বিশ্ববাজার

ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানির দামে স্বস্তি দিতে দুই মাস কর কমাবে জার্মানি

যুদ্ধের প্রভাবে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দামের চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আগামী দুই মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ের জন্য প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট (প্রায় ০.২০ ডলার) কর কমানো হবে।   সিডিইউ দল ও জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জার্মান চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা যে চাপের মুখে পড়েছেন, তা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এর প্রভাব ইউরোপের দেশগুলোতেও পড়েছে, যার ফলে সরকারগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু, স্বস্তিতে বিশ্ববাজার

দীর্ঘ উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সুযোগে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পুনরায় জ্বালানি তেলবাহী বিশালাকার ট্যাংকার চলাচল শুরু হয়েছে। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে রোববার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম এই ‘চোক পয়েন্ট’ বা সংকীর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন স্থবির হয়ে পড়া কয়েকশ ট্যাংকারের মধ্যে অন্তত তিনটি সুপারট্যাংকার ইতোমধ্যে এই এলাকা অতিক্রম করেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (LSEG) তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ও চীনের পতাকাবাহী তিনটি ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ (VLCC) শনিবার হরমুজ প্রণালীর ট্রায়াল অ্যাঙ্করেজ এলাকা পার হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘সেরিফস’ এবং চীনের ‘কসপিয়ার্ল লেক’ ও ‘হে রং হাই’। এর প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে ইরাকি তেল নিয়ে ‘ওশান থান্ডার’ নামক আরেকটি ট্যাংকার সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করার পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। বর্তমানে অন্তত তিনটি খালি জাহাজ তেল লোড করার জন্য পারস্য উপসাগরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে ইসলামাবাদে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কোনো রফাসূত্র ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের প্রস্তাব দিলেও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা (IMO) এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রবাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি–তে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।   শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ০.৮৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।   আল জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।   এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তারা ‘খুব খারাপ কাজ’ করছে। পাশাপাশি জাহাজ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের চেষ্টা করলে তা বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।   এদিকে সাম্প্রতিক হামলার কারণে সৌদি আরব–এর তেল উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সূত্র জানায়, হামলার ফলে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনও দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দর। সব রেকর্ড ছাড়িয়ে দেশটিতে বর্তমানে প্রতি গ্যালন রেগুলার গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪.১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।  অথচ ইরান যুদ্ধের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর খবরে বুধবার তেলের দাম ব্যাপক কমেছিল। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA)-এর তথ্যমতে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই-এর দাম বুধবার ১৬.৪% এবং গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ১৩.৩% হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এর সুফল মিলছে না। উল্টো বৃহস্পতিবার থেকে তেলের দাম আবারও কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে, কারণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর আসতে আরও সময় লাগবে। যদিও খুচরা বাজারে দাম দিনে এক-দুই সেন্ট করে কমতে পারে, তবে গড় দাম ৪ ডলারের নিচে নামতে অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। আর যুদ্ধপূর্ববর্তী ৩ ডলারের নিচে ফিরতে সময় লেগে যেতে পারে কয়েকমাস। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে তেলের দাম গ্যালন প্রতি ১.১৮ ডলার বা প্রায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীতv
ট্রাম্পের ‘ইরান হুঙ্কার’ ও ফেড রিজার্ভের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন!

দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ইস্যুতে দেওয়া আক্রমণাত্মক বক্তব্য এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ কর্তৃক সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ হঠাৎ করেই কমে গেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মাত্র এক দিনেই স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২.৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬২২.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তা দ্রুত নিম্নমুখী হয়। এক বিশেষ ভাষণে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসী হামলা চালিয়ে যাবে এবং দেশটি তাদের ‘প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জনের পথে রয়েছে। এই বক্তব্যে যুদ্ধ থামার আশা করা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করলে টানা চার দিনের দরবৃদ্ধির প্রবণতা থমকে যায়। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার ৩.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমেছে।   স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মন্দা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ৫.৪ শতাংশ কমে ৭১.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৩.১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববাজারে দাম কমায় ভারতের বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বাড়লেও, চীনের ক্রেতারা দাম আরও কমার অপেক্ষায় থাকায় সেখানে কেনাবেচায় ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। মূলত ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
৪ ডলারের গণ্ডি পাড়, জ্বালানির দামে নতুন রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ট্রিপল এ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন রেগুলার পেট্রোলের গড় দাম ৫ সেন্ট বেড়ে এখন ৪.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে একদিনে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ উল্লম্ফন। ২০২২ সালের পর এই প্রথম তেলের দাম ৪ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল। গত এক সপ্তাহে দামের সামান্য উঠানামা থাকলেও এখন তা স্থিতিশীলভাবে ঊর্ধ্বমুখী। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গ্যালন প্রতি দাম বেড়েছে ১.০৮ ডলার।  বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৫ সালের হারিকেন ক্যাটরিনা কিংবা ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়ও এক মাসে এতো দ্রুত দাম বাড়তে দেখা যায়নি। মূলত ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হতে পারে, তবুও ইরানের পক্ষ থেকে  দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের প্রস্তুতির আভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা কাটছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পের এক বার্তায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি: তেলের দামে বড় পতন, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শেয়ারবাজার

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ কি তবে কাটতে শুরু করেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি থেকে সরে এসে ট্রাম্প 'গঠনমূলক আলোচনার' কথা জানানোর পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নাটকীয় পতন ঘটেছে। একই সাথে পতনমুখী পুঁজিবাজারেও দেখা দিয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, চিরবৈরী দুই দেশ একটি 'সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক' সমাধানের পথে এগোচ্ছে। যদিও ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এই আলোচনার দাবি অস্বীকার করে একে 'ভুয়া খবর' বলে অভিহিত করেছে, কিন্তু বাজারের অস্থিরতা কমাতে ট্রাম্পের এই মন্তব্যই যথেষ্ট ছিল। তেলের বাজারে বড় ধস, চাঙ্গা শেয়ারবাজার ট্রাম্পের বিবৃতির আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৩ ডলারে উঠে গেলেও, আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত নেমে ৯৬ ডলারে পৌঁছায়। তেলের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে, যার প্রভাব পড়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার শেয়ারবাজারে। লন্ডনের এফটিএসই-১০০, জার্মানির ডিএএক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে দিন শেষ করেছে। তবে এশিয়ার বাজারগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যের আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচকে বড় ধরনের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ট্রাম্প আগে হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই পথ খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো 'নিশ্চিহ্ন' করে দেওয়া হবে। তবে সোমবার তিনি জানান, আলোচনার স্বার্থে আগামী ৫ দিন কোনো হামলা চালানো হবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ ১৯৭০-এর দশকের পর বিশ্বকে সবথেকে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে, বাজার বিশ্লেষক সুজানা স্ট্রিটার মনে করেন, ট্রাম্পের কথার ওপর পুরোপুরি ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বিঘ্নিত থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের জন্য জ্বালানি খরচ আগামীতে একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়েই থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
স্বর্ণের দাম কমেছে। সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে ৪ মাসের সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম: একদিনেই ২ শতাংশের বেশি দরপতন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রলয়ঙ্করী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। সোমবার (২৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম একদিনেই ২ শতাংশের বেশি কমে চার মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ২.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা নবম দিনের মতো মূল্যবান এই ধাতুটির দরপতন ঘটল, যেখানে গত এক সপ্তাহেই দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের চেয়ে অন্যান্য খাতে আগ্রহী করে তুলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এহেন উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও ত্বরান্বিত করছে।   স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। রুপার দাম ৩.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫.৬১ ডলারে এবং প্লাটিনামের দাম ২.৯ শতাংশ কমে ১,৮৬৬.৬৫ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এশিয়ার শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের বাজারে এই দরপতন ও অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও কি মার্কিন অর্থনীতি সুরক্ষিত?
বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও কি মার্কিন অর্থনীতি সুরক্ষিত?

ইরান ও ইসরায়েল পরিস্থিতির উত্তাপে যখন বিশ্ববাজার অস্থির, তখন মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথা শোনালেন লন্ডনভিত্তিক মার্চেন্ট ব্যাংক ব্রিক ম্যাকডামের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার গ্রেগ সোয়েনসন।  আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বিপুল উৎপাদনের কারণে বড় ধরনের কোনো সংকটে পড়ার আশঙ্কা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ। বর্তমানে দেশটিতে দৈনিক ১৩.৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। সোয়েনসন মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম এখন প্রতি গ্যালন প্রায় ৩.৭০ ডলার, যা ২০২২ সালের ৪ ডলারের তুলনায় বেশ কম।  ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি খুব একটা উদ্বেগজনক মনে করছেন না। মূলত অভ্যন্তরীণভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রিত থাকায় এবং তেলের উচ্চ উৎপাদন থাকায় বৈশ্বিক চাপ মার্কিন অর্থনীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলেই তার বিশ্বাস।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী: তেলের দাম ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বৃহস্পতিবার জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। এ মন্তব্য তিনি এমন সময়ে করলেন যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত তীব্র হতে পারে, যা তেলের বাজারকে অস্থির করতে পারে।'   রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আমাদের এখন মনোযোগ সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং সমস্যার সমাধানের দিকে বেশি।”   এর আগে বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনী খাতামুল আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   এছাড়া ক্রিস রাইট আরেকটি সাক্ষাত্কারে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজ পারাপারে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারছে না, তবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ এটি সম্ভব হওয়ার “বেশ সম্ভাবনা” রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় এই জলপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ববাজারের তেল ও শেয়ারবাজারকে আরও অস্থির করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
জ্বালানি বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব: ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে ব্যারেল প্রতি মূল্য

বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের বাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংকটের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব। জ্বালানি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান আমেনা বকর একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে মার্চের শেষ নাগাদ অপরিশোধিত তেলের দাম অনায়াসেই ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। যদিও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে তেলের দাম সাময়িকভাবে ১০০ ডলারের নিচে নেমেছিল, তবে আমেনা বকর এই স্বস্তিকে দীর্ঘস্থায়ী বলে মনে করছেন না। তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল রপ্তানিকারক দেশ ইতিমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী প্রণালীতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে সহায়তার ঘোষণা দিলেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরছে না। আমেনা বকরের মতে, শুধুমাত্র ট্রাম্পের আশ্বাস শুনে রাতারাতি কেউ নিজেদের জাহাজকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাইছে না। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে চাপ, রোববার থেকে রেশনিংয়ে তেল বিক্রির ঘোষণা

বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার প্রভাব এসে পড়েছে দেশেও। রাজধানীজুড়ে পেট্রোল পাম্পে বাড়ছে ভিড়, দেখা দিচ্ছে উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির সংকট এড়াতে আগামী রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।     শুক্রবার রাজধানীর পরীবাগের একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় মজুত ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।     সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত ঘিরে ত্রিমুখী উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এরই প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।     প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তেলের দাম যেন হঠাৎ করে না বাড়ে সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি দেখা হতে পারে।     এই পরিস্থিতিতে অনেকের প্রশ্ন—রেশনিং পদ্ধতি চালু হলে কীভাবে তেল বিক্রি হবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে?

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নীতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে দাম বাড়ার গতি কিছুটা সীমিত রয়েছে। খবর রয়টার্স।   বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,১৬৮ দশমিক ৪৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারসের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৫,১৭৯ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়ায়।   এদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের পণ্যবাজার বিশ্লেষক হামাদ হুসেইন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে দীর্ঘ সময় জ্বালানি পণ্যের উচ্চমূল্য বজায় থাকলে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। এতে স্বর্ণের দামের বড় ধরনের উত্থান সীমিত থাকতে পারে।   বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রভাবে মার্কিন ডলারের মানও বেড়েছে। তিন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমে এলেও বৃহস্পতিবার ডলার সূচক প্রায় দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।   অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বাড়ছে, যা মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা কম থাকে, কারণ এটি সুদবিহীন সম্পদ।   এদিকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর কেভিন ওয়ারশকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন।   একই দিন ফেডারেল রিজার্ভের প্রকাশিত ‘বেইজ বুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে পণ্যের দাম বাড়ছে এবং শ্রমবাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।   বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী ১৮ মার্চের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। এ তথ্য জানিয়েছে সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল।   এদিকে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক বেকার ভাতা দাবির তথ্য এবং ফেব্রুয়ারির কর্মসংস্থান প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করছেন। এসব তথ্য চলতি বছরে সুদের হার নীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।   অন্যদিকে ধাতব বাজারে স্পট সিলভারের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৩ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২,১৭২ দশমিক ২০ ডলারে উঠেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১,৬৬২ দশমিক ৭ ডলারে নেমে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কাতারের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ, গ্যাসের দামে বড় লাফ

ইরানের হামলার পর কাতারের প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাবে ইউরোপীয় ও ব্রিটিশ পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এলএনজি আমদানির প্রতিযোগিতা নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   আইসিইর (ICE) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের প্রধান বাজার সূচক ডাচ টিটিএফ (TTF) হাবে ফ্রন্ট-মাস চুক্তিতে গ্যাসের দাম মেগাওয়াট প্রতি ঘণ্টায় ১৪.৫৬ ইউরো বেড়ে ৪৬.৫২ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা দিনের শুরুর তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। দিনের শুরুতে দাম ২৫ শতাংশ বাড়লেও কাতারের উৎপাদন স্থগিতের খবরে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়। ব্রিটিশ বাজারেও এপ্রিল মাসের চুক্তিতে গ্যাসের দাম প্রায় ৪০.৮৩ পেন্স বেড়ে প্রতি থার্ম ১১৯.৪০ পেন্সে পৌঁছেছে।   জ্বালানি গবেষণা সংস্থা উড ম্যাকেঞ্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসিমো ডি ওডোআদো বলেন, এলএনজি প্রবাহে এ ধরনের বিঘ্ন ঘটলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে কার্গো আমদানির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই এশীয় বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, এশীয় এলএনজি বেঞ্চমার্ক জে-কে-এম (JKM) সূচকে গ্যাসের দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫.০৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আইসিইর পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন সতর্ক করে বলেন, কাতারি এলএনজি সরবরাহের ঘাটতি দীর্ঘ সময় চললে টিটিএফ হাবে গ্যাসের দাম মেগাওয়াট প্রতি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ ইউরো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সংগৃহীত ছবি
স্বর্ণের দামে বড় লাফ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করে। এই দামেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।   বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0