সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

বিশ্বকাপের মাঝপথে পরিবারকে বেছে নেওয়া ডোকু, ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৪:২৭
উইঙ্গার জেরেমি ডোকু l ছবি: সংগৃহীত
উইঙ্গার জেরেমি ডোকু l ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের মাঝপথে বেলজিয়ামের তারকা উইঙ্গার জেরেমি ডোকুর একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য তিনি সাময়িকভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন, যা নিয়ে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।

 

বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনের অনুমতি নিয়েই ডোকু স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাম্প ত্যাগ করেন। ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, খেলোয়াড়ের যাতায়াত ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

 

তবে বিষয়টি সামনে আসার পর ইউরোপীয় ক্রীড়ামাধ্যমগুলোতে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে খেলোয়াড়দের পূর্ণ মনোযোগ দলের ওপর থাকা উচিত। তাদের মতে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ক্যাম্প ত্যাগ করা দলীয় প্রস্তুতি ও মনোসংযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

অন্যদিকে ডোকুর সমর্থকেরা বলছেন, সন্তানের জন্ম একজন মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্বকেও ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্তকে অনেকেই মানবিক ও স্বাভাবিক বলে মনে করছেন।

 

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-এর এক টেলিভিশন আলোচনায় ডোকুর সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। সেখানে মন্তব্য করা হয়, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

 

এরপর অসংখ্য ফুটবল সমর্থক ডোকুর পক্ষে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, একজন খেলোয়াড়ের পেশাদার পরিচয়ের পাশাপাশি তার পারিবারিক দায়িত্বও রয়েছে, যা অস্বীকার করা যায় না।

 

ডোকু বেলজিয়ামের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ছিলেন এবং ৮৬ মিনিট পর্যন্ত খেলেন। তবে পারিবারিক কারণে সাময়িক অনুপস্থিতির ফলে ইরানের বিপক্ষে দলের পরবর্তী ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

ডোকুর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চলমান আলোচনা বিশ্বকাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে পেশাদার ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে—সিলিকন ভ্যালিতে চলমান এমন উদ্বেগ ও জল্পনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।   সম্প্রতি সিবিএস নিউজের সাংবাদিক জো লিং কেন্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এআই সংক্রান্ত সব ‘ডুমসডে ন্যারেটিভ’ বা বিশ্ব ধ্বংসের তত্ত্বকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। হুয়াং জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের কারণে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই এবং এর সম্ভাবনা একেবারে শূন্য শতাংশ। তিনি আরও যোগ করেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া অকারণে মানুষকে ভয় দেখানো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।   সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি ভাইরাল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের পর। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই ডেভেলপাররা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং দায়িত্বহীনভাবে সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার শামিল।   তাঁর এমন আশঙ্কার পর অ্যানথ্রপিক সিইও দারিও আমোদেউ এবং ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানসহ বেশ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা এআইয়ের উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানান। তবে জেনসেন হুয়াং এই ধরনের নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীকে ‘বিজ্ঞানসম্মত নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান এআই বিপ্লবে এনভিডিয়া অন্যতম প্রধান অংশীদার, যারা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ প্রায় সব বড় কোম্পানিকে তাদের মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহ করে থাকে।   এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো নীতিমালার বা ‘গার্ডরেইল’-এর প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতের সাথে সুর মিলিয়ে জানান যে, বর্তমান মার্কিন আইনই যথেষ্ট। সাইবার নিরাপত্তা, পণ্যের দায়বদ্ধতা এবং অননুমোদিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেই এআই খাতকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।   এনভিডিয়া সিইওর মতে, বিশ্ব ধ্বংসের মতো কাল্পনিক গল্পের দোহাই দিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করে তাদের বর্তমান আইনি কাঠামোর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:২১
ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে ঘিরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ইমরান খানের বোনকে গ্রে প্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের আগে পাকিস্তানে উত্তেজনা

যুদ্ধের ধাক্কায় ইরানে পেট্রল সংকট, স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি

পেট্রল সংকটে বিপর্যস্ত ইরান, দাম দ্বিগুণের পথে: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইতালি সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব-বোরকা, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সীমিত করার পরিকল্পনা

মুম্বাইয়ের কোলাবার ১০৮ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ক্যাফে অলিম্পিয়া কফি হাউস। ছবি: সংগৃহীত
ক্রিস্টোফার নোলান সহ সেলিব্রেটিদের যাওয়া মুম্বাইয়ের ক্যাফেতে মিলল তেলাপোকা! লাইসেন্স বাতিল

মুম্বাইয়ের কোলাবার ১০৮ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ক্যাফে অলিম্পিয়া কফি হাউসের খাবারের লাইসেন্স স্থগিত করেছে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। ১৬ সেপ্টেম্বর ভোক্তার অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তারা ক্যাফেটিতে তেলাপোকা ও মাছির উপদ্রব, মেঝেতে সরাসরি খাবার রাখাসহ গুরুতর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিয়ম দেখতে পান।   এফডিএর পরিদর্শন প্রতিবেদনের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্যাফেটির খাবার সংরক্ষণের জায়গার ভেতরেই একটি ইউরিনাল পাওয়া যায়। রান্না ও বাসন ধোয়ার জায়গার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও আপত্তিকর পরিস্থিতি দেখা যায়। একই সঙ্গে অপরিষ্কার পানি ব্যবহারের অভিযোগ এবং খাবার সরাসরি মেঝেতে রেখে বা মেঝের ওপর পরিচালনা করার বিষয়ও পরিদর্শনে উঠে আসে।   পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, ক্যাফেটির একটি রেফ্রিজারেটরে মাংসের রক্তের অবশিষ্টাংশ ছিল। কাঁচা নিরামিষ ও আমিষ খাবার যথাযথভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়নি। কিছু কাঠের কাটিং বোর্ডও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে। খাবার পরিবেশন ও প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা পোশাক না থাকার বিষয়টিও এফডিএর নজরে আসে।   কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিয়েও গুরুতর ঘাটতি পাওয়া গেছে। পরিদর্শনের সময় ৩৫ জন খাবারকর্মীর মধ্যে ৩৪ জনের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের সনদ ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি পরীক্ষার বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন এবং পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিও কর্তৃপক্ষকে দেখাতে পারেনি ক্যাফেটি।   এই পরিস্থিতিতে এফডিএ তাৎক্ষণিকভাবে অলিম্পিয়া কফি হাউসের খাদ্য লাইসেন্স স্থগিত করে। লাইসেন্স স্থগিত থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে খাবার কেনা, প্রস্তুত করা, সংরক্ষণ, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিগুলো সংশোধন করে পুনরায় পরিদর্শনে সন্তোষজনক ফল পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ক্যাফেটির দীর্ঘ ইতিহাস ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে। ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত অলিম্পিয়া কফি হাউস মুম্বাইয়ের কোলাবা এলাকার পুরোনো খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। চা, বান মাসকা ও মুঘলাই খাবারের জন্য পরিচিত এই ক্যাফে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।   চলতি বছরের জুলাইয়ে হলিউড অভিনেতা ম্যাট ডেমন ও টম হল্যান্ড এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান মুম্বাই সফরের সময় এই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন। তাদের সেখানে চা ও স্থানীয় খাবার খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঐতিহাসিক ক্যাফেটি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে। তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স স্থগিতের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   মহারাষ্ট্র এফডিএ সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাদ্য প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাইয়ে অভিযান জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অলিম্পিয়া কফি হাউসের ক্ষেত্রেও ত্রুটি সংশোধন ও পুনঃপরিদর্শনের ফলাফলের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১১:১৮
দুবাইয়ের একটি মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের ভঙ্গি অনুসরণ করছে মানবাকৃতির রোবট ‘বু সুনাইদাহ’। ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ের মসজিদে আযান ও নামাজ পরাচ্ছে রোবট, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও সীমা

ইউক্রেনের ড্রোন হা ম লার পর মস্কোর একটি তেল শো ধ না গার থেকে ধোঁয়া উঠছে

মস্কোতে ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হা ম লা, এক রাতে উড়ল হাজারের বেশি ড্রোন

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি শর্ত পাঠানো ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের তিন শর্তে যুদ্ধ বন্ধের বার্তা, ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় তেহরান

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি শর্ত জানিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, কাতারের মাধ্যমে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।   আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের কাছেও আলোচনায় বসার জন্য তেহরানের শর্তগুলো জানানো হয়েছে।   ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তেহরানের পক্ষ থেকে এসব শর্ত পূরণকেই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   রেজাই বলেন, ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই হবে। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের হুমকি দিয়ে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান দীর্ঘস্থায়ী বা চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।   ইরানের এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতাগুলো তেহরানের জানা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন বিমান হামলা মোকাবিলার জন্য ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত।   সাক্ষাৎকারে রেজাই সাম্প্রতিক একটি সামরিক পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে ইরান জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।   রেজাই সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থের ওপর আরও শক্তিশালীভাবে আঘাত হানবে। তার বক্তব্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাই উঠে এসেছে।   এদিকে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান নয়, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধও শেষ করার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। রেজাই বলেন, তেহরান ওই সংঘাতের অবসান চায়।   রেজাইয়ের দাবি, হুথিরাও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর বিষয়টিও ইরানের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।   কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে রেজাই বলেন, আলোচনার জন্য ইরানের অবস্থান ও শর্ত তাদের জানানো হয়েছে। এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   এখন তেহরানের দৃষ্টি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার দিকে। ইরানের দেওয়া শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান যোগাযোগের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের জবাবের ওপর।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৩:২৬
ফ্রান্সে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত বাংলাদেশি দম্পতির দুই বছর বয়সী শিশু নাহিল। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে গ্যাস বিস্ফোরণে বাংলাদেশি শিশু নাহিল নিহত, আহত ৭

বিয়ের বড় অংকের বাজেট ও ঋণ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে পড়েছেন এক যুবক। ছবি: সংগৃহীত

বিয়েতে ৫০ লাখ রুপি খরচের দাবি, ৪৫ লাখ ঋণ নেওয়ার পরামর্শে বিপাকে যুবক

স্ত্রীর জন্য নতুন আইফোন ১৮ প্রো কিনতে সোনা বিক্রি করা দিল্লির সেই ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

'আজ টাকা আছে, আগে ছিল না', স্ত্রীর জন্য আইফোন ১৮ প্রো কিনতে স্বর্ণ বিক্রি

0 Comments