রংপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য চলাফেরা ও সক্রিয়তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, এমনকি ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দিচ্ছেন। এতে এসব পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশও রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর অনেক আসামি একের পর এক জামিন পাচ্ছেন। জামিনে বেরিয়েই তারা বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব বিষয় পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং পুলিশের কিছু কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাহস দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির কিছু নেতার সহায়তা পাওয়ায় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে আরও উৎসাহ পাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, গঙ্গাচড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন পদধারী নেতা প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও পুলিশ গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে পীরগাছা ও বদরগঞ্জ উপজেলাতেও। সেখানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং বাদী-সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের কিছু শীর্ষ নেতা সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের ওপর ভরসা করে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিঠাপুকুর উপজেলাতেও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বিভিন্নভাবে কর্মীদের সক্রিয় থাকতে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের ভেতরে এখনো এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধা পেয়েছিলেন। তাদের একটি অংশ এখনো আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও তারা জানান। রংপুর মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় হামলা ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অনেকেই এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. তানজিউল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী অপরাধীদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে। জুলাইয়ের সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী বলেন, পুলিশ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। কেউ অপরাধ করলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আমিনুল ইসলামও বলেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা অপরাধ করেছে বা করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তারও করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা শেষ হলেও রংপুরের ভোটের মাঠে চিত্র ভিন্ন। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, নির্বাচনি আচরণবিধি তোয়াক্কা না করে ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে শাড়ি-লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরণ করছে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। বিশেষ করে প্রশাসনের চোখের সামনেই ‘কালো টাকা’র ছড়াছড়ি চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন জোটের নেতারা। রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে লড়ছেন ৪৩ জন প্রার্থী। জোট নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থীরা সারা জেলায় রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গের রেকর্ড গড়েছেন। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়িতে ডেকে ভূরিভোজের আয়োজন ও নগদ অর্থ দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আসনভিত্তিক অনিয়মের চিত্র: রংপুর-১: এখানে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে নগদ টাকা পৌঁছানোর অভিযোগ করেছে ১১ দলীয় জোট। রংপুর-২: জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে টাকা বিলানোর অভিযোগ বিএনপিরই। পাল্টা অভিযোগ হিসেবে বিএনপি কর্মীরা জামায়াত ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে জোট। রংপুর-৩: জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসভবনে প্রকাশ্য ভূরিভোজ ও অর্থ বিতরণের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন নিশ্চুপ। রংপুর-৪: বিএনপি ও জাপা প্রার্থীর পক্ষ থেকে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। রংপুর-৫ ও ৬: এখানেও ভোটারদের দাওয়াত করে খাওয়ানো এবং জোটের কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখনো নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে পারেনি। প্রকাশ্যে উপঢৌকন বিলানোর তথ্য দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেই। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতে কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ।” জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী যে সাধারণ মানুষ সব বাধা ডিঙিয়ে নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসবে।” এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান জানিয়েছেন, মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও যৌথ বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভোটের আগে এমন টানটান উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রংপুরের নির্বাচনি পরিবেশ এখন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব এবং জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেনকে ফোনে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থী। হুমকির ঘটনার পর রাতেই এক ভিডিও বার্তায় আখতার হোসেন তাঁর দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ভয় দেখিয়ে বা হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। আমরা জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আদর্শ ও কর্মসূচির লড়াই ছেড়ে যারা হুমকি-ধমকির পথ বেছে নিয়েছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।” আখতার হোসেন ভিডিও বার্তায় আরও জানান, শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পীরগাছা থানার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে গণসংযোগের সময় তাঁর মোবাইলে একটি কল আসে। অপরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়া’ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেয়। এই ঘটনায় তিনি এবং তাঁর পরিবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। জিডি সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির হুমকিতে নির্বাচনী এলাকায় এক ধরণের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। আখতার হোসেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদের আমলে অনেক জেল-জুলুম সহ্য করে আমরা এই পর্যায়ে এসেছি, তাই কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের জয়যাত্রাকে রুখতে পারবে না।” ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে একজন প্রার্থীর ওপর এমন হুমকির ঘটনায় কাউনিয়া ও পীরগাছা এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদর্শিক লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় একটি মহল এখন ভীতি প্রদর্শনের কৌশল অবলম্বন করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আখতার হোসেনকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার রাত ১১টার দিকে তিনি পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, বিকেল অনুমানিক সাড়ে পাঁচটার সময় তিনি পীরগাছা থানার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সারা দেশের মতো আমার আসনেও শাপলা কলির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, গোপনে হুমকিও এসেছে। তবে ভয় দেখিয়ে, উড়ো কথা বলে কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমাদের জয়যাত্রাকে থামানো যাবে না। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক গণভোটকে সামনে রেখে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এক বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। তারেক রহমান তাঁর ভাষণের শুরুতেই জুলাই বিপ্লবের আইকন শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪শ শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “রংপুর কেবল একটি জেলা নয়, এটি ত্যাগের এক পবিত্র ভূমি। আবু সাঈদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের অবশ্যই সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে।” রংপুরের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে এক বিশেষ অর্থনৈতিক রূপরেখা পেশ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রংপুরকে যারা গরিব অঞ্চল মনে করেন, তারা ভুল করছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো রংপুরকে একটি আধুনিক শিল্প ও আইটি হাবে রূপান্তর করা। এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষিজাত পণ্যের কলকারখানা স্থাপন করা হবে এবং স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী কর ছাড় (Tax holiday) সুবিধা দেওয়া হবে।” কৃষক ও নারীদের কল্যাণে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে স্মার্ট কৃষি কার্ড, যার মাধ্যমে অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন তারা। এছাড়া নারীদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।” ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, এদেশের মানুষ আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না। ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি একটি জবাবদিহিমূলক এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রংপুরের এই জনসভা নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের পালে এক নতুন হাওয়া যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মকবুল হোসেন বলেন, আশা করি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ফল হিসেবে একটি উন্নত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হবে। এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে উপস্থিত হয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। পরে শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন তারেক রহমান। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালর ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আবু সাঈদ। পরদিন তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনরত সেনা সদস্যদের পরিদর্শনের লক্ষ্যে রংপুর এরিয়া পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনকে পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রংপুরে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। রংপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এ মতবিনিময়সভায় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সামরিক-বেসামরিক প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মতবিনিময়সভা শেষে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রখেন। এ সময় তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবাইকে নাগরিকবান্ধব আচরণের নির্দেশ দেন। সেনাপ্রধানের রংপুর এরিয়া পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি, ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া এবং সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যেই সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাচ্ছে। তবে যারা পরাজিত শক্তি, যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, গণমানুষের প্রতিপক্ষ একমাত্র তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় গণঅভুত্থ্যানে রংপুর জেলা শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আদিলুর রহমান খান বলেন, ছাত্র-জনতার অনেক রক্ত ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে গণঅভুত্থ্যানে ফ্যাসিস্ট সরকার পরাজিত হয়েছে। সেই গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে এই সরকার এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গণভোটের আয়োজন করেছে। এ দেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, যারা গণমানুষের প্রতিপক্ষ তারাই অন্য কিছু চিন্তা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ, জনতার কাফেলা, জনতার জোয়ার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুরের আরডিএ ও তাজহাট জমিদারবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। এছাড়াও তিনি মিঠাপুকুরে এলজিইডির সড়ক পরিদর্শন ও শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে শানেরহাটে নির্মিত রাস্তা পরিদর্শন করবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস