নিউইয়র্কভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংগঠনের সদস্যপদ সংগ্রহ কার্যক্রমের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৮ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্যপদ সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আজীবন সদস্য এবং ৮০০ জন নতুন ও নবায়ন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো অনেক আবেদন জমা পড়ার বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ সময়ে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে এবং মোট ভোটার সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আজীবন সদস্যের জন্য ৫০০ ডলার এবং সাধারণ সদস্যের জন্য ২০ ডলার। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আজীবন সদস্য হলে একজনের ৫০০ ডলার ফি দিলেই দুজন সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুটি প্রধান প্যানেল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্যানেল কাজ করছে। অন্যদিকে আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল। দুই পক্ষই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সদস্য সংগ্রহ, মতবিনিময় এবং নির্বাচনী সমর্থন আদায়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। কমিউনিটিতে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা, সমীকরণ ও প্যানেলভিত্তিক কৌশল এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে আবু নাসেরের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে ১ জানুয়ারি। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর প্যানেল দাবি করছে, তাদের মেয়াদে কমিউনিটির উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত চাকরি বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ। তাদের দাবি, স্টেট থেকে প্রাপ্ত ৬৫ হাজার ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। অন্যদিকে কুনু-ফিরোজ প্যানেল নতুন নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করার অঙ্গীকার করছে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মতে, এবারের নির্বাচনে সদস্যপদই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। কারণ বৈধ সদস্যরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ কারণে ৩০ জুনের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ সোসাইটি এবার প্রথমবারের মতো অনলাইন সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়ন প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে প্রবাসীরা ঘরে বসেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ও ফি পরিশোধ করতে পারছেন। নির্বাচনী তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংগঠনের লাইফ মেম্বার ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির আলী খান পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন। নাসির আলী খান পলের অভিযোগ, একসময় সোসাইটির ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ছিল। বর্তমানে সেই অর্থের অবস্থান ও ব্যয়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাবি, নির্বাচন আয়োজনের আগে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে সব হিসাব সদস্যদের সামনে তুলে ধরা উচিত। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটির আর্থিক অবস্থান সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন সোসাইটির আর্থিক হিসাব নিয়ে সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বিগত তিন কমিটির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট দাবি করেন। নাসির আলী খান পল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সদস্য ফি এবং অন্যান্য খাত থেকে সংগৃহীত অর্থের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রতিবছর সিপিএ (সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট) দ্বারা হিসাব প্রস্তুত করা হয় এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের সংবিধানে বাধ্যতামূলক অডিটের বিধান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মোহাম্মদ আলীর দাবি, সোসাইটির ইতিহাসে কখনো ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের তহবিল ছিল না। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন হিসাব মিলিয়ে সংগঠনের প্রায় আড়াই লাখ ডলার রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা অর্থ, ফেরত পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য তহবিল অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে কবর কেনার জন্য ব্যয় করা অর্থের একটি অংশ তারা ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দায়িত্বকালে প্রতিবছর হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সদস্যদের সামনে পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরারও আশ্বাস দেন তিনি। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, বর্তমান কমিটির সময়ে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তার জানা নেই। তবে যেকোনো অভিযোগ সাধারণ সভায় উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে তিনি মত দেন। অন্যদিকে সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন দাবি করেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বর্তমান কমিটির কাছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ছিল। তবে এ বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বুঝে পেয়েছিলেন। এদিকে নাসির আলী খান পল সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্টে দাবি করেছেন, অভ্যন্তরীণ অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেছেন, বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী সিপিএ-নির্ভর হিসাব ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সদস্যরা চাইলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অডিট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সদস্যপদ সংগ্রহ, ভোটের প্রস্তুতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। কমিউনিটির অনেকের মতে, নির্বাচনের আগে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরে ৯ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। সভায় মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী দুই মাসের মধ্যে চালু হতে পারে। নিউইয়র্ক সফরকালে আয়োজিত এ সভায় প্রবাসীদের উদ্দেশে মন্ত্রী অতীতের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনটিকে অরাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি সকল প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্ল্যাটফর্ম। তিনি সভা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং বক্তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য পরিহারের অনুরোধ জানান। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সোসাইটির ৫০ বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং প্রবাসীদের পক্ষে ৯ দফা দাবি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সেবা উন্নয়ন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু, মোবাইল কনস্যুলার সেবা চালু এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। সভায় বক্তারা সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হাউজিং খাতে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বক্তাদের মধ্যে বাবরুল হোসেন বলেন, “আরিফুল হক চৌধুরী কর্মী থেকে জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি মানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।” তিনি তাঁকে ‘সিলেট রত্ন’ হিসেবে অভিহিত করার প্রস্তাব দেন, যা উপস্থিতদের করতালিতে সমর্থন পায়। জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “প্রবাসীদের সর্বস্বান্ত করা ম্যানপাওয়ার ব্যবসার মাফিয়াচক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে। সিন্ডিকেট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” হাউজিং খাতে অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্লট বিক্রির নামে প্রবাসীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। মন্ত্রী জানান, সরকার প্রবাসীবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করবে এবং তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডধারীরা বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন সুবিধা পাবেন। দেশে অবস্থানকালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষায়ও বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ব্যবস্থাও থাকবে। মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানান তিনি। এর আগে নিউইয়র্কে ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার জৈন্তা আয়োজিত আরেক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, তিনি সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য হলেও মন্ত্রী হিসেবে সারা দেশের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ন্যায় ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী সিন্ডিকেট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে কর্মীরা কম খরচে বিদেশ যেতে পারবেন। প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দক্ষতা ছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা কঠিন। বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা সমন্বিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন এবং আগামী এক বছরের মধ্যে এর দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।