চিকিৎসাসেবার আগে জানতে হবে নাগরিকত্ব! মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিলের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য চিপ রয় মার্কিন আইনসভায় একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশটির যেসব হাসপাতাল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তহবিল গ্রহণ করে, তাদের চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিবাসন মর্যাদা বা আইনি বৈধতার তথ্য সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। চিপ রয়ের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের চিকিৎসায় করদাতাদের কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা স্পষ্ট করার মাধ্যমেই কেবল এই খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
"ইললিগাল এলিয়েন পেশেন্ট রিপোর্টিং অ্যাক্ট" নামের এই প্রস্তাবিত আইনের আওতায়, ফেডারেল স্বাস্থ্য তহবিল পাওয়া হাসপাতালগুলোকে রোগীদের ভর্তির সময় সরাসরি জিজ্ঞেস করতে হবে—তারা মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, বৈধ ভিসাধারী নাকি অন্য কোনো উপায়ে আইনগতভাবে দেশে আছেন। যদি কোনো হাসপাতাল রোগীদের এই তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত প্রতিবেদন আকারে সরকারের কাছে জমা না দেয়, তবে তারা সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির তহবিল হারাতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন রোগীদের জরুরি সেবা ব্যাহত না হয়, সেজন্য ভর্তির ফরমে স্পষ্ট লেখা থাকতে হবে যে—রোগীরা এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও তাদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না।
ইতিমধ্যে টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির (মেডিকেয়ার ও মেডিকেড) মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নেওয়া অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বিভিন্ন অভিবাসী এবং রোগী অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর আইনি মর্যাদা বা নাগরিকত্ব কখনোই বাধা হওয়া উচিত নয়।
বর্তমানে প্রচলিত মার্কিন আইন অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোর জন্য রোগীদের নাগরিকত্ব বা বৈধতার তথ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ১৯৮৬ সালে পাস হওয়া "ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড লেবার অ্যাক্ট" বা "ইএমটিএএলএ" আইনের অধীনে সরকারি তহবিলভুক্ত যেকোনো হাসপাতাল জরুরি বিভাগে আসা যেকোনো রোগীকে পরীক্ষা করতে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এক্ষেত্রে রোগীর বিল পরিশোধের সক্ষমতা, বীমা সুবিধা কিংবা অভিবাসন মর্যাদা দেখার কোনো সুযোগ নেই।
সাধারণত, বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা অধিকাংশ সরকারি স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা পান না। তবে তাদের জরুরি চিকিৎসার খরচ অনেক সময় বিশেষ জরুরি তহবিলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। এর আগে টেক্সাসের গভর্নর ২০২৪ সালে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোকে রোগীদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে সময় নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন এসিএলইউ জানিয়েছিল, হাসপাতালগুলো প্রশ্ন করতে বাধ্য হলেও রোগীরা চাইলে উত্তর না দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।
প্রস্তাবিত এই বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে "ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্ম" এর পরিচালক জো চ্যাথাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন প্রশাসন স্বাস্থ্য খাতে অবৈধ অভিবাসনের প্রকৃত খরচ করদাতাদের কাছে আড়াল করে রেখেছে। ফ্লোরিডার এক বছরের তথ্যে দেখা গেছে, সেখানে করদাতাদের ৫৬৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পুরো দেশজুড়ে এই খরচের আনুমানিক পরিমাণ অন্তত ২১ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
তবে বিলটি সরাসরি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে (প্রতিনিধি সভা ও সিনেট) বিভিন্ন কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শুনানির পর এটি পাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্কিন রাজনীতিতে একক কোনো সদস্যের আনা বিল অনেক সময়ই শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির টেবিলে পৌঁছাতে পারে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অভিবাসীদের জন্য কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়নের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে আগে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার যে বিশেষ সুবিধা ছিল, তা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না হলে এবং আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলে অভিবাসীরা দেশটিতে কাজ করার বৈধতা হারাবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ব্লুমবার্গ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর চালু করা একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকেই এখন স্থায়ী রূপ দিয়েছে ডিএইচএস। এর ফলে পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় চালু হওয়া ৫৪০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাটি আর কার্যকর থাকছে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নবায়নের আবেদন বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি পাবেন না। ফলে সময়মতো নবায়নের কাজ সম্পন্ন না হলে তাদেরকে বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া নতুন নিয়মে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের বেশি আগে নবায়নের আবেদন করার সুযোগও বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক ছয় মাসের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও, অনুমোদন পেতে বিলম্ব হলে কর্মীদের কর্মসংস্থানে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের মাধ্যমে নতুন এই বিধিটি কার্যকর করা হয়েছে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে যেসব বিদেশি কর্মী ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করছেন, তাদের এখন থেকে আগেভাগে আবেদন করার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার সময়সীমার প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৭০ শতাংশ শহরে বাড়ির দাম কমেছে, ব্যতিক্রম মিডওয়েস্টের কয়েকটি শহর
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়ছে ৩.৬ শতাংশ, সুবিধা পাবেন সাড়ে ৭ কোটি মানুষ
নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, বিদ্যুৎ বিলের খরচ কমাতে ডাকযোগে আসছে ২০০ ডলার পর্যন্ত রিবেট চেক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্কের আব্রামস ফলস থেকে নিখোঁজ এক হাইকারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওই তরুণের নাম সাহিল জিলানি (২৪), যার বাড়ি টেক্সাসের হিউস্টনে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর টাউনসেন্ডের রিভারস্টোন ক্যাম্পগ্রাউন্ডে তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল এবং ৭ অক্টোবর আব্রামস ফলস ট্রেইলহেডের কাছে তার গাড়িটি পাওয়া যায়। টানা কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ঝরনার জলের নিচ থেকে ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। সাহিলের বোন আসমা জিলানি বুস্তামান্তে জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও তাদের ধারণা ঝরনার শক্তিশালী স্রোতই তার মৃত্যুর মূল কারণ। তিনি সতর্ক করে জানান, ২৫ ফুট উঁচু আব্রামস ফলসের নিচের গভীর জলাশয়ের শক্তিশালী ঘূর্ণিস্রোত এমনকি দক্ষ সাঁতারুদেরও টেনে নিচে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। মর্মান্তিক এই দুঃসংবাদ শুনে তাদের মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৃতদেহ টেক্সাসে ফিরিয়ে আনা এবং মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে আসমা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজ খুলেছেন, যা ইতিমধ্যে বেশ কিছু তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। মার্শাল আর্ট ও ফিটনেসের প্রতি অনুরাগী সাহিল একজন অত্যন্ত পরোপকারী মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে তার বোন পর্যটকদের ঝরনার আশেপাশে সতর্ক থাকার এবং বিপৎসংকেতগুলো গুরুত্বের সাথে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে মলমূত্রে ভরা বাড়িতে ৭ শিশুর দুর্বিষহ জীবন, ধ র্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮
ক্যালিফোর্নিয়াকে ট্রাম্প প্রশাসনের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, অবৈধ ভোটার যাচাই না করলে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের রিসোর্টে ভ য়াবহ হত্যাকাণ্ড, স্বামী ও তিন বছরের সন্তানকে খুনের পর আ ত্মহ ত্যার চেষ্টা মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইল এলাকায় সম্প্রতি পাঁচজনের রহস্যজনক মৃত্যু ও হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিগ টেন কলেজ টাউন হিসেবে পরিচিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য এই সিরিয়াল কিলারের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ল্যান্সিং পুলিশ বিভাগ বর্তমানে তদন্ত করে দেখছে যে, জনপ্রিয় এই রিভার ট্রেইলে ওঁত পেতে থাকা কোনো এক আক্রমণকারীর সাথে গত এক বছরে ঘটা এই পাঁচটি মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না। এই ভীতিকর পরিস্থিতিতে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কারেন হোল্ট শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে যৌক্তিক হওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একক বা ধারাবাহিক খুনিরা সাধারণত দুর্বল এবং ভবঘুরে মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ অপরাধীরা মনে করে এ ধরনের মানুষদের ওপর হামলা করলে তাদের ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। হোল্টের মতে, কোনো এলাকায় এভাবে মানুষ আক্রান্ত হলে সেই কমিউনিটিকে আর নিরাপদ বলা চলে না। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই ট্রেইলে পাঁচজন পুরুষ হামলার শিকার হন। পুলিশি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জিনো চুইনার্ড (৫৪) এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডেনিস ডানবাকেকে (৭০) অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তারা মারা যান, যাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। অন্যদিকে, জুলাইয়ে রবার্ট স্মিথ (৫৭) এবং আগস্টের শেষে লুইস উডরাফ (৫৭) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। চিকিৎসা কর্মকর্তারা এই দুটি মৃত্যুকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লাস্কের মৃত্যুর ধরনটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাকে গত ২০ আগস্ট ইস্ট মিশিগান অ্যাভিনিউ ব্রিজের নিচে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২৩ বছর বয়সী এডওয়ার্ড জোসেফ স্মিথকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে অন্য চারটি মৃত্যুর সাথে স্মিথের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অধ্যাপক হোল্ট ড্যানিয়েলের হত্যার ধরনটি ভিন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগী ও অপরাধীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আরও তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলারের বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু না জানালেও, সতর্কতা হিসেবে জনসাধারণকে ওই নির্দিষ্ট ট্রেইলটি এড়িয়ে বিকল্প পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক হোল্ট।
২০ বছর অপেক্ষার পর দুই সন্তানকে নিয়ে সমুদ্রে ৬ হাজার মাইলের অভিযানে পরিবার
মস্তিষ্কের এই ১ ঘন মিলিমিটার অংশের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করতে লেগেছে প্রায় ১৪ লাখ গিগাবাইট ডেটা!