- প্রচ্ছদ
- Topic
মার্কিন অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে আগামী ৯০ দিনের জন্য বিদেশ থেকে অতিরিক্ত মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির গরু খামারি ও পশুপালকেরা। এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্প শুক্রবার জানান, আগামী ৯০ দিনে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে। এই পরিমাণ মাংস নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রমের পর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তা ছাড়াই আমদানির সুযোগ পাবে। ট্রাম্পের দাবি, আমদানি করা এই মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে মার্কিন ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি মাংস রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং তাঁরা ২৫ শতাংশ কম দামে মাংস সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। তবে কোন কোন দেশ এই মাংস সরবরাহ করবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। দেশটির গরুর পাল ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের খরা, খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেক্সিকো থেকে গবাদিপশু আমদানিতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ কমেছে। একই সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা শক্তিশালী থাকায় দাম আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে গরু ও বাছুরের মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মাটির গরুর মাংসের গড় দামও প্রতি পাউন্ডে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মার্কিন পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা এই পণ্যটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্লিন টনসর বলেছেন, ৩ লাখ মেট্রিক টন আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে বছরে খাওয়া গরুর মাংসের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশের সমান। ফলে এই পরিমাণ আমদানি বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড অ্যান্ডারসনও প্রশ্ন তুলেছেন, এত অল্প সময়ে বিদেশি দেশগুলো আদৌ এত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত মাংস যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারবে কি না। অন্যদিকে, দেশটির গরু খামারিরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা বিদেশি মাংস বাজারে ঢুকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর দাম কমে যাবে। এতে বর্তমানে লাভজনক অবস্থায় থাকা খামারিরা নতুন করে গরুর পাল বাড়ানোর উৎসাহ হারাতে পারেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হিসেবে গরুর সংখ্যা বাড়ানোই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটলম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টাপার বলেন, আমেরিকান খামারিদের পেছনে রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না। তাঁর অভিযোগ, এই উদ্যোগ স্থানীয় বাজারকে দুর্বল করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ন্যাশনাল ক্যাটলম্যানস বিফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কলিন উডালও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও আপত্তি দেখা গেছে। নেব্রাস্কার সিনেটর ডেব ফিশার বলেছেন, সবাই বাজারে কম দাম চান, কিন্তু তার জন্য মার্কিন পশুপালকদের ক্ষতির মুখে ফেলা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিদেশি গরুর মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় পশুপালন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মন্টানার রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহিও ট্রাম্পের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য সঠিক হলেও বিদেশি মাংস আমদানির এই উদ্যোগ মার্কিন খামারিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। নেব্রাস্কার আরেক রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসও সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় কৃষক ও পশুপালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে কম মানের মাংস বাজারে ঢোকার আশঙ্কা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খামারিদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন। তবে তাঁর মতে, গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে কিছু সহায়তা প্রয়োজন। প্রশাসন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গরুর পাল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সময় পর্যন্ত বাজারে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। আমদানি করা মাংস মূলত গরুর মাংসের কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের অংশ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ট্রাম্প প্রশাসন কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন গরুর মাংস আমদানির জন্য শুল্কমুক্ত সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়েছিল। এবার ৯০ দিনের জন্য আরও বড় পরিসরে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর চাপও প্রশাসনের ওপর রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কমানোর স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কতটা স্বস্তি দেবে এবং স্থানীয় খামারিদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, ফক্স বিজনেস ও এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত ২৫ বছরে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা ব্যয়, করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারি প্রণোদনা এবং দীর্ঘদিনের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতার কারণে দেশটির ঋণ দ্রুত বেড়েছে। ২০০১ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ছিল ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং কর কমানোর প্রভাবে ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও ঋণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ২০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর করোনা মহামারির সময় অর্থনীতি সচল রাখতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা দেওয়া হয়। এর ফলে ২০২২ সালের শুরুতে দেশটির ঋণ ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এরপরও প্রতিরক্ষা ও সরকারি ব্যয়, কর-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়তে থাকায় ঋণের পরিমাণ কমেনি। ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ৩৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। আগস্টে তা ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। অর্থাৎ মাত্র সাড়ে চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৩০ ট্রিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঋণের পাশাপাশি সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বড় চাপ তৈরি করছে। উচ্চ সুদের হার ও বিপুল ঋণের কারণে সরকারের ঋণ পরিচালনার খরচ ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে ঋণ বাড়ার প্রভাব মার্কিন সরকারি বন্ডের বাজারেও দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে। উচ্চ সরকারি ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং করপোরেট ঋণ বৃদ্ধিও বাজারে চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ট্রেজারি দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও ঋণের মূল কারণগুলো সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে চাপ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটির প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস সতর্ক করেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু সরকারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে। ঋণ বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে, সরকারের অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমতে পারে এবং নতুন সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি ও ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সরকারি সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাড়ি, গাড়ি ও ক্রেডিট কার্ডের মতো ব্যক্তিগত ঋণের সুদের ওপর পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ৪০.০৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাজারে থাকা সরকারি ঋণ প্রায় ৩২.২৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজেদের মধ্যে থাকা ঋণ প্রায় ৭.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার। মাত্র এক দশকের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় দেশটির মোট ঋণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে। এরপর ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ঋণ দ্রুত বেড়েছে। এর বড় একটি অংশ এসেছে কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার সরকারি ব্যয় থেকে। তবে মহামারি শেষ হওয়ার পরও রাজস্ব ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবধান ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে। ঋণ বাড়ার সঙ্গে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো সুদ পরিশোধের ব্যয়। পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে জাতীয় ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি বলছে, সুদের ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকা সরকারি বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এখানেই সাধারণ আমেরিকানদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকার যখন ঋণ নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের বেশি সুদ দিতে বাধ্য হয়, তখন সরকারি বন্ডের সুদের হার বা ফলন বাড়তে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার দেশটির অন্যান্য ঋণের সুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচেও পড়তে পারে। বাড়ি কেনার জন্য গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে চাপের মুখে পড়তে পারে। পিটারসন ফাউন্ডেশনও বলছে, জাতীয় ঋণ বাড়ার ফলে সুদের হারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে এবং এতে পরিবারের জীবনযাত্রার খরচ বাড়তে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের বাজারে চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে বেশি মুনাফা দাবি করছেন। এর ফলে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে এবং পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন ও নতুন ঘাটতি মেটাতে সরকারের খরচও বাড়ছে। জাতীয় ঋণের পুরো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অবশ্য সরাসরি বাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে পাওনা নয়। এর একটি বড় অংশ সরকারের বিভিন্ন তহবিল ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হিসাব করা হয়। ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ জনসাধারণের হাতে থাকা সরকারি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে রয়েছে। বাকি প্রায় ৭.৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের অভ্যন্তরীণ হিসাবের ঋণ। ঋণের দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে শুধু একটি প্রেসিডেন্ট বা একটি রাজনৈতিক দলের নীতিকে দায়ী করা কঠিন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বেড়েছে। মহামারি মোকাবিলা, করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির ব্যয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্বের ঘাটতি যুক্ত হয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কোভিড-১৯-সংক্রান্ত ঋণ বাদ দিয়েও অনুমোদিত নতুন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বাইডেনের সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে দুই প্রশাসনের সময়কার ঋণ বৃদ্ধির তুলনা করার ক্ষেত্রে মহামারি এবং বিভিন্ন সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বর্তমান প্রশাসন ঋণের চাপ সামাল দিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বলেছেন, অর্থনীতিকে আরও দ্রুত বাড়িয়ে ঋণের বোঝা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে বাজেট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় ও রাজস্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে ব্যয় কমানো, কর থেকে আয় বাড়ানো অথবা দুটির সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে ঋণের বাজারে চাপ কমাতে ট্রেজারি বিভাগ ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সরবরাহ ও বাজারের চাপ সামলাতে সরকার বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯ আগস্ট ট্রেজারি ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ফলন ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পরদিন বেসেন্ট জানান, প্রয়োজনে এই পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাজারে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু জাতীয় ঋণের মূল কারণগুলো সমাধান করে না। জাতীয় ঋণ নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো, সরকারকে যদি বাজেটের ক্রমবর্ধমান অংশ শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় করতে হয়, তাহলে শিক্ষা, অবকাঠামো, গবেষণা কিংবা অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ কমে যেতে পারে। পিটারসন ফাউন্ডেশন বলছে, ঋণের সুদ ব্যয় বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিনিয়োগ ও সামাজিক কর্মসূচির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ মানেই যে সাধারণ আমেরিকানদের তাৎক্ষণিকভাবে সমপরিমাণ ব্যক্তিগত ঋণ নিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। একজন মানুষের ওপর গড়ে প্রায় কত ঋণ পড়ে, এমন হিসাব মূলত জাতীয় ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে তৈরি করা একটি পরিসংখ্যান। এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক ঋণ বা সরকারের কাছে তাঁর সরাসরি পাওনা বোঝায় না। তবু এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বাস্তব। সরকারি ঋণ যত বাড়বে এবং সেই ঋণের জন্য সুদ যত বেশি দিতে হবে, তত বেশি অর্থ বাজেটের অন্য খাত থেকে সরিয়ে দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ডের সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবারের নতুন ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। এই কারণেই ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলককে শুধু একটি বড় সংখ্যা হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদ ও বাজেট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কাছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আয় ও ব্যয়ের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যহীনতার একটি বড় সতর্কসংকেত। সামনে কংগ্রেস ও প্রশাসন কীভাবে ব্যয়, কর এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই ঋণের চাপ শেষ পর্যন্ত কতটা বাড়বে এবং তার প্রভাব সাধারণ আমেরিকান পরিবারের ওপর কতটা পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছেন ভোক্তারা। গত কয়েক বছরে মুদি বাজারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মুদিপণ্যের দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি গত ৫০ বছরের মধ্যে অন্যতম বড় খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন প্রভাব। মহামারির পর থেকে শুরু হওয়া সরবরাহ সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতাও খাদ্যপণ্যের দামে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবার এখন আগের তুলনায় বাজার খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। কেউ কম দামের পণ্য বেছে নিচ্ছেন, কেউ আবার বাইরে খাওয়া কমিয়ে ঘরে রান্নার ওপর বেশি নির্ভর করছেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি শুধু ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবনেই প্রভাব ফেলছে না, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি চাপ তৈরি করছে। কারণ আয়ের বড় একটি অংশ তাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের আশা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমলে ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমতে পারে। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য মুদি বাজারের উচ্চ ব্যয় একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্যনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে ৬০টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী 'পারস্পরিক' শুল্ক নীতি বাতিল করে দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে এ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত এলো। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টা ০১ মিনিট (ইস্টার্ন ডেলাইটস টাইম বা ইডিটি) থেকেই এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে পূর্বে আরোপিত ১৫০ দিনের অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই নতুন এই নিয়ম বলবৎ হবে। তবে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮শে জুলাই রাত ১২টা ০১ মিনিটের আগে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের উদ্দেশ্যে পরিবহনাধীন রয়েছে, সেগুলোকে নতুন এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এই শুল্ক ধার্য করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) থেকে জবরদস্তিমূলক বা জোরপূর্বক শ্রম নির্মূল করার লক্ষ্যে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে চলা দাবির প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের রাজনৈতিক নেতারাই বৈশ্বিক বাণিজ্যে শ্রমশোষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকা ইতোমধ্যে নিজ দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের ওপর কঠোর আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে আসছে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো জবরদস্তিমূলক শ্রম রোধে ঢিলেঢালা নীতি অনুসরণ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ব্যবসায়ীরা একপ্রকার অন্যায্য প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। দেশীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা এবং বৈশ্বিক বাজারে সমতা ফেরাতে নতুন নিয়মে দুই ধরনের শুল্ক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব দেশে জবরদস্তিমূলক শ্রম রোধে পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে (যেমন ভারতের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে)। আর যেসব দেশে এ সংক্রান্ত নিয়মকানুন অপর্যাপ্ত বা দুর্বল, সেসব দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে সব পণ্যে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, রাসায়নিক সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্যকে নতুন শুল্কের আওতাবহির্ভূত রাখা হয়েছে। এছাড়া যেসব পণ্যে ইতোমধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা শুল্ক আরোপিত রয়েছে—যেমন অটোমোবাইল, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা—সেগুলোতে নতুন করে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক যুক্ত হচ্ছে না। অন্যদিকে, 'যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা' (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলোকেও এই শুল্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খল এবং এসব পণ্যে মার্কিন উপাদানের উচ্চ উপস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বাণিজ্যিক সুরক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নীতি বজায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইবোলা ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের বাণিজ্যিক লক্ষ্য অর্জনে আইনসম্মত শুল্কসহ সম্ভাব্য সকল আইনি ও প্রশাসনিক উপায় ব্যবহার করতে প্রশাসন বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।
করোনা মহামারি কালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আবাসন খাতের যে ব্যাপক উত্থান হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি ফিকে হয়ে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সেখানকার বহু বাড়ির মালিক আগের কেনা দামের চেয়েও কম মূল্যে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। হাউজিং ডেটা ও অ্যানালিটিক্স ফার্ম পার্সেল ল্যাবের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফ্লোরিডায় ২ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই সংখ্যাটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির জন্য থাকা মোট বাড়ির প্রায় ১৪ শতাংশ বা প্রতি ৭টি বাড়ির মধ্যে ১টি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর মধ্যে ১০ শতাংশেরই দাম আগের কেনা মূল্যের চেয়ে কম নির্ধারণ করা হয়েছে। কম দামে বাড়ি বিক্রির এই হারের দিক থেকে আমেরিকার সমস্ত অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ফ্লোরিডার অবস্থান এখন দ্বিতীয়, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় চার শতাংশ বেশি। কয়েক বছর আগের তুলনায় এটি একটি বড় ধাক্কা, যখন স্বল্প সুদে ঋণ এবং অতিরিক্ত জনস্রোতের কারণে এখানে বাড়ি কেনার ধুম লেগেছিল। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বন্ধকী ঋণের উচ্চ সুদহার, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাড়ির বীমা খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহ হারিয়েছেন। পাশাপাশি বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফ্লোরিডায় নতুন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিও বেশ মন্থর হয়ে এসেছে। এর বিপরীতে বিগত বছরগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ নতুন বাড়ি নির্মাণ হওয়ায় বাজারে এখন বাড়ির যোগান প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি। ফ্লোরিডার পশ্চিমাঞ্চলীয় মেট্রো এলাকা যেমন টাম্পা এবং পুন্তা গোর্দার বিক্রেতারা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন। পুন্তা গোর্ডায় গত এক বছরে বাড়ির দাম প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে এবং কেপ কোরালে কমেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বাজারে টিকে থাকতে এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়ির দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন বিক্রেতারা। তবে মন্দার এই বাজারে ফ্লোরিডায় এখনও ক্যালিফোর্নিয়া বা উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি মিলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামের একটি কর-সুবিধাপ্রাপ্ত বিশেষ বিনিয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুর নামে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আমানত হিসেবে ১ হাজার ডলার জমা দেওয়া হবে। নতুন এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের একেবারে অল্প বয়স থেকেই সঞ্চয় ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করা। সরকারের দেওয়া প্রাথমিক ১ হাজার ডলারের পাশাপাশি বাবা-মা, অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন কিংবা বিভিন্ন নিয়োগকর্তারাও একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ জমা করতে পারবেন। এই জমানো অর্থ শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বল্প খরচের ইনডেক্স ফান্ড বা সূচক তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকবে। হোয়াইট হাউসে কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে আরও সক্ষম ও শক্তিশালী করে তুলতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একদম ছোটবেলা থেকেই বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এই তরুণদের নিজেদের সম্পদ ও সঞ্চয় গঠনের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যাবে। মার্কিন ট্রেজারি (অর্থ) বিভাগ জানিয়েছে, এই অ্যাকাউন্টের অর্থগুলো বিশ্বের নামী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক, ভ্যানগার্ড এবং স্টেট স্ট্রিট-এর নির্বাচিত ইনডেক্স ফান্ডে খাটানো হবে। মূলত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের একটি বিশেষ উপহার হিসেবে এই কর্মসূচিটি দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে এই নতুন স্কিমটি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মতে, সরকার শুরুতে ১ হাজার ডলার দিলেও যেসব ধনী পরিবার নিয়মিত এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত টাকা জমা করতে পারবে, দিনশেষে তারাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভবান হবে। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, পারিবারিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন—এই উদ্যোগ দেশের লাখো শিশুকে ছোট থেকেই আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় ও আধুনিক বিনিয়োগ সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে পারিবারিক ক্রিপ্টো কারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবসা থেকে ১ বিলিয়নেরও বেশি (১০০ কোটি ডলারের বেশি) আয় করার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আইনসংগত বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে এই বিপুল আয়ের তথ্য সামনে আসার পর গত বৃহস্পতিবার সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর এই ব্যবসায়িক আয়ের মধ্যে অবৈধ বা ভুল কিছুই নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যবসা একটি ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে, যা তাঁর সন্তান এবং স্বাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁর নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এমনকি তাঁর অর্থ ব্যবস্থাপকেরা কারা, সেটিও তিনি জানেন না। তবে সমালোচকেরা এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই বিপুল আয়ের পেছনে স্বার্থের সংঘাত ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির অভিযোগ এনেছেন। প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে তাঁর পারিবারিক ক্রিপ্টো ব্যবসার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার আবুধাবির এক রাজপরিবারের সদস্যের কাছে গোপনে বিক্রি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই রাজপরিবারের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পের নিজস্ব ক্রিপ্টো কয়েন ব্যবহার করে ২ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ ব্যবহারের আলোচনার বিষয়টিও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতি জোরালো সমর্থন দেখান এবং এই খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল নির্বাচনী অনুদান পান। ক্ষমতায় আসার পর তিনি ক্রিপ্টো খাতের সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার মধ্যে ক্রিপ্টো সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা কমানো এবং জাতীয় বিটকয়েন মজুদ গড়ে তোলার আহ্বান অন্যতম। এছাড়া গত অক্টোবরে তিনি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও-কে প্রেসিডেন্টশিয়াল ক্ষমাও ঘোষণা করেন। ক্রিপ্টো কারেন্সির পাশাপাশি ট্রাম্পের অন্যান্য আয়ের খাত নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান কোম্পানির শেয়ারে ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন করেছেন। পাশাপাশি ফ্লোরিডায় অবস্থিত তাঁর মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ৭৭.৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এই ক্লাবের সদস্যপদ ফি বাড়িয়ে বর্তমানে ১০ লাখ ডলার করা হয়েছে এবং এটি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিপ্টো কারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা খাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয়ের বিষয়টি বিতর্কিত বা সমস্যাযুক্ত নয় বলে দাবি করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। গত বৃহস্পতিবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আর্থিক বিবৃতিতে জানা যায়, দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। বিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই আয়ের তীব্র সমালোচনা করে একে স্বার্থের সংঘাত বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিপ্টো কারেন্সির ওপর থেকে সরকারি নিয়মকানুন শিথিল করার চেষ্টা করার কারণেই এই বিপুল মুনাফা এসেছে। তবে হোয়াইট হাউস এবং অর্থমন্ত্রী উভয়ই এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অর্থমন্ত্রী এটিকে একটি উদ্ভাবনী প্রেসিডেন্সি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন যে দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুবিধা সব আমেরিকানই পাচ্ছেন। সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়েও বিশদ আলোচনা করেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মে মাসে আমেরিকার বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশে পৌঁছায়, যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর তৈরি হওয়া এই চরম অর্থনৈতিক চাপ খুব দ্রুতই কেটে যাবে। can যুদ্ধের সর্বোচ্চ সময়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৪.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে তা ৩.৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তেলের দাম প্রতি গ্যালনে ৩ ডলারে নেমে আসবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে দেশের শেয়ার বাজারের শক্তিশালী অবস্থান আগামী দিনগুলোতে অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে বলে তিনি মনে করেন। জুনের কর্মসংস্থান রিপোর্টে প্রত্যাশার চেয়ে কম চাকরি তৈরি হলেও বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে অর্থমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন চালু করা সঞ্চয়ী প্রকল্প ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। আগামী ৪ জুলাই থেকে এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হওয়া শুরু হবে। মূলত ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা এবং আর্থিক জ্ঞান বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ফেডারেল প্রোগ্রামটি চালু করা হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা সরকারের কাছ থেকে ১,০০০ ডলার অনুদান পাবে এবং ইতিমধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গ এলাকায় মোটরচালকদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে এই মূল্য হ্রাসের গতি পেনসিলভেনিয়ার অন্যান্য অঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেকটাই ধীরগতির। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে তেলের দাম কমেছে। কিন্তু পিটসবার্গের স্থানীয় বাজারে দাম কমার এই সুফল সাধারণ মানুষ অন্যান্য অঞ্চলের মতো সমহারে উপভোগ করতে পারছেন না। জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করায় সাধারণ গাড়ির মালিকদের পাম্পে গিয়ে তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। বর্তমানে একটি ১৬ গ্যালনের তেলের ট্যাংক পূর্ণ করতে গ্রাহকদের এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ৭ ডলার কম খরচ করতে হচ্ছে। তবে সামগ্রিক বাজারের চিত্র বিবেচনা করলে পিটসবার্গের এই স্বস্তি খুব একটা বড় নয়, কারণ গত এক মাসে এখানে প্রতি গ্যালন তেলের দাম কমেছে মাত্র ৩৪ সেন্ট। এর বিপরীতে দেশের অন্যান্য স্থানে সাধারণ মানুষ অনেক কম দামে তেল কেনার সুবিধা পাচ্ছেন। জ্বালানি গবেষণা সংস্থা গ্যাসবাডির প্রধান তেল বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান পিটসবার্গের এই ধীরগতির দাম কমায় বেশ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানান যে গত এক মাসে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের জাতীয় গড় মূল্য কমেছে প্রায় ৬৭ সেন্ট। অন্যদিকে খোদ পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের গড় তেলের দাম কমেছে প্রায় ৫৫ সেন্ট। পিটসবার্গ শহরটি মূলত দুটি প্রধান তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এখানকার খুচরা বিক্রেতারা তেলের দাম দ্রুত কমাচ্ছেন না, যা বেশ বিভ্রান্তিকর। বর্তমানে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের জাতীয় গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে এবং পেনসিলভেনিয়ার গড় মূল্যও ৪ ডলারের সামান্য ওপরে রয়েছে। তেল বিশ্লেষক ডি হান মনে করেন যে পিটসবার্গের স্থানীয় বাজারেও দাম আরও অনেক কমানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে এখানকার বড় ব্যবসায়ীরা মূলত অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় তেলের দাম কমাতে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করছেন না। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য গ্যাসবাডি অ্যাপ ব্যবহার করে কম দামি পাম্প খুঁজে তেল নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। পাইকারি বাজারের হিসাব অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়ার তুলনায় পিটসবার্গ এলাকায় তেলের দাম গ্যালন প্রতি মাত্র ৮ সেন্ট বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে খুচরা পাম্পগুলোতে পূর্ব পেনসিলভেনিয়ার চেয়ে পিটসবার্গে অন্তত ৪০ সেন্টের বেশি চড়া মূল্যে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো যে আমেরিকার আসন্ন ৪ঠা জুলাইয়ের জাতীয় ছুটির দিনকে সামনে রেখে দাম ধীরে হলেও কমছে। যদিও হরমুজ প্রণালীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির ওপর তেলের এই বাজার এখনো সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ব্রুকহেভেন শহরে সম্পত্তির ওপর প্রায় ৪০ শতাংশ কর বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত ভোটের আগে শহর কর্তৃপক্ষের সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এমন আকস্মিক ও বিশাল কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাড়ির মালিকেরা। এই নিয়মের ফলে শহরের প্রতিটি পরিবারকে প্রতি বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হবে, যা তাদের জীবনযাত্রার ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। ব্রুকহেভেনের নগর প্রশাসনের নথিপত্র অনুযায়ী, এই নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে শহরের পরিচালন করের হার ২ দশমিক ৭৪ মিলস থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৮৫ মিলস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। করের হারের এই ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন বা নগর প্রশাসন অতিরিক্ত প্রায় ৮০ লাখ ডলারের নতুন রাজস্ব আয় করতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি কোনো বাসিন্দার বাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য ৫ লাখ ডলার হয়, তবে এই নতুন নিয়মের কারণে তাকে প্রতি বছর আগের চেয়ে প্রায় ২২০ ডলার বেশি কর পরিশোধ করতে হবে। শহরের স্থানীয় নেতারা এবং মেয়র জন পার্ক এই কর বৃদ্ধির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন যে ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয় মেটানো এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সেবাগুলো সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে মেয়র বলেন, গত ১৩ বছরের মধ্যে ব্রুকহেভেন শহর কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচালন করের হার সামান্যও বৃদ্ধি করেনি, অথচ এই দীর্ঘ সময়ে সবকিছুর খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। বিগত এক দশকে সাধারণ ভোক্তা মূল্যসূচক বা জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, বীমা এবং অন্যান্য চুক্তিবদ্ধ সেবার খরচ এখন অনেক বেশি। নগর প্রশাসনের এই যুক্তি অবশ্য শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। অনেক বাড়ির মালিক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এত বড় অঙ্কের কর বৃদ্ধি করার আগে নগর প্রশাসন করদাতাদের এই বিপুল অর্থ ঠিক কোন কোন খাতে ব্যয় করবে, তার সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া উচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, করের পেছনে অতিরিক্ত টাকা চলে যাওয়ার কারণে সাধারণ পরিবারগুলোকে তাদের দৈনন্দিন খরচ, বাড়ি সংস্কারের কাজ, রেস্তোরাঁয় খাওয়া এবং স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার বাজেট বাধ্য হয়ে অনেক কমিয়ে দিতে হবে। স্থানীয় বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে শহরের বাসিন্দারা প্রশাসনের আর্থিক চাপের বিষয়টি কিছুটা বুঝতে পারলেও এক লাফে প্রায় ৪০ শতাংশ কর বাড়ানোর এই বিশাল ধাক্কায় তারা পুরোপুরি বিস্মিত ও স্তম্ভিত হয়েছেন। অনেকেই ভেবেছিলেন করের হার হয়তো আর বাড়বে না, কিন্তু হুট করে এমন সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে। এই কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর স্থানীয় সিটি সেন্টারে সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বাসিন্দারা সরাসরি তাদের আপত্তি ও ক্ষোভ নগর নেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বাজারবিষয়ক সংস্থা জিলোর নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে এখন অন্তত এমন একটি শহর রয়েছে যেখানে প্রাথমিক বা সাধারণ মানের একটি বাড়ি কিনতেই ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এই নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড ২৪২টি শহরে সাধারণ একটি প্রাথমিক বাড়ির মূল্য কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগের তুলনায় এই সংখ্যাটি প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ মহামারির আগের সময়ে দেশটির মাত্র ৮০টি শহরে এই মূল্যের বাড়ি বা প্রোপার্টি দেখা যেত। রিয়েল এস্টেট সংস্থা জিলোর পক্ষ থেকে মূলত একটি স্থানীয় আবাসন বাজারের সবচেয়ে কম মূল্যের এক-তৃতীয়াংশ বাড়ি বা প্রোপার্টিকে প্রাথমিক বাড়ি বা 'স্টার্টার হোম' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে। বর্তমানে আমেরিকার ২৬টি অঙ্গরাজ্যের মোট ২৪২টি শহরে এই প্রাথমিক বা প্রবেশিকা স্তরের বাড়ির মূল্য ১০ লাখ ডলারের ঘর স্পর্শ করেছে। জিলোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও দেশটির ২২৬টি শহরে এই ধরনের প্রাথমিক বাড়ির মূল্য অন্তত ১০ লাখ ডলার ছিল, যা এক বছরের ব্যবধানে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবাসন খাতের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্রটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে করোনাকালীন সময়ের আবাসন খাতের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো দেশটির বাজারে পুরোপুরি রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তীব্র আবাসন সংকট এবং তার সাথে ঐতিহাসিকভাবে কম বন্ধকী বা মরগেজ সুদের হারের কারণে সৃষ্ট বিপুল চাহিদার ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই স্টার্টার হোমগুলো কেনা এক প্রকার সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। যদিও দেশব্যাপী একটি সাধারণ মানের প্রাথমিক বাড়ির গড় বাজার মূল্য এখনো প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। তবে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর ও উন্নত এলাকায় এই দামের পার্থক্য আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। করোনা মহামারির আগে এই ধরনের উচ্চ মূল্যের প্রাথমিক বাড়িগুলো মূলত আমেরিকার সমুদ্র উপকূলবর্তী অল্প কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এটি আর কেবল উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন অংশে একটি ডিম্বাকৃতির প্যাটার্নে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে আবাসন খাতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সামগ্রিক চিত্রটিকেই সরাসরি প্রতিফলিত করে। নতুন এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে মহামারির পর থেকে আমেরিকার মানুষের আবাসন ব্যয়ের এই বিশাল পরিবর্তন দেশের মধ্যভাগের রাজ্যগুলোতেও বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বর্তমানে মোট ১০৫টি শহর নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে, যেখানে সাধারণ একটি প্রাথমিক বাড়ি কিনতেই ক্রেতাদের অন্তত ১০ লাখ ডলার বা তার চেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্ক এবং নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতিও বেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই দুটি অঙ্গরাজ্য মিলিয়ে বর্তমানে এমন শহরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১টিতে, অথচ মহামারির আগে এই দুই অঞ্চলে এমন শহরের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২টি। এই হিসাব থেকে এটি স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোতে আবাসন সংকট এবং ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মেট্রোপলিটন বা বড় নগর অঞ্চলগুলোর হিসাবের দিক থেকে বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটি মেট্রো এলাকাটি সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যার মধ্যে নিউ জার্সি এবং পেনসিলভেনিয়ার কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পুরো মেট্রো অঞ্চলে এমন শহরের সংখ্যা মোট ৬৩টি। নিউ ইয়র্কের পরেই ৩৭টি শহর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো মেট্রো এলাকা। এছাড়াও শীর্ষ পাঁচের মধ্যে থাকা অন্য প্রধান অঞ্চলগুলোর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে ৩৩টি, সান জোসে ১৩টি এবং মিয়ামিতে ৮টি এমন শহর রয়েছে যেখানে সাধারণ বা প্রাথমিক স্তরের বাড়ির মূল্য এখন ১০ লাখ ডলারের ওপরে।
আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের মাঝে চাকরি পাওয়ার পরও স্বাধীনভাবে আলাদা থাকার চেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রিয়েলটর ডটকম এর সাম্প্রতিক এক নতুন গবেষণামূলক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী মার্কিন তরুণদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই (প্রায় ৩০ শতাংশ) এখনো তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। রোববার (২১ জুন) ফক্স ফাইভ আটলান্টার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তরুণদের সিংহভাগই বেকার নন, বরং তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই (৭০ শতাংশ) বর্তমানে নিয়মিত চাকরি করছেন এবং ভালো বেতন পাচ্ছেন। রিয়েলটর ডটকম-এর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক হ্যানা জোনস জানান, অতীতে ধারণা করা হতো যে কেবল চাকরি না পাওয়া বা ক্যারিয়ার শুরু করতে না পারা তরুণরাই বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকেন। কিন্তু নতুন এই পরিসংখ্যান সেই প্রচলিত ধারণা বা ন্যারেটিভকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, “২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের যারা বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন, তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই কর্মজীবী। সামগ্রিকভাবে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার এই হার দিন দিন বাড়ছে, যার অর্থ এই বৃদ্ধির পেছনে বেকাররা নন, বরং চাকরিজীবী প্রাপ্তবয়স্করাই মূল ভূমিকা রাখছেন। বর্তমান যুগে একটি নিয়মিত পে-চেক বা বেতন পাওয়াটাই যে স্বাধীনভাবে বসবাসের একমাত্র চাবিকাঠি নয়, এই গবেষণা তারই প্রমাণ।” প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন (২০.৪%) তরুণ বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেছেন, যা ২৫ বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী অপেক্ষাকৃত বড় তরুণদের ক্ষেত্রে এই হার গত ২৫ বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০০ সালে যেখানে এই বয়সীদের মাত্র ৭.১% বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন, গত বছর তা এক লাফে বেড়ে ১২.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। চাকরি থাকার পরও তরুণদের নিজেদের আলাদা বাসা তৈরি করতে না পারার এই চিত্র মার্কিন অর্থনীতি ও আবাসন খাতের এক বড় সংকটকে নির্দেশ করছে। গবেষণায় তরুণদের নিজস্ব বাসা না কিনতে পারার পেছনে আমেরিকার বর্তমান আকাশচুম্বী আবাসন ব্যয়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ির গড় বা মিডিয়ান মূল্য ছিল ৪,৩০,০০০ মার্কিন ডলার, যা করোনা মহামারির আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় ৩৪.৪% বেশি। অন্যদিকে, বাড়ি ভাড়ার খরচও প্রাক-মহামারি যুগের চেয়ে প্রায় ১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি তরুণদের মাথার ওপর থাকা বিপুল ঋণের বোঝাও একটি বড় কারণ। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের বেশির ভাগ ঋণই স্টুডেন্ট লোন, গাড়ি কেনার লোন এবং ক্রেডিট কার্ডের বকেয়ার সঙ্গে যুক্ত, যা তাদের সম্পদ তৈরিতে বাধা দিচ্ছে। তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা মানেই যে তরুণরা সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা আরামে থাকছেন, তা কিন্তু নয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের (Pew Research Center) এক জরিপে দেখা গেছে, ঘরে থাকা তরুণদের মধ্যে ৭২%-ই কোনো না কোনোভাবে সংসারের খরচ চালাতে অবদান রাখছেন। এর মধ্যে ৬৫% তরুণ বাজারের খরচ, ইউটিলিটি বিল বা অন্যান্য পারিবারিক খরচ মেটাতে টাকা দিচ্ছেন এবং প্রায় ৪৬% তরুণ বাবা-মায়ের ঘরের ভাড়া বা মর্টগেজের কিস্তি দিতে সরাসরি সাহায্য করছেন। তরুণদের এই দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান শুধু তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বাধীনতাই খর্ব করছে না, বরং তাদের মধ্যবিত্ত বাবা-মায়ের ওপরও বড় ধরণের আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। আবাসন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনেক প্রবীণ দম্পতি সন্তানরা বড় হওয়ার পর তাদের বড় বাড়ি বিক্রি করে ছোট বাসায় চলে যাওয়ার (ডাউনসাইজিং) পরিকল্পনা করলেও সন্তানদের কারণে তা পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের বড় বাড়ির পেছনে উচ্চ মর্টগেজ, ট্যাক্স এবং অতিরিক্ত ইউটিলিটি বিলের বোঝা টেনে যেতে হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন আবাসন বাজারে এখন দুই প্রজন্মের পরিবর্তে তিন প্রজন্মের একসঙ্গে থাকার উপযোগী বড় বাড়ির চাহিদাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ সম্প্রতি ১.২ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একজন সাধারণ মার্কিন নাগরিকের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া প্রায় অসম্ভব এক বিষয়। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন সাধারণ আমেরিকান নাগরিকের পক্ষে ইলন মাস্কের এই বিশাল সম্পদের সমান স্তরে পৌঁছাতে বিপুল সময় লেগে যাবে। বর্তমানে একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। এই আয়ের সবটুকু অর্থ যদি কোনো পরিবার সম্পূর্ণভাবে সঞ্চয় করতে পারে, তবুও তারা এই অর্থের সমান করতে পারবে না। কোনো প্রকার খরচ এবং কর পরিশোধ না করে আয়ের প্রতিটি ডলার জমা করলেও মাস্কের বর্তমান সম্পদের সমান হতে একটি সাধারণ পরিবারের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর সময় লেগে যাবে। এই দীর্ঘ সময়ের বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য মানব ইতিহাসের একটি বড় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা যেতে পারে। আজ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। মানবজাতির প্রাচীনতম পূর্বপুরুষেরা কেবল সেই আদিম সময়ে পৃথিবীতে প্রথম আবির্ভূত হতে শুরু করেছিল। একজন একক ব্যক্তির একটি সাধারণ জীবনকালের মধ্যে অর্জিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পৃথিবীর সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এক বিশাল ব্যবধানকে ফুটিয়ে তোলে। পুরো মানব প্রজাতি একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়ার আগে থেকে আজ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কাজ করলেও এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পারত না। একজন সাধারণ মানুষের জীবনকালের আয়ের সাথে এই সম্পদের কোনো তুলনা হয় না। আধুনিক বিশ্বে সম্পদের এই বিশাল পাহাড় মূলত প্রথাগত কাজের সময় বা সাধারণ মানুষের আজীবন শ্রমের হিসাব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। বড় বড় বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত একচেটিয়া ব্যবসার মালিকানার মাধ্যমেই মূলত এই ধরনের অভাবনীয় পুঁজি বা সম্পদ তৈরি হওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই সাধারণ গাণিতিক হিসাবটি বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সম্পদ অর্জনের এক অবিশ্বাস্য চিত্রকে স্পষ্ট করে তোলে।
১৯৯৪ সালে স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডটকম’ বিপ্লব তুঙ্গে, তখন অনেকেই করপোরেট চাকরিতে যোগ দিয়ে দ্রুত মিলিয়নিয়ার হয়ে উঠছিলেন। সেই সময় ভিন্ন পথে হাঁটেন গ্রেগ ফ্লিন। এক বন্ধুর রেস্তোরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি আটটি অ্যাপলবিস রেস্তোরাঁ কিনে নেন। ২৬ বছর পর সেই ফ্লিন এখন তিনটি দেশে সাতটি বড় ব্র্যান্ডের তিন হাজারের বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি আউটলেট পরিচালনা করছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা করে ইতিহাসে প্রথম বিলিয়নিয়ার হওয়ার কৃতিত্বও তার। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাসোসিয়েশন তাকে ‘হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে আগে ম্যাকডোনাল্ডসের রে ক্রোক বা কেএফসির কর্নেল স্যান্ডার্সের মতো ব্যক্তিরাই জায়গা পেয়েছিলেন। ফ্লিনের গল্প এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের সাফল্যের প্রতীক। এই মডেল বহু সাধারণ মানুষের জন্য ধনী হওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য পথ হয়ে উঠছে। ১৯৫০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার বিস্তার শুরু হয়। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা পরিচালনা করছেন প্রায় আড়াই লাখ মালিক। এই খাতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এটি দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। ডানকিন, ইউপিএস স্টোর থেকে ম্যারিয়ট হোটেলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ড এই মডেলে পরিচালিত হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ম্যাট হ্যালার বলেন, সবাই স্টিভ জবস বা ইলন মাস্ক হতে পারবেন না, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষও সঞ্চয় করে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই খাতটি অভিবাসীদের কাছেও বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের মোট মোটেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মালিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক, যারা সুপার ৮ এবং ট্রাভেলজ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। একসময় আমেরিকায় তরুণদের কাছে সমৃদ্ধির প্রধান পথ ছিল উচ্চশিক্ষা ও করপোরেট চাকরি। তবে এখন চিত্র পাল্টেছে। উচ্চ টিউশন ফি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে অনেক ডেস্কভিত্তিক চাকরি ঝুঁকিতে পড়ায় তরুণরা এখন সরাসরি গ্রাহকসেবামূলক ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। ফিটনেস স্টুডিও, রেস্তোরাঁ বা ব্যক্তিগত সেবা খাতের ব্যবসাগুলোকে তারা তুলনামূলক নিরাপদ মনে করছেন, কারণ এগুলো পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় মূল কোম্পানি ব্র্যান্ড, মান ও পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণ করে। বিনিময়ে উদ্যোক্তারা নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করেন এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের সুবিধা পান। ১০০টির বেশি ট্যাকো বেল ও ডানকিন আউটলেট পরিচালনাকারী দিনেশ গোস্বামী বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা বোঝা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একটি পোপাইস আউটলেটের উদাহরণ দিয়ে জানান, অবস্থানগত সমস্যার কারণে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। গ্রেগ ফ্লিন তার ব্যবসায় স্থানীয় ব্যবস্থাপকদের লাভের অংশীদার করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা শুরু করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সাধারণত ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি প্রাথমিক ফি লাগে এবং বিক্রির ৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি দিতে হয়। একটি ফিটনেস স্টুডিও খুলতে তিন থেকে আট লাখ ডলার এবং একটি বড় রেস্তোরাঁ খুলতে ১০ লাখ ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, শুরুতে এই ব্যবসার টিকে থাকার হার তুলনামূলক বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি প্রায় সমান থাকে। তবে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সফলতার সম্ভাবনা বেশি। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের কম মজুরি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মালিকেরা লাভ বাড়াতে শ্রমিকদের বেতন কম রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, আগে একই চেইনের কর্মীরা অন্য আউটলেটে সহজে চাকরি বদলাতে পারতেন না। পরে এই নিয়ম তুলে দিলে শ্রমিকদের মজুরি ৪ থেকে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে সফল উদ্যোক্তাদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে এবং এটি অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লেখাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট থেকে তথ্য নিয়ে অনুবাদ ও বিশ্লেষণ করেছেন “আমেরিকা বাংলা” নিউজ এডিটর শাহারিয়া নয়ন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।