দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বে আজই গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দিনের শুরুতেই এক জমকালো আয়োজনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সংসদ সদস্যদের গেজেট ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এরপরই শুরু হবে মূল আকর্ষণ— মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে এই রাজকীয় অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যারা শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন, তাদের জন্য বিশেষ গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে রেকর্ড গড়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় ফলাফল ঝুলে থাকা চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। দলটির শরিকরা পেয়েছে ৩টি আসন। অন্যদিকে, সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছে আরও ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয়ী হয়েছে। সবার নজর এখন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন এই সরকারে অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী মুখকে দেখা যেতে পারে। রাষ্ট্র সংস্কার এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারেক রহমানের এই ‘টিম বাংলাদেশ’ কীভাবে কাজ শুরু করে, তা নিয়ে দেশজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে দলটি। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হ্যাকিং প্রক্রিয়ায় বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তার মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমিরে জামায়াতের অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে। হ্যাকাররা গত শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে অ্যাকাউন্টটি দখল করে নারীদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্ট দেয়, যা মূলত জামায়াতের ভাবমূর্তি ও নারী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার এক নোংরা অপপ্রয়াস।” জামায়াতের সাইবার টিমের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে জানান, হ্যাকিংয়ের সময় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার মেইল এড্রেস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ওই কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত কি না, অথবা কেউ তার মেইল ব্যবহার করে এটি করেছে কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে। তারা জানান, আমিরের অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একই সময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অ্যাকাউন্টটিও হ্যাক করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার বিকেলে হ্যাক হওয়ার বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই জামায়াতের সাইবার সিকিউরিটি টিম সক্রিয় হয় এবং দ্রুততম সময়ে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, পোস্ট হওয়ার মাত্র এক মিনিটের মাথায় স্ক্রিনশট নিয়ে তা পরিকল্পিতভাবে মধ্যরাতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় এই ষড়যন্ত্রের জাল অনেক দূর বিস্তৃত। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, “জামায়াতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং বিশেষ করে নারীদের মধ্যে দলের ইতিবাচক সাড়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল এই সাইবার হামলা চালিয়েছে। আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। আমরা চাই সরকার এই ডিজিটাল অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করুক এবং বঙ্গভবনের মেইল ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখুক।” সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জামায়াতের সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানান, তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বে আজই গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দিনের শুরুতেই এক জমকালো আয়োজনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সংসদ সদস্যদের গেজেট ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এরপরই শুরু হবে মূল আকর্ষণ— মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে এই রাজকীয় অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যারা শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন, তাদের জন্য বিশেষ গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে রেকর্ড গড়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় ফলাফল ঝুলে থাকা চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। দলটির শরিকরা পেয়েছে ৩টি আসন। অন্যদিকে, সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছে আরও ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয়ী হয়েছে। সবার নজর এখন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন এই সরকারে অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী মুখকে দেখা যেতে পারে। রাষ্ট্র সংস্কার এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারেক রহমানের এই ‘টিম বাংলাদেশ’ কীভাবে কাজ শুরু করে, তা নিয়ে দেশজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে দলটি। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হ্যাকিং প্রক্রিয়ায় বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তার মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমিরে জামায়াতের অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে। হ্যাকাররা গত শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে অ্যাকাউন্টটি দখল করে নারীদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্ট দেয়, যা মূলত জামায়াতের ভাবমূর্তি ও নারী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার এক নোংরা অপপ্রয়াস।” জামায়াতের সাইবার টিমের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে জানান, হ্যাকিংয়ের সময় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার মেইল এড্রেস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ওই কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত কি না, অথবা কেউ তার মেইল ব্যবহার করে এটি করেছে কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে। তারা জানান, আমিরের অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একই সময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অ্যাকাউন্টটিও হ্যাক করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার বিকেলে হ্যাক হওয়ার বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই জামায়াতের সাইবার সিকিউরিটি টিম সক্রিয় হয় এবং দ্রুততম সময়ে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, পোস্ট হওয়ার মাত্র এক মিনিটের মাথায় স্ক্রিনশট নিয়ে তা পরিকল্পিতভাবে মধ্যরাতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় এই ষড়যন্ত্রের জাল অনেক দূর বিস্তৃত। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, “জামায়াতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং বিশেষ করে নারীদের মধ্যে দলের ইতিবাচক সাড়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল এই সাইবার হামলা চালিয়েছে। আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। আমরা চাই সরকার এই ডিজিটাল অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করুক এবং বঙ্গভবনের মেইল ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখুক।” সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জামায়াতের সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানান, তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
We use cookies to improve your experience, deliver personalized content and ads, and analyze our traffic. By continuing to browse our site, you agree to our use of cookies. Cookie Policy