মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় ট্রাকের ধাক্কায় মেক্সিকান যুবকের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট অগাস্টিনে মার্কিন ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবক একটি বড় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোলের কর্মকর্তা ডিলান ব্রায়ান এক বিবৃতিতে জানান, সকাল ৭টার আগে সেন্ট অগাস্টিনের একটি গ্যাস স্টেশন এবং কনভেনিয়েন্স স্টোরের পার্কিং লটে একটি গাড়ি এসে থামে। গাড়িটিতে চারজন আরোহী ছিলেন। মার্কিন ইমিগ্রেশন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর ওই চারজনই পায়ে হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ২৮ বছর বয়সী এক যুবক দৌড়ে একটি ব্যস্ত রাস্তা পার হতে গেলে একটি বড় ট্রাকের সামনে পড়েন এবং ধাক্কা লেগে মারা যান। ট্রাকের চালক তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ব্রায়ান জানান।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর এই ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৪ জুলাই ফ্লোরিডার সেন্ট জনসের কাছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একটি অভিযান চালায়। এতে মেক্সিকান এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোল ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্তকারী সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত করছে।
ফ্লোরিডায় এই ঘটনা ছাড়াও অতি সম্প্রতি টেক্সাস ও মেইনে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে।
জ্যাক্সনভিলের ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন এই মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ইমিগ্রেশন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এড়াতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের গ্রীষ্মে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় ৫২ বছর বয়সী গুয়াতেমালার নাগরিক রবার্তো কার্লোস মন্টয়া ভালদেস মারা যান। এছাড়া গত অক্টোবরে ভার্জিনিয়ার নরফোকের একটি হাইওয়েতে ট্রাফিক তল্লাশির সময় কর্মকর্তাদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে ২৪ বছর বয়সী হন্ডুরাসের নাগরিক জোসুয়ে কাস্ত্রো রিভেরা পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান।
এই ঘটনার পর মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলদের কাছে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হেফাজতে বা অভিযানের সময় অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলো ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনার জন্য পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। নিহত মেক্সিকান যুবকের বিস্তারিত পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে এক রোগীর চিকিৎসা বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। রোগীর দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, সেখানে অস্ত্রোপচারটি করা ‘খরচ লাভজনক নয়’। অস্ত্রোপচারের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই রোগী জানান, একটি আঘাতের কারণে তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল এবং প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসাটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারণের আগে তার বীমা সুবিধা যাচাই করা হয়। রোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার চিকিৎসকের কার্যালয় বীমা পরিকল্পনার প্রথম স্তরের আওতাভুক্ত ছিল। তবে যে হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল, সেটি ছিল বীমা পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তরের আওতাভুক্ত। সেখানে অস্ত্রোপচার করালে রোগীকে ২ হাজার ডলার ছাড়পূরণ এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ৩০ শতাংশ বহন করতে হতো। বিষয়টি জানার পর সময় নির্ধারণকারী কর্মী প্রথম স্তরের আওতাভুক্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাটি করা যায় কি না, তা খুঁজে দেখেন। রোগীর দাবি, পরে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয় এবং পরবর্তী সপ্তাহের জন্য অস্ত্রোপচারের সময়ও নির্ধারণ করা হয়। এতে চিকিৎসাটি নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগের শুক্রবার বিকেলে তাকে ফোন করে জানানো হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে অস্ত্রোপচারটি করাকে ‘খরচ লাভজনক নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। রোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটি আসে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে। ওই সময়ের মধ্যে অন্যান্য চিকিৎসা কার্যালয়ের বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তাকে হয় দ্বিতীয় স্তরের আওতাভুক্ত হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করিয়ে কয়েক হাজার ডলার বেশি খরচ করার, অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করানোর জন্য অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। রোগী প্রশ্ন তোলেন, তার বীমা যখন অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার কথা, তখন হাসপাতাল কেন চিকিৎসাটি করতে চাইছে না। তার মতে, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন বা তার আঘাতের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু চিকিৎসাটি কোন প্রতিষ্ঠানে হবে এবং সেই প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টিই পরিবর্তিত হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা, হাসপাতালের অর্থপ্রাপ্তি এবং চিকিৎসার খরচ নিয়ে আলোচনা করেন। কয়েকজন মন্তব্যকারী জানান, চিকিৎসক কোন প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রোপচার করছেন তার ওপর প্রতিষ্ঠানের খরচ ও অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে। একজন স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেন বলে দাবি করা মন্তব্যকারী প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের ব্যবস্থার সঙ্গে অস্ত্রোপচারের প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দেন। অন্য একজন রোগীকে বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগী সহায়তা কর্মকর্তার সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ আবার চিকিৎসা বিলম্বিত হলে সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই রোগীর দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রোগী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসা বাতিলের কারণ সম্পর্কেও স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটি রোগীর নিজের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া আলোচনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র: ডেইলি ডট
কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মাকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিলেন টেলর সুইফট
নেপালের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী
ইরানে রাজনৈতিক নিপীড়নের আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন নিকা নামের এক তরুণী। কিন্তু নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও শেষ পর্যন্ত স্বস্তি মেলেনি তাঁর। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাঁকে এমন একটি দেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে তিনি আগে কখনো যাননি এবং যার সঙ্গে তাঁর কোনো পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কও নেই। নিরাপত্তার কারণে নিজের আসল নাম প্রকাশ না করে ‘নিকা’ ছদ্মনামে কথা বলা এই ইরানি নারী বর্তমানে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ে অবস্থান করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে ফিরে গেলে তাঁর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি একজন মার্কিন ইমিগ্রেশন জজের কাছ থেকে এমন একটি সুরক্ষা আদেশও পেয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকানো, যেখানে নির্যাতন বা মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। সিএনএনের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে আটক হওয়ার পর নিকা কয়েক মাস আইসিই হেফাজতে ছিলেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে স্বাধীনভাবে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। জুনে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে একটি নোটিশ পেয়ে তিনি নিয়মিত বৈঠক মনে করে সেখানে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর তিন দিন পর, ১১ জুন সন্ধ্যায় হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে তাঁকে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে তোলা হয়। একই ফ্লাইটে আফগানিস্তান, ইরাক ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আরও ১৭ জন অভিবাসী ছিলেন। নিকার দাবি, বিমানে ওঠার আগে তিনি জানতেন না তাঁকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে। বিমানের আসনের সামনে থাকা ছোট স্ক্রিনে গন্তব্য দেখার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হচ্ছে। নিকার ইমিগ্রেশন আইনজীবী সাহার জালিলি পাওয়েলস্কি শেষ মুহূর্তে তাঁকে ওই ফ্লাইট থেকে নামানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে তা সম্ভব হয়নি। বাঙ্গুইয়ে পৌঁছানোর পরও নিকার জীবন স্বাভাবিক হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তার আশঙ্কায় বেশিরভাগ সময় অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরেই থাকেন। প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাইরে গেলে স্থানীয় পুলিশ তাঁকে থামিয়ে ঘুষ দাবি ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে স্থানীয় পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া নিকা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে অপরাধ, অপহরণ, রোগব্যাধি ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে দেশটিতে ভ্রমণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। নিকার মতো অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে। নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আদালতের বাধা থাকলে তৃতীয় দেশে পাঠানোর এই নীতিই এখন বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অবশ্য এসব ডিপোর্টেশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিভাগটির দাবি, যাদের পাঠানো হয়েছে তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ ছিল। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই ডিপোর্টেশন ব্যবস্থার বিস্তারিত চুক্তি প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে নিকা ও তাঁর সঙ্গে পাঠানো অন্য অভিবাসীদের বলা হয়েছিল, তাঁরা সেখানে প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য থাকতে পারবেন। ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্বিতীয় একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে আরও ৩১ জনকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হয়। এখন নিকার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, অস্থায়ী থাকার সুযোগ শেষ হলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত আবার ইরানে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তাঁর আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রে একটি ফেডারেল মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে নিকাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনে তাঁর অ্যাসাইলাম আবেদন পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া যায়। ইরান থেকে নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিকার জীবনের এই পরিণতি তৃতীয় দেশে ডিপোর্টেশন নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যে দেশটিকে তিনি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ভেবেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই দেশ থেকেই তাঁকে এমন এক জায়গায় পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাঁর নিজের ভাষায়, ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। সূত্র: সিএনএন
১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির
এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের
ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিজ দলের সম্মেলন এড়ালেন মিশিগানের ইহুদি অ্যাটর্নি জেনারেল
তালেবানের হাতে নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কার থেকে আইনি সুরক্ষা পাওয়া এক আফগান নাগরিককেও আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আফগান তরুণের বয়স ২০-এর কোঠায়। তার আইনজীবী আলমা ডেভিড জানিয়েছেন, তালেবানের কাছ থেকে তার পরিবারের সদস্যদের পাওয়া হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়েছিল। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, তালেবান ক্ষমতা দখলের আগে তার এক ভাই আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। আরেক ভাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট ছিলেন, যিনি পরে তালেবানের হাতে নিহত হন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ওই আফগান নাগরিককে শুধু ‘খলিল’ নামে শনাক্ত করেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা ও বোনও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের কর্মকর্তা সাভি আরভেরি জানিয়েছেন, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নির্বাসন ফ্লাইট মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ে পৌঁছেছে। ওই ফ্লাইটে ১২ জন আফগান ও আটজন ইরানিসহ নেপাল ও নিকারাগুয়ার কয়েকজন নাগরিক ছিলেন। মানবাধিকার সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নির্বাসন ফ্লাইট। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে এমন অনেক মানুষকে নিজ দেশের বাইরে পাঠাচ্ছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কতায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে অস্থিরতা, অপরাধ, অপহরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদনের লক্ষ্য ১৫ লাখ ব্যারেল
অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন অভিযানে রোবট কুকুর ব্যবহার করবে আইসিই