চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর দুই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, আর কুমিল্লায় চালু হয়েছে ‘অভিযোগ বাক্স’ কার্যক্রম।
ময়মনসিংহ–১০ (গফরগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান–এর পক্ষ থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এতে বলা হয়, এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের চেষ্টা করলে তাকে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। গফরগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীকে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়। প্রয়োজনে সরাসরি সংসদ সদস্যকেও অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাইকিংয়ে আরও বলা হয়, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য—বিভেদ নয়, ঐক্যই শান্তি, ঐক্যই মুক্তি।
গফরগাঁও পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বলেন, এমপি নির্বাচিত হয়েই চাঁদাবাজি বন্ধে এমন উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল শ্রেণি–পেশার মানুষের সহযোগিতাও জরুরি বলে তিনি মত দেন।
এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান লেখেন, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতরা দলের কেউ হতে পারে না; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নয়নই তাদের লক্ষ্য। “সংঘাত নয়—সমাধান, ভয় নয়—ভরসা, হিংসা নয়—উন্নয়ন; দেশ আগে, দল পরে—জনগণই আমাদের শক্তি,” উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে কুমিল্লা–১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নির্বাচনী এলাকায় ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট বাজারের বটতলা এলাকায় একটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়। সেখানে লেখা রয়েছে—বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে নির্দ্বিধায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার আহ্বান।
পর্যায়ক্রমে উপজেলার দুটি উপজেলা পরিষদ, দুটি থানা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একইভাবে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। শিগগিরই স্টিলের তৈরি তালাবদ্ধ অভিযোগ বাক্স বসানো হবে, যার চাবি শুধু সংসদ সদস্যের কাছে থাকবে এবং তিনি নিজেই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করবেন।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। যে কেউ নাম গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী দলীয় কেউ হলেও ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণ তাকে তাদের ‘পাহারাদার’ হিসেবে নির্বাচিত করেছে—এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তার লক্ষ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় সহপাঠীর ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে সেতু (১৪) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতু কালকিনি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং ওই গ্রামের দুলাল ঘরামীর মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, সেতুর সহপাঠী কাইফ তার কিছু আপত্তিকর ছবি ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এই মানসিক চাপ সইতে না পেরে সেতু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। অভিযুক্ত কাইফ দক্ষিণ কৃষ্ণনগর গ্রামের উজ্জলের ছেলে। নিহতের বাবা দুলাল ঘরামী জানান, কাইফ তার মেয়েকে ছবির ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে হেনস্তা করত। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি থানায় মামলা করতে গেলেও গড়িমসি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর খিলক্ষেতে উন্নয়ন কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে খিলক্ষেতের খাঁপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরের পাশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাঁপাড়া এলাকায় মাটির নিচে থাকা বৈদ্যুতিক তার ক্রেনের সাহায্যে উপরে তোলার কাজ চলছিল। কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত মাটির নিচের তারটি পাশের একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটির সংস্পর্শে আসে। এতে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কর্মরত পাঁচজন শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর আহাদুর রহমান সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমা শেষে মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার তিন সন্তান, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতি-নাতনি। এছাড়া কনের পক্ষের নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুসহ আরও চারজন এবং মাইক্রোবাস চালকও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের একটি বড় অংশ চিরতরে হারিয়ে গেছে। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারানো আশরাফুল আলম জনি শোকে ভেঙে পড়ে বলেন, এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে জানাজা প্রাঙ্গণ ভারি হয়ে ওঠে। পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যরা এখন চরম দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, ত্রাণ তহবিল ও সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করা হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।