সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশি আমেরিকান

বাংলাদেশী-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার প্ল্যাটফর্মকে কিনে নিচ্ছে রাইড শেয়ারিং জায়ান্ট উবার। ছবি: সংগৃহীত
২.৩ বিলিয়ন ডলারে উবার কিনছে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের স্টার্টআপ

বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ইজিকেটারকে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিচ্ছে উবার টেকনোলজিস। বোস্টনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিং সেবা দিয়ে আসছে। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করবে উবার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবারের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২৩ দশমিক ০৭ টাকা ধরে এই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। ইজিকেটার অধিগ্রহণের মাধ্যমে করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিংয়ের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে চাইছে উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইজিকেটারের ক্যাটারিং ও ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা কার্যক্রমকে নিজেদের খাবার সরবরাহ ও করপোরেট সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।   ইজিকেটারের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিহাদ রহমান। টেকক্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ করপোরেট কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২২ সালে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন তিনি। এর আগে জেপিমরগ্যান চেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেনারেল ইলেকট্রিকের বিভিন্ন শীর্ষ পদেও কাজ করেছেন তিনি।   ইজিকেটারে যোগ দেওয়ার পর ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন নিহাদ রহমান। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর একই বছরের মে মাসে তাঁকে স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   ইজিকেটারের মূল ব্যবসা করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিংকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ তৈরি করে বড় খাবারের অর্ডার পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের নেটওয়ার্কে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে।   সাধারণ ভোক্তার ব্যক্তিগত খাবারের অর্ডারের তুলনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অফিস ও করপোরেট আয়োজনের অর্ডার সাধারণত বড় হয়ে থাকে। এই বাজারে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে ইজিকেটার। প্রতিষ্ঠানটির বিস্তৃত রেস্তোরাঁ নেটওয়ার্ক এবং বড় করপোরেট অর্ডারের ব্যবসাই উবারের অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ইজিকেটারকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পর করপোরেট ক্যাটারিংয়ের বাজারে কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে উবার। ইজিকেটারের বিদ্যমান ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা কার্যক্রমকে উবারের খাবার সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক সেবার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ খাবার সরবরাহের পাশাপাশি বড় প্রতিষ্ঠানের খাবারের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থান বাড়াতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।   ইজিকেটারের জন্য নির্ধারিত ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থ নগদে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে উবারের। তবে চুক্তির ঘোষণা এলেও অধিগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই লেনদেন সম্পন্ন হবে।   প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ইজিকেটারের ক্যাটারিং নেটওয়ার্ককে উবারের বিদ্যমান খাবার সরবরাহ ও করপোরেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শুরু হবে।   এই অধিগ্রহণের কেন্দ্রীয় চরিত্রদের একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমান। প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে ইজিকেটারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বড় আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। জেপিমরগ্যান চেজ এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইজিকেটারে আসার পর তিন বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পান তিনি।   ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরই স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব তাঁর হাতে দেওয়া হয়। সেই নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার এখন ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নগদ চুক্তিতে উবারের অধিগ্রহণের পথে।   অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে ইজিকেটারের ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর নেটওয়ার্ক এবং করপোরেট ক্যাটারিং কার্যক্রম উবারের বৃহত্তর ব্যবসায়িক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে করপোরেট খাবারের বড় অর্ডারের বাজারে উবারের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   অন্যদিকে ইজিকেটারের জন্যও উবারের বিদ্যমান খাবার সরবরাহ ও ব্যবসায়িক সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হওয়ার পর সামনে আসবে।   নিহাদ রহমানের জন্যও এই চুক্তি তাঁর পেশাগত পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ২০২২ সালে যে প্রতিষ্ঠানে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন, তিন বছরের মধ্যে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হয়েছেন তিনি। এখন তাঁর নেতৃত্বে থাকা স্টার্টআপটিই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে উবারের অংশ হতে যাচ্ছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম।
নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক বার্তায় তাদের সদস্য ইসলামের পদোন্নতির খবর জানিয়েছে। এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটিও তাঁকে নতুন পদে অভিনন্দন জানিয়েছে।    মোহাম্মদ এস ইসলাম বর্তমানে ব্রুকলিনে এনওয়াইপিডির ৬২তম প্রিসিঙ্কটের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিঙ্কটের আওতায় রয়েছে বেনসনহার্স্ট, ম্যাপলটন ও বাথ বিচ এলাকা। এনওয়াইপিডির প্রিসিঙ্কট পরিচিতি পাতায়ও তাঁকে কমান্ডিং অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    বাপার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনওয়াইপিডিতে তাঁর কর্মজীবন ১৮ বছরের। এই সময়ে তিনি হাউজিং, প্যাট্রল ও ডিটেকটিভ ব্যুরোসহ বিভাগের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন। পদোন্নতিকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে তুলে ধরে ইসলাম ও তাঁর পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি।   এনওয়াইপিডির ওয়েবসাইটে শুক্রবার পর্যন্ত ইসলামের নামের পাশে আগের পদবি ‘ক্যাপ্টেন’ লেখা ছিল। তবে তাঁর ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির কথা জানিয়েছে বাপা ও এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটি। পদোন্নতি কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ সংগঠনগুলোর পাওয়া ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার নির্দিষ্ট গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ওবামাকেয়ারের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার ফেরত, কারা পাবেন এই টাকা?

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইনের আওতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জনপ্রতি ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেজারি বিভাগ ৩০টি অঙ্গরাজ্যের ৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি যোগ্য গ্রাহকের কাছে এই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। অর্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।    তবে এটি সবার জন্য দেওয়া কোনো সরকারি প্রণোদনা বা সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড নয়। প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের মাধ্যমে ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং প্রিমিয়াম সহায়তা বা সরকারি ভর্তুকি পাননি, মূলত তাদেরই এই ফেরতের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ যারা নিজেদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পুরো প্রিমিয়াম নিজেরাই পরিশোধ করেছেন, তাদের একটি অংশ এই অর্থ পেতে পারেন।    এই ফেরতের পেছনে প্রশাসনের ব্যাখ্যা হলো, ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনার জন্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যে ব্যবহার ফি নেওয়া হয়েছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল। প্রশাসনের দাবি, ওই অতিরিক্ত অর্থ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের ওপর প্রভাব ফেলেছিল এবং একটি বড় উদ্বৃত্ত তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই উদ্বৃত্তের একটি অংশ যোগ্য গ্রাহকদের ফেরত দিচ্ছে। তবে আগের প্রশাসন সত্যিই গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি; ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বর্তমান প্রশাসনের ঘোষণা।    প্রতিজন যোগ্য গ্রাহক ৫০০ ডলার করে পাবেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্য যদি যোগ্য হন, তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ৫০০ ডলারের ফেরত আসতে পারে। ফলে একটি পরিবারের মোট ফেরতের পরিমাণ ৫০০ ডলারের বেশি হতে পারে। অর্থ পাঠানোর দায়িত্ব ট্রেজারি বিভাগের এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।    বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আমেরিকান নাগরিক হওয়া বা না হওয়াই মূল বিষয় নয়। যোগ্যতা নির্ধারণে কোন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়েছে এবং প্রিমিয়ামের জন্য সরকারি সহায়তা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি যদি সংশ্লিষ্ট ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে যোগ্য ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন, তাহলে তিনি এই ফেরতের আওতায় পড়তে পারেন।    এই কর্মসূচি ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রযোজ্য। এসব রাজ্য ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল হেলথকেয়ার ডট গভ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভানিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি নিজস্ব স্টেট-বেসড হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনা করছে। ফলে এসব রাজ্যের নিজস্ব মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নেওয়া পরিকল্পনা এই নির্দিষ্ট ৫০০ ডলারের ফেরত কর্মসূচির আওতায় নেই।    যোগ্য ব্যক্তিদের আলাদাভাবে নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের ঘোষণায় নতুন আবেদন প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়নি; বরং ট্রেজারি বিভাগ সরাসরি যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে ফেরতের অর্থ পাঠাচ্ছে। তাই কেউ ৫০০ ডলার পাওয়ার কথা বলে ফোন, ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ব্যাংক তথ্য, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা কোনো ফি চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি। এই অর্থকে সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড বা সবার জন্য দেওয়া নতুন সরকারি অর্থ হিসেবে না দেখে নির্দিষ্ট ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ফেরত অর্থ হিসেবে দেখা উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি পেলেন একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ডেপুটি ইন্সপেক্টর, লেফটেন্যান্ট, সার্জেন্ট এবং ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন পদে তাঁদের এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।   ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, মোহাম্মদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ করিম।   সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মোহাম্মদ শারবেল ও মোহাম্মদ চৌধুরী। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক শাখাতেও কয়েকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন।   ট্রাফিক কমান্ডার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মোহাম্মদ রহমান। টিএস-১ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মোহাম্মদ রহমান ও জহেদী রহমান। ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল-৩ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন আকরাম হোসেন।   পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবীর বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে পরিচিত। তাঁদের পদোন্নতির খবর প্রকাশের পর কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।   পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতিকে কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের বিভিন্ন পেশায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও তাঁদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। পুলিশ বিভাগে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির মাধ্যমে সেই অগ্রগতির ধারাও আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুব নেতৃত্ব পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি তাহমিদ
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুব নেতৃত্ব পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি তাহমিদ

অভিবাসী পরিচয়কে শক্তিতে রূপান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে নিজের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ সংগঠক তাহমিদ চৌধুরী। কমিউনিটির ক্ষমতায়ন, তৃণমূলের মানুষকে সংগঠিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে জনসেবামূলক কাজে উজ্জীবিত করার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্মানজনক ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’।   মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জমকালো এক আয়োজনে তাহমিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর গারলিন গিলক্রিস্ট এবং ওয়াশটেনো কাউন্টির প্রসিকিউটর এলি সাভিত। মঞ্চে সে সময় ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেল, মার্কিন কংগ্রেসওম্যান হিলারি স্কলটেন এবং মিশিগান সিনেটের মেজরিটি লিডার উইনি ব্রিংকসের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।   ম্যাকম্ব কাউন্টি ও মিশিগানের ১০ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক অধিকার এবং তরুণদের সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ।   এমন বড় স্বীকৃতির মুহূর্তেও তৃণমূলের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাহমিদ চৌধুরী। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মাননা তার একার কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে তার শিক্ষক, মেন্টর, সহযোগী সংগঠক এবং নিরলস স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত শ্রম ও ভালোবাসা।   তরুণদের সাথে নিয়েই আগামী দিনে জনকল্যাণমূলক কাজ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী ও উপদেষ্টা সুমন কবিরসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাকে অনুপ্রাণিত করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে ইউএসসিআইএস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের জন্য নতুন নিয়ম: এখন থেকে যাচাই হবে ক্রেডিট স্কোর

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের Form I-864, Affidavit of Support কার্যকর করার মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।   নতুন Form I-864-এর সংস্করণ তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। এতে ‘Privacy Release’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক বা একাধিক ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ভোক্তা-ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোরও থাকতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এই তথ্য Form I-864-এর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।   Form I-864 হলো গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে এই ফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার আইনগতভাবে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্পনসরের আর্থিক দায়ও তৈরি করতে পারে।   নতুন নিয়মে ক্রেডিট ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ যুক্ত হলেও ইউএসসিআইএস কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করেনি। অর্থাৎ একজন স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার নিচে থাকলেই তাঁর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম নেই। একইভাবে শুধু কম ক্রেডিট স্কোর, ঋণ, ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক তথ্য বা অতীতের দেউলিয়াত্বের ভিত্তিতে স্পনসরশিপ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধানও প্রকাশ করা হয়নি।   স্পনসরদের আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিষয়গুলোও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং করসংক্রান্ত তথ্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরের আয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের আকারের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য স্পনসর করলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনাতেও স্পনসরদের আয় ও করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি বহাল রয়েছে। সাধারণত সাম্প্রতিক কর বছরের আইআরএস ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী আয় প্রমাণের কাগজপত্র এবং সম্পদ ব্যবহার করলে তার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয় নির্ধারিত সীমার নিচে হলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণ বা যৌথ স্পনসরের প্রয়োজন হতে পারে।   নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘ফ্রিজ’। কোনো স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্টে এমন ফ্রিজ চালু থাকলে ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে না পারায় আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রত্যেক স্পনসরকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট ফ্রিজ তুলে ফেলতে হবে, এমন নির্দেশনা নেই। ইউএসসিআইএস তথ্য চাইলে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন ফর্মের ক্ষেত্রে সংস্করণ-তারিখ নিয়েও স্পনসরদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ইউএসসিআইএস ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন 08/24/26 সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো 10/17/24 সংস্করণের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণ গ্রহণ করা হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে 08/24/26 সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে Form I-864-এর মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর হয়ে থাকেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বর্তমান নির্দেশনাতেও পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনে প্রতিটি আর্থিক স্পনসরের Form I-864 এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   তাই নতুন আবেদন প্রস্তুত করার সময় ফর্মের নিচে থাকা সংস্করণ-তারিখ, আয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, সাম্প্রতিক কর নথি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রমাণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের পর পুরোনো সংস্করণের ফর্ম ব্যবহার করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।   ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কারণ নতুন ফর্মে ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি যুক্ত হলেও ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রতিটি মামলার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্কোর-ভিত্তিক মানদণ্ড প্রকাশ করেনি।   সূত্র: ইউএসসিআইএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড ও সুবিধার চেক। ২০২৭ সালে ভাতা ৩.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালে বাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, সম্ভাব্য বৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশ

২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি (AARP) ধারণা করছে, আগামী বছর সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কস্ট-অফ-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট (COLA) প্রায় ৩.৬ শতাংশ হতে পারে।   তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে ২০২৭ সালের প্রকৃত COLA নির্ধারণ করা হবে। নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে।   আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর এএআরপির পূর্বাভাস আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BLS) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে শহরাঞ্চলের মজুরি ও কেরানি কর্মীদের জন্য ভোক্তা মূল্যসূচক বা CPI-W গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৫ শতাংশ বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বার্ষিক COLA নির্ধারণে এই সূচকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের CPI-W-এর গড়ের সঙ্গে আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের গড় তুলনা করে COLA নির্ধারণ করা হয়। ফলে আগস্টের তথ্য হাতে এলেও সেপ্টেম্বরের হিসাব ছাড়া ২০২৭ সালের চূড়ান্ত হার বলা সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পরই চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।   ভাতা কত বাড়তে পারে ৩.৬ শতাংশ COLA কার্যকর হলে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা অনেক সুবিধাভোগীর মাসিক ভাতা বাড়বে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জুলাই ২০২৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা ছিল ২,০৮৫.৯৮ ডলার। ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি হলে এই পরিমাণে মাসে প্রায় ৭৫ ডলার যোগ হতে পারে। অর্থাৎ গড় ভাতা প্রায় ২,১৬১ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে।   এএআরপির বিশ্লেষণে অন্যান্য সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। জুলাইয়ের গড় হিসাবে, স্বামী বা স্ত্রী হারানো সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা প্রায় ১,৯৩৩ ডলার হলে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধিতে তা প্রায় ৭০ ডলার বাড়তে পারে। প্রতিবন্ধী কর্মীদের গড় সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ১,৬৩৫ ডলারের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে মাসে প্রায় ৫৯ ডলার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে ব্যক্তিভেদে প্রকৃত বৃদ্ধির পরিমাণ আলাদা হবে। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ, কর, মেডিকেয়ার প্রিমিয়ামসহ অন্যান্য কর্তন থাকলে ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো অর্থের পরিমাণ অনুমানের চেয়ে কম হতে পারে।   কেন বাড়ছে COLA সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার COLA মূলত মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য দেওয়া হয়। খাদ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় খাতে দাম বাড়লে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্তদের ওপর তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ে। এএআরপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পণ্যের ওপর শুল্ক এবং জ্বালানি দামের বাড়তি চাপ মূল্যস্ফীতিকে উঁচু রাখতে ভূমিকা রাখছে। ন্যাশনাল একাডেমি অব সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্সের বিশিষ্ট ভিজিটিং ফেলো ইন্দিভার দত্ত-গুপ্তা এএআরপিকে বলেন, বয়স্ক আমেরিকানরা বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বেশি অনুভব করছেন, কারণ নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের এসব খরচ সামঞ্জস্য করার সুযোগ তুলনামূলক কম।   সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় কত বেশি ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার COLA ছিল ২.৮ শতাংশ। ২০২৭ সালে যদি ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি চূড়ান্ত হয়, তাহলে সেটি ২০২৬ সালের তুলনায় ০.৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি হবে। একই সঙ্গে এটি ২০২৩ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি হতে পারে। ২০২৩ সালে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৮.৭ শতাংশ বেড়েছিল।   এর পরের বছরগুলোতে বৃদ্ধি তুলনামূলক কম ছিল। ২০২৪ সালে COLA ছিল ৩.২ শতাংশ, ২০২৫ সালে ২.৫ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২.৮ শতাংশ। ফলে ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের তুলনায় সুবিধাভোগীরা তুলনামূলক বড় সমন্বয় পাবেন।   তবে বেশি COLA মানেই যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমে যাবে, তা নয়। মূল্যস্ফীতি যদি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বৃদ্ধির কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা খুব বেশি বাড়বে না। অতীতেও এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, যখন COLA বৃদ্ধির পরও খাদ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার দ্রুত বাড়তে থাকা খরচ সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ তৈরি করেছে।   কবে চূড়ান্ত হবে ২০২৭ সালের COLA এখনো পূর্বাভাসের পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের CPI-W তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন চূড়ান্ত হিসাব করবে। বর্তমানে সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ১৪ অক্টোবর প্রকাশ হওয়ার কথা এবং এর পরই ২০২৭ সালের COLA আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হবে। নতুন সমন্বয় কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির সুবিধা প্রদানের সঙ্গে।   অর্থাৎ বর্তমানে ৩.৬ শতাংশকে সম্ভাব্য হার হিসেবে দেখা হলেও সেটিকে চূড়ান্ত ধরে বাজেট বা ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্যের ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীরা কতটা বাড়তি অর্থ পাবেন।   সূত্র: এএআরপি, যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
কুইন্স থেকে নিখোঁজ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৬ বছরের কিশোর নাকিবুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৬ বছরের কিশোর নিখোঁজ, নিউইয়র্ক সিটিতে মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট জারি

নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৬ বছর বয়সী কিশোর নাকিবুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছে। তাকে খুঁজে পেতে ৩১ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরটির কিছু মেডিকেল কন্ডিশন রয়েছে এবং সে তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে থাকতে পারে।    নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল অ্যালার্ট অনুযায়ী, নাকিবুলকে সর্বশেষ ৩০ আগস্ট ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে কুইন্সের ১৬৯তম স্ট্রিটে হেঁটে যেতে দেখা যায়। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল স্কাই-ব্লু রঙের শার্টের ওপর কালো হুডযুক্ত সোয়েটশার্ট ও কালো স্যান্ডেল। তার সঙ্গে একটি কালো ব্যাকপ্যাক ছিল।    নাকিবুলের জন্ম ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল। তার উচ্চতা ৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ১২০ পাউন্ড। তার চুল কালো এবং চোখ বাদামি। নিউইয়র্ক সিটির অ্যালার্টে তাকে ১৬ বছর বয়সী এশিয়ান কিশোর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, নাকিবুল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে এনওয়াইপিডির ১০৩ প্রিসিঙ্কটে ৮০০-৫৭৭-৮৪১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।    নিউইয়র্ক সিটির মিসিং চাইল্ড অ্যালার্টে বলা হয়েছে, নাকিবুলের একটি ছবি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। কিশোরটির সন্ধানে কুইন্সের বাসিন্দাসহ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং কোনো তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগান প্রাইমারি নির্বাচনের ফলের পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবেগঘন বার্তা মিনহাজ চৌধুরীর

মিশিগান স্টেট হাউসের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফলের কাছে পরাজয়ের পর ভোটার, বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাংবাদিক এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতাকারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী।   নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে মিনহাজ চৌধুরী বলেন, গতকাল ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনে ওয়ারেন, সেন্টার লাইন, ম্যাডিসন হাইটস ও হেজেল পার্ক নিয়ে গঠিত মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর ভোটাররা তাকে যে ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ।   তিনি বিশেষভাবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবীণ ও নবীন নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও নিরলস সমর্থন তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এবারের নির্বাচনে মিনহাজ চৌধুরী নিজেকে একজন কমিউনিটি-কেন্দ্রিক প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় জনগণের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব, জননিরাপত্তা, শিক্ষা, ছোট ব্যবসার উন্নয়ন, পরিবারভিত্তিক সামাজিক মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশিসহ অভিবাসী কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। নির্বাচনী প্রচারণাজুড়ে তিনি কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততার ওপরও জোর দেন।   বিবৃতিতে মিনহাজ চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলেও ভোটারদের প্রতিটি সমর্থন তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি বলেন, একটি নির্বাচনের ফলাফল মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকারকে থামিয়ে দিতে পারে না; বরং কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়।   তিনি আরও বলেন, আগামী দিনেও দল-মত নির্বিশেষে কমিউনিটির উন্নয়ন, ঐক্য এবং জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই তার ভবিষ্যৎ পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনে বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মিনহাজ চৌধুরী বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। যদিও তিনি ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে মনোনয়ন অর্জন করতে পারেননি, তবে তার প্রচারণা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
প্রবাসে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল, আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলে মেধা তালিকায় ৪ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীরা। চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকার সেরা দশে স্থান করে নিয়েছেন চারজন বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী। তাদের এ কৃতিত্বে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।   ঐতিহাসিক জিম হুইলান বোর্ডওয়াক হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের গ্র্যাজুয়েশন (সমাবর্তন) অনুষ্ঠান। চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের সফল সমাপ্তি উদযাপনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে।   গাউন পরিহিত শিক্ষার্থীরা দুপুর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। অনুষ্ঠান শুরর পর মেধাবী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।   এবারের মেধা তালিকার শীর্ষ দশে স্থান পাওয়া চার বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী হলেন— আলফি নাশিয়া (দ্বিতীয়), সুমাইয়া তাবাসুম (চতুর্থ), শ্রেয়ন চৌধুরী (সপ্তম) এবং রাহাত রহমান (নবম)।   প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে এই অর্জনকে বিশেষভাবে দেখছেন কমিউনিটির নেতারা। তারা মনে করেন, নতুন প্রজন্মের এ ধরনের কৃতিত্ব বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।   আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ ড. কনস্ট্যান্স ডেইস চ্যাপম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ড. লা কোয়েটা স্মল এবং সিটি কাউন্সিলের সদস্যরা। এ ছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে স্কুল বোর্ডের সদস্য সুব্রত চৌধুরী ও ফরহাদ সিদ্দিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও উৎসাহ প্রদান করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিজ নিজ আসনে বসেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে তারা মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমার প্রতীকী কপি গ্রহণ করেন এবং জীবনের নতুন অধ্যায়ে পদার্পণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রমাণ করে যে, শিক্ষা ও মেধার প্রতিযোগিতায় তারা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ১৩ ভোটে হার শামসুল হকের, নিউইয়র্ক প্রাইমারিতে জিতলেন না কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী

নিউইয়র্ক স্টেটের বহুল আলোচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীদের কেউই জয়লাভ করতে পারেননি। মঙ্গলবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলে কয়েকটি আসনে তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুখ দেখেন।   সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনে। সেখানে সাবেক এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা শামসুল হক মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিনেজ পেয়েছেন ২ হাজার ৭০৩ ভোট, আর শামসুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯০ ভোট। মোট ৬ হাজার ৩৩৬ ভোটের এই নির্বাচনে অল্প ব্যবধানের পরাজয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম হওয়ায় শামসুল হকের পক্ষ থেকে পুনর্গণনার আবেদন করা হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।   অন্যদিকে, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মেরি জোবাইদা পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৮ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছেন ডায়ানা মোরেনো, যিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৫১ ভোট। মেরি জোবাইদা ছিলেন এবারের প্রাইমারিতে অংশ নেওয়া একমাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী প্রার্থী। এর আগেও তিনি একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি স্টেট অ্যাসেম্বলি ছেড়ে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে এবারও জয় তার নাগালের বাইরে থেকে যায়। ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ আসনে পিয়া রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৮২৭ ভোট। সেখানে বিজয়ী সামান্থা কাটান পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৩৬ ভোট।   ডিস্ট্রিক্ট-৩২ আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ মোল্লা (সানি) পেয়েছেন ৭৫৫ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী নাথানিয়েল হেজেকিয়াহ পেয়েছেন ৩ হাজার ৬১৭ ভোট। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েও তার প্রচারণা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উল্লেখযোগ্য আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।   ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ আসনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিপিএ জাকির চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৬০৯ ভোট। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছেন কারিনেস রেয়েস, যিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ১০০ ভোট। এবারের নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক প্রভাব গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও মূলধারার রাজনীতিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত।   নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক নির্বাচনী এলাকায় জয়লাভ করতে হলে শুধু নিজস্ব কমিউনিটির সমর্থন যথেষ্ট নয়। আফ্রিকান-আমেরিকান, লাতিনো, শ্বেতাঙ্গ, এশীয় এবং তরুণ ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীদের সামনে এখনও রাজনৈতিক ভিত্তি আরও বিস্তৃত করার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।   তবে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবং কয়েকটি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন কমিউনিটির অনেকে। তাদের মতে, পরাজয় সত্ত্বেও এই নির্বাচন নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করেছে।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা । ছবি: সংগৃহীত
চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় চার বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী

নিউজার্সির আটলান্টিক সিটিতে অবস্থিত আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ব্যাচে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান অর্জন করে কমিউনিটির জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।   মঙ্গলবার ঐতিহাসিক জিম হুইলান বোর্ডওয়াকে আয়োজিত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পর শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে সাফল্যের আনন্দ।   অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।   স্কুলের মেধা তালিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরফিন আশিয়া দ্বিতীয়, সুমাইয়া তাসসুম চতুর্থ, সেন চৌধুরী সপ্তম এবং রাহাত রহমান নবম স্থান অর্জন করেন।   অনুষ্ঠানের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রাসহ নির্ধারিত আসনে বসেন এবং পর্যায়ক্রমে মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমার প্রতীকী কপি গ্রহণ করেন।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ড. কনস্ট্যান্ট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ড. স্মল, স্কুল বোর্ডের সদস্যবৃন্দ এবং সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা।   শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে শুধু অভিভাবকরাই নয়, পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের এই অর্জন প্রমাণ করে যে অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।   কমিউনিটির নেতারা মনে করেন, এই কৃতিত্ব শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর নয়, বরং পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের গর্ব। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে তারা উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

Unknown জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সংগঠন আবার্নির নতুন নেতৃত্বে সাব্বির

নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি-আমেরিকান রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান রিয়েলটরস অব নিউইয়র্ক (আবার্নি)-এর ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে।   সংগঠনের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ভোটে নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাব্বির আহমেদ। সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাদির খান, সম্পাদক ইমরান ভূঁইয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাজনীন মির্জা।   নবনির্বাচিত বোর্ড অব ডিরেক্টরস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাজী হোসেন, কবির মুন্সী, হাসান ইমাম এবং তৌহিদুল ইসলাম।   সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে আবার্নির বার্ষিক ইনস্টলেশন ও অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে।   এদিকে সদস্যদের আবেদন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৌহিদুল ইসলামকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। পরিচালক পদে আগ্রহ প্রকাশকারী সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।   সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ কবির, সাকিল আহমেদ এবং বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ রহমান নতুন নেতৃত্বকে দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।   এক বিবৃতিতে বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ রহমান নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠন আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।  সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটি সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   তিনি সংগঠনের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং কমিউনিটির সবাইকে নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানাতে এবং তাদের সফলতার জন্য সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।   মোহাম্মদ রহমান বলেন, সবাই মিলে পেশাকে আরও শক্তিশালী করা, সদস্যদের উন্নয়নে কাজ করা এবং কমিউনিটির সেবা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই সংগঠন এগিয়ে যাবে।

তাবাস্সুম জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পুলিশে তিন বাংলাদেশি কর্মকর্তা
নিউইয়র্ক পুলিশে আবারও বাংলাদেশিদের সাফল্য, তিন কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সদরদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্য পদোন্নতি লাভ করেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।   গত ২৮ মে এনওয়াইপিডির সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তার হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিশ।   পদোন্নতি পাওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তারা হলেন পুলিশ কর্মকর্তা তান্নি চন্দা, যিনি সার্জেন্ট পদে উন্নীত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা সাফায়েত জামিল এবং পুলিশ কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান ডিটেকটিভ পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এই পদোন্নতির মাধ্যমে তিনজনই তাদের দায়িত্বের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   এই অর্জনে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন একেএম আলম, সহ-সভাপতি সার্জেন্ট ডিটেকটিভ স্কোয়াড এরশাদুর সিদ্দিক এবং সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার এক যৌথ শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, এটি ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়।   বাপার গণমাধ্যম সমন্বয়কারী সার্জেন্ট জসিম মিয়া বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পদোন্নতি এসেছে। এই অর্জন আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।   প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও সাফল্য মূলধারার সমাজে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করছে।   উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও পেশাদার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পরিচিত। সেখানে বহু বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যারা নিজ নিজ দায়িত্বে দক্ষতা ও সেবার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে স্বীকৃতি অর্জন করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনে শীর্ষে মেক্সিকো, বাংলাদেশিদের অবস্থান কোথায়

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে বহু বছর ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ দেশটিতে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ।   মার্কিন সেনসাস ব্যুরো, পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী এসেছে মেক্সিকো থেকে। কয়েক দশক ধরেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে। অর্থনৈতিক সুযোগ, কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে লাখো মেক্সিকান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন।   গবেষকদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটিরও বেশি মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী বসবাস করছেন। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে তাদের বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, সেবা ও ব্যবসাখাতে মেক্সিকান অভিবাসীদের বড় অবদান রয়েছে।   মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। গত দুই দশকে ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও গবেষণাখাতে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় অংশ এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। বর্তমানে ভারতীয়-আমেরিকানরা দেশটির অন্যতম উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চ আয়ের অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।   তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও গবেষণাখাতে চীনা নাগরিকদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে শক্তিশালী চীনা কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। এছাড়া ফিলিপাইন, এল সালভাদর, ভিয়েতনাম, কিউবা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, গুয়াতেমালা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠী তৈরি করেছেন।   অভিবাসন গবেষকদের মতে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ধরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতেন, এখন সেখানে এশিয়ার দেশগুলোর দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভারত, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।   এই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও অভিবাসনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ থেকে তিন লাখের মধ্যে। সংখ্যার হিসেবে বাংলাদেশ সাধারণত বিশ্বের শীর্ষ ২৫ থেকে ৩০টি অভিবাসী উৎস দেশের মধ্যে অবস্থান করে।   যদিও মেক্সিকো, ভারত বা চীনের তুলনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির আকার এখনো তুলনামূলক ছোট, তবে গত এক দশকে তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের বসবাস দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানরা স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষিত তরুণ পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তাদের কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, শিক্ষাভিসা, কর্মভিসা এবং বৈচিত্র্য ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন।   অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কঠোর নীতির আলোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের জন্য দেশটিতে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

তাবাস্সুম মে ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০