পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হয়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতীয়তাবাদী দল কথা দিয়ে কথা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা। শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশের প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার মানুষ সমানভাবে সরকারি সুবিধা পাবেন। যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবার জন্যই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির সুবিধা থাকবে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো দল-মত বিবেচনা করা হবে না বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদও জাতীয়তাবাদী দল সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়িত হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, নদ-নদী ও খাল-বিল বাংলাদেশের প্রাণ এবং কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এসব খাল ও নদী নিয়মিত খনন করা প্রয়োজন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইসা, আব্দুল্লাহ আবু জাহের, সাদরুল আলম ও আইয়ুব মোল্লাসহ অনেকে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্য হত্যার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং এর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল স্পষ্ট করেন যে, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, সরকার সেই পথেই হাঁটবে। মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার বিষয়টি যেহেতু বর্তমানে আদালতের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল ও অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মানুষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, স্থানীয় ভোটারদের মূল্যবান ভোট এবং আস্থার কারণেই তিনি আজ জনসেবার সুযোগ পেয়েছেন। এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তিনি আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারেও তিনি সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুর শহরে বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর দড়ি টাঙানোকে কেন্দ্র করে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ী সড়কের বিহারি কলোনি এলাকায় প্রতিবেশী ভাড়াটিয়াদের হামলায় জুয়েল মোল্লা (৩৬) নামের ওই যুবক প্রাণ হারান। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতি সরফরাজ শেখ ও মনি বেগমকে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে। প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া ভাঙারি ব্যবসায়ী সরফরাজের স্ত্রী মনি বেগম জুয়েলদের বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর দড়ি টাঙাতে যান। এতে বাধা দেওয়ায় উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সরফরাজ তার পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে জুয়েলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই জুয়েলের মৃত্যু হয় এবং তার ছোট ভাই প্রবাসী সোহেল মোল্লা ও মা রোকেয়া বেগম গুরুতর আহত হন। আহত সোহেলকে বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতের বোন তিন্নি বেগমের অভিযোগ, তার ভাই কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। পাশের বাড়ির সরফরাজ, তার দুই ছেলে শাহরিয়ার ও সিফাতসহ তাদের দোকানের কর্মচারীরা এই নৃশংস হামলায় সরাসরি জড়িত। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানিয়েছেন, প্রধান দুই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান খানের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আটটার দিকে শুরু হওয়া এই মিছিলে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক অংশগ্রহণ করেন। ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থনে আয়োজিত এই মিছিলে বাগাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশ এবং ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন। মিছিলটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও বাগাট বাজারের বিভিন্ন গলি প্রদক্ষিণ করে নওপাড়া সড়কের অনাথের মোড়ে গিয়ে এক বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে নৌকার প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান খান বলেন, "আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি।" তাঁর এই প্রকাশ্য ঘোষণা এবং ধানের শীষের পক্ষে রাজপথে নামার বিষয়টি পুরো নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাগাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম ফকির, নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান টিপু এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সী আখতারুজ্জামানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে বিএনপির এমন বিশাল শোডাউন ফরিদপুর-১ আসনের ভোটের সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারের পাশে আখ সেন্টার এলাকায় একটি পুকুর থেকে পিস্তল, গুলি এবং দুই শতাধিক দেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪টি পিস্তল, ১৮টি গুলি, ২টি কাটা পাইপগান, চাইনিজ কুড়াল, ছোট-বড় ছেনদা, বল্লম, চাকু ও বর্শার মাথা। এছাড়া পাঁচটি খালি কাচের মদের বোতলও পাওয়া গেছে। ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাযুল আবেদীন জানান, গোপন সংবাদে জানতে পারি ওই পুকুরে অবৈধ অস্ত্র আছে। পরে ফায়ার সার্ভিস, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। অস্ত্রগুলো নির্বাচনের দিন ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। তিনি আরও জানান, অভিযানটি পরিচালনা করতে শ্যালো ইঞ্জিন ব্যবহার করে পুকুরের পানি দেড়–দুই ফুট পর্যন্ত অপসারণ করা হয় এবং স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় চারটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। এসব বান্ডিলের মধ্যে স্কচটেপে মোড়ানো ৪টি পিস্তল, ১৮টি গুলি এবং অন্যান্য দেশি অস্ত্র ছিল। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাযুল আবেদীন বলেন, অস্ত্রগুলো কোনো থানার লুট হওয়া নাকি চোরাই পথে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যারা এটি পুকুরে রেখেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, রাজনীতিতে আর মাস্তানি চলবে না। যারা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করবে, তাদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে শাসনের নামে এ দেশের মানুষকে শোষণ করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের চেতনায় সবাই আজ একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চায়। ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা এম এন একাডেমি মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মামুনুল হক বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে প্রশাসনকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। জনসভায় তিনি ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর পক্ষে ভোট চান। সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামী ও দশ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর বক্তব্য শুরু হলেও এর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের একদিন পর দুগ্রুপের মধ্যে কয়েক দফার সংঘর্ষে নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার চুমরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা গ্রামে কয়েক দফা হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামে মতিউর রহমানের বাড়িতে বিএনপি আয়োজিত এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের হাতে ফুল দিয়ে আশপাশের কয়েকশ গ্রামবাসী আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করেন। তারা সবাই ইতোপূর্বে নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফরউল্লাহ সমর্থিত নেতাকর্মী ছিলেন। উঠান বৈঠকে বাবনাতলা গ্রামের ইসরাফিল মোল্লা বক্তব্য দেন। বক্তব্য দীর্ঘায়িত হলে ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন একই গ্রামের প্রতিপক্ষ আনোয়ার মোল্লার দলের শহিদুল মোল্লা। বৈঠক চলাকালে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটলে পরে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়। এর জের ধরে আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দুপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ইটপাটকেল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুপক্ষের ১৫ জন আহত হন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। আহতরা হলেন- লাবনী আক্তার (৪৫), ফাতেমা আক্তার (৩৬), অ্যাডভোকেট জাকারিয়া (৪০), লাভলু মোল্লা (৪৫), জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদালী আলী মোল্লা (৪০), ইসরাফিল মোল্লা (৪৫), আব্দুর রহমান (২০),আনোয়ার মোল্লা (৫০), শাহাবুদ্দিন মোল্লা (৫৫), শহিদুল মোল্লা (৩০), সুমন (২৮) ও রাজনসহ (৩০) ১৫ জান। ভাঙ্গা থানার এসআই আফজাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে আমরাসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে এসে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আহত বিএনপি নেতা জাকারিয়া মোল্লা জানান, আমার ভাই ইসরাফিল মোল্লার যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে প্রতিপক্ষের শহীদুল মোল্লা তীব্র সমালোচনা করেন। এ নিয়ে আজ সকালে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে প্রতিপক্ষ শাহাবুদ্দিনের লোকজন। আমার পকেটে থাকা ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায় এবং আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। আমাদের প্রায় ৮-১০ জন লোক আহত করে। প্রতিপক্ষের আনোয়ার মোল্লা জানান, তার পক্ষের শহীদুল মোল্লার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় শাহাবুদ্দিন মোল্লার লোকজন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমাদের বেশ কয়েকজন লোক আহত হন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস