সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড থাকলেও উপায় নেই: ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৪, ২০২৬ ০:৩৩
ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার
ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারী এক ইরানি পরিবারকে স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে তুরস্কে চলে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। পরিবারটির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ না থাকলেও, ১৯৭৯ সালের তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের অন্যতম আলোচিত মুখ মাসুমেহ এবতেকারের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের আটক রাখা হয়েছে বলে আদালতের নথি ও আইনজীবীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইয়্যেদ ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী মরিয়ম তাহমাসেবি এবং তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে গত এপ্রিল থেকে টেক্সাসের আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে রয়েছেন। তারা নিজেদের খরচে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

ঈসা হাশেমি হলেন মাসুমেহ এবতেকারের ছেলে। ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলকারী শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার মুখপাত্র ছিলেন এবতেকার। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে তিনি “স্ক্রিমিং মেরি” নামে পরিচিতি পান। পরে তিনি ইরানের সরকারের পরিবেশবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

 

পরিবারটির আইনজীবীরা জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত এপ্রিল মাসে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে হাশেমি, তার স্ত্রী এবং ছেলের গ্রিন কার্ড বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ, সহিংস কর্মকাণ্ড বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়নি। সরকারের মামলা মূলত হাশেমির মায়ের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

 

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, হাশেমি পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হয়েছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, “যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকে, তাহলে তার গ্রিন কার্ড বাতিল করা হবে।”

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারটি ইরানে ফিরতে চায় না। তাদের দাবি, সেখানে ফিরে গেলে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে তারা নিজেদের খরচে তুরস্কে চলে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু ডিএইচএস সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তে বহিষ্কারের আদেশের সঙ্গে আটক অব্যাহত রাখার অবস্থান নেয়।

 

পরিবারটির আইনজীবী মারিয়া কারি বলেন, এই পরিবার বহু বছর ধরেই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করে এসেছে। তাই ইরানে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

 

মরিয়ম তাহমাসেবি ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস পিয়ার্স কলেজের মনোবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল তিনি ক্লাস নেওয়ার সময় জানতে পারেন, তার স্বামীকে আইসিই আটক করেছে। পরে তাকেও এবং তাদের ছেলেকেও আটক করা হয়।

 

আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাশেমি শিকাগো স্কুল অব প্রফেশনাল সাইকোলজি থেকে অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং সেখানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।

 

পরিবারটির আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে তিনজনই উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন। বিশেষ করে তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে, যে জীবনের বেশিরভাগ সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় কাটিয়েছে এবং কেবল ইংরেজিতে কথা বলতে পারে, সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের দাবি, পূর্বপুরুষের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একটি কিশোরকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়।

 

বর্তমানে পরিবারটির মামলা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা আইসিইর হেফাজতেই থাকবেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডলারের নোটে ফুটে উঠেছে আমেরিকান স্বপ্নের ব্যয়ের হিসাব
‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে চাই ৫৩ লাখ ডলার! আপনার আয় কি সেই পথে হাঁটছে?

যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ বা স্বপ্নের জীবন গড়তে একজন মানুষের জীবদ্দশায় খরচ হতে পারে প্রায় ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। নিজের বাড়ি, দুটি নতুন গাড়ি, দুই সন্তানকে বড় করা ও কলেজে পড়ানো, অবসরজীবন, চিকিৎসা, বিয়ে, পোষা প্রাণী এবং প্রতিবছর ছুটি কাটানোর মতো বিষয়গুলো হিসাব করলে এই বিপুল অঙ্ক দাঁড়ায়। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের জীবন গড়ার ব্যয় গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন ও মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে ভালো চাকরি, নিজের বাড়ি, পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবন এবং আর্থিক নিরাপত্তার যে স্বপ্ন বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর সময় দেখেন, তা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ‘আমেরিকান ড্রিম’ ধারণাটি নতুন নয়। ১৯৩১ সালে লেখক জেমস ট্রাসলো অ্যাডামস তাঁর ‘এপিক অব আমেরিকা’ বইয়ে এমন একটি দেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছিলেন, যেখানে সবার জীবন আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকবে। সময়ের সঙ্গে ধারণাটির অর্থ বিস্তৃত হয়েছে। অনেকের কাছে এর মানে স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার, আবার অনেকের কাছে আর্থিক নিরাপত্তা, ভালো চাকরি এবং নিজের বাড়ির মালিক হওয়া। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে অর্জন করা যাবে কি না, তা নিয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাস কমছে। ২০২৬ সালের এক গ্যালাপ জরিপে ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান ড্রিম অর্জন করতে পারবেন বলে মনে করেন। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরে আত্মবিশ্বাস কমেছে চার শতাংশ পয়েন্ট। যদিও অধিকাংশ মানুষ এখনো এই স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। জীবনভর ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বাড়ির মালিক হতে। বাড়ি কেনা, ঋণের সুদ, সম্পত্তি কর, বিমা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮২ ডলার। একটি একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম মূল্য ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি। ৩০ বছরের গৃহঋণের সুদের হার গড়ে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ ধরে হিসাব করা হয়েছে এই ব্যয়। ঋণের মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধেই প্রায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার ডলার লাগতে পারে। এর সঙ্গে কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যুক্ত হবে আরও প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ডলার। দুটি নতুন গাড়ি কেনা ও দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ব্যয়ও কম নয়। গাড়ির ঋণ, বিমা, মেরামত, নিবন্ধন ও জ্বালানি মিলিয়ে জীবদ্দশায় খরচ হতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ ডলার। নতুন গাড়ির গড় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। বছরে ১৫ হাজার মাইল গাড়ি চালানোর ব্যয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত। অবসরজীবনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে আরও প্রায় ১২ লাখ ৫ হাজার ১১৯ ডলার। বাড়ির ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে—এমন একটি বিবাহিত দম্পতির অবসরের পর ২০ বছরের স্বচ্ছল জীবনযাপনের ব্যয় ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। দুই সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন এবং পরে কলেজে পড়ানোর জন্য প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই খরচ বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। ব্যয়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছে শিশুদের যত্ন নেওয়া। কেন্দ্রে শিশুদের দেখাশোনার জন্য বছরে প্রতি শিশুর পেছনে গড়ে ১৩ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে। এর বাইরে অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের পড়াশোনার জন্য হিসাব করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। চিকিৎসার জন্য ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবারের নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭১ ডলার। আটটি খাতের মধ্যে কেবল চিকিৎসাব্যয়েই গত বছরের তুলনায় সামান্য হ্রাস দেখা গেছে। এ ছাড়া ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবছর একটি করে ছুটি কাটানোর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৯ ডলার। একটি কুকুর ও একটি বিড়াল পালনে খাবার, চিকিৎসা ও বিমাসহ আজীবন খরচ হতে পারে প্রায় ৪০ হাজার ৭৭২ ডলার। আর বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ৮০০ ডলার। এত ব্যয়ের বিপরীতে একজন কর্মজীবী মানুষের আয় কতটা যথেষ্ট? বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী একজন পূর্ণকালীন কর্মী ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে মধ্যম হিসাবে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার আয় করতে পারেন। এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গড়ে ২০ বছরের সুবিধা যোগ করলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১ লাখ ডলার। তবুও আমেরিকান ড্রিমের আনুমানিক ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ১২ লাখ ডলার। এই হিসাব সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। বসবাসের জায়গা, আয়, পরিবারের আকার, শিক্ষা, অবসরের পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ব্যয় অনেকটা বদলে যেতে পারে। তালিকার সব খরচও প্রত্যেক মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবু বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, সন্তানদের শিক্ষা, গাড়ি ও অবসরজীবনের মতো বড় ব্যয় সামলানোর চাপ স্পষ্ট করে। বেতন বৃদ্ধির চেয়ে জীবনযাপনের খরচ দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেকের জন্য স্বপ্নের জীবন গড়তে শুধু নিয়মিত চাকরি ও দীর্ঘ কর্মজীবনের আয় যথেষ্ট নাও হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৬:১৫
চিকিৎসা পেশায় উচ্চ আয় ও আর্থিক স্বাধীনতার পথে তরুণী

মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন ৩০ বছর বয়সী নারী

নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন

নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনেও তথ্য গোপনের অভিযোগ, ১৫ বছর পর আইনি চ্যালেঞ্জে মার্কিন নাগরিকত্ব

নিউইয়র্কের ববি নামে এক বৃদ্ধ

দই ভেবে প্রায় আধা লিটার রং খেলেন নিউইয়র্কের ৯০ বছরের বৃদ্ধ

নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় আগের পরিচয় ও অভিবাসন-ইতিহাস গোপনের অভিযোগে শিকাগোর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১৫ বছর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, হতে পারে বহিষ্কারও

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন শিকাগোর এক ব্যক্তি। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগের পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে তিনি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। এ অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে মামলা করেছে মার্কিন সরকার। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করেছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের করা মামলায় বলা হয়েছে, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন নাগরিকত্বের শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। কিন্তু তার অভিবাসন-ইতিহাসে এর আগে অন্য পরিচয় ব্যবহারের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, তিনি আগে ‘ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো’ নাম ব্যবহার করেছিলেন এবং ওই পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল। এসব তথ্য পরবর্তী অভিবাসন আবেদন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সরকারের।   মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে আগের পরিচয়ে আকিনকুনমির গ্রিন কার্ডের মর্যাদা পরিত্যক্ত হয়েছিল এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে দেশটির অভিবাসন আপিল বোর্ড ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আকিনকুনমি নাম ব্যবহার করে নতুন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করেন এবং এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার বিষয়টিও জানাননি। ২০০০ সালে তার ওই আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে।   ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি আগের পরিচয় ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা প্রবেশে বাধার আদেশ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভাষ্য, এসব তথ্য সত্য হলে তিনি আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নিয়েছিলেন। এ কারণে তার নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মামলায় আকিনকুনমির পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম নথিভুক্ত ছিল না বলে নিউজউইক জানিয়েছে। তার পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   আকিনকুনমির বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের নাগরিকত্ব বাতিলের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫ অক্টোবর জানায়, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, প্রতারণা কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’। দেশটির আইনে, কেউ বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেলে অথবা নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। তবে শুধু কোনো ভুল তথ্য পাওয়া গেলেই নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। ২০১৭ সালে ‘মাসলেনজাক বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বেআইনি কাজ বা মিথ্যা তথ্যের বাস্তব প্রভাব থাকতে হবে। অর্থাৎ, তথ্যটি এমন হতে হবে, যা নাগরিকত্ব পাওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।   ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ১১টি এ ধরনের মামলা করেছিল ফেডারেল সরকার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে বছরে গড়ে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। বর্তমান প্রশাসন আরও বেশি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রতিটি মামলায় সরকারের অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা যায় না। আকিনকুনমির ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত রায় হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২৩:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারী হিসেবে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন চাবেলি রদ্রিগেজ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় ৩০ বছর বয়সী নারীর

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচার সাক্ষাতকে কেন্দ্র করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সতর্ক করেছে শিকাগো পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচার নামে ছিনতাই, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পুলিশের সতর্কতা জারি

স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্ভরযোগ্যতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির অধ্যাপক মারজিয়েহ ঘাসেমি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সংখ্যালঘু রোগীদের চিকিৎসায় বৈষম্য কমাতে এআই নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির ইরানি বংশোদ্ভূত অধ্যাপক

মার্কিন কংগ্রেসে ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলার করার প্রস্তাব নিয়ে শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার করার উদ্যোগ, বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পর্যায়ে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলার করার একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে আটকে আছে। ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’ নামে এ বিলটি পাস হলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে প্রস্তাবটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে শুনানির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। চলতি কংগ্রেসের অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে অগ্রগতি না হলে এর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।   ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি উত্থাপন করেন। এর নম্বর এইচআর ৮৫৫৫। প্রস্তাব অনুযায়ী, বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০৩১ সালের মধ্যে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সব প্রতিষ্ঠানের ওপর একসঙ্গে বাড়তি মজুরির চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট। ২০০৯ সালের পর থেকে এ হার বাড়ানো হয়নি। যদিও দেশটির বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার ফেডারেল হারের চেয়ে বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে, তবু জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। বিলটির সমর্থকদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে অনেক কর্মীর পক্ষে বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।   রামিরেজ বিলটি উত্থাপনের সময় বলেন, একদিকে বড় কোম্পানিগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার কথা জানাচ্ছে, অন্যদিকে অনেক কর্মজীবী মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর মতে, শুধু চাকরি থাকলেই চলবে না, সেই চাকরি থেকে পাওয়া আয় দিয়ে মৌলিক চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির মধ্যে ব্যবধান কমানোই এ প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য।   বিলে বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বলতে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয় করে এমন প্রতিষ্ঠান অথবা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৫০০ কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য মজুরি বাড়ানোর পৃথক বার্ষিক লক্ষ্য থাকবে। অন্য নিয়োগদাতাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে নির্ধারিত মজুরির পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে পরিবর্তনের জন্য বাড়তি সময় দেওয়া।   বিলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরিকে দেশের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে যুক্ত করা। মধ্যম মজুরি বলতে এমন একটি আয়কে বোঝায়, যার নিচে দেশের অর্ধেক কর্মীর মজুরি এবং ওপরে বাকি অর্ধেক কর্মীর মজুরি থাকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত অনুপাতে পৌঁছানোর পর দেশের মধ্যম মজুরি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর তা সমন্বয় করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে মজুরি ও কর্মীদের আয়ের পরিবর্তনের মধ্যে একটি সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু কর্মীর জন্য সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম হারে মজুরি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বকশিশনির্ভর রেস্তোরাঁকর্মী, তরুণ কর্মী এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিবন্ধী কর্মী রয়েছেন। প্রস্তাবিত আইনটি এসব পৃথক কম মজুরির ব্যবস্থা ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার কথা বলেছে। বিশেষ করে বকশিশনির্ভর কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে সরাসরি যে ন্যূনতম অর্থ দিতে হয়, তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। শেষ পর্যন্ত কর্মীর বকশিশকে নিয়োগদাতার ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পূরণের বিকল্প হিসেবে গণনা করার ব্যবস্থাও বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   বিলটির পক্ষে শ্রমিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা সমর্থন জানিয়েছেন। সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়নের সভাপতি এপ্রিল ভেরেটের মতে, কর্মীদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলন ন্যায্য ও জীবনধারণের উপযোগী মজুরির দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবটি কর্মীদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য পাওনা ও সম্মানের দাবির প্রতিফলন। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির ৩২ জন সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাঁরা সবাই ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য। তাঁদের মধ্যে মিশিগানের রাশিদা তালিব, ক্যালিফোর্নিয়ার রো খান্না এবং ওয়াশিংটনের প্রমিলা জয়পাল রয়েছেন।   তবে প্রস্তাবটি নিয়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগও রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠন ও কিছু অর্থনীতিবিদের আশঙ্কা, ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাড়লে বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও কম মুনাফার প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমব্যয় বেড়ে যাবে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ কমাতে পারে, কর্মঘণ্টা কমাতে পারে অথবা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। রক্ষণশীল অবস্থানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমপ্লয়মেন্ট পলিসিজ ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ডেইলি সিগন্যাল জানিয়েছে, ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত হলে প্রায় ৫০ লাখ কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফল নয়। গবেষণাটি বিশেষ করে আতিথেয়তা খাত এবং ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলেছে।   আইনটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো শুনানি হয়নি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি জুনে একই ধরনের একটি বিল সিনেটে উত্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন। তবে সিনেটের প্রস্তাবের সময়সূচি ও ধাপগুলো প্রতিনিধি পরিষদের বিলের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। ফলে দুই কক্ষের অগ্রগতি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে। তার আগে বিলটি পাস না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন করে উত্থাপন করতে হবে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কতটা সমর্থন পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবটি আপাতত আইন হওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের বিষয় হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রকাশনা দপ্তর, ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২১:৩৪
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার অভিযোগ

ওয়ালমার্টে ৪৪ বছরের কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ফুলের তোড়া হাতে কর্মী গেইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ালমার্ট কর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হয় কেবল এক তোড়া ফুল

আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দশম বার্ষিক সম্মাননা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দশম বার্ষিক সম্মাননা, পুরস্কার পেলেন ১০ ব্যক্তি

0 Comments