পারমাণবিক কর্মসূচি

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আইএইএর কড়া বার্তা
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আইএইএর কড়া বার্তা, পূর্ণ প্রবেশাধিকার চাইল সংস্থা

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণে একটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সংস্থাটির পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।   শুক্রবার ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।   দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হতে পারে। তবে ইরান ধারাবাহিকভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।   রাফায়েল গ্রোসি বলেন, “ইরান জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যত দ্রুত সম্ভব আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।”   তিনি আরও বলেন, আইএইএর দায়িত্ব কোনো দেশের উদ্দেশ্য নিয়ে মূল্যায়ন করা নয়। তবে কেবল মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো বিষয় গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় সব স্থানে যাচাই-বাছাই চালানোর সুযোগ থাকতে হবে।   এদিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুনে ১২ দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে এসব স্থাপনার পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে।   বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছিল। তবে সেপ্টেম্বরে দেশটি পুনরায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়। এর পর আইএইএর কর্মকর্তারা ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন।   তবে হামলার শিকার স্থাপনাগুলোতে এখনও পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যে’ বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, জাতিসংঘের পরিদর্শন কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল 

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কঠোর শর্ত দিল ফ্রান্স

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আসন্ন আলোচনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে সন্তুষ্ট না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না ফ্রান্স।   শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।   ▶️ ভিডিও দেখুন...ট্রাম্প-ইরান চুক্তিতে লেবানন, হরমুজ প্রণালী ও ইউরেনিয়াম নিয়ে যা আছে | America Bangla   বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় নিশ্চিত হলেই কেবল জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং ভেটো ক্ষমতাধারী দেশ হিসেবে ফ্রান্সের অবস্থান ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়।   তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”   আরও পড়ুন... ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি   চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ১৪ দফা খসড়া প্রকাশ, যুদ্ধবিরতি থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রূপরেখা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৪ দফার একটি খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে। খসড়ায় দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের হাতে আসা খসড়া নথি অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা, জি-৭ সম্মেলনে উপস্থিত এক কূটনীতিক এবং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি সূত্র নথির বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে।   খসড়া অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করবে। এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননের চলমান সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করবে।   চুক্তিতে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।   খসড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করবে। চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।   অন্যদিকে ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যকার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার দায়িত্ব নেবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাইন অপসারণ ও অন্যান্য কারিগরি বাধা দূর করার কথাও বলা হয়েছে।   অর্থনৈতিক দিক থেকে খসড়াটি ইরানের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনে কাজ করবে। এই তহবিলের কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ৬০ দিনের আলোচনার মধ্যে চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।   এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।   পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরান পুনরায় ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং অন্যান্য পারমাণবিক ইস্যুর ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। আলোচনার সময় বর্তমান অবস্থা বজায় থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বা অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করবে না।   খসড়া অনুযায়ী, সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানির জন্য বিশেষ ছাড়পত্র দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে স্থগিত বা জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ধাপে ধাপে অবমুক্ত করা হবে এবং সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।   চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি যৌথ প্রক্রিয়াও গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। খসড়ার শেষ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।   তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিএনএনের হাতে আসা নথিটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের হুবহু প্রতিফলন নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাও ফাঁস হওয়া খসড়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে চুক্তির কিছু ভাষা বা শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনি । ছবি: কোলাজ
যুদ্ধ বন্ধে আজই সই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি, কী থাকছে সমঝোতায়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তিতে সই করবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আশাবাদের পর একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান বলছে, রোববার নয়, চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে।   শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত, সহজ এবং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি লিখেছেন, “আগামীকাল (আজ) চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি সই হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।”   এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “আমরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন শান্তিচুক্তির আরও কাছাকাছি অবস্থানে আছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। এরপরই শান্তিচুক্তি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সই হবে। পাকিস্তান এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পরের সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হবে।”   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, স্বাক্ষরের সঠিক সময় সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি আগামীকাল নয়, বরং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষর হতে পারে।   এদিকে এমন এক সময় এই অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যখন শনিবার ভোরেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একাধিক ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।   যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কর্মকর্তারা গত শুক্রবার থেকে ধারাবাহিকভাবে চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আসছেন। যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন মাসে এমন ইতিবাচক বার্তা আগে দেখা যায়নি।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে।”   পরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো সমঝোতা হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তিনি আরও জানান, চুক্তিটি দূরবর্তী বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে।   আরাগচির এই বক্তব্যের আগে পশ্চিমা এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও পরোক্ষভাবে সেই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   চুক্তিতে ইরান বেশি সুবিধা পাচ্ছে বলে যে আলোচনা চলছে, তার জবাবে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান যেসব শর্ত ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর হিসেবে ফাঁস করেছে, তার সঙ্গে লিখিতভাবে যেসব শর্তে সম্মতি হয়েছে, তার কোনো সম্পর্ক নেই।”   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তির ধারাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হতে পারে।   এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির জব্দ অর্থের একটি অংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।   সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক এই চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। এ বিষয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আলাদা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনো পার্থক্য রয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অন্যত্র স্থানান্তরে সম্মত হয়েছে।   অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা হবে না এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রেও পাঠানো হবে না। বরং দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করে এর সমৃদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে আনা হবে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাত শুরুর ৪০ দিন পর, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।   এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে নতুন করে দ্বিতীয় দফা আলোচনার চেষ্টা চলতে থাকে।   বর্তমানে যে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে, তা দুই দেশের কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে নয়; বরং ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানা গেছে।   সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই শুরু হবে এবং ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে তাঁকে দাফন করা হবে।   এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনার মধ্যেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও কঠোর নিরাপত্তার আওতায় নিয়েছে ইরান।   যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য কোনো মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম জব্দ ঠেকাতে কিছু ভূগর্ভস্থ টানেল ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে।   বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার সক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পর্যায়ে বলে ধারণা করা হয়।

Unknown জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
অত্যাধুনিক মহাকাশ-ক্যামেরার মাধ্যমে ইরান সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো অত্যাধুনিক মহাকাশভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তার দাবি, স্যাটেলাইট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মহাকাশ-ক্যামেরার মাধ্যমে এসব স্থাপনায় যেকোনো ধরনের কার্যক্রম, যানবাহনের চলাচল কিংবা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।   এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।   সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সহযোগিতায় দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে ধ্বংস করবে। আর কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করে নিজস্ব ব্যবস্থায় ওই উপাদান সংগ্রহের চেষ্টা করবে।   ট্রাম্পের ভাষ্য, “চুক্তি হলে আমরা ইরানিদের সঙ্গে কাজ করব। আর চুক্তি না হলেও ইউরেনিয়ামের বিষয়টি সমাধান করা হবে, তবে তখন পদ্ধতি ভিন্ন হবে।”   তিনি দাবি করেন, মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের হামলার পর ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ পাহাড়ি এলাকার নিচে চাপা পড়ে রয়েছে। তার মতে, এই উপাদান উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় ধরে খননকাজ প্রয়োজন হবে এবং এ ধরনের কাজ পরিচালনার সক্ষমতা বিশ্বের খুব কম দেশের রয়েছে।   ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান গোপনে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে না, কারণ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক জানতে চান, যদি কোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।   তিনি বলেন, “চুক্তি হোক বা না হোক, ইউরেনিয়ামকে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Unknown জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি
ইরানের ইউরেনিয়াম যৌথভাবে উদ্ধার করবে ওয়াশিংটন-তেহরান: ট্রাম্পের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যৌথভাবে উদ্ধার করবে ওয়াশিংটন ও তেহরান।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একসঙ্গে ধীরেসুস্থে এসব স্থানে প্রবেশ করবে এবং বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হবে। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   তবে সম্ভাব্য এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং তেহরান আগেই স্পষ্ট করেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছাড়বে না। এর আগে ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধূলা’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।   আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান মতবিরোধের কারণে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

Unknown এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ফাইল ছবি: রয়টার্স
আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রবিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকটি ফলপ্রসূ না হলেও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে।   বাঘায়ি বলেন, “ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরানের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং পরবর্তী বার্তাগুলোতেও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আজই পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করতে পারে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের আশঙ্কার জবাবে মুখপাত্র আবারও দাবি করেন, তাদের এই প্রকল্প সম্পূর্ণ ‘শান্তিপূর্ণ’। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইরান নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত থেকে যায়।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বাসের সংকটে থমকে চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রশ্ন—‘আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব?’

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার পরও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের প্রথম সরাসরি বৈঠক, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের পক্ষে ছিলেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৮০ শতাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। এর ফলে চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।   বৈঠকের এক পর্যায়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রতিনিধিদের সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব?” তিনি অভিযোগ করেন, আগের আলোচনায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে হামলা না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এই আস্থাহীনতাই আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।   অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ইরানের পক্ষ থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, হিমায়িত সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়।   আলোচনার পরিবেশ এক পর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে আলাদা কক্ষে নিয়ে বিরতির ব্যবস্থা করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ইরানের। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।   বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে, যা দুই দেশকেই আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করছে। ফলে বৈঠকটি ব্যর্থ হলেও খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

নিহত গুগল কর্মকর্তা শীতল রজেসিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের শীর্ষ ভারতীয় নারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী, ছেলেও হাসপাতালে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০