলের বাসিন্দা। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিয়ের পর তাদের হানিমুনের পরিকল্পনা দুই বছরের বেশি সময় পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত স্পেনের বার্সেলোনায় সেই ভ্রমণে গিয়ে তারা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যা তাদের পুরো সফরের অভিজ্ঞতাই বদলে দেয়।   বার্সেলোনায় একটি পার্কের দিকে হাঁটার সময় ডোরান দেখতে পান, একটি ভবন থেকে আতঙ্কিত কয়েকজন নারী দৌড়ে বের হয়ে আসছেন। প্রথমে ঠিক কী ঘটেছে তা বুঝতে না পারলেও পরে তিনি ভবনের দরজার কাছ থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখেন। তখনই তারা বুঝতে পারেন, ভবনটিতে আগুন লেগেছে।   ডেভিড পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভবনটি যে একটি শিশুদের নার্সারি, তা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রায় ১৫ থেকে ২০টি শিশু ঘুমিয়ে আছে। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে শিশুদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য তিনি একে একে তাদের ক্রিবে বা শিশুদের ছোট শয্যায় তুলে বের করার ব্যবস্থা করতে শুরু করেন।   নার্সারির কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভাষাগত বাধা তৈরি হয়েছিল। ডেভিড ও ডোরান স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারতেন না। তারপরও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সবাই শিশুদের উদ্ধারে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। ডেভিড শিশুদের ক্রিবে তুলে এগিয়ে দিচ্ছিলেন, আর ডোরান সেগুলো বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন।   শুধু এই দম্পতিই নয়, ঘটনাস্থলে থাকা অন্য পথচারীরাও উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। বাইরে থাকা লোকজন শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন। ডোরানের বর্ণনা অনুযায়ী, কেউ কারও ভাষা বুঝতে না পারলেও সবাই জানতেন তাদের লক্ষ্য একটাই, শিশুদের দ্রুত আগুনের এলাকা থেকে বের করে আনা।   ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শিশুদের বের করে আনার কাজ শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো উদ্ধার অভিযান শেষ হতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত নার্সারিতে থাকা শিশুদের সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।   পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং আগুন নেভানোর কাজ সম্পন্ন করেন। শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর ডোরান ও ডেভিডও ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। তারা কোনো বিশেষ স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিলেন না; বরং নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বার্সেলোনার সফর চালিয়ে যান।   ডেভিড পরে বলেন, পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে পরবর্তীতে ফিরে তাকালেও তার কাছে বিষয়টি বাস্তব বলে মনে হয়নি। অন্যদিকে ডোরানও জানান, তারা তখন পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তা করার সুযোগ পাননি। মুহূর্তের প্রয়োজনেই সবাই শিশুদের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিলেন।   ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অপ্রত্যাশিত সেই হানিমুনের ঘটনা ডোরান ও ডেভিডের জন্য শুধু একটি ভ্রমণের স্মৃতি হয়ে থাকেনি; আগুনের মধ্যে আটকে থাকা শিশুদের নিরাপদে বের করে আনার ঘটনায় তাদের সাহসিকতার গল্পও হয়ে ওঠে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে বিয়ে করেন কাপ্রি ডিরামাস ও তায়াসিয়া থমাস। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বর, হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন নবদম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বর কাপ্রি ডিরামাস। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন আর করা সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তিনি ও তাঁর বাগদত্তা তায়াসিয়া থমাস।   গত সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্লোরিডার অল্টামন্টে স্প্রিংস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের পোশাকে প্রস্তুত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তায়াসিয়া। ঠিক সেই সময় খবর আসে, বিয়ের পথে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কাপ্রি।   হারমিটস ট্রেইল ও স্টেট রোড ৪৩৬ এলাকার কাছে গাড়ি চালানোর সময় কাপ্রির গাড়ির সঙ্গে একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   দুর্ঘটনার পর তায়াসিয়া বিয়ের পোশাক পরেই গাড়িতে করে অ্যাম্বুলেন্সের পিছু নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি কাপ্রিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখেন।   সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তায়াসিয়া বলেন, তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে বিষয়টি খুবই ভীতিকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক ছিল। গাড়িতে বসে তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, তিনি যেন কাপ্রিকে হারিয়ে না ফেলেন।   অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর কাপ্রি কিছু সময় অচেতন ও বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পরও তাঁর কাছে বিয়েটি সম্পন্ন করার ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাসপাতালেই বিয়ে করার বিষয়ে দুজন সম্মত হন।   পরে হাসপাতালেই তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত বিয়ের মঞ্চের পরিবর্তে হাসপাতালের পরিবেশেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তাঁরা।   তায়াসিয়া বলেন, সেই সময় কাপ্রির পাশে থাকতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিয়ের ওই মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্য তাঁদের চারপাশের সব উদ্বেগ ও অস্থিরতা যেন থেমে গিয়েছিল।   দুর্ঘটনায় কাপ্রির দুই হাত, পাঁজর ও চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে। এসব আঘাতের চিকিৎসায় তাঁকে তিনটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যেও কাপ্রি বিয়ের আংটিটিকে তাঁদের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, ছয় বছর ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে তিনি এখন সারাজীবনের বন্ধনে নিয়ে যেতে চান।   দুর্ঘটনার কারণে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা বদলে গেলেও দুজনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি। নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে বিয়ে না হলেও হাসপাতালেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেন।   এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দম্পতি। তাঁদের আইনজীবীরা দুর্ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: ডব্লিউইএসএইচ, সিএনএন নিউজসোর্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

আপনার সন্তানকে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০