ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আইএইএর কড়া বার্তা, পূর্ণ প্রবেশাধিকার চাইল সংস্থা
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণে একটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সংস্থাটির পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শুক্রবার ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হতে পারে। তবে ইরান ধারাবাহিকভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, “ইরান জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যত দ্রুত সম্ভব আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, আইএইএর দায়িত্ব কোনো দেশের উদ্দেশ্য নিয়ে মূল্যায়ন করা নয়। তবে কেবল মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো বিষয় গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় সব স্থানে যাচাই-বাছাই চালানোর সুযোগ থাকতে হবে।
এদিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুনে ১২ দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে এসব স্থাপনার পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছিল। তবে সেপ্টেম্বরে দেশটি পুনরায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়। এর পর আইএইএর কর্মকর্তারা ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন।
তবে হামলার শিকার স্থাপনাগুলোতে এখনও পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যে’ বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, জাতিসংঘের পরিদর্শন কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনায় ২০২০ সাল থেকে নিখোঁজ রবার্ট ড্রাবেকের দেহাবশেষ টুসন শহরের একটি বাড়ির পেছনের আঙিনায় মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবর জানায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১৩ নিউজ। ঘটনার ছয় বছর পর রবার্টের সন্ধান মিললেও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারানা এলাকায় ইনা ও থর্নিডেল সড়কের কাছে একটি মোটরহোমের ভেতর সহিংস ঘটনার আলামত পান পুলিশ কর্মকর্তারা। এরপর রবার্টকে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। ১৩ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া একটি তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তকারীদের নজর যায় টুসনের নর্থ ডজ বুলেভার্ডের একটি বাড়িতে। রবার্টের মা-ও ওই বাড়ির আঙিনায় তাঁর ছেলের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেছিলেন। তাঁর অনুরোধে একটি উদ্ধারকারী দল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়ে সেখানে খোঁজ চালায়। তবে সে সময় কিছু পাওয়া যায়নি। পরে মারানা পুলিশ জানায়, গোয়েন্দারা ৪ আগস্ট বাড়িটিতে নতুন করে তল্লাশি চালান। বাড়ির পেছনের আঙিনায় মাটির নিচে দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, রবার্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়ায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। ১৩ নিউজ জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। রবার্ট কীভাবে মারা গেলেন এবং তাঁর দেহাবশেষ ওই বাড়িতে কীভাবে পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
যমুনা নদী থেকে একাই ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সরালেন বিট্টু, প্রশাসনকে কটাক্ষ জনতার
আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপকের মর্যাদা! নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়
তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতিতে নাইজেরিয়ায় ২ হাজার তরুণকে তেল-গ্যাস প্রশিক্ষণ
ইউরোপের দূরপাল্লার বাজারে দ্রুত প্রবেশের জন্য ভাড়ায় নেওয়া বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ওয়াইড-বডি কার্যক্রম বন্ধ করবে প্রতিষ্ঠানটি এবং একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ হবে লন্ডন হিথ্রো ফ্লাইট। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আকাশসীমার বিধিনিষেধ, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে পরিচালন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগোর এই সিদ্ধান্তকে শুধু একটি রুট বন্ধের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। ২০২৫ সালের শুরুতে নরওয়ের নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ড্যাম্প লিজে নিয়ে দূরপাল্লার বাজারে প্রবেশ করেছিল ইন্ডিগো। নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর আসার আগেই ইউরোপের বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন, ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এই উড়োজাহাজ দিয়েই যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশ করে ইন্ডিগো। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মুম্বাই থেকে লন্ডন হিথ্রোতে দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছিল। তখন লন্ডনকে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেই পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এলো। ইন্ডিগো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন আকাশসীমায় বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে। এতে ইউরোপগামী ফ্লাইটের পথ দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে উড্ডয়ন সময় ও জ্বালানি খরচ। এর সঙ্গে উড়োজাহাজের জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ যোগ হয়ে রুটগুলোর কার্যকারিতা, সময়সূচি, কানেক্টিং ফ্লাইট ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে। এই চাপ আগেই দৃশ্যমান হয়েছিল। ইন্ডিগো এর আগে কোপেনহেগেন পরিষেবা স্থগিত এবং দিল্লি-লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট কমিয়েছিল। পরে ৩১ আগস্ট থেকে ম্যানচেস্টার পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘতর উড্ডয়নপথ ও দ্রুত বাড়তে থাকা খরচের কারণে এসব রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এবার ২৫ অক্টোবর থেকে পুরো বোয়িং ৭৮৭-৯ ওয়াইড-বডি কার্যক্রমই বন্ধ হচ্ছে। আর নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে ছয়টি উড়োজাহাজের ড্যাম্প লিজ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। ড্যাম্প লিজ ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ ও পাইলট সরবরাহ করছিল নর্স আটলান্টিক, আর কেবিন ক্রু ছিল ইন্ডিগোর। তবে ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছে না ইন্ডিগো। ২৫ অক্টোবর থেকেই মুম্বাই-আমস্টারডাম রুটে বোয়িং ৭৮৭-৯-এর পরিবর্তে এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআর ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ আপাতত বড় ওয়াইড-বডির পরিবর্তে দীর্ঘপাল্লায় সক্ষম তুলনামূলক ছোট উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে ইউরোপীয় নেটওয়ার্কের একটি অংশ ধরে রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইন্ডিগো এটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ থেকে পিছু হটা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে এই প্রকল্প থেকে দূরপাল্লার নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, যাত্রীসেবা, ক্রু অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর পরিচালনায় এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। ইন্ডিগোর নিজস্ব এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ বহরই হবে সেই পরবর্তী ধাপ। তবে এখানে সময় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। ইন্ডিগোর ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর অফিসিয়াল বিবৃতিতে নিজস্ব এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ ২০২৮ সালের শুরু থেকে বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় নির্দিষ্ট বছর উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, এ৩৫০-৯০০ সরবরাহ পাওয়ার আগ পর্যন্ত লন্ডন হিথ্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে। লন্ডন রুটে আগে থেকে টিকিট কাটা যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে ইন্ডিগো। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ফ্লাইট অথবা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, ইন্ডিগোর বোয়িং ৭৮৭ অধ্যায় আপাতত শেষ হলেও ইউরোপ ও দূরপাল্লার বাজারের পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে না। বরং ব্যয়বহুল ভাড়ার ওয়াইড-বডি কার্যক্রম থেকে সরে এসে এ৩২১এক্সএলআর দিয়ে কিছু ইউরোপীয় রুট ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব এ৩৫০ বহর দিয়ে নতুন করে বড় পরিসরে দূরপাল্লার বাজারে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের বৃহত্তম এয়ারলাইনটি। সূত্র: ইন্ডিগো, রয়টার্স, ক্যাপা, নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তার অভিযোগে উজবেক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ
কানাডায় প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যুর মাধ্যমে
গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের
ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই ঘোষণা দেন তিনি। নতুন সহায়তার ৮ কোটি কানাডীয় ডলার গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২ কোটি কানাডীয় ডলার শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যয় করা হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তার অর্থ খাদ্য ও পুষ্টি, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যবহার করা হবে। আর শান্তি ও নিরাপত্তা খাতের অর্থের একটি অংশ ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে। কানাডা বর্তমানে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে। কার্নি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে গাজাতেও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনা করবে কানাডা। দেশটি বহু বছর ধরে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহায়তা করে আসছে। নতুন অর্থায়নের ২ কোটি কানাডীয় ডলারের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বক্তব্যে কার্নি ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এমন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কানাডার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। নতুন অর্থায়নের ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের মানবিক ও সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজন মেটাতে কানাডার মোট সহায়তার প্রতিশ্রুতি ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি হয়েছে। কানাডা সরকারের হিসাবে, এই অর্থের বড় অংশ জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা। এর আগে চলতি বছরের জুনে কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছিল। সেই অর্থের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা উদ্যোগের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এদিকে নতুন সহায়তা ঘোষণার সময় গাজা ও পশ্চিম তীরে কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কানাডার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত নথিতে দেশটির অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি সহায়তা প্রকল্প ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব প্রকল্পের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে কানাডা কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে আলাদা আলোচনা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে কানাডার নতুন সহায়তার ঘোষণা ফিলিস্তিনের মানবিক পরিস্থিতি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যেই এসেছে। কানাডা বলছে, নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে একদিকে জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটানো হবে, অন্যদিকে শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগেও সহায়তা করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা হ্যাক করেছে এআই এজেন্ট
গোলান মালভূমি নয়, ইসরায়েলকে বরং নিজেদের নিউজার্সি দিয়ে দিন, ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট