রাষ্ট্রীয় পদের মোহ আর প্রটোকলের বেড়াজাল ছিন্ন করে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় এক সাধারণ নাগরিকের দাফন কাজে সরাসরি কবরে নেমে অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে দুটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন শেষে ফিরছিলেন প্রতিমন্ত্রী। ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি দাফন কাজ চলতে দেখে তিনি তাৎক্ষণিক নিজের গাড়ি বহর থামানোর নির্দেশ দেন। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি কবরস্থানে চলে যান তিনি। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কবরে নেমে মরদেহ শায়িত করার দৃশ্য দেখে বিষ্মিত হন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ জানান, একজন উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধির এমন নিরহংকার আচরণ সচরাচর দেখা যায় না। দাফন শেষে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পদের দাপট ভুলে মাটির মানুষের প্রতি এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা বর্তমানে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি তেলে যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, পেট্রল পাম্পে যা দেখা দিয়েছে তা কোনো সত্যিকারের সংকট নয়। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, অনেকেই পেট্রল মজুত করার চেষ্টা করছেন, তাই যদি কোথাও তেলের অস্বাভাবিক সংকট দেখা দেয়, তা নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশের সব গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা, তবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে। সভায় প্রতিমন্ত্রী ময়মনসিংহের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শহরের যানজটের মূল কারণ রাস্তার সংকট নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সভায় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীরা, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহে ছিনতাই ও হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন নিখোঁজ হন; দুদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য আলটিমেটাম দেন। ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ জেলায় ১১১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্তত ২০টি ছিনতাই-সংশ্লিষ্ট। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি মাসে গড়ে এক হাজারেরও বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা, পুলিশের প্রতি অনাস্থা ও সামাজিক হয়রানির ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে নারাজ। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নগরীর শম্ভুগঞ্জ, মীরবাড়ি, কলেজ রোড, স্টেশন রোড, সানকিপাড়া, কাশর রোড, বাইপাস মোড়সহ অন্তত ২০টি এলাকা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত। অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও নদী তীরের মতো জনবহুল ও নির্জন জায়গায় ছিনতাই হচ্ছে। গ্রেপ্তার ছিনতাইকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই মাদকাসক্ত এবং জেল থেকে বের হয়ে আবারও অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। আইনজীবী ও নাগরিকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রধান কারণ। সচেতন নাগরিকরা সুপারিশ করেছেন সিভিল পোশাকে সার্বক্ষণিক টহল, প্রতিটি মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং, ‘বিট পুলিশিং’, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জড়িতদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন এক ঘোষণা দিয়েছেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ঈশ্বরগঞ্জের কোনো বাজারে নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’র মামলা করা হবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনমনে ব্যাপক স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে। এমপি মাজেদ বাবু তাঁর নির্দেশনায় উল্লেখ করেন, ঈশ্বরগঞ্জের প্রতিটি বাজারে সরকারিভাবে নির্ধারিত খাজনার ‘রেট চার্ট’ দৃশ্যমান স্থানে টাঙাতে হবে। চার্ট না দেখা পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ যেন খাজনা না দেন, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপের বোঝা কমাতে তিনি খাজনার হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। বাজার ইজারাদারদের সতর্ক করে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, “জনগণের পকেট কাটার দিন ফুরিয়ে আসছে। যারা বাজার ইজারা নিয়েছেন, তারা যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে পেশীবল ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন, তবে প্রমাণ পাওয়ামাত্রই তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।” এই ঘোষণার পর ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে ‘নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর ফেসবুক পোস্টে দুই ঘণ্টার মধ্যেই সাত শতাধিক ইতিবাচক মন্তব্য পড়েছে। অনেকেই স্ক্রিনশট শেয়ার করে এই সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, জনপ্রতিনিধিরা যদি শুরু থেকেই এভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন, তবে সমাজ থেকে খুব দ্রুতই অপরাধ ও অনিয়ম দূর হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর এক দিনও সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ‘চাঁদাবাজি’র সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ নিয়েছেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) এবং কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। গফরগাঁওয়ে মাইকিং ও কঠোর হুশিয়ারি: ময়মনসিংহ-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের পক্ষ থেকে পুরো উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভয় দিয়ে বলা হয়েছে, কেউ যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। আক্তারুজ্জামান তাঁর ফেসবুক বার্তায় স্পষ্ট করেছেন, “বিশৃঙ্খলা ও অপরাধে জড়িতরা কোনোভাবেই দলের লোক হতে পারে না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।” তিনি ‘দেশ আগে, দল পরে’ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নাঙ্গলকোটে এমপির ‘অভিযোগ বাক্স’: এদিকে কুমিল্লা-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি নাঙ্গলকোট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপন করেছেন। এই বাক্সে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও যদি চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকে, তবে যে কেউ পরিচয় গোপন রেখে তা জমা দিতে পারবেন। বিশেষভাবে তৈরি করা এই স্টিলের বাক্সগুলোর চাবি থাকবে সরাসরি সংসদ সদস্যের হাতে। তিনি নিজেই সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন। মোবাশ্বের আলম বলেন, “জনগণ আমাকে পাহারাদার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমার দলের কেউ অপরাধ করলে আমি তার প্রতি আরও বেশি কঠোর হব। সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।” নতুন বাংলাদেশের এই বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা মনে করছেন, নেতাদের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকলে দেশ থেকে অপরাজনীতি দূর করা সম্ভব হবে।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর দুই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, আর কুমিল্লায় চালু হয়েছে ‘অভিযোগ বাক্স’ কার্যক্রম। ময়মনসিংহ–১০ (গফরগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান–এর পক্ষ থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এতে বলা হয়, এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের চেষ্টা করলে তাকে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। গফরগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীকে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়। প্রয়োজনে সরাসরি সংসদ সদস্যকেও অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাইকিংয়ে আরও বলা হয়, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য—বিভেদ নয়, ঐক্যই শান্তি, ঐক্যই মুক্তি। গফরগাঁও পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বলেন, এমপি নির্বাচিত হয়েই চাঁদাবাজি বন্ধে এমন উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল শ্রেণি–পেশার মানুষের সহযোগিতাও জরুরি বলে তিনি মত দেন। এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান লেখেন, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতরা দলের কেউ হতে পারে না; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নয়নই তাদের লক্ষ্য। “সংঘাত নয়—সমাধান, ভয় নয়—ভরসা, হিংসা নয়—উন্নয়ন; দেশ আগে, দল পরে—জনগণই আমাদের শক্তি,” উল্লেখ করেন তিনি। নাঙ্গলকোটে ‘অভিযোগ বাক্স’ অন্যদিকে কুমিল্লা–১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নির্বাচনী এলাকায় ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট বাজারের বটতলা এলাকায় একটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়। সেখানে লেখা রয়েছে—বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে নির্দ্বিধায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার আহ্বান। পর্যায়ক্রমে উপজেলার দুটি উপজেলা পরিষদ, দুটি থানা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একইভাবে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। শিগগিরই স্টিলের তৈরি তালাবদ্ধ অভিযোগ বাক্স বসানো হবে, যার চাবি শুধু সংসদ সদস্যের কাছে থাকবে এবং তিনি নিজেই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করবেন। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। যে কেউ নাম গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী দলীয় কেউ হলেও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, জনগণ তাকে তাদের ‘পাহারাদার’ হিসেবে নির্বাচিত করেছে—এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তার লক্ষ্য।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল বাশার আকন্দের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও চালককে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে আবুল বাশার ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করায় হামলার পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকতে পারে। ফুলপুর-তারাকান্দা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত ময়মনসিংহ-২ আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। নির্বাচিত হন ১১–দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ, যিনি ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়েছেন। সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ফুলপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। স্থানীয় বিএনপি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আবুল বাশার আকন্দ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাঁর গাড়ির চারপাশে একটি দল হামলা চালিয়ে কাচ ভাঙচুর করে। চালক মো. আরমান আহত হন। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, সাবেক এমপি আবুল বাশার এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ায় ব্যর্থ হওয়ায় ধানের শীষের পক্ষে কোনো ভূমিকা রাখেননি। ফলে ধানের শীষের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আবুল বাশার নিজ বক্তব্যে বলেন, তুলার গুদামে আগুন দেখে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওই সময় হামলা হয়, চালক আহত হয়। কে হামলা করেছে জানি না। অপরদিকে উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন দাবি করেছেন, সাবেক এমপি ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি, এজন্য ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন, ‘ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থীর কিছু লোক এই হামলা করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনকে নির্বাচনে সমর্থন জানিয়েছে উপজেলা ও পৌর জাতীয় পার্টি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি হোটেলে এ ঘোষণা দেন উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক গোলাম সারুয়ার তপন। তার নেতৃত্বে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সঙ্গে মতবিনিময় করে সমর্থন জানিয়ে বিএনপির পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এর আগে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তপন ও সদস্যসচিব মুফিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির ডা. লিটনকে নির্বাচনে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলামের নির্বাচন বর্জন করেছেন তারা। উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তপন জানান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিবার্চনি কোনো কার্যক্রমে এবং নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় তার পক্ষের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি । এ সময় উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন কামাল, শরিফ উদ্দিন শরীফ, সেলিম সারোয়ার সরকার, পৌর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ফজলুল হক, সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফাসহ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফ উদ্দিনসহ উপজেলা জাতীয় পার্টি পৌর জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।