যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ১১ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই বিশিষ্ট রাজনীতিবিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য লিন্ডসে গ্রাহামের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমার প্রিয় বন্ধু এবং সত্যিকারের একজন মহান মানুষ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অসামান্য জীবন ও অর্জনকে সম্মান জানাতে আমি আগামী শনিবার সন্ধ্যা ৬টা (গ্রিনিচ মান সময় রাত ১০টা) পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমস্ত আমেরিকান পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিচ্ছি। তিনি আমাদের দেশ এবং তার প্রিয় অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলিনার জন্য অনেক কিছু অর্জন করেছেন।"
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কট্টর রুশ-বিরোধী অবস্থানের জন্য লিন্ডসে গ্রাহাম ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। এমনকি রাশিয়ায় তাকে 'সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী' হিসেবেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। রুশ-বিরোধী নানা তৎপরতার পাশাপাশি এই রিপাবলিকান সিনেটর ইসরায়েলের একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষেও সবসময় জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে ২০২২ সালের ভয়াবহ তেল বিপর্যয়ের ঘটনায় কিস্টোন পাইপলাইনের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'সাউথ বো'-কে ২ কোটি ৬৯ লাখ (২৬.৯ মিলিয়ন) ডলার জরিমানা দেওয়ার একটি প্রস্তাবিত মীমাংসায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশগত সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ), বিচার বিভাগ এবং কানসাস অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও প্রায় চার কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কিস্টোন পাইপলাইন ফেটে কানসাসের ওয়াশিংটন কাউন্টির একটি গ্রামীণ চারণভূমির মধ্য দিয়ে বয়ে চলা খালে প্রায় ১৩ হাজার ব্যারেল (প্রায় ৫ লাখ গ্যালন) অপরিশোধিত ভারী তেল ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন সরকারের অ্যাকাউন্টিবিলিটি অফিসের ২০২১ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ছিল বিগত নয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে স্থলে ঘটা সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের বিপর্যয়ের ঘটনা। সেসময় নির্গত তেলের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে, তা দিয়ে অলিম্পিক গেমসের আকারের একটি আস্ত সুইমিংপুল প্রায় ভরিয়ে ফেলা সম্ভব হতো। প্রস্তাবিত এই মীমাংসা চুক্তির আওতায় জরিমানার বাইরেও কানসাসের পরিবেশ পুনরুদ্ধার প্রকল্পের জন্য সাউথ বো-কে অতিরিক্ত ৩০ লাখ ডলার প্রদান করতে হবে। গত শুক্রবার কানসাসের মার্কিন জেলা আদালতে এই চুক্তির প্রস্তাবটি দাখিল করা হয়, যা ৩০ দিনের জনমত যাচাইয়ের পর বিচারকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইপিএ-এর এনফোর্সমেন্ট অফিসের সহকারী প্রশাসক জেফরি হল এক বিবৃতিতে জানান, ছড়িয়ে পড়া তেল ওই এলাকার মাটি ও পানিকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলেছিল, যার ফলে সেখানকার জলপথ প্রাণহীন ও ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই বড় অঙ্কের জরিমানা মূলত পরিবেশের ওপর হওয়া মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতিরই প্রতিফলন। এদিকে জরিমানার বিষয়ে সাউথ বো কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, কানাডিয়ান প্রেসকে তারা আগেই জানিয়েছিল যে মার্কিন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার আগেই তারা নিজ উদ্যোগে এলাকাটি পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছিল, যা ২০২৪ সালের শুরুর দিকে সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, পাইপলাইনটি নির্মাণকারী মূল প্রতিষ্ঠান 'টিসি এনার্জি' কানসাসের ওই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালে সাউথ বো-কে একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আলাদা করে দেয়। তেল ছড়িয়ে পড়ার এই ঘটনায় কোনো পাইপলাইন কর্মী বা স্থানীয় বাসিন্দা সরাসরি আহত না হলেও, শুক্রবার মার্কিন সরকারের দায়ের করা অভিযোগে জানানো হয়েছে যে এর ফলে ২ হাজার ৭০০টিরও বেশি প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত বা মারা গেছে। এলাকাটি মূলত বিপন্ন প্রজাতির 'লং-ইয়ারড বাদুড়'-এর অন্যতম আবাসস্থল। ২০২৩ সালের মে মাসের একটি সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইপলাইনের যে বাঁকে এই ফাটল দেখা দিয়েছিল, সেটি ২০১০ সালে স্থাপনের পর থেকেই অতিরিক্ত চাপের মুখে ছিল। ২ হাজার ৬৮৯ মাইল দীর্ঘ এই কিস্টোন পাইপলাইন সিস্টেম মূলত কানাডার ঘন টার স্যান্ডস তেল ইলিনয়, ওকলাহোমা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন শোধনাগারে পরিবহন করে। প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাউথ বো এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কানাডা থেকে ওয়াইওমিং পর্যন্ত দ্বিতীয় একটি পাইপলাইন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। এটি মূলত আটশো কোটি ডলারের বিতর্কিত 'কিস্টোন এক্সএল' (Keystone XL) পাইপলাইন প্রকল্পের একটি ছোট সংস্করণ, যা পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে ২০২১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন বাতিল করে দিয়েছিল।
নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের ঘোষণা অনুযায়ী, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড জেনারেল বিল্ডিং লেবারার্স (লোকাল ইউনিয়ন #৭৯)-এর জয়েন্ট অ্যাপ্রেন্টিসশিপ অ্যান্ড ট্রেনিং কমিটি (জেএটিসি) ২০০ জন দক্ষ নির্মাণ শ্রমিক বা স্কিলড কনস্ট্রাকশন ক্র্যাফট লেবারার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এই বিশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার আবেদন আগামী ১০ জুলাই, ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এটি একটি সম্পূর্ণ সীমিত আবেদন প্রক্রিয়া, যেখানে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে শুধুমাত্র প্রথম দুই হাজার আবেদনকারীকে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। টানা দশ কার্যদিবস প্রতিদিন মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য এই আবেদন গ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। নির্ধারিত দিনগুলোতে (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনলাইনে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। আগ্রহী প্রার্থীদের এমটিটিএফ (mttf.org) ওয়েবসাইটে গিয়ে লোকাল ইউনিয়ন #৭৯-এর লিংকে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। আবেদনটি সফলভাবে গৃহীত হলে প্রার্থীরা একটি নিশ্চিতকরণ ইমেইল এবং পরবর্তীতে আলাদা একটি ইমেইলে মূল আবেদনপত্রটি পাবেন। যাদের ইন্টারনেট সুবিধা নেই, তারা চাইলে স্থানীয় লাইব্রেরি বা নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের যেকোনো ক্যারিয়ার সেন্টারের সহায়তা নিতে পারবেন। ইমেইলে প্রাপ্ত আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করে পূরণ ও স্বাক্ষর করার পর সশরীরে লং আইল্যান্ড সিটির ৪২-৫৩ ২১নং স্ট্রিটের অফিসে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র অনুরোধ করার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এবং অবশ্যই ২৪ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে এই জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই শিক্ষানবিশ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের বয়স প্রোগ্রাম শুরুর সময় অন্তত ১৮ বছর হতে হবে এবং উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের (যেমন TASC বা GED) শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রার্থীদের শারীরিকভাবে যথেষ্ট সক্ষম হওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, কারণ কাজের অংশ হিসেবে তাদের উঁচুতে, বদ্ধ স্থানে বা চরম তাপমাত্রায় কাজ করতে হতে পারে। এর পাশাপাশি ৯৪ পাউন্ড ওজনের নির্মাণ সামগ্রী ৩০ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত বহন করা এবং বেলচা দিয়ে আধা কিউবিক ইয়ার্ড বালি স্থানান্তর করার মতো ভারী কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রত্যেক প্রার্থীকে নিজ খরচে ড্রাগ স্ক্রিনিং পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে। সফলভাবে আবেদনপত্র জমাদানকারীদের সেদিনই সাক্ষাৎকারের সময় ও তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র নিয়ে না এলে প্রার্থীকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বাতিল বলে গণ্য করা হবে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের নিয়ম অনুযায়ী, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ বা বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না। নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের এই শিক্ষানবিশ কার্যক্রমে আবেদনের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের স্কটসডেলে একটি সার্কেল কে স্টোরের সাবেক ম্যানেজার রবার্ট গাওলিটজা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার মূল্যের একটি লটারির টিকিটের মালিকানা দাবি করে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, টিকিট কেনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে এক নারী গ্রাহক ৮৫ ডলারের লটারির টিকিট কিনতে চাইলেও তার কাছে ছিল মাত্র ৬০ ডলার। ফলে অবিক্রিত কয়েকটি টিকিট দোকানেই থেকে যায়। পরদিন দায়িত্বে এসে গাওলিটজা জানতে পারেন, ফেলে যাওয়া টিকিটগুলোর একটি জ্যাকপট বিজয়ী হয়েছে। তার দাবি, কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রথমে ডিউটি শেষ করেন, ইউনিফর্ম খুলে অবিক্রিত টিকিটগুলো কিনে নেন, এরপর আবার কাজে যোগ দেন। গাওলিটজার আইনজীবী জশ কোলসরুড বলেন, কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী অবিক্রিত লটারির টিকিট স্টোর ম্যানেজার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী কিনতে পারতেন। তিনি দাবি করেন, গাওলিটজা প্রশিক্ষণ অনুযায়ীই সবকিছু করেছেন। গাওলিটজা জানান, টিকিটটি কেনার পর তিনি সেটিতে নিজের স্বাক্ষর করেন এবং আগের রাতে টিকিট প্রিন্ট করা সহকর্মীর সঙ্গে পুরস্কারের অর্থ ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দেন। অন্যদিকে সার্কেল কে কর্তৃপক্ষ টিকিটটির দখলে রয়েছে এবং তাদের দাবি, টিকিটটির মালিকানা কোম্পানির। তবে চলমান মামলার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এদিকে আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত লটারির পুরস্কারের অর্থ স্থগিত রাখা হয়েছে। মামলার রায়ের পরই নির্ধারিত হবে, কোটি কোটি ডলারের জ্যাকপটের প্রকৃত মালিক কে।