যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি লটারির জ্যাকপট জেতেন মানুষ, জিতলে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব?
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় থাকেন, সেটি শুধু লটারির জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনাই নয়, সেই অর্থ দিয়ে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব, সেটিও অনেকাংশে নির্ধারণ করতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু অঙ্গরাজ্যে অন্যগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মানুষ লটারির বড় পুরস্কার জিতছেন। একই সঙ্গে এসব রাজ্যে জ্যাকপট জিতলে কী ধরনের বিলাসবহুল বাড়ি কেনা সম্ভব, সে চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।
রিয়েল এস্টেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম Realtor.com প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Vegas Insider-এর যুক্তরাষ্ট্রের লটারি–সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, লটারির জ্যাকপট বিজয়ীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মিশিগান। এ পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে ৪৬টি জ্যাকপট জয়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বছরে গড়ে ৭২ দশমিক ৭ জন এবং প্রতি ১০ লাখ বাসিন্দার বিপরীতে ৯৮ দশমিক ৪ জন বিজয়ীর হিসাব পাওয়া গেছে।
মিশিগানের পরের অবস্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, মেরিল্যান্ড, আইওয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড ও মিসৌরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারীদের জন্য বড় অঙ্কের লটারি জেতা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং বিলাসবহুল আবাসনের স্বপ্নও বাস্তবে রূপ দিতে পারে। তবে সেই স্বপ্নের বাড়ির ধরন নির্ভর করবে পুরস্কারের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসন বাজারের ওপর।
মিশিগান: কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিলাসবহুল বাড়ি
ডেট্রয়েটভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান Max Broock Realtors-এর সহযোগী ব্রোকার এরিকা কলিকা সুইঙ্ক বলেন, মেট্রো ডেট্রয়েটে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলার, আর পুরো মিশিগানে তা প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার।
তাঁর মতে, কর পরিশোধের পরও যদি কয়েক মিলিয়ন ডলার হাতে থাকে, তাহলে বার্মিংহাম, ব্লুমফিল্ড হিলস, গ্রস পয়েন্ট কিংবা লেক হিউরনের তীরবর্তী এলাকায় ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি সহজেই কেনা সম্ভব। একই বাজেটে ডেট্রয়েট শহরে ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিংবা অভিজাত পেন্টহাউসও কেনা যেতে পারে।
ভার্জিনিয়া: জ্যাকপট জিতলে মিলতে পারে বিলাসবহুল প্রাসাদ
উত্তর ভার্জিনিয়ায় একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ ডলার। আরলিংটনভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ডেল জিন্টি বলেন, বড় অঙ্কের লটারি জিতলে আর্লিংটন, ম্যাকলিন, গ্রেট ফলস ও ভিয়েনা এলাকায় ৩০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলারের কাস্টম নির্মিত বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনা সম্ভব।
এসব বাড়িতে সাধারণত রিসোর্ট–ধাঁচের সুইমিং পুল, হোম থিয়েটার, আধুনিক রান্নাঘর, হট টাব এবং অন্যান্য বিলাসবহুল সুবিধা থাকে।
নিউ জার্সি: ইয়ট রাখার সুযোগসহ জলপাড়ের বাড়ি
নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৭ লাখ ডলারের বেশি।
ডগলাস এলিম্যান রিয়েল এস্টেটের বিক্রয় প্রতিনিধি ক্রিস ক্যাটজ বলেন, বড় জ্যাকপট জয়ীরা সাধারণত রামসন, মনমাউথ বিচ ও ওশানপোর্ট এলাকায় ৪০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলারের জলপাড়ের বাড়ির প্রতি আগ্রহী হন। এসব বাড়িতে ব্যক্তিগত নৌঘাট, ইয়ট রাখার ব্যবস্থা এবং আটলান্টিক মহাসাগরে সহজ যাতায়াতের সুযোগ থাকে।
অন্যদিকে, যারা রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা কম চান, তাদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টও আকর্ষণীয় বিকল্প। এসব ভবনের পেন্টহাউসের দাম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলারের মধ্যে।
ক্যালিফোর্নিয়া: একবার লটারি জিতলেও যথেষ্ট নাও হতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়া।
নিউপোর্ট বিচ এলাকায় একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ ডলার। স্থানীয় ব্রোকার পাবলো রেনার বলেন, প্রকৃত অর্থে ‘স্বপ্নের বাড়ি’ কিনতে হলে অন্তত ১ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বাজেট প্রয়োজন। আর অনেক বিলাসবহুল বাড়ির দাম ২ থেকে ৩ কোটি ডলার পর্যন্তও হতে পারে।
এসব বাড়িতে প্রশান্ত মহাসাগরের দৃশ্য, ব্যক্তিগত নৌঘাট, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, ছাদবাগান, লিফট এবং সমুদ্রসৈকতে সরাসরি প্রবেশের মতো সুবিধা থাকে।
নিউইয়র্ক: পুরস্কারের অঙ্কই নির্ধারণ করবে বাড়ির ধরন
নিউইয়র্ক সিটিতে লটারির অর্থ দিয়ে কী ধরনের বাড়ি কেনা যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে পুরস্কারের পরিমাণের ওপর।
ব্রাউন হ্যারিস স্টিভেন্সের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ম্যাথিউ মেলিঞ্জার বলেন, কয়েক মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার দিয়ে শহরের ভালো এলাকায় একটি মানসম্মত অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সম্ভব। তবে ম্যানহাটনের অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম, ঐতিহাসিক ভবন বা টাউনহাউসের দাম কয়েক কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে বড় অঙ্কের জ্যাকপট জিতলেও অনেক সময় সেটি মানুষের ধারণার তুলনায় কম হতে পারে।
শুধু বাড়ি কিনলেই দায়িত্ব শেষ নয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লটারি জেতার পর অনেকেই বাড়ির দাম নিয়েই ভাবেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বিবেচনা করেন না।
এরিকা সুইঙ্কের মতে, বিলাসবহুল বাড়ি কিনে ফেলাই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। সম্পত্তি কর, বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কর্মচারীদের বেতন, বাগান পরিচর্যা এবং নিয়মিত সংস্কার বাবদ প্রতি বছর কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
তিনি জানান, বিশেষ করে পুরোনো বা উচ্চমূল্যের বাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি বছর বাড়ির মোট মূল্যের ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ধরা উচিত। অর্থাৎ ২০ লাখ ডলারের একটি বাড়ির জন্য বছরে শুধু রক্ষণাবেক্ষণেই ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার খরচ হতে পারে।
তাঁর পরামর্শ, বড় অঙ্কের লটারি জেতার পর বাড়ি কেনার আগে আর্থিক পরামর্শক, হিসাবরক্ষক, সম্পত্তি–সংক্রান্ত আইনজীবী এবং অভিজ্ঞ রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ, লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অর্থ ব্যয় করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে সেই সম্পদ সংরক্ষণ করাও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি এবং নিয়মিত আয় থাকলেও পছন্দের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী সমস্যায় পড়তে পারেন। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা বা দুর্বল ক্রেডিট। তবে শুধু গ্রিন কার্ড থাকা বা না থাকার সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বাড়িওয়ালা বা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সাধারণত আবেদনকারীর আয়, ক্রেডিট রিপোর্ট, আগের রেন্টাল হিস্ট্রি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে বহুল ব্যবহৃত ফিকো স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৮৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফিকোর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ৬৭০ থেকে ৭৩৯ স্কোরকে ‘গুড’, ৭৪০ থেকে ৭৯৯ ‘ভেরি গুড’ এবং ৮০০ বা তার বেশি স্কোরকে ‘এক্সেপশনাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার জন্য সারা দেশে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট ক্রেডিট স্কোর নেই। বাড়িওয়ালা, প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, এলাকার রেন্টাল মার্কেট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর প্রয়োজনীয় স্কোর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোরের পাশাপাশি ক্রেডিট রিপোর্টে বিল পরিশোধের ইতিহাস, ঋণের পরিমাণ, কালেকশন অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য আর্থিক তথ্যও দেখে। এ কারণে ‘ক্রেডিট স্কোর জিরো’ কথাটিও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বা আগে কোনো ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা ব্যক্তির পর্যাপ্ত ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে অনেক সময় তার স্কোর তৈরি করার মতো তথ্যই থাকে না। অর্থাৎ তার স্কোর শূন্য হওয়ার বদলে কোনো স্কোর নাও থাকতে পারে। একে সাধারণভাবে ‘ক্রেডিট ইনভিজিবল’ বা সীমিত ক্রেডিট হিস্ট্রি বলা হয়। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি গড়ে উঠলে হাউজিং, ক্রেডিট কার্ড ও বিভিন্ন ধরনের লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। নিয়মিত ও সময়মতো পেমেন্ট করা একটি শক্তিশালী ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন অভিবাসীদের একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, ফোন বিল বা নিয়মিত রেন্ট দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব পেমেন্ট ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হয়। বাস্তবে সব ফোন, ইউটিলিটি বা রেন্ট পেমেন্ট নিয়মিতভাবে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয় না। তবে নির্দিষ্ট রেন্ট রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো দেওয়া ভাড়ার তথ্য ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হলে তা ক্রেডিট তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে একটি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করা একটি প্রচলিত উপায়। এ ধরনের কার্ডে সাধারণত আগে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। এরপর কার্ডটি ব্যবহার করে প্রতি মাসে সময়মতো বিল পরিশোধ করলে সেই পেমেন্ট হিস্ট্রি ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরি হতে পারে। শুধু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই অবশ্য ভালো স্কোর নিশ্চিত হয় না। সময়মতো পেমেন্ট করা, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অল্প সময়ে অনেক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন না করাও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলেও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া অসম্ভব নয়। কোনো কোনো বাড়িওয়ালা স্থায়ী চাকরি ও পর্যাপ্ত আয়ের প্রমাণ, আগের বাড়িওয়ালার রেফারেন্স অথবা গ্যারান্টর বিবেচনা করতে পারেন। আবার অনেক প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিজস্ব টেন্যান্ট স্ক্রিনিং নীতি থাকে। চাকরির ক্ষেত্রেও ক্রেডিট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কিছু নিয়োগকর্তা আইনসঙ্গতভাবে এবং আবেদনকারীর লিখিত অনুমতি নিয়ে ক্রেডিট রিপোর্টসহ ব্যাকগ্রাউন্ড রিপোর্ট দেখতে পারেন। তবে তারা সাধারণত চাকরির আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর দেখতে পান না। রাজ্য ও স্থানীয় আইন অনুযায়ী এ ধরনের যাচাইয়ের ওপর আরও বিধিনিষেধ থাকতে পারে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ হলেও সেটি ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রির বিকল্প নয়। নতুন অভিবাসীদের জন্য শুরু থেকেই নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট সম্পর্কে জানা, সময়মতো পেমেন্ট করা এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট তৈরি করা ভবিষ্যতে অ্যাপার্টমেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনবার এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ, ৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান, পরে জানলেন বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, এবার সেখানেই ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে তিনি
শিশুর গুরুতর আঘাত এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজারের বেশি বেবি জাম্পার ও সুইং রিকল করা হয়েছে। ফেডারেল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের এসব পণ্য অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন বা সিপিএসসি জানিয়েছে, রিকলের আওতায় রয়েছে ট্যালেকো গিয়ারের প্রায় ৪১ হাজার ১০০টি বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান বেবি জাম্পার ও সুইং। সিপিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের সময় এসব পণ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে যেতে পারে। এতে শিশুর পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ঝুলন্ত রেস্ট্রেইন্ট স্ট্র্যাপ এবং সিটের খোলা অংশ শিশুর গলায় আটকে শ্বাসরোধের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে এসব পণ্য নিয়ে ৫২টি ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩২টি ঘটনায় শিশু আহত হয়েছে। আঘাতের মধ্যে মাথায় আঘাত এবং নাক দিয়ে রক্তপাতের ঘটনাও রয়েছে। রিকলের আওতায় থাকা পণ্যগুলো জি ট্যালেকো গিয়ার ব্র্যান্ডের। এর মধ্যে বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান জাম্পার ও সুইংয়ের একাধিক মডেল রয়েছে। পণ্যগুলো কালো, সাদা, ধূসর, গোলাপি, নীল ও সবুজ রঙে বিক্রি হয়েছে। রিকল হওয়া মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে Jumper-01 মডেলের বেবি জাম্পার, Swing-1 মডেলের বেবি সুইং এবং Jumper-01 মডেল নম্বরযুক্ত দুই ধরনের টু-ইন-ওয়ান জাম্পার ও সুইং। ফলে বাসায় এ ধরনের পণ্য থাকলে অভিভাবকদের মডেল নম্বর মিলিয়ে দেখা জরুরি। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং ট্যালেকো গিয়ারের নিজস্ব অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্যগুলো বিক্রি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় দেশজুড়ে বহু পরিবারের কাছে এসব পণ্য থাকতে পারে। ট্যালেকো গিয়ার গ্রাহকদের রিকল হওয়া পণ্য অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা ফুল রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে রিফান্ড পেতে পণ্যটি নষ্ট করে তার ছবি কোম্পানির কাছে জমা দিতে হবে। বিশেষ করে যেসব পরিবার কয়েক বছর আগে বেবি জাম্পার বা সুইং কিনে এখন ছোট সন্তান, আত্মীয়ের শিশু কিংবা অন্য কারও জন্য সেটি ব্যবহার করছেন, তাদেরও মডেল নম্বর পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ রিকলের আওতায় থাকা পণ্যগুলোর বিক্রি শুরু হয়েছিল পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে। রিকল মানেই প্রতিটি পণ্যে দুর্ঘটনা ঘটেছে এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট মডেলে এমন নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যা ব্যবহারের সময় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই রিকলের আওতায় থাকা পণ্য ব্যবহার চালিয়ে না গিয়ে সিপিএসসির নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’, যেভাবে আবেদন করবেন
ম্যানহাটনে বাসা ভাড়ায় ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড! এক বছরে লিস্টিং কমেছে ৩৯ শতাংশ
গর্ভপাতের জন্য সারোগেটকে চাপ, জন্মের পর শিশু গেল বাবা-মায়ের কাছে
ফ্লোরিডার পাসকো কাউন্টির একটি কবরস্থানে একই পরিবারের কয়েকটি কবর ভাঙচুর এবং স্মৃতিচিহ্ন চুরির অভিযোগে এক নারীকে অন্তত পাঁচটি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মিরান্ডা ইংলিশ বলেছেন, তার শিশুপুত্রের কবরসহ পরিবারের একাধিক কবর থেকে এমন কিছু জিনিস হারিয়েছে, যেগুলোর বিকল্প আর কখনোই পাওয়া সম্ভব নয়। ঘটনাটি ঘটেছে লাকুচির একটি কবরস্থানে। পাসকো কাউন্টি শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিন মিক্সন নামে এক নারীকে কবর ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মিরান্ডা ইংলিশ জানান, ভাঙচুর হওয়া কবরগুলোর একটি তার শিশুপুত্র ল্যামন্ট সিম্পসনের। ২০০২ সালে মারা যাওয়ার পর তাকে ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছেলের কবর দেখতে সেখানে নিয়মিত যান। শিশুটিকে তার বাবা ল্যামন্ট সিম্পসন সিনিয়র এবং মিরান্ডার বাবা উইলিয়াম ক্লাউডের মাঝখানে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের জন্য জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়জনদের স্মরণ করার শান্ত একটি স্থান ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই শান্তির জায়গাটিই বদলে গেছে। মিরান্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, ল্যামন্ট সিম্পসন সিনিয়রের কবরে নতুন একটি হেডস্টোন বসানোর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই সেটি চুরি হয়ে যায়। এর পাশাপাশি পরিবারের কাছে ‘গ্র্যানি ডি’ নামে পরিচিত তার শাশুড়ির ছাই রাখা একটি আর্নও নিখোঁজ রয়েছে। সেটি এখনো উদ্ধার করা গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। শুধু হেডস্টোন বা আর্ন নয়, বছরের পর বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের কবরে রাখা বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নও চুরি বা নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মিরান্ডা। একটি বেঞ্চ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কবরে রাখা কয়েকটি ছবির ওপরের কাচও ভাঙা হয়েছে। মিরান্ডা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে প্রতি বছর তার জন্মদিনে কবরস্থানে আসেন তিনি। ছেলে বেঁচে থাকলে যে বয়স হতো, সেই সংখ্যার সমান বেলুন উড়িয়ে দিনটি স্মরণ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ বছর ধরে এই রীতি অনুসরণ করছেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক ভাঙচুরের পর কবরস্থানে যাওয়ার অনুভূতিই বদলে গেছে। পরিবারের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতিচিহ্ন আর নতুন করে তৈরি করা সম্ভব নয়। ছেলের কবরে থাকা কিছু অ্যাঞ্জেল বা দেবদূতের মূর্তি তার বাবা কিনে দিয়েছিলেন। এখন সেই বাবাও একই কবরস্থানে শায়িত। ফলে এসব জিনিসের আবেগী মূল্য পরিবারের কাছে অনেক বেশি। অভিযুক্ত ক্রিস্টিন মিক্সনকে এর আগে কবরস্থানের আশপাশে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন মিরান্ডা। তবে কেন তিনি পরিবারের কবরগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছেন বা এসব জিনিস নেওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা তিনি জানেন না। পাসকো কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, কবর ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় মিক্সনের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে নিখোঁজ সব জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরও অভিযুক্ত নারীর প্রতি কঠোর শাস্তির চেয়ে তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন মিরান্ডা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চান অভিযুক্ত ব্যক্তি সাহায্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। পরিবারের কাছে কবরস্থানটি এতদিন ছিল হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাওয়ার একটি জায়গা। এখন সেই জায়গাতেই ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা তাদের পুরোনো শোককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
নিউজার্সির সৈকতে ঘুরতে গিয়ে মিলল লক্ষ বছর আগের বিলুপ্ত দানব হাঙর মেগালোডনের দাঁত
ইমরানের মৃত্যুর গুঞ্জন, দেখা না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে নামবেন আফ্রিদি