সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশি উদ্যোক্তা

এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদা
১৮ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি, দেউলিয়া থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলারের এয়ারট্রাঙ্ক গড়লেন রবিন

১৮ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদার প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক এক দশকেরও কম সময়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোনের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারী জোটের অধিগ্রহণ চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু নির্ধারিত হয় ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি। ব্যবসার পাশাপাশি নারীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষায় বড় অনুদানের মাধ্যমেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।   ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন খোদা। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বিবরণে তাঁর ১৮ বছর বয়সে সিডনিতে আসা এবং সেখান থেকে বড় পরিসরের ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ার যাত্রার কথা উঠে এসেছে। ক্লাউড সেবা ও বিপুল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এয়ারট্রাঙ্কের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়।   ব্ল্যাকস্টোন ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ চুক্তির ঘোষণা দেয়। তাদের সঙ্গে ছিল কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড বা সিপিপি ইনভেস্টমেন্টস। বিক্রেতা ছিল ম্যাককুয়ারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও পিএসপি ইনভেস্টমেন্টস। ঘোষণায় বলা হয়, এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ব্ল্যাকস্টোনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।   চুক্তির সময় এয়ারট্রাঙ্কের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরে উপস্থিতি ছিল। গ্রাহকদের জন্য প্রতিশ্রুত সক্ষমতা ছিল ৮০০ মেগাওয়াটের বেশি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এক গিগাওয়াটের বেশি সক্ষমতা গড়ার উপযোগী জমি ছিল প্রতিষ্ঠানটির হাতে।   নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের পর অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জানায় এয়ারট্রাঙ্ক। প্রতিষ্ঠানটির বিবরণ অনুযায়ী, সে সময় এটি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার অধিগ্রহণ এবং ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম লেনদেন। অধিগ্রহণের পরও প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে যুক্ত থাকেন খোদা।   তবে ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু। এই অঙ্ককে খোদার ব্যক্তিগত সম্পদ বা তাঁর একার প্রাপ্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে দেখানো সঠিক হবে না। ব্ল্যাকস্টোনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগকারীরা খোদার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসাটি এগিয়ে নিচ্ছেন।   এয়ারট্রাঙ্কের পরবর্তী সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ভারতও রয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে পাঁচ গিগাওয়াটের বেশি ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ঘোষণা, ইতিমধ্যে ব্যয় হয়ে যাওয়া অর্থের হিসাব নয়।   শিক্ষাক্ষেত্রে খোদার বড় উদ্যোগ আসে তাঁর পারিবারিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সিটি অব সিডনি জানায়, খোদা ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের ১০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অনুদানে ২০ বছরের একটি কর্মসূচি পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির হিসাবে, এটি তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম অনুদান।   ওয়েস্টার্ন সিডনির মেয়েদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বা স্টেম বিষয়ে পড়াশোনা এবং পেশা গড়তে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। সপ্তম শ্রেণি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনায় সহায়তা, মেন্টরিং ও স্কলারশিপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথও তৈরি করবে উদ্যোগটি।   ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব টেকনোলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফেলো নির্বাচিত হন রবিন খোদা। ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তিশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ তাঁর পেশাজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের খলিল বিরিয়ানি হাউজের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুর রহমান
নিউইয়র্কের বিরিয়ানি সম্রাট খলিল: ঢাবিতে গণিতে মাস্টার্স, আজ ৬ রেস্টুরেন্টের মালিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশে বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। কিন্তু জীবনের লক্ষ্য ছিল আরও বড় কিছু করার। সেই স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮ সালে ডাইভারসিটি ভিসায় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কে এসে শুরু করেন রেস্টুরেন্টে থালাবাসন ধোয়ার কাজ। দীর্ঘ সংগ্রামের পর সেই খলিলুর রহমানই এখন নিউইয়র্কের পরিচিত বাংলাদেশি শেফ ও রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত খলিল বিরিয়ানি হাউজের ব্যবসা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন শাখা চালু হয়েছে ব্রুকলিনে।   গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ব্রুকলিনের পিটকিন এভিনিউতে খলিল বিরিয়ানি হাউজের নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চলমান নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে নতুন রেস্টুরেন্টটির যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও নতুন এই শাখা চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক সিটির রেস্টুরেন্ট নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ২৭৬৮ পিটকিন এভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৮।   তবে খলিলুর রহমানের আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ সহজ ছিল না। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভালো চাকরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়। প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশার হিসেবে কাজ নেন। এরপর কখনো কিচেন হেলপার, কখনো বুচারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এভাবে প্রায় ছয় বছর রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। সেই সময়ই নিজের একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি ভালোই ছিল। কিন্তু তিনি আরও বড় কিছু করতে চেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্টে কাজ করতে গিয়েই বুঝতে পারেন, নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হলে শুধু পরিশ্রম নয়, রান্না ও রেস্টুরেন্ট পরিচালনার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাও প্রয়োজন।   সেই লক্ষ্য নিয়ে নিউইয়র্কের ইনস্টিটিউট অব কালিনারি এডুকেশনে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনার খরচ চালাতে নিতে হয় শিক্ষা ঋণ। প্রায় চার বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৮ সালে সার্টিফায়েড শেফ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই নিজের ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন খলিলুর রহমান।   ২০১৭ সালে ব্রঙ্কসে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করে খলিল বিরিয়ানি হাউজ। শুরুর সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি খাবারের বাজারে পরিচিত নাম হয়ে ওঠে। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্রঙ্কসের বাইরে কুইন্সের জ্যামাইকা ও এলমহার্স্টেও কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কজুড়ে এর ছয়টি লোকেশনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে আরও একটি এলাকায় পৌঁছাল প্রতিষ্ঠানটি।   খলিলের রেস্টুরেন্টগুলোর অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার। কাচ্চি বিরিয়ানি, বিফ তেহারি, চিকেন বিরিয়ানি, রোস্ট পোলাও, বিফ কারি, চিকেন টিক্কা, তান্দুরি চিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের হালাল খাবার পরিবেশন করা হয় এখানে। পাশাপাশি রয়েছে মাছ, সবজি, কাবাব, সমুচা ও অন্যান্য দেশীয় খাবারের আয়োজন। বাংলাদেশি ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছেও এসব খাবার পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করছেন খলিলুর রহমান।   তাঁর তৈরি বিশেষ একটি খাবারের নাম ‘বাইডেন বিরিয়ানি’। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় উপলক্ষে এই বিরিয়ানি তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রচলিত বিরিয়ানির তুলনায় এতে মসলার ব্যবহার কম রাখা হয়, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের মানুষের কাছেও খাবারটি সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, খাবারের স্বাদ ও মসলার ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।   রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তাঁর সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে ‘পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেন খলিলুর রহমান। আয়োজকদের প্রকাশিত বিজয়ীদের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম শেফ হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে। একই বছর কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পান তিনি।   ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসীদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রেখেছেন খলিলুর রহমান। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে তাঁর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ জনের বেশি বাঙালি অভিবাসীর কর্মসংস্থানের তথ্য উঠে আসে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিউইয়র্কের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রান্নাবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছেন খলিলুর রহমান। ২০২৪ সালে ঢাকার পল্টনে চালু করেন খলিল কালিনারি আর্টস সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটিতে তরুণদের পেশাদার রান্নার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এবং ১৭ জন কর্মী ছিলেন। রান্নাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী তরুণদের দক্ষ করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।   এদিকে ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর বিষয়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকা ও আশপাশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে। তাঁদের কাছে হালাল ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। খাবারের স্বাদ, গুণগত মান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি থেকে নিউইয়র্কের রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশারের কাজ, এরপর পেশাদার শেফ হয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা। খলিলুর রহমানের দীর্ঘ এই পথচলায় রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, প্রশিক্ষণ ও ধাপে ধাপে ব্যবসা সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা। ব্রঙ্কসের ছোট একটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন ব্রুকলিনেও পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের বহুজাতিক খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি বিরিয়ানি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি দুই ভাই সাবিক বিন সুলতান ও শাফি বিন সুলতান, এআই স্টার্টআপ AgenticHire-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি কলেজ শিক্ষার্থী দুই ভাইয়ের এআই স্টার্টআপ পেল ৩০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ডিং

স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ গড়ে সাফল্যের নজির তৈরি করেছেন বাংলাদেশের দুই ভাই। সাবিক বিন সুলতান ও শাফি বিন সুলতানের সহপ্রতিষ্ঠিত এআইভিত্তিক নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম AgenticHire বিভিন্ন অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা, অনুদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে ৩০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছে।   ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিক বিন সুলতান প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর বড় ভাই শাফি বিন সুলতান ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং AgenticHire-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা।   স্টার্টআপটির কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের সঙ্গে এর আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন সিঙ্গাপুরের রিভার ভ্যালি হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাওইয়াং উ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোম্পানিটির বৃহত্তর প্রতিষ্ঠাতা দলে কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সদস্যও রয়েছেন।   AgenticHire-এর যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। সিঙ্গাপুরে একটি তরুণ উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় সাবিক ও হাওইয়াংয়ের মধ্যে পরিচয় হয়। সেখান থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করেন তাঁরা। সাবিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় দিনের ওই কর্মসূচির মধ্যেই ধারণা, দল ও ব্যবসার দিকনির্দেশনা তৈরি হতে শুরু করে।   তাদের নজরে আসে, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই আলাদা মানবসম্পদ বা নিয়োগ দল থাকে না। ফলে প্রতিষ্ঠাতা কিংবা জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদেরই চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের সাক্ষাৎকার নিতে হয়। যোগ্য প্রার্থী একজনকে কারিগরি সাক্ষাৎকারে নেওয়ার আগেই ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নিতে হতে পারে বলে সাবিক জানিয়েছেন। এই সময় ও শ্রমের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই AgenticHire তৈরি করা হয়।   প্ল্যাটফর্মটির মূল কাজ হলো নিয়োগের প্রাথমিক ধাপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনা করা। কোনো প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট পদের জন্য মূল্যায়নের কাঠামো তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে সাক্ষাৎকারের সংযোগ পাঠাতে পারে। প্রার্থী নিজের সুবিধামতো সময়ে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেন। এরপর AgenticHire প্রার্থীর দক্ষতা, দুর্বলতা ও কাজের উপযোগিতা নিয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করে। চূড়ান্তভাবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই নেয়।   স্টার্টআপটি গড়ে তোলার আগে প্রতিষ্ঠাতারা বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটি যাচাই করেন। অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও উদ্যোক্তা সম্মেলনের মাধ্যমে পাওয়া অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজেদের পরিচিত নেটওয়ার্কের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের কাছ থেকেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর একটি প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করে পরামর্শদাতাদের সহায়তায় সেটি উন্নত করা হয়।   AgenticHire যে ৩০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা পেয়েছে, তার পুরোটা প্রচলিত বিনিয়োগ হিসেবে পাওয়া অর্থ নয়। প্রতিষ্ঠাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ এসেছে অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচির সহায়তা, প্রতিযোগিতার পুরস্কার, অনুদান এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা থেকে। এর মধ্যে ইস্ট ভেঞ্চার্সের ‘মাই ফার্স্ট ১০০০’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সহায়তার বিনিময়ে এখন পর্যন্ত কোম্পানির কোনো মালিকানা বা শেয়ার ছাড়তে হয়নি বলে সাবিক জানিয়েছেন।   প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন, পাওয়া অর্থ মূলত পণ্য উন্নয়ন, দলের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচি ও প্রযুক্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য চালুর প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রাহক বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্ল্যাটফর্মটি আরও উন্নত করা। ভবিষ্যতে নতুন বাজারে প্রবেশ ও দল সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।   বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দুই দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগটি শুরু হলেও এর পরিধি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক। দলটির সদস্যদের মধ্যে কাজাখস্তানের দানিয়া টোকসানোভা বিপণন বিভাগের দায়িত্বে, থাইল্যান্ডের আপিউইট পাসুওয়াত যোগাযোগ কার্যক্রমে, কম্বোডিয়ার মোখা সোখা পরিচালন সহযোগী হিসেবে এবং মালয়েশিয়ার জেসি চু পণ্য বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে স্কুলপড়ুয়া কয়েকজন তরুণের উদ্যোগটি ধীরে ধীরে একটি বহুজাতিক তরুণ উদ্যোক্তা দলের রূপ নিয়েছে।   AgenticHire-এর প্রতিষ্ঠাতাদের গল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাদের বয়স। প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা সাবিক ও শাফি এখনো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। একইভাবে প্রযুক্তি বিভাগের নেতৃত্বে থাকা হাওইয়াং উও স্কুলের শিক্ষার্থী। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার আগেই তাঁরা প্রযুক্তি ব্যবসার একটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে পণ্য তৈরি, গ্রাহক যাচাই এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।   সাবিকের সাম্প্রতিক এক পেশাগত পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা এমনকি পূর্ণাঙ্গ দলও ছিল না। কয়েক মাসের মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও সময় অঞ্চলে কাজ করে তাঁরা একটি পণ্য তৈরি করেন এবং জুনের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সেটি উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, ওই অভিজ্ঞতা শুধু অর্থ সংগ্রহের সুযোগই নয়, বরং বিনিয়োগকারীরা কীভাবে একটি স্টার্টআপকে মূল্যায়ন করেন, সেটি বোঝারও সুযোগ তৈরি করেছে।   বর্তমানে AgenticHire নিজেদের একটি এআই-চালিত নিয়োগ বাছাই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের লক্ষ্য হলো নিয়োগের প্রাথমিক ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় ও কাজের চাপ কমানো, যাতে প্রতিষ্ঠাতা বা নিয়োগদাতারা বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে সময় না দিয়ে তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত প্রার্থীদের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। প্ল্যাটফর্মটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে গ্রাহক বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে।   বাংলাদেশি দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক দল গড়ে তুলেছে। এখন তাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্যকে টেকসই ব্যবসায় রূপ দেওয়া এবং বিভিন্ন দেশের নিয়োগ বাজারে এআইভিত্তিক এই সেবা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তা প্রমাণ করা।   সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে পণ্য নির্বাচন ও লাভের হিসাব আগে পরিষ্কার করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে বসে অ্যামাজন ব্যবসা, নতুন উদ্যোক্তাদের শুরু করার আগে যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে বসে ঘরে থেকেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চান এমন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য Amazon হতে পারে একটি সম্ভাব্য ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম। তবে শুরুতেই মনে রাখতে হবে, এটি দ্রুত অর্থ উপার্জনের সহজ কোনো পথ নয়। পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে বাজার যাচাই, পণ্য সংগ্রহ, বিক্রয়, পণ্য পাঠানো এবং হিসাব পরিচালনা, প্রতিটি ধাপেই পরিকল্পনা প্রয়োজন।   প্রথম ধাপ হলো কী ধরনের পণ্য বিক্রি করবেন তা ঠিক করা। বাজারে কোন পণ্যের চাহিদা আছে, কতজন বিক্রেতা একই পণ্য বিক্রি করছেন, পণ্যের বিক্রয়মূল্য কত এবং সব খরচ বাদ দেওয়ার পর সম্ভাব্য লাভ কত হতে পারে, এসব আগে যাচাই করতে হবে। শুধু অন্য কেউ ভালো বিক্রি করছে দেখে একই পণ্য কিনে ব্যবসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   এরপর আসে পণ্য সংগ্রহের বিষয়টি। স্থানীয় পাইকার, প্রস্তুতকারক, পরিবেশক অথবা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা যায়। সরবরাহকারী বাছাইয়ের সময় পণ্যের মান, মূল্য, সরবরাহের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিবহন খরচ যাচাই করা জরুরি। কিছু পণ্য অ্যামাজনে বিক্রির আগে নির্দিষ্ট অনুমোদন বা অতিরিক্ত শর্তের আওতায় থাকতে পারে।   পণ্য সংগ্রহের পর অ্যামাজনে বিক্রেতা হিসেবে নিবন্ধন করে পণ্যের তালিকা তৈরি করতে হয়। এতে পণ্যের ছবি, বিবরণ, মূল্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করা হয়। এরপর উদ্যোক্তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তিনি নিজে ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠাবেন, নাকি অ্যামাজনের গুদাম ও পণ্য পাঠানোর সেবা ব্যবহার করবেন।   অ্যামাজনের পণ্য পূরণ সেবা ব্যবহার করলে আগে থেকেই পণ্য অ্যামাজনের গুদামে পাঠিয়ে রাখা যায়। ক্রেতার অর্ডার আসার পর প্যাকেট তৈরি, পণ্য পাঠানো এবং অনেক ক্ষেত্রে ফেরত পণ্যের ব্যবস্থাপনাও অ্যামাজন পরিচালনা করে। এতে উদ্যোক্তার দৈনন্দিন কাজ কিছুটা কমে, তবে এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফি দিতে হয়। অন্যদিকে নিজে পণ্য পাঠানোর পদ্ধতিতে বাড়িতে পণ্য রেখে অর্ডার পাওয়ার পর প্যাকেট তৈরি করে ক্রেতার কাছে পাঠানো যায়।   ব্যবসা শুরুর আগে সব খরচের হিসাব করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য কেনার মূল্য, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, অ্যামাজনের ফি, প্যাকেজিং, বিজ্ঞাপন এবং ফেরত পণ্যের সম্ভাব্য খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ কত থাকবে, তা হিসাব করতে হবে। লাভের হিসাব পরিষ্কার না করে বড় অঙ্কের পণ্য কেনা নতুন উদ্যোক্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   অ্যামাজন নতুন বিক্রেতাদের জন্য বিনামূল্যের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে। সেখানে পণ্য তালিকাভুক্ত করা, মূল্য নির্ধারণ, পণ্য পাঠানো, বিজ্ঞাপন, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় শেখানো হয়। ফলে শুরু করার আগে এসব বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া যেতে পারে।   সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছোট পরিসরে শুরু করা। প্রথমেই বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে একটি বা কয়েকটি পণ্য নিয়ে বাজার পরীক্ষা করা, বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করা এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করা তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও সফলতার জন্য প্রয়োজন সঠিক পণ্য নির্বাচন, নির্ভুল হিসাব, নিয়ম মেনে চলা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০