সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বেলজিয়াম

বেলজিয়ামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার কারণে চাকরিচ্যুত মুসলিম শিক্ষিকা খাদিজা আমাজুদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বেলজিয়ামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরায় চাকরি হারালেন মুসলিম শিক্ষিকা

শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরে পাঠদান করতে চাওয়ায় বেলজিয়ামের এক শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেছে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্তৃপক্ষ। হাদিজা আমাজুদ নামের ওই শিক্ষিকা ২০২২ সাল থেকে প্রদেশটির আসেনেদে এলাকার বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পান। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও দার্শনিক প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বরখাস্তের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ করে বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম দ্য ব্রাসেলস টাইমস।   প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ২৭ জুন কর্মীদের আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনে। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দৃশ্যমান ধর্মীয় ও দার্শনিক প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তবে ধর্ম বা দর্শনবিষয়ক নির্দিষ্ট বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। হাদিজা যখন বিদ্যালয়ে যোগ দেন, তখন তিনি হিজাব পরতেন এবং সে সময় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল না। নতুন নিয়ম চালুর পরও হিজাব পরেই পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।   হাদিজা বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, বিষয়টি শুধু তাঁর চাকরি বা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্য, হিজাব পরা তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ এবং এটি তাঁর পেশাগত দক্ষতার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই তিনি হিজাব পরতেন এবং তাঁর কাজের মূল্যায়নও নেতিবাচক ছিল না। বরখাস্তের ফলে তিনি শুধু চাকরিই নয়, আয় ও দীর্ঘদিনের পেশাগত নিরাপত্তাও হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।   বিষয়টি নিয়ে হাদিজার পাশে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়ামের সরকারি খাতের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সমাজতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন এসিডিওডি (ACOD)। ইউনিয়নটি জানিয়েছে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতিকে তারা সমর্থন করে। তবে হাদিজার ক্ষেত্রে সরাসরি বরখাস্তের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। ইউনিয়নের মতে, নতুন নিয়ম চালুর আগে থেকেই হাদিজা ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন এবং তাঁর পোশাক নিয়ে কর্মদক্ষতার কোনো নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প সমাধান বা পরিবর্তনের জন্য কিছু সময় দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত ছিল।   দ্য ব্রাসেলস টাইমসের ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাদিজার আপিলে সহায়তা করছে এসিডিওডি। ইউনিয়নটির যুক্তি, চাকরিচ্যুতি ছিল অতিরিক্ত কঠোর ও পরিস্থিতির তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি। তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক পরার নিয়ম মানতে না চাওয়ার কারণে সরাসরি চাকরি হারানোর পরিবর্তে সমঝোতা বা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেত। ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, হাদিজা হিজাবের পরিবর্তে তুলনামূলক নিরপেক্ষ মাথা ঢাকার পোশাক পরার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে সমাধান হয়নি।   অন্যদিকে, পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, প্রাদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রাখতে কর্মীদের আচরণবিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রদেশটির শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কার্ট মুনসের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সেই বিধি অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁদের যুক্তি, বিদ্যালয়ে এমন পরিবেশ থাকা উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক চাপের মুখে পড়ে না। ফলে বিতর্কটি একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশের অধিকার, অন্যদিকে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতির মধ্যে সংঘাত তৈরি করেছে।   হাদিজার ঘটনাটি বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। দ্য ব্রাসেলস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজাব পরার কারণে স্পষ্টভাবে বরখাস্ত হওয়া ফ্ল্যান্ডার্সের প্রথম শিক্ষিকা হতে পারেন তিনি। তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং তা প্রয়োগের সীমা নিয়ে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। হাদিজা ও তাঁর ইউনিয়ন এখন বরখাস্তের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিলের পথে এগোচ্ছেন। আপিলের শুনানিতে তাঁর চাকরির পরিস্থিতি, নতুন বিধির প্রয়োগ এবং শাস্তির মাত্রা বিবেচনায় আসতে পারে।   সূত্র: দ্য ব্রাসেলস টাইমস, বেলজিয়ান সংবাদ সংস্থা বেলগা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের, ছবি ঘিরে বিস্ময়

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত সাউথ জর্জিয়া দ্বীপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কিং পেঙ্গুইনের ভিড়ে বিরল একটি হলুদ পেঙ্গুইনের ছবি তুলেছিলেন বেলজিয়ামের বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তোলা ছবিগুলো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের কালো, সাদা ও ধূসর পালকের পরিবর্তে পাখিটির শরীরে ছিল উজ্জ্বল হলুদ ও ক্রিম রঙের পালক। বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের রঞ্জক পদার্থের অস্বাভাবিকতার কারণে এমন বিরল রঙের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।   ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামসের নিজস্ব বিবরণ এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দুই মাসের একটি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর দল দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের স্যালিসবারি প্লেন এলাকায় পৌঁছায়। দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চল কিং পেঙ্গুইনের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।   স্যালিসবারি প্লেনের প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত উপকূলীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক কিং পেঙ্গুইন বসবাস করে। সেখানে পেঙ্গুইনের পাশাপাশি হাজার হাজার ফার সিল ও এলিফ্যান্ট সিলেরও দেখা মেলে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, প্রবল স্রোত এবং বন্যপ্রাণীর ঘন উপস্থিতির কারণে এলাকাটিতে নৌকা ভেড়ানো ও নিরাপদে চলাচল করা বেশ কঠিন।   অ্যাডামস জানিয়েছেন, অভিযানের দিন তাঁরা একটি ছোট নৌকায় করে উপকূলে পৌঁছান। নৌকা থেকে খাবার, তাঁবু ও নিরাপত্তাসামগ্রী নামানোর সময় হঠাৎ পানির মধ্যে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙের একটি পেঙ্গুইন দেখতে পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। কাছাকাছি আসার পর বুঝতে পারেন, পাখিটির শরীরে সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের পরিচিত কালো পালক নেই।   বিরল পেঙ্গুইনটিকে দেখতে পেয়েই ক্যামেরা হাতে নেন অ্যাডামস। সৌভাগ্যক্রমে পাখিটি তাঁদের কাছেই তীরে উঠে আসে। কিছুক্ষণ সৈকতে ঘোরাফেরা করার পর অন্য পেঙ্গুইনদের দলে মিশে যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হন তিনি।   পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অ্যাডামস জানান, পেঙ্গুইনটির ছবি তোলার জন্য তিনি মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট সময় পেয়েছিলেন। বিরল প্রাণীটি কাছে চলে আসায় কোনো বাধা ছাড়াই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিল। এত বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে অস্বাভাবিক রঙের একটি পাখিকে আলাদাভাবে দেখতে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।   সাধারণত কিং পেঙ্গুইনের মাথা ও পিঠের বড় অংশ কালো বা ধূসর রঙের হয়। শরীরের সামনের অংশ সাদা এবং মাথা ও ঘাড়ের কাছে উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রঙের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু অ্যাডামসের দেখা পেঙ্গুইনটির কালো অংশগুলো ছিল হলুদাভ কিংবা ক্রিম রঙের। ফলে অন্যান্য পেঙ্গুইনের ভিড়ে সেটি সহজেই চোখে পড়ছিল।   বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীর শরীরে বিভিন্ন রঙ তৈরির পেছনে একাধিক ধরনের রঞ্জক পদার্থ কাজ করে। এর মধ্যে মেলানিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রাণীর পালক, ত্বক ও লোমের কালো এবং বাদামি রঙ তৈরিতে মেলানিনের ভূমিকা রয়েছে। কোনো জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন বা বণ্টনে সমস্যা হলে প্রাণীর স্বাভাবিক রঙ বদলে যেতে পারে।   বিরল হলুদ পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রেও এমন একটি পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক গবেষক এটিকে লিউসিজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিউসিজম হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরের কিছু অংশে বা পুরো শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জকের উপস্থিতি কমে যায়। এর ফলে প্রাণীর গায়ের রঙ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে, সাদা কিংবা অন্য রঙের দেখা যেতে পারে।   তবে হলুদ পেঙ্গুইনটির রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছু মতভিন্নতা রয়েছে। লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী ডি বোয়েরসমা পাখিটির রঙকে লিউসিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কেভিন ম্যাকগ্রো জানান, পাখিটির পালকে মেলানিনের উপস্থিতি ঠিক কতটা রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।   বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিং পেঙ্গুইনের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হলুদ রঞ্জক পদার্থ থাকে। বিরল পেঙ্গুইনটির শরীরে কালো রঙের জন্য দায়ী মেলানিনের ঘাটতি হওয়ায় সেই হলুদ রঙ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু ছবি দেখে জিনগত পরিবর্তনের সঠিক ধরন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   এ ধরনের অস্বাভাবিক রঙ প্রাণীর বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত পেঙ্গুইনের গায়ের কালো ও সাদা রঙ পানির মধ্যে আত্মরক্ষায় সহায়তা করে। ওপর থেকে দেখলে পিঠের গাঢ় রঙ গভীর পানির সঙ্গে মিশে যায়। আবার নিচ থেকে দেখলে সাদা পেট পানির ওপরের আলোর সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে। এতে শিকারি প্রাণীর চোখ এড়ানো তুলনামূলক সহজ হয়।   অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে রঙের পেঙ্গুইন অন্যদের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে শিকারি প্রাণীর কাছে ধরা পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে পাখির স্বাভাবিক রঙ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অ্যাডামসের তোলা ওই পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রে এসব কারণে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   বিরল রঙের পেঙ্গুইন এর আগেও বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ হলুদাভ চেহারার কিং পেঙ্গুইনের ছবি অত্যন্ত বিরল। ২০১৯ সালে সাউথ জর্জিয়া দ্বীপেই অন্য একটি অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে রঙের কিং পেঙ্গুইনের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে অ্যাডামসের দেখা পাখিটিই পৃথিবীর প্রথম অস্বাভাবিক রঙের পেঙ্গুইন, এমন দাবি সঠিক নয়।   ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ভেস অ্যাডামস ছবিগুলো প্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনায় সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন এবং লাইভ সায়েন্স পেঙ্গুইনটির ব্যতিক্রমী রঙের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   অ্যাডামসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একটি পেঙ্গুইন আবার দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে তাঁর উল্লেখ করা লাখে বা মিলিয়নে একটি দেখার সম্ভাবনা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক হিসাব নয়, বরং বিরল অভিজ্ঞতাটি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অনুমান।   ২০১৯ সালে ধারণ করা এবং ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হওয়া হলুদ পেঙ্গুইনটির ছবিগুলো এখনো বন্যপ্রাণীর অস্বাভাবিক রঙের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একই প্রজাতির বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে একটি পাখির এমন ব্যতিক্রমী চেহারা প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং প্রাণীর শরীরে জিনগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের

বেলজিয়ামের একটি আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্র থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের পর ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আনার অভিযোগ উঠেছে এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলাটি ওঠার পর গত রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে এর তথ্য প্রকাশিত হয়। অভিযোগের বিচার বেলজিয়ামে হওয়ার কথা রয়েছে।   দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটির শুরু ২০২৫ সালের জুনে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বেলজিয়ামের আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্র থেকে কিশোরীটিকে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি। পরে ফ্রান্স হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে তাঁরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।   কিশোরীটি তুরস্কের নাগরিক বলে আদালতে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন আশঙ্কায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নামও প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বয়স নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে; কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ভিন্ন ভিন্ন জন্মতারিখ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা জানিয়েছে, বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের খোঁজা ওই ব্যক্তিকে গত ১৯ আগস্ট পশ্চিম লন্ডনের ফেলথামে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি হেফাজতে আছেন। অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত, চাকরি হারিয়েও আপোষ করেননি তিনি

বেলজিয়ামের পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশে কর্মরত শিক্ষিকা হাজিয়া আমাজুদ কর্মস্থলে হিজাব খুলতে অস্বীকার করায় চাকরি হারিয়েছেন। আসেনেডে শহরের কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাস নামের বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছিলেন তিনি। প্রদেশের স্কুলগুলোতে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক নিষিদ্ধ করার নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।    আমাজুদ স্কুলে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই হিজাব পরতেন। ২০২৪ সালে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্মীদের বিধিমালা পরিবর্তন করে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করা হয়। ধর্মীয় বা জীবনদর্শনভিত্তিক বিষয় পড়ানো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পরও আমাজুদ হিজাব পরেই শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নেন।    এ নিয়ে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের পর একাধিক শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের শৃঙ্খলামূলক কমিটির সামনে হাজির হন। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।    আমাজুদের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনের সময় আগে থেকেই হিজাব পরতেন এবং তার কাজের দক্ষতা নিয়ে নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পেয়েছিলেন। চাকরি হারানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এর ফলে শুধু চাকরিই নয়, তার আয়, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী নিয়োগও হারাতে হচ্ছে।    অন্যদিকে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ বলছে, কর্মীদের জন্য অনুমোদিত বিধিমালা কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কার্ট মোয়েন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম একটি নিরপেক্ষ পরিবেশে পরিচালনার নীতির সঙ্গে এই বিধিমালা সম্পর্কিত।    এর আগে চলতি বছরের মে মাসে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের একটি আদালত আমাজুদের হিজাব পরার অধিকার নিয়ে করা কয়েকটি দাবি খারিজ করেছিল। আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তখন গুরুত্ব পায়। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পরও বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।    আমাজুদের পক্ষে থাকা সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন ACOD চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রাসেলসের আপিল চেম্বারে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ইউনিয়নটির মতে, এই মামলার রায় বেলজিয়ামের স্কুলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার নীতির মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।    ঘটনাটি বেলজিয়ামে শিক্ষক ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি ও অভিন্ন কর্মবিধির কথা বলছে, অন্যদিকে আমাজুদ ও তার ইউনিয়ন ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। এখন আপিল প্রক্রিয়ায় এই দুই নীতির মধ্যে আইনি সীমারেখা কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্ট তাঁর ২৬ বছর বয়সী সন্তান ক্লেমঁ ভান্দেনকার্কহোভেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
২৬ বছরের সাবেক গাড়ি বিক্রেতা এখন বেলজিয়ামের রাজপুত্র! বাবার স্বীকৃতিতে পেলেন উত্তরাধিকার অধিকার

বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্টের ২৬ বছর বয়সী ছেলে ক্লেমঁ ভান্দেনকার্কহোভেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি। এর ফলে সাবেক গাড়ি বিক্রেতা ক্লেমঁ এখন বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য এবং বাবার সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন। তবে তিনি বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন না এবং রাজপরিবার থেকে কোনো সরকারি ভাতাও পাবেন না।    বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরেন্ট ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার প্রকাশ্যে জানান, ক্লেমঁ তারই জৈবিক সন্তান। ক্লেমঁর মা বেলজিয়ামের গায়িকা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আইরিস ভান্দেনকার্কহোভে, যিনি ‘ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেন’ নামেও পরিচিত। লরেন্ট ও আইরিসের সম্পর্কের সময় ক্লেমঁর জন্ম হয়। পরে ২০০৩ সালে লরেন্ট প্রিন্সেস ক্লেয়ারের সঙ্গে বিয়ে করেন।    প্রকাশ্যে বাবার স্বীকৃতি দেওয়ার পরও এতদিন ক্লেমঁ আইনগতভাবে প্রিন্স লরেন্টের সন্তান হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিভিল রেজিস্ট্রারের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পিতৃত্বের স্বীকৃতি নথিভুক্ত করা হয়। কয়েক মাস বিষয়টি গোপন থাকার পর ১৯ আগস্ট তা প্রকাশ্যে আসে।    আইনগত স্বীকৃতির ফলে ক্লেমঁ এখন তার বাবার অন্য তিন সন্তান প্রিন্সেস লুইস এবং যমজ প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিকের সমানভাবে প্রিন্স লরেন্টের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছেন। চাইলে বাবার রাজপরিবারের পদবি স্যাক্স-কোবুর্গ গ্রহণ করারও অধিকার রয়েছে তার। তবে নিজের মায়ের পরিবারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বর্তমানে ভান্দেনকার্কহোভে পদবিই রাখতে চান ক্লেমঁ।    আইনগত স্বীকৃতির কারণে ক্লেমঁ বেলজিয়ামের রাজপুত্রের মর্যাদা পাওয়ার অধিকার অর্জন করেছেন। তবে এই মর্যাদার সঙ্গে কোনো সরকারি দায়িত্ব বা রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব যুক্ত হবে না। একইভাবে তিনি রাজপরিবারের সরকারি ভাতাও পাবেন না।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্লেমঁ বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় থাকবেন না। বেলজিয়ামের সংবিধান অনুযায়ী সিংহাসনের উত্তরাধিকার নির্দিষ্ট বৈবাহিক বংশধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে প্রিন্স লরেন্টের সন্তান হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেলেও সিংহাসনের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ক্লেমঁর কোনো অবস্থান তৈরি হচ্ছে না।    ক্লেমঁর পিতৃত্ব নিয়ে বেলজিয়ামে প্রায় দুই দশক ধরে নানা আলোচনা ছিল। ২০২৫ সালে প্রিন্স লরেন্ট প্রকাশ্যে তাকে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকার করার পর সেই দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটে। এবার আইনগত স্বীকৃতির মাধ্যমে রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

তাবাস্সুম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা ও বার তালিকাভুক্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
নর্দমার পাইপ বসাতে গিয়ে মিলল ১০৪ কোটি টাকার সোনা, প্রথমে ভেবেছিলেন এক ইউরোর কয়েন

বেলজিয়ামে নর্দমার নতুন পাইপ বসানোর কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা মূল্যের সোনার সন্ধান পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা। দেশটির সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডে এলাকায় একটি পুরোনো ব্রুয়ারির ভবনের নিচে কাজ করার সময় এই বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়।   সম্প্রতি ঘটা এই ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোনা পাওয়ার পর শ্রমিকরা সেটি নিজেদের কাছে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সোনাগুলো তালিকাভুক্ত করে নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নিয়ে যায়। বিষয়টির উৎস ও প্রকৃত মালিকানা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   ঘটনাটি ঘটে ব্রাসেলসের কাছের ফ্লেমিশ অঞ্চল সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডেতে। সেখানে একটি পুরোনো ব্রুয়ারির মালিকের বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সংস্কারের কাজ চলছিল। ভবনটি বর্তমানে সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের অধীনে রয়েছে। সংগঠনটি সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সংস্কারকাজ চালাচ্ছে।   নর্দমার পাইপ বসানোর জন্য মাটির নিচে খনন করতে গিয়ে শ্রমিকরা পুরোনো ভবনের একটি অংশের ভিতের কাছে পৌঁছান। সেখানেই তারা অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিক কোবে ভিআরটি নিউজকে জানান, প্রথমে তিনি সেগুলোকে এক ইউরোর কয়েন ভেবেছিলেন। পরে আরও খনন করার পর বোঝা যায়, সেখানে আসলে বিপুল পরিমাণ সোনা লুকিয়ে রাখা ছিল।   সাইটের প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, শ্রমিকরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও একের পর এক সোনার কয়েন ও বার বেরিয়ে আসার পর তারা বিস্মিত হয়ে যান। এরপর তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া সোনার তালিকা তৈরি করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ৪৯টি সোনার বারসহ বিপুলসংখ্যক সোনার কয়েন পাওয়া গেছে। সেগুলোর মোট মূল্য আনুমানিক ৯ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ১০.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। পরে পুরো সোনার ভাণ্ডার নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়।   তবে এত বিপুল সম্পদ পাওয়ার পরও নির্মাণশ্রমিকদের জন্য সেটি নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বেলজিয়ামের আইনি বিধান অনুযায়ী, সোনার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হেফাজতেই থাকবে। মালিকানা নিয়ে দাবি জানানোর জন্য পাঁচ বছর সময়ের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত মালিক শনাক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী দাবিদার ও সন্ধানকারীর অধিকার নির্ধারিত হতে পারে।   সোনার এই ভাণ্ডারটি কার ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তদন্তকারীরা এর উৎস ও মালিকানা যাচাই করছেন। এটি কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, কিংবা পুরোনো ব্রুয়ারির মালিক পরিবারের সম্পদ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ভবনটির সঙ্গে ভ্যান আসশে পরিবার ও পুরোনো ব্রুয়ারির সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত সোনাগুলোর প্রকৃত মালিক হিসেবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।   এই আবিষ্কারের পর স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠনটির কর্মকর্তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভবনটি বর্তমানে সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের মালিকানাধীন। সংগঠনটি সমাজের অসহায় মানুষদের সহায়তায় কাজ করে। সংগঠনটির পরিচালক আশা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত যদি আইনগতভাবে এই সম্পদের কোনো অংশ তাদের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে এর আগে মালিকানা ও আইনি বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি জরুরি।   অন্যদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গুপ্তধন খোঁজার লোকজনের ভিড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পুলিশ। তারা সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। কারণ জায়গাটি এখনো নির্মাণকাজ ও ভাঙার কাজ চলা একটি ঘেরাও করা এলাকা এবং সেখানে বেশ কয়েকটি গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সব সোনা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   নির্মাণশ্রমিকদের জন্য ঘটনাটি নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজে থাকা প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, তার বহু বছরের কর্মজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আর ১৮ বছর বয়সী কোবের আশা, শেষ পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তারা এই আবিষ্কারের জন্য কোনো ধরনের পুরস্কার বা সন্ধানকারীর সম্মানী পেতে পারেন।   পুলিশও জানিয়েছে, তারা আশা করছে এই অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার শেষ পর্যন্ত সঠিক মানুষের হাতে যাবে এবং এর ইতিবাচক ফল অনেক মানুষের জীবনে কাজে লাগবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
বেলজিয়াম ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের জনপ্রিয় দেশ বেলজিয়াম ভ্রমণে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের

ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য বেলজিয়াম ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ২৩ জুলাই প্রকাশিত হালনাগাদ ভ্রমণ পরামর্শে দেশটিকে লেভেল–২ পর্যায়ে রেখে নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং বিক্ষোভের ঝুঁকির কারণে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বেলজিয়ামের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ও জনবহুল স্থানে সুযোগসন্ধানী অপরাধের ঘটনা নিয়মিত ঘটে। বিশেষ করে ব্যাগ ছিনতাই, পকেটমার ও ব্যক্তিগত মালামাল চুরির মতো অপরাধ থেকে সতর্ক থাকতে ভ্রমণকারীদের আশপাশের পরিস্থিতির প্রতি সব সময় নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এছাড়া ট্রেনে যাতায়াতের সময় লাগেজ বা ছোট ব্যাগ ওপরের র্যাক কিংবা প্রধান রেলস্টেশনে নজরদারিহীন অবস্থায় না রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। কারণ এসব স্থান থেকে ব্যাগ চুরির ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।   ভ্রমণ পরামর্শে আরও বলা হয়েছে, বেলজিয়ামে গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য অবৈধ। এসব মাদক দেশটিতে নিয়ে যাওয়া, বহন করা বা দেশ থেকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করলে গুরুতর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।   পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, বেলজিয়ামে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ২০২৩ সালে ব্রাসেলসে এক হামলায় দুই সুইডিশ নাগরিক নিহত হন। এর আগে ২০১৬ সালে ব্রাসেলস বিমানবন্দর ও শহরের যাত্রীবাহী রেলব্যবস্থায় হামলায় ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এসব ঘটনার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   সতর্কবার্তায় রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিক্ষোভের বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। এমন সমাবেশ সাধারণত শান্তিপূর্ণ হলেও তা পরিবহন ব্যবস্থা ও অন্যান্য জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। গত মাসে শিক্ষা সংস্কারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ব্রাসেলসে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। জুন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের আগে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের কর্মীরাও সেখানে বিক্ষোভ করেন।   পররাষ্ট্র দপ্তর ভ্রমণকারীদের বিক্ষোভ ও জনসমাগম এড়িয়ে চলা, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন এলাকা, ব্যাংক ও এটিএম ব্যবহার করার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   তবে এবার ঠিক কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেলজিয়ামের জন্য সতর্কতার মাত্রা হালনাগাদ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়। পাশাপাশি বিদেশে ভ্রমণকারী মার্কিন নাগরিকদের জরুরি তথ্য ও সতর্কবার্তা পাওয়ার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ নিবন্ধনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে ইসরাইলি অবৈধ বসতির পণ্য আমদানিতে বেলজিয়ামের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম তীরের ইসরাইলি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বেলজিয়াম

বেলজিয়ামের ফেডারেল সরকার পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরাইলি বসতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে ইউরোপের চতুর্থ রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের অবৈধ বসতি পণ্যের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নিল দেশটি, যার আগে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড একই পদক্ষেপ নিয়েছিল।   যদিও এই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই গ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী দরকষাকষির কারণে এটি কার্যকর করতে বেশ বিলম্ব ঘটে। শেষ পর্যন্ত সরকারের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ার ঠিক আগে, শনিবার রাতে মন্ত্রিসভার এক দীর্ঘায়িত বৈঠকে সব পক্ষের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অবশ্য আইনি খসড়াটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণের সামনে প্রকাশ না করায় এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানা যায়নি।   বেলজিয়াম সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের আইনপ্রণেতা শারেন হাস্কেল। তিনি মন্তব্য করেন যে, বেলজিয়াম এমন এক অবস্থানে গেছে যেখান থেকে তাদের আর ফেরার সুযোগ নেই। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, তারা কট্টর ইসলাম আমদানি করতে থাকুক, আর ইসরাইল তাদের উৎপাদিত পণ্য শুধু সেইসব দেশেই পাঠাবে যারা প্রযুক্তি, গুণমান ও নতুন উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দেয়।   অনুরূপ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেলজিয়ামের কট্টরপন্থী এমপি স্যাম ভ্যান রয়। তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে একপেশে আখ্যা দিয়ে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে হওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধু ইসরাইলকে টার্গেট করা হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি শ্রমিকরাও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, দেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইহুদিদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি থাকা মুসলিম ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই সরকার এই রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।   বিপরীতে, মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বেলজিয়ামের এই নতুন আইনকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির ফরাসিভাষী বেলজিয়াম শাখার অ্যাডভোকেসি অফিসার নাথালি জ্যানে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের অন্যায় দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী আচরণ রুখতে খুব কম দেশই বাস্তবে পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। সেই তুলনায় দেরিতে হলেও বেলজিয়ামের এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।   অবশ্য বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এই নিষেধাজ্ঞার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, এই আইন কেবল পশ্চিম তীরের বসতির পণ্যের ওপর কার্যকর করা হয়েছে, কিন্তু ইসরাইলের দখলে থাকা গোলান মালভূমিকে এর বাইরে রাখা হয়েছে। ‘ব্রোডারলিজেক ডেলেন’ নামক একটি এনজিওর পলিসি অফিসার রিকর্ট হোরেম্যানস জানান, গোলান মালভূমিকে ছাড় দেওয়ার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এছাড়া অন্যান্য এনজিও সতর্ক করেছে যে, বেলজিয়াম সরাসরি আমদানি বন্ধ করলেও ইসরাইলি পণ্যগুলো ইউরোপের অন্য কোনো দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে ‘পেছনের দরজা’ দিয়ে ঠিকই এ দেশের বাজারে ঢুকে পড়তে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
উইঙ্গার জেরেমি ডোকু l ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মাঝপথে পরিবারকে বেছে নেওয়া ডোকু, ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের মাঝপথে বেলজিয়ামের তারকা উইঙ্গার জেরেমি ডোকুর একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য তিনি সাময়িকভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন, যা নিয়ে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।   বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনের অনুমতি নিয়েই ডোকু স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাম্প ত্যাগ করেন। ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, খেলোয়াড়ের যাতায়াত ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।   তবে বিষয়টি সামনে আসার পর ইউরোপীয় ক্রীড়ামাধ্যমগুলোতে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে খেলোয়াড়দের পূর্ণ মনোযোগ দলের ওপর থাকা উচিত। তাদের মতে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ক্যাম্প ত্যাগ করা দলীয় প্রস্তুতি ও মনোসংযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   অন্যদিকে ডোকুর সমর্থকেরা বলছেন, সন্তানের জন্ম একজন মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্বকেও ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্তকে অনেকেই মানবিক ও স্বাভাবিক বলে মনে করছেন।   ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-এর এক টেলিভিশন আলোচনায় ডোকুর সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। সেখানে মন্তব্য করা হয়, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।   এরপর অসংখ্য ফুটবল সমর্থক ডোকুর পক্ষে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, একজন খেলোয়াড়ের পেশাদার পরিচয়ের পাশাপাশি তার পারিবারিক দায়িত্বও রয়েছে, যা অস্বীকার করা যায় না।   ডোকু বেলজিয়ামের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ছিলেন এবং ৮৬ মিনিট পর্যন্ত খেলেন। তবে পারিবারিক কারণে সাময়িক অনুপস্থিতির ফলে ইরানের বিপক্ষে দলের পরবর্তী ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   ডোকুর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চলমান আলোচনা বিশ্বকাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে পেশাদার ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ছন্দহীন লুকাকুকে নিয়েই বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দল, নতুন মুখ পার্দো

ছন্দে না থাকলেও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। কোচ রুডি গার্সিয়া বিশ্বাস করছেন, বড় মঞ্চে নিজের সেরা খেলাই তুলে ধরতে পারবেন এই ফরোয়ার্ড।   ৩৩ বছর বয়সী লুকাকু চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে গত দুই মাস আগে ফিরলেও নিয়মিত একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না। চলতি মৌসুমে ন্যাপোলির হয়ে সাতটি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মোট ৬৯ মিনিট খেলেছেন তিনি।   তবে কোচ গার্সিয়া লুকাকুকে নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “রুমেলু চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছে। সে এখন ছন্দে নেই। বিশ্বকাপে শুরু থেকে খেলানো হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সে আমাদের সেরা স্ট্রাইকার। সামনে সময় আছে, আশা করছি সে ফিট হয়ে উঠবে এবং ছন্দ ফিরে পাবে।”   দলে চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো। লিলের এই ফরোয়ার্ড আগে স্পেনের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেললেও এবার বেলজিয়ামের জার্সিতে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন।   অভিজ্ঞদের মধ্যে কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কোর্তোয়া ও জেরেমি ডকুর ওপর ভরসা রেখেছেন কোচ। আগামী ১৫ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বেলজিয়াম। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভ্যাঙ্কুভারে।   বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দল: গোলরক্ষক: থিবো কোর্তোয়া, সেনে ল্যামেন্স, মাইক পেন্ডার্স। ডিফেন্ডার: টিমোথি কাস্তানিয়া, জেনো ডেবাস্ট, ম্যাক্সিম ডি কুইপার, কোনি ডি উইন্টার, ব্র্যান্ডন মেচেলে, থমাস মুনিয়ের, নাথান এনগয়, জোয়াকিন সেস, আর্থার থিয়েট। মিডফিল্ডার: কেভিন ডি ব্রুইনা, আমাদু ওনানা, নিকোলাস রাস্কিন, ইউরি তিয়েলেমানস, হান্স ভানাকেন, অ্যাক্সেল উইটসেল। ফরোয়ার্ড: চার্লস ডি কেটেলিয়ার, জেরেমি ডকু, মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো, রোমেলু লুকাকু, ডোডি লুকেবাকিও, ডিয়েগো মোরেরা, অ্যালেক্সিস সেলেমেকার্স, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড।

Unknown মে ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০