সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

চিকিৎসাসেবার আগে জানতে হবে নাগরিকত্ব! মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিলের প্রস্তাব

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১১:৪৬
ইউএস ক্যাপিটলে ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ চিপ রয়। ছবি: গেটি ইমেজস
ইউএস ক্যাপিটলে ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ চিপ রয়। ছবি: গেটি ইমেজস

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য চিপ রয় মার্কিন আইনসভায় একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশটির যেসব হাসপাতাল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তহবিল গ্রহণ করে, তাদের চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিবাসন মর্যাদা বা আইনি বৈধতার তথ্য সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। চিপ রয়ের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের চিকিৎসায় করদাতাদের কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা স্পষ্ট করার মাধ্যমেই কেবল এই খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

"ইললিগাল এলিয়েন পেশেন্ট রিপোর্টিং অ্যাক্ট" নামের এই প্রস্তাবিত আইনের আওতায়, ফেডারেল স্বাস্থ্য তহবিল পাওয়া হাসপাতালগুলোকে রোগীদের ভর্তির সময় সরাসরি জিজ্ঞেস করতে হবে—তারা মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, বৈধ ভিসাধারী নাকি অন্য কোনো উপায়ে আইনগতভাবে দেশে আছেন। যদি কোনো হাসপাতাল রোগীদের এই তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত প্রতিবেদন আকারে সরকারের কাছে জমা না দেয়, তবে তারা সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির তহবিল হারাতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন রোগীদের জরুরি সেবা ব্যাহত না হয়, সেজন্য ভর্তির ফরমে স্পষ্ট লেখা থাকতে হবে যে—রোগীরা এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও তাদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না।

 

ইতিমধ্যে টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির (মেডিকেয়ার ও মেডিকেড) মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নেওয়া অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বিভিন্ন অভিবাসী এবং রোগী অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর আইনি মর্যাদা বা নাগরিকত্ব কখনোই বাধা হওয়া উচিত নয়।

 

বর্তমানে প্রচলিত মার্কিন আইন অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোর জন্য রোগীদের নাগরিকত্ব বা বৈধতার তথ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ১৯৮৬ সালে পাস হওয়া "ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড লেবার অ্যাক্ট" বা "ইএমটিএএলএ" আইনের অধীনে সরকারি তহবিলভুক্ত যেকোনো হাসপাতাল জরুরি বিভাগে আসা যেকোনো রোগীকে পরীক্ষা করতে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এক্ষেত্রে রোগীর বিল পরিশোধের সক্ষমতা, বীমা সুবিধা কিংবা অভিবাসন মর্যাদা দেখার কোনো সুযোগ নেই।

 

সাধারণত, বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা অধিকাংশ সরকারি স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা পান না। তবে তাদের জরুরি চিকিৎসার খরচ অনেক সময় বিশেষ জরুরি তহবিলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। এর আগে টেক্সাসের গভর্নর ২০২৪ সালে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোকে রোগীদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে সময় নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন এসিএলইউ জানিয়েছিল, হাসপাতালগুলো প্রশ্ন করতে বাধ্য হলেও রোগীরা চাইলে উত্তর না দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।

 

প্রস্তাবিত এই বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে "ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্ম" এর পরিচালক জো চ্যাথাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন প্রশাসন স্বাস্থ্য খাতে অবৈধ অভিবাসনের প্রকৃত খরচ করদাতাদের কাছে আড়াল করে রেখেছে। ফ্লোরিডার এক বছরের তথ্যে দেখা গেছে, সেখানে করদাতাদের ৫৬৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পুরো দেশজুড়ে এই খরচের আনুমানিক পরিমাণ অন্তত ২১ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

 

তবে বিলটি সরাসরি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে (প্রতিনিধি সভা ও সিনেট) বিভিন্ন কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শুনানির পর এটি পাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্কিন রাজনীতিতে একক কোনো সদস্যের আনা বিল অনেক সময়ই শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির টেবিলে পৌঁছাতে পারে না।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মারা যাওয়া ১৪ বছর বয়সী চেলসি ডিহলের স্মৃতিতে বছরভিত্তিক তার বাবার সমাধির পাশে দাঁড়ানো ছবি। ছবি: সংগৃহীত
প্রতি বছর মেয়ের কবরে ফেরেন বাবা, ছবিতে ধরা পড়ে অশ্রুসিক্ত মুহূর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ল্যানোকা হারবারের ১৪ বছর বয়সী চেলসি ডিহল ২০২৪ সালের ৩ মার্চ মারা যায়। মৃত্যুর পর তার বাবাকে মেয়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরোনো ছবিতে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে দেখা যায়, আর পরের ছবিগুলোতে একই বাবাকে মেয়ের সমাধির পাশে দেখা যাচ্ছে।   চেলসি লেসি টাউনশিপ মিডল স্কুলের অনার রোলের শিক্ষার্থী ছিল। পাশাপাশি সে প্রাইড এলিট কম্পিটিটিভ চিয়ারের সদস্য ছিল। চিয়ারলিডিংয়ের বাইরে ফুটবল ও আইস স্কেটিংও ছিল তার পছন্দের।   চেলসি ছিল ব্রায়ান ডিহল ও লিন কনক্লিনের মেয়ে। তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। তার স্মৃতি ধরে রাখতে লেসি টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্কলারশিপ ফান্ডও গড়ে তোলা হয়েছে।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বাবা ব্রায়ান প্রতি বছর মেয়ের কবরের কাছে গিয়ে একটি করে সেলফি তোলেন। তবে এই বার্ষিক রীতির দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়, চেলসির পরিবার তার স্মৃতিকে একটি ইতিবাচক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রাখার চেষ্টা করছে। তার নামে গড়ে ওঠা স্কলারশিপ ফান্ডটি লেসি টাউনশিপের শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল।    ভাইরাল ছবিগুলোর পেছনে তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আবেগঘন গল্প নয়, রয়েছে ১৪ বছরের এক কিশোরীর জীবন, তার পরিবার এবং তাকে হারানোর দীর্ঘস্থায়ী শোক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১১:৩০
নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক তথ্য সঠিক নয়। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কমানোর সুযোগ, জানুন নিয়ম

নিউ জার্সির ট্রেন্টনে রোববার ভোরে বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে নিউ জার্সির ট্রেন্টনে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে নিহত ২

লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের আদেশের জবাবে কানাডার তীরে স্থাপন করা বিশাল সাইনবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

‘ট্রাম্প চলে গেলেও নাম থাকবে লেক অন্টারিও!’ নাম বদলের জবাবে বিশাল সাইনবোর্ড কানাডার

উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকার চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাড়ির মালিকরা। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের হাতেই থাকবে আবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় বাড়ির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার ওপর মূল ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। ভিলেজ অব টাউন লেক এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ২০২০ সালে করা একটি চুক্তির কারণে আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপারের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ২০৪০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকার মূল ডেভেলপার ডেভিড পিয়ারসন ২০২০ সালে নিজের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই চুক্তি করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুক্তিটির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটি এমন কিছু দায়িত্ব পেয়েছে, যেগুলো সাধারণত বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেভেলপারের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক।   চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিকে বছরে কমপক্ষে ৭৯ হাজার ডলার অথবা বাড়ির মালিক সমিতির মোট বাজেটের ২০ শতাংশ, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়ির মালিকদের দাবি, গত কয়েক বছরে সমিতির বাজেট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এর ফলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পারিশ্রমিকও বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষের একটি উদাহরণ হিসেবে একটি বেড়া নিয়ে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। বাড়ির মালিক জেসন সার্সি জানান, তিনি একটি বেড়া নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার খরচ করেছিলেন। পরে সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। তার দাবি, এ বিষয়ে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ বা যথাযথ যোগাযোগ পাননি।   বাড়ির মালিকদের আরও অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। একজন বাসিন্দা অন্য কয়েকটি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খরচের হিসাব নেন। সেখানে সর্বোচ্চ প্রস্তাবও প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।   তবে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাড়ির মালিক সমিতির সভাপতি বেকি রিপিক এই ব্যবস্থাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের এলাকার ব্যবস্থাপনা কাঠামোটি অন্য সাধারণ বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় আলাদা। তার মতে, সমিতির বোর্ডের দায়িত্বও প্রচলিত বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় সীমিত। তিনি আরও দাবি করেন, অধিকাংশ বাসিন্দা এলাকায় সন্তুষ্ট এবং যারা আপত্তি তুলছেন তারা সংখ্যায় কম।   এদিকে চুক্তির বৈধতা ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জর্জিয়ার বাড়ির মালিক সমিতি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে সহায়তাকারী আইনজীবী র‌্যান্ডি লিপশুটজ বলেছেন, চুক্তিটি যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক নিজেই অবৈধ নাও হতে পারে। তবে বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের ক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আলাদা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   বিষয়টি সামনে আসার সময় জর্জিয়ায় বাড়ির মালিক সমিতি নিয়ে নতুন অভিযোগ ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাসিন্দাদের অভিযোগও ভবিষ্যতে ওই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।   এলাকার বাড়ির মালিকদের মূল উদ্বেগের জায়গা হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা। তাদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত চলমান চুক্তির কারণে বাড়ির মালিক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেভেলপারের প্রভাব সহজে শেষ হচ্ছে না। অন্যদিকে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থাটিকে স্বতন্ত্র ও বিশেষ কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   সূত্র: দ্য কুল ডাউন, ১১অ্যালাইভ

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১০:২
অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে লাভজনক নয় অজুহাতে এক রোগীর চিকিৎসা বাতিল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ছবি সংগৃহীত

অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে রোগীকে ফোন, ‘খরচ লাভজনক নয়’ বলে চিকিৎসা বাতিল

কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মা অ্যাশলি টন্টনের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন টেলর সুইফট। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মাকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিলেন টেলর সুইফট

বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের সাধারণ মানুষের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী
আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী

কর্মীদের বেতন নিয়ে ক্ষোভের জেরে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্টারিওতে একটি বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২৯ বছর বয়সী এক গুদামকর্মীর বিরুদ্ধে। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল ভোরে লাগা ওই আগুনে ১২ লাখ বর্গফুটের পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাবে, এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।   অভিযুক্ত চামেল আবদুলকারিম হাইল্যান্ড শহরের বাসিন্দা। তিনি ওই গুদামে সরাসরি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কিম্বারলি-ক্লার্কের কর্মী ছিলেন না। তৃতীয় পক্ষের লজিস্টিকস কোম্পানি এনএফআই ইন্ডাস্ট্রিজের হয়ে সেখানে কাজ করতেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল রাত ১২টা ৩৪ মিনিটের দিকে অন্টারিওর একটি বড় ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুনের খবর পায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আবদুলকারিম গুদামের ভেতরে কাগজজাত পণ্যে ভরা একাধিক প্যালেটে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি সেই ঘটনার ভিডিওও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   ভিডিওতে বেতন নিয়ে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করা বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, কর্মীদের জীবনযাপনের মতো বেতন দেওয়া হলে এমন ঘটনা ঘটত না। পরে ফোন কল ও মেসেজেও তিনি কর্মীদের উৎপাদিত মূল্যের আরও বেশি অংশ দেওয়ার কথা বলেন এবং শেয়ারহোল্ডারদের সমালোচনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিপুল পরিমাণ টিস্যু, টয়লেট পেপার ও অন্যান্য কাগজজাত পণ্য মজুত ছিল। প্রচণ্ড আগুনে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং পুরো ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী কাজ করেন। ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ভবনটির মূল্য এবং ভেতরে থাকা পণ্যের ক্ষতি মিলিয়ে মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ৬০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে কাগজজাত পণ্যের মূল্যই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ঘটনার পর আবদুলকারিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একাধিক অগ্নিসংযোগের অভিযোগের পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়ে বাণিজ্যিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   ১৩ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আবদুলকারিম অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।   তদন্তকারীরা এফবিআই, ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস, অন্টারিও পুলিশ বিভাগ এবং অন্টারিও ফায়ার বিভাগের সঙ্গে মিলে তদন্ত চালাচ্ছেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদুলকারিমকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৮:৫৯
ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায় ছবি: সিএনএন

ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায়

১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির

১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির

এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের

এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের

0 Comments