রাজধানীর মগবাজারে দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মো. রাব্বি (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতের দিকে মগবাজারের মধুবাগ মাদ্রাসা খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি মগবাজার আঞ্জুমান হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পঞ্চগড়ের ফুলতলা উপজেলার মো. ফারুক মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে বসবাস করতেন। প্রতিবেশী কাজী সিয়াম আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, ইফতারের পর রাব্বি তার দুই বন্ধু ও এক বান্ধবীর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বখাটে উজ্জ্বলসহ ৫-৬ জন কিশোর তাদের ঘিরে ফেলে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা রাব্বির বুকে ছুরি মারে এবং পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, রাব্বির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি আটক হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে র্যাব এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যাপ্ত নজরদারি এবং প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে। শুক্রবার (২০ মার্চ) র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। র্যাব জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। র্যাবের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাসমূহ: সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ব্যাটালিয়নগুলোতে পর্যাপ্ত র্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে। কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল পেট্রোল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, চেকপোস্ট, অবজারভেশন পোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যাত্রী এবং সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে, এজন্য বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। টিকিট নিয়ে কারসাজি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহগুলোতে নিরাপত্তা সুইপিং এবং সিসিটিভি কভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাসস্থান, কর্মস্থল, শপিংমলসহ অন্যান্য স্থানে চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনলাইনে গুজব বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। র্যাব আশা করছে, দেশের মানুষ উৎসবের আনন্দে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে এখনও স্পষ্ট। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে চালকরা জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে মোটরসাইকেল চালক আমজাদ হোসেন বলেন, সকালে দেরি না করতে এসে দেখেছেন, তাতেও দীর্ঘ লাইন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তেল নিতে পারবেন। প্রাইভেটকার চালক ইদ্রিস মিয়া জানান, সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়ায় দৈনন্দিন চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০–২৫ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনেক চালক এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালক রবিউল হুসাইন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা পর তেল পেরেছেন। তিনি জানান, সোনার বাংলা স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকা মূল্যের তেল বিতরণ করা হয়েছে, যা দুই দিনের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত। ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে তেল থাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। তারা বলেন, বিপিসি থেকে চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কমানো হয়েছে, কিন্তু চাহিদা এখনও বেশি। আগের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কিছুটা কমেছে এবং আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাজারগুলোতে কেনাকাটার চিত্র জমে উঠেছে। ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেড়ে গেছে, যা একাংশ অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য অতিমুনাফার সুযোগ তৈরি করেছে। শুক্রবার রাজধানীর নিউ সুপারমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, চন্দ্রিমা, নূরজাহান সুপারমার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এবার নারীদের পোশাকে এসেছে বৈচিত্র্যময়তার ছোঁয়া—ফারসি সালোয়ার কামিজ, পাকিস্তান-ভারতীয় নকশা ও প্যাটার্নের কাপড়, কুর্তি, সিঙ্গেল কামিজ, টু-পিস, সারারা ও ঘারারা পাওয়া গেছে গাউছিয়ার দোকানগুলোতে। দামে অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের জন্য ঈদের কেনাকাটা আরও চাপের হয়ে উঠেছে। পোলাওর চালের দাম প্রতি কেজি ২০-৩০ টাকা বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডালের দাম ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০-১৬০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা, কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে—ডানো ৮৬০, ডিপ্লোমা ৯২০, ফ্রেশ ৮৯০ এবং মার্কস ৯০০ টাকা প্রতি কেজি। ২০০ গ্রামের লাচ্চা সেমাই ৫০ টাকা ও চিকন সেমাই ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি ১০৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, রসুন ২৪০ টাকা, হলুদ ৪০০ টাকা এবং আদা ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন ১৯৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন জানান, প্রতিবার রোজা ও ঈদের সময় কিছু ব্যবসায়ী অতিমুনাফা করতে উদগ্রীব হয়। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আইন প্রয়োগ এবং বাজার তদারকি জরুরি। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বাজার তদারকি অব্যাহত রেখেছেন। শুক্রবারও ৬টি টিম রাজধানীর বাজারে নজরদারি চালিয়েছে এবং অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি বা অনিয়ম ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৭ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে মোট ১০টি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। অধিকাংশ কম্পনের মাত্রা মৃদু থেকে মাঝারি হলেও জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৭ দিনেই এই ১০টি ভূমিকম্প হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা এবং রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫.৩। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে ভারতের সিকিম থেকে উৎপত্তি হওয়া ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকাসহ দেশজুড়ে অনুভূত হয়। ফেব্রুয়ারির বিভিন্ন দিনে মিয়ানমার, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মিয়ানমার উৎপত্তিস্থল থেকে পরপর দুটি কম্পনে দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে, যার মাত্রা ছিল ৫.৯ ও ৫.২। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। তাই ভবন নির্মাণে নির্দিষ্ট বিধিমালা মেনে চলা, জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মৃদু কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবু সতর্ক থাকা এখনই সময়ের দাবি।
রাজধানীর অভিজাত মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক ‘লাল বাড়ি’ খ্যাত ২৯ নম্বর বাসভবনটি আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো রাজনৈতিক জৌলুস। দীর্ঘ আড়াই দশক পর এই বাড়িতে উঠতে যাচ্ছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইতিমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ভবনটি তাঁর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান চিত্র ব্রিটিশ আমলে নির্মিত প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর এই দোতলা লাল ভবনটি বাংলাদেশের রাজনীতির বহু চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী। ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখানে অবস্থান করেছিলেন। তবে ২০০১ সালের পর থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর এই বাসভবনটি কোনো বিরোধীদলীয় নেতার পদচারণায় মুখরিত হয়নি। সংস্কার কাজ ও প্রস্তুতি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাড়ির রঙের ফিনিশিং ও রাস্তার কাজ চলছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে এটি বসবাসের উপযোগী করা হবে। রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতার জন্য এই বাড়িটি নির্ধারিত। দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে ওঠার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে আলোচনার পর জানানো হবে। উল্লেখ্য, এর আগে বেগম রওশন এরশাদ, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং জিএম কাদের এই বাড়িটি বরাদ্দের আবেদন করলেও নানা কারণে তাদের এখানে থাকা হয়নি। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিন্টো রোডের এই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি আবারও ক্ষমতার ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৪) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে তাকে জনতা ও পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি ও জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বিন্তি রায়েরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। গতকাল বুধবার রাতে নিজ বাসার সামনেই বখাটে সিয়ামের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারায় সে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে ছোট ভাই নাবিলকে নিয়ে বাসার নিচে নামে বিন্তি। এর কিছুক্ষণ পরই চিৎকার ও হট্টগোল শুনে স্বজনরা নিচে গিয়ে বিন্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় শিকদার মেডিকেল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সোয়া ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে বিন্তি তার ওপর হামলাকারী হিসেবে সিয়ামের নাম বলে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহতের মা নাদিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে বিন্তিকে মুঠোফোনে এবং সরাসরি বিরক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "আমার নিস্পাপ মেয়েটাকে ওরা বাঁচতে দিল না। আমি সিয়ামের ফাঁসি চাই।" ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, নিহতের কাঁধ ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। হাজারীবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ঘাতককে ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।
রাজধানীতে একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় কাফরুল পশ্চিম থানার আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি নির্ধারিত সময়ে রওনা দিয়েও যাত্রাপথে হঠাৎ বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এই আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান অতিথি হিসেবে রওনা হওয়া সত্ত্বেও অনাকাঙ্ক্ষিত অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি সকলের কাছে জামায়াত আমিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে শফিকুর রহমান (৫৫) নামে এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন। তিনি কলাবাগান থানা ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পান্থপথে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে জুতার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শফিকুর রহমান ও তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জুতার দোকানি মনির হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঘটনার দিন দুর্বৃত্তরা তাকে ওই এলাকায় পেয়ে আবারও চাঁদা দাবি করে এবং ফোন কেন ধরেন না—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একপর্যায়ে তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিতে শফিকুর রহমানের বাম হাতের তালুতে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, আহত ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার বাম হাতের তালুতে জখম রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে কলাবাগান থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ‘ক্লিন ঢাকা মহানগরী’ নামে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় মহানগর উত্তরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। দলীয় সূত্র জানায়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ ও বাজারসংলগ্ন স্থান পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা হবে। এতে দলীয় সকল স্তরের নেতা–কর্মী ও নগরবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার। রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মূল বালিকা শাখা সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদ এলাকায় বুধবার সকাল ৬টায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা জানান। তাসনিম জারা বলেন, "আমাদের পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না বা প্রবেশ করার পর বের করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অযৌক্তিক নিয়ম বা অজুহাত সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাউকে বলা হচ্ছে, ‘ওরা এখানকার ভোটার নয়’, যা কোনো নিয়মের অংশ নয়। কখনও পুরুষ কেন্দ্রগুলোতে নারী এজেন্টদের বের করা হচ্ছে, আবার কখনও ফোন নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকা যাবে না বা ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "আমার এজেন্টরা কেন্দ্রে থাকতে পারছেন না, অথচ মানুষ ভোট দিচ্ছে। এটা স্বীকৃত হওয়ার মতো নয়।" জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, একাধিক কেন্দ্র থেকে এ ধরনের অভিযোগ তাঁদের কাছে এসেছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের জুবলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের ডকুমেন্টসে স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল হকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, তার পোলিং এজেন্টরা ডকুমেন্টসে স্বাক্ষর করাতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের আটকে রেখে মারধর করেন। তিনি বলেন, “৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের জুবলী স্কুল কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে হামলা চালায়। এ সময় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকেও মারধর করা হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ হামলার নেতৃত্ব দেন ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান অনু, মহানগর সদস্য ফরিদ উদ্দিন, থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ কামাল রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক কামিল, যুবদলের সাবেক সদস্য শফিক এবং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রানা। ঘটনার পর তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মজিবুর রহমান অনু বলেন, “জামায়াতের লোকজনকে একপাক্ষিকভাবে ভেতরে নিয়ে পোলিং এজেন্টের ডকুমেন্টস নেওয়া হচ্ছিল, যা আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। সেখানে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে, তবে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ” মারধরের শিকার প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল হক বলেন, “জামায়াতের পোলিং এজেন্ট কার্ডে স্বাক্ষর দিতে আসলে একটি পক্ষ অভিযোগ তুলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। আমাদের এক সহকর্মীর ওপর বোতলও নিক্ষেপ করা হয়।” ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পোলিং এজেন্টদের ডকুমেন্টস জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটকের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা আমির একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে এমন ঘটনা ‘সাজানো’ সম্ভব নয়—এ দাবি অযৌক্তিক। তাঁর অভিযোগ, দলকে বিতর্কিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এহসানুল মাহবুব আরও অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নেতার নির্বাচনি এলাকায় বুথ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে এবং সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে। প্রশাসনের একটি অংশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিনকে আটক করে। তাঁর কাছ থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পুলিশ সূত্র জানায়, তিনি ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে পৌঁছান। বিমানবন্দর ত্যাগের সময় তাঁর চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাঁকে থামায়। পরে তল্লাশিতে তাঁর বহন করা ব্যাগে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই ব্যাগে ৫০ লাখ টাকা থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া অর্থ সবার উপস্থিতিতে গণনা করা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে সৈয়দপুর থানায় নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেনা হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। আটক বেলাল উদ্দিন প্রধান ঠাকুরগাঁও শহরের পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
পূর্বাচলে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে। আর মাত্র সপ্তাহ খানেক পর পর্দা নামবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরের। মেলায় তৃতীয় ছুটির দিনে তাই ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে মেলা প্রাঙ্গণ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এমনই চিত্র দেখা যায়। মেলার শেষ সময়ে এসে ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। এদিকে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে। মেলা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসর। এবারের মেলায় প্রথম দিকে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে ক্রেতা দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। মেলার পঞ্চম দিন থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলায় লোকসমাগম বাড়তে থাকে। তবে ছুটির দিন থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মাসব্যাপী এ মেলায় এখন প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতা, উদ্যোক্তা আর দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ইতোমধ্যেই বিশেষ অফার ও মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি চলছে। এ সমস্ত ছাড় ও অফার লুফে নিতে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণ যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। মেলায় শারমিন নামে একজন জানান, প্রতিবছর সাংসারিক গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ জিনিসপত্রই বাণিজ্যমেলা থেকেই কিনে থাকেন। মেলায় একই ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় সকল পণ্য অফার ও ছাড়ে ক্রয় করা যায় বলে সংসারের বেশ কিছু জিনিসপত্র কিনলাম। মেলার ইমন নামে এক ইজারাদার বলেন, প্রথম দিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনসমাগম তুলনামূলক কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মেলা জমে উঠেছে। এমনিতেও মেলা শেষের দিকে, তার ওপর শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক।
৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত তিন হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনের কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopa.gov.bd-এ পাওয়া যাবে। আজ শুক্রবার অধিদপ্তরের সংশোধিত এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের উল্লেখযোগ্য শর্তের মধ্যে রয়েছে- নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে তার চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার যেরূপ স্থির করবে সেরূপ পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেককে দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল অনূর্ধ্ব দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন মর্মে ধরে নেওয়া হবে এবং এ নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস