সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় লটারি বিগ টিকেট-এর ড্রয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ দিরহাম (প্রায় ৮৩ কোটি টাকা) জিতে জীবন বদলে গেছে ভারতের এক গৃহিণীর। দীর্ঘ চার বছর ধরে নিয়মিত টিকিট কেনার পর অবশেষে বড় পুরস্কার জিতেছে তার পরিবার। এখন সেই অর্থ দিয়ে নতুন বাড়ি কেনা, মেয়ের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছেন তারা। গালফ নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজয়ী ভারতীয় গৃহিণী অরোরা জানান, তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে স্বামী, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে এবং শাশুড়িকে নিয়ে বসবাস করেন। তার স্বামী গত চার বছর ধরে নিয়মিত বিগ টিকেটের ড্রয়ে অংশ নিয়ে আসছিলেন। শুরুতে নিজের নামে টিকিট কিনলেও সম্প্রতি স্ত্রীর নামে টিকিট কেনার সিদ্ধান্ত নেন। সেই টিকিটেই আসে ভাগ্য বদলে দেওয়া জয়। অরোরা বলেন, ইউটিউব ভিডিও এবং ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে তারা প্রথম বিগ টিকেট সম্পর্কে জানতে পারেন। শুরুতে বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হলেও এর সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে বলে ভাবতেন। তবুও তারা আশা ছাড়েননি। প্রতিবার টিকিট কেনার সময় মনে হতো, হয়তো এবারই ভাগ্য খুলবে। তিনি জানান, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সবার আগে একটি নতুন বাড়ি কিনতে চান। বহুদিন ধরেই নিজের পরিবারের জন্য একটি বাড়ির স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি ও তার স্বামী। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে। পরিবারের দ্বিতীয় বড় পরিকল্পনা তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে ডিজনিল্যান্ড ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। অরোরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের ডিজনিল্যান্ডে যাওয়ার ইচ্ছা। পুরস্কারের অর্থ পাওয়ার পর সেই স্বপ্নও পূরণ করতে চান তারা। বাকি অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে মেয়ের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অরোরা অন্যদেরও ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার ভাষায়, এমন পুরস্কার সম্পূর্ণ ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই ধৈর্য রাখতে হবে, নিজের ওপর এবং সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। একদিন না একদিন ভালো ফল আসবেই। এদিকে সর্বশেষ ড্রয়ের পর বিগ টিকেট নতুন প্রচারণা শুরু করেছে। এবার সর্বোচ্চ ২ কোটি দিরহাম জেতার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি বিলাসবহুল গাড়িও পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। আগামী ৩ আগস্ট মাসেরাতি গ্রেকালে এবং ৩ সেপ্টেম্বর ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় থাকেন, সেটি শুধু লটারির জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনাই নয়, সেই অর্থ দিয়ে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব, সেটিও অনেকাংশে নির্ধারণ করতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু অঙ্গরাজ্যে অন্যগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মানুষ লটারির বড় পুরস্কার জিতছেন। একই সঙ্গে এসব রাজ্যে জ্যাকপট জিতলে কী ধরনের বিলাসবহুল বাড়ি কেনা সম্ভব, সে চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। রিয়েল এস্টেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম Realtor.com প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Vegas Insider-এর যুক্তরাষ্ট্রের লটারি–সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, লটারির জ্যাকপট বিজয়ীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মিশিগান। এ পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে ৪৬টি জ্যাকপট জয়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বছরে গড়ে ৭২ দশমিক ৭ জন এবং প্রতি ১০ লাখ বাসিন্দার বিপরীতে ৯৮ দশমিক ৪ জন বিজয়ীর হিসাব পাওয়া গেছে। মিশিগানের পরের অবস্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, মেরিল্যান্ড, আইওয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড ও মিসৌরি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারীদের জন্য বড় অঙ্কের লটারি জেতা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং বিলাসবহুল আবাসনের স্বপ্নও বাস্তবে রূপ দিতে পারে। তবে সেই স্বপ্নের বাড়ির ধরন নির্ভর করবে পুরস্কারের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসন বাজারের ওপর। মিশিগান: কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিলাসবহুল বাড়ি ডেট্রয়েটভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান Max Broock Realtors-এর সহযোগী ব্রোকার এরিকা কলিকা সুইঙ্ক বলেন, মেট্রো ডেট্রয়েটে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলার, আর পুরো মিশিগানে তা প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। তাঁর মতে, কর পরিশোধের পরও যদি কয়েক মিলিয়ন ডলার হাতে থাকে, তাহলে বার্মিংহাম, ব্লুমফিল্ড হিলস, গ্রস পয়েন্ট কিংবা লেক হিউরনের তীরবর্তী এলাকায় ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি সহজেই কেনা সম্ভব। একই বাজেটে ডেট্রয়েট শহরে ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিংবা অভিজাত পেন্টহাউসও কেনা যেতে পারে। ভার্জিনিয়া: জ্যাকপট জিতলে মিলতে পারে বিলাসবহুল প্রাসাদ উত্তর ভার্জিনিয়ায় একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ ডলার। আরলিংটনভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ডেল জিন্টি বলেন, বড় অঙ্কের লটারি জিতলে আর্লিংটন, ম্যাকলিন, গ্রেট ফলস ও ভিয়েনা এলাকায় ৩০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলারের কাস্টম নির্মিত বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনা সম্ভব। এসব বাড়িতে সাধারণত রিসোর্ট–ধাঁচের সুইমিং পুল, হোম থিয়েটার, আধুনিক রান্নাঘর, হট টাব এবং অন্যান্য বিলাসবহুল সুবিধা থাকে। নিউ জার্সি: ইয়ট রাখার সুযোগসহ জলপাড়ের বাড়ি নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৭ লাখ ডলারের বেশি। ডগলাস এলিম্যান রিয়েল এস্টেটের বিক্রয় প্রতিনিধি ক্রিস ক্যাটজ বলেন, বড় জ্যাকপট জয়ীরা সাধারণত রামসন, মনমাউথ বিচ ও ওশানপোর্ট এলাকায় ৪০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলারের জলপাড়ের বাড়ির প্রতি আগ্রহী হন। এসব বাড়িতে ব্যক্তিগত নৌঘাট, ইয়ট রাখার ব্যবস্থা এবং আটলান্টিক মহাসাগরে সহজ যাতায়াতের সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, যারা রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা কম চান, তাদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টও আকর্ষণীয় বিকল্প। এসব ভবনের পেন্টহাউসের দাম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলারের মধ্যে। ক্যালিফোর্নিয়া: একবার লটারি জিতলেও যথেষ্ট নাও হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়া। নিউপোর্ট বিচ এলাকায় একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ ডলার। স্থানীয় ব্রোকার পাবলো রেনার বলেন, প্রকৃত অর্থে ‘স্বপ্নের বাড়ি’ কিনতে হলে অন্তত ১ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বাজেট প্রয়োজন। আর অনেক বিলাসবহুল বাড়ির দাম ২ থেকে ৩ কোটি ডলার পর্যন্তও হতে পারে। এসব বাড়িতে প্রশান্ত মহাসাগরের দৃশ্য, ব্যক্তিগত নৌঘাট, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, ছাদবাগান, লিফট এবং সমুদ্রসৈকতে সরাসরি প্রবেশের মতো সুবিধা থাকে। নিউইয়র্ক: পুরস্কারের অঙ্কই নির্ধারণ করবে বাড়ির ধরন নিউইয়র্ক সিটিতে লটারির অর্থ দিয়ে কী ধরনের বাড়ি কেনা যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে পুরস্কারের পরিমাণের ওপর। ব্রাউন হ্যারিস স্টিভেন্সের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ম্যাথিউ মেলিঞ্জার বলেন, কয়েক মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার দিয়ে শহরের ভালো এলাকায় একটি মানসম্মত অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সম্ভব। তবে ম্যানহাটনের অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম, ঐতিহাসিক ভবন বা টাউনহাউসের দাম কয়েক কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে বড় অঙ্কের জ্যাকপট জিতলেও অনেক সময় সেটি মানুষের ধারণার তুলনায় কম হতে পারে। শুধু বাড়ি কিনলেই দায়িত্ব শেষ নয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লটারি জেতার পর অনেকেই বাড়ির দাম নিয়েই ভাবেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বিবেচনা করেন না। এরিকা সুইঙ্কের মতে, বিলাসবহুল বাড়ি কিনে ফেলাই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। সম্পত্তি কর, বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কর্মচারীদের বেতন, বাগান পরিচর্যা এবং নিয়মিত সংস্কার বাবদ প্রতি বছর কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তিনি জানান, বিশেষ করে পুরোনো বা উচ্চমূল্যের বাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি বছর বাড়ির মোট মূল্যের ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা উচিত। অর্থাৎ ২০ লাখ ডলারের একটি বাড়ির জন্য বছরে শুধু রক্ষণাবেক্ষণেই ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার খরচ হতে পারে। তাঁর পরামর্শ, বড় অঙ্কের লটারি জেতার পর বাড়ি কেনার আগে আর্থিক পরামর্শক, হিসাবরক্ষক, সম্পত্তি–সংক্রান্ত আইনজীবী এবং অভিজ্ঞ রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ, লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অর্থ ব্যয় করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে সেই সম্পদ সংরক্ষণ করাও।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক গ্রাহকের বিজয়ী লটারির টিকিট চুরির অভিযোগে ওয়ালমার্টের এক ক্যাশিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গত ১৪ জুন এক ব্যক্তি তার জেতা ২ হাজার ৭০০ ডলারের লটারির পুরস্কারের অর্থ সংগ্রহ করতে স্থানীয় একটি ওয়ালমার্ট স্টোরে যান। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত ক্যাশিয়ার তাকে কৌশলে প্রতারিত করে ওই মূল্যবান টিকিটটি আত্মসাৎ করেন। গ্রেপ্তারকৃত ৪০ বছর বয়সী ওই ক্যাশিয়ারের নাম তামেকা হল। পুলিশের গ্রেপ্তারি হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি তার লটারির টিকিটটি তামেকা হলের হাতে দিলে তিনি জানান যে, এত বড় অঙ্কের পুরস্কারের অর্থ স্টোর থেকে সরাসরি নগদ দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর তিনি গ্রাহককে পুরস্কার উত্তোলনের নিয়মাবলি লেখা একটি রসিদ ধরিয়ে দিলেও মূল লটারির টিকিটটি আর ফেরত দেননি। স্টোরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তামেকা অত্যন্ত সুকৌশলে বিজয়ী টিকিটটি নিজের ইউনিফর্মের বাঁ পকেটে লুকিয়ে রাখেন এবং কাজ শেষে সেটি নিজের সঙ্গেই নিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা পর ভুক্তভোগী ব্যক্তি বুঝতে পারেন যে তার কাছে লটারির টিকিটটি নেই। এরপর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্টোরে ফিরে এসে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের জেরার মুখে তামেকা দাবি করেন, টিকিটটি যে তার কাছেই রয়ে গেছে তা তিনি প্রথমে খেয়াল করেননি। যখন বিষয়টি বুঝতে পারেন, ততক্ষণে ওই গ্রাহক চলে গিয়েছিলেন। তাই তিনি টিকিটটি নিজের কাছে রেখেই বাড়ি ফিরে যান। তবে পুলিশ পরবর্তীতে তামেকার গাড়ি থেকে চুরি যাওয়া ওই টিকিটটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় তামেকা হলের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের চুরির (৭৫০ থেকে ৫ হাজার ডলার সমমূল্যের গ্র্যান্ড থেফট) অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে বিনা বাধায় ভলুসিয়া কাউন্টি ব্রাঞ্চ জেলে পাঠানো হয়েছে।
নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার বাসিন্দা বার্নার্ড বোনাপার্ট মনে করেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের পেছনে রয়েছে প্রিয় বাস্কেটবল দল নিউইয়র্ক নিকসের অনুপ্রেরণা। দলের ধারাবাহিক সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে কেনা একটি লটারির টিকিটই তাঁকে এনে দিয়েছে ৩৪ লাখ ডলারের বিশাল জ্যাকপট। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের লটারির জ্যাকপট জিতেছেন বার্নার্ড বোনাপার্ট। পুরস্কারের চেক গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি মজা করেই বলেন, “সবকিছুর কারণ নিকস। নিকস জিতেছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সত্যিই দারুণ লাগছে।” সাধারণত বড় ক্রীড়া সাফল্যের পর ভক্তরা বিজয় উদযাপনে রাস্তায় নেমে আসেন। কিন্তু নিকসের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর লক্ষাধিক সমর্থকের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেওয়ার বদলে বার্নার্ডকে যেতে হয়েছে কানেকটিকাটে, নিজের জ্যাকপট পুরস্কার গ্রহণ করতে। লটারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২ জুন অনুষ্ঠিত ড্রতে তাঁর কেনা টিকিটের ছয়টি সংখ্যাই মিলে যায়। মজার বিষয় হলো, এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিকসের দীর্ঘ ৫৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর ঠিক একদিন আগে। বার্নার্ড জানান, দলের জয়ের ধারাবাহিকতা তাঁকে নতুনভাবে ভাগ্য পরীক্ষা করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কানেকটিকাট লটারির একটি টিকিট কিনেছিলেন। টিকিটটি তিনি কিনেছিলেন কানেকটিকাটের ওল্ড গ্রিনউইচ এলাকার একটি গালফ গ্যাস স্টেশন থেকে। স্থানীয়ভাবে এই বিক্রয়কেন্দ্রটি লটারিপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। কারণ এর আগেও এখান থেকে একাধিক বড় পুরস্কারজয়ী টিকিট বিক্রি হয়েছে। লটারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেই একই বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২৫ হাজার ডলারের একটি বিজয়ী স্ক্র্যাচ টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে এখান থেকে ১০ লাখ ডলার এবং ২০২৪ সালে ৪৩ লাখ ডলারের আরেকটি বিজয়ী টিকিট বিক্রি হয়েছিল। লটারিতে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বার্নার্ড। তিনি একটি বাড়ি কিনতে চান এবং তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়ার কোনো এলাকায় বসবাসের কথা ভাবছেন। তবে স্থান পরিবর্তন করলেও নিজের শহর এবং প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। চেক গ্রহণের সময় তিনি বলেন, “আমি নিউইয়র্ককে ভালোবাসি, আর কানেকটিকাট লটারিকেও ভালোবাসি।” যুক্তরাষ্ট্রে লটারির মাধ্যমে রাতারাতি ভাগ্য বদলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে ক্রীড়া অনুপ্রেরণা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং ভাগ্যের এমন মিলন খুব কমই দেখা যায়। তাই নিকসের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকের এই জ্যাকপট জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ক্রীড়াপ্রেমী মজা করে বলছেন, নিকস শুধু শিরোপাই জেতেনি, একজন সমর্থকের জীবনও বদলে দিয়েছে।
নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়ার চাপে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের বহু পরিবার যখন উপযুক্ত বাসস্থান খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন আশার আলো হয়ে উঠেছে শহরের বিভিন্ন সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত আবাসন লটারিতে অংশ নিয়ে অনেক বাসিন্দা তুলনামূলক কম ভাড়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রুকলিন, কুইন্স এবং ম্যানহাটনের বেশ কয়েকটি আবাসন প্রকল্প আবেদনকারীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো ‘৩২৫ বন্ড স্ট্রিট অ্যাপার্টমেন্টস’। ব্রুকলিনের গোয়ানাস এলাকায় অবস্থিত এই আবাসন প্রকল্পে আধুনিক নকশার স্টুডিও, এক ও দুই বেডরুমের ইউনিট রয়েছে। এলাকাটির দ্রুত উন্নয়ন এবং গণপরিবহনের সুবিধার কারণে প্রকল্পটি আবেদনকারীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কুইন্সের সানিসাইড এলাকায় অবস্থিত ‘দ্য বারনেট’ নামের আবাসন প্রকল্পটিও বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। ৫০-২৫ বারনেট অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এই ভবনে বিভিন্ন আয়ের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত একাধিক ইউনিট রয়েছে। স্টুডিও থেকে শুরু করে বড় পরিবারের জন্য উপযোগী ইউনিটও থাকায় এটি বহু আবেদনকারীর নজর কেড়েছে। একইভাবে কুইন্সের নদীতীরবর্তী ‘অ্যাস্টোরিয়া কোভ ফেজ ওয়ান-এ’ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কের অন্যতম পরিচিত সাশ্রয়ী আবাসন উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ম্যানহাটনে সহজ যাতায়াত, সুন্দর পরিবেশ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কারণে এই প্রকল্পে আগ্রহের কমতি নেই। ম্যানহাটনের আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ‘এরিয়া প্ল্যাট ৭’ প্রকল্পও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। ৭-১৩ প্ল্যাট স্ট্রিটে নির্মিত বহুতল এই ভবনে নির্ধারিত সংখ্যক সাশ্রয়ী ইউনিটের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যয়বহুল এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে আবাসনের সুযোগ থাকায় প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে ডাউনটাউন ব্রুকলিনের ‘১৬৫ উইলোবি স্ট্রিট অ্যাপার্টমেন্টস’ প্রকল্পটিও আবেদনকারীদের আগ্রহের তালিকায় রয়েছে। ব্যবসায়িক কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাবওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় এর অবস্থানকে বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ম্যানহাটনের ‘লাস রাইসেস অ্যাপার্টমেন্টস’ প্রকল্পটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসন সুযোগ তৈরি করেছে। এখানে স্টুডিও থেকে শুরু করে একাধিক বেডরুমের ইউনিট রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের পরিবারের চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব আবাসনের জন্য সরাসরি ভাড়া চুক্তি করা হয় না। বরং আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিতদের পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ভাড়ার বাজারে সরকারি সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিগুলো হাজারো পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী, কর্মজীবী পরিবার এবং সীমিত আয়ের বাসিন্দাদের জন্য এসব প্রকল্প একটি বাস্তবসম্মত আবাসন বিকল্প তৈরি করছে। চলমান ও নতুন আবাসন লটারির বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহীরা নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট প্ল্যাটফর্মে ভিজিট করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবিশ্বাস্য এক ঘটনায় মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উদ্ধার হলো ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিজয়ী লটারির টিকিট। নিউ জার্সি লটারির পিক-6 ড্রয়ের এই টিকিটটি কেনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২২ মে, রোজল্যান্ড এলাকার একটি এক্সন গ্যাস স্টেশন থেকে। কিন্তু টিকিট কেনার পর সেটি কোথায় রাখা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুলে যান ক্রেতা। লটারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া একটি বিজয়ী টিকিটের খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে টিকিটটি কোন গ্যাস স্টেশন থেকে কেনা হয়েছিল, সেটিও উল্লেখ করা হয়। খবরটি দেখে ওই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, এটি হয়তো তারই কেনা টিকিট হতে পারে, কারণ ওই গ্যাস স্টেশনটি ছিল তার নিয়মিত যাতায়াতের জায়গা। এরপর তিনি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মীরা জানান, তাদের এখানে নিয়মিত খুব কম সংখ্যক মানুষ Pick-6 টিকিট কিনতেন এবং তাকে বাড়িতে থাকা পুরোনো টিকিটগুলো ভালোভাবে খুঁজে দেখতে বলেন। পরে বাড়িতে ফিরে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে একটি পুরোনো প্যান্টের পকেটে কুঁচকানো অবস্থায় পাওয়া যায় বহু কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, টিকিটটির মেয়াদ শেষ হতে তখন বাকি ছিল মাত্র আট দিন। অর্থাৎ আর কিছুদিন দেরি হলে প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যেত। এই ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক বাস্তব ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের এক স্কুল বাস ড্রাইভার লটারিতে ৫০ লাখ ডলার জিতে রাতারাতি আলোচনায় এসেছেন। সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তির নাম মরিস উইলিয়ামস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বাস চালকের কাজ করছেন। স্থানীয় লটারি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মরিস একটি সেভেন ইলেভেন দোকানে থেমে আগের একটি লটারিতে জেতা ৫০ ডলারের পুরস্কার ভাঙান। পরে সেই অর্থ দিয়েই তিনি আরেকটি স্ক্র্যাচ-অফ লটারির টিকিট কেনেন। গাড়িতে বসে টিকিটটি পরীক্ষা করার সময় প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি যে তিনি জ্যাকপট জিতেছেন। পরে টিকিট স্ক্যান করার পর দেখা যায়, সেটিই ছিল ৫০ লাখ ডলারের শীর্ষ পুরস্কারজয়ী টিকিট। মরিস বলেন, “প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। স্ক্যান করার পর দেখি মিলেছে ৫৯ নম্বর, আর মজার বিষয় হলো কয়েকদিন আগেই আমার বয়স ৫৯ বছর হয়েছে।” বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের খবরটি তিনি প্রথমে তার মাকে জানান। মরিসের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা তাকে শান্ত থাকতে বলেন এবং এই আনন্দের মুহূর্তে পাশে থাকেন। পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যয় করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মরিস জানান, সবার আগে তিনি তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি কিনতে চান। এছাড়া বাকি অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করবেন। এদিকে, বিজয়ী টিকিট বিক্রি করার কারণে সেভেন-ইলেভেন দোকানটিও ৫ হাজার ডলারের বিশেষ বোনাস পাবে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মরিসের মায়ের জন্য বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করছেন।
ভাগ্যের চাকা কখন কার দিকে ঘোরে, তা বলা মুশকিল। মাত্র ১০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা) খরচ করে একটি লটারি কিনে রাতারাতি প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অমূল্য এক শিল্পকর্মের মালিক হলেন এক ফরাসি নাগরিক। কিংবদন্তি শিল্পী পাবলো পিকাসোর আঁকা একটি তেলচিত্র জিতে নিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সের প্যারিসে আয়োজিত এই বিশেষ লটারি বা র্যাফেল ড্র-টির মূল লক্ষ্য ছিল আলঝেইমার্স (স্মৃতিভ্রম) রোগের গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা। ড্র-এর বিজয়ী হিসেবে আরী হোদারা নামের এক ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হয়। লটারিতে জেতা ছবিটি হলো ১৯৪১ সালে পিকাসোর আঁকা বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'তেত দ্য ফাম' (Tête de Femme)। এটি একটি অসাধারণ গুয়াশ শিল্পকর্ম, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ ইউরো বা ১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিজয়ী আরী হোদারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, তিনি মূলত একটি মহৎ কাজে সহায়তা করতেই টিকিটটি কিনেছিলেন। কিন্তু সেই টিকিটে যে খোদ পিকাসোর আঁকা আসল ছবি তার ঘরে আসবে, তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই লটারির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ আলঝেইমার্স নিয়ে গবেষণার কাজে ব্যয় করা হবে। শিল্পকলার মাধ্যমে মানবহিতৈষী কাজে মানুষকে উৎসাহিত করতেই এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো পিকাসোর শিল্পকর্ম দিয়ে এই ধরণের দাতব্য র্যাফেল ড্র আয়োজন করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।