যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট অগাস্টিনে মার্কিন ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবক একটি বড় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোলের কর্মকর্তা ডিলান ব্রায়ান এক বিবৃতিতে জানান, সকাল ৭টার আগে সেন্ট অগাস্টিনের একটি গ্যাস স্টেশন এবং কনভেনিয়েন্স স্টোরের পার্কিং লটে একটি গাড়ি এসে থামে। গাড়িটিতে চারজন আরোহী ছিলেন। মার্কিন ইমিগ্রেশন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর ওই চারজনই পায়ে হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ২৮ বছর বয়সী এক যুবক দৌড়ে একটি ব্যস্ত রাস্তা পার হতে গেলে একটি বড় ট্রাকের সামনে পড়েন এবং ধাক্কা লেগে মারা যান। ট্রাকের চালক তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ব্রায়ান জানান।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর এই ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৪ জুলাই ফ্লোরিডার সেন্ট জনসের কাছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একটি অভিযান চালায়। এতে মেক্সিকান এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোল ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্তকারী সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত করছে।
ফ্লোরিডায় এই ঘটনা ছাড়াও অতি সম্প্রতি টেক্সাস ও মেইনে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে।
জ্যাক্সনভিলের ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন এই মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ইমিগ্রেশন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এড়াতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের গ্রীষ্মে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় ৫২ বছর বয়সী গুয়াতেমালার নাগরিক রবার্তো কার্লোস মন্টয়া ভালদেস মারা যান। এছাড়া গত অক্টোবরে ভার্জিনিয়ার নরফোকের একটি হাইওয়েতে ট্রাফিক তল্লাশির সময় কর্মকর্তাদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে ২৪ বছর বয়সী হন্ডুরাসের নাগরিক জোসুয়ে কাস্ত্রো রিভেরা পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান।
এই ঘটনার পর মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলদের কাছে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হেফাজতে বা অভিযানের সময় অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলো ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনার জন্য পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। নিহত মেক্সিকান যুবকের বিস্তারিত পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
কানাডাভিত্তিক কোম্পানি সাউথ বো, যারা কি-স্টোন পাইপলাইন পরিচালনা করে, ২০২২ সালের একটি তেল বিপর্যয়ের ঘটনায় দেওয়ানি জরিমানা হিসেবে প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে সম্মত হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় গ্রামীণ ক্যানসাসের একটি খালে প্রায় ১৩,০০০ ব্যারেল ভারী অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়েছিল। মার্কিন ফেডারেল সরকারের সাথে হওয়া এই চুক্তির অধীনে, ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতে কোম্পানিটিকে আরও প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) প্রয়োগকারী দপ্তরের সহকারী প্রশাসক জানিয়েছেন, "এই তেল বিপর্যয় চারপাশের জমি ও পানি গ্রাস করেছিল, যার ফলে ওই খালটি সম্পূর্ণ প্রাণহীন ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং এর জন্য ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা পরিবেশগত ক্ষতির মারাত্মক রূপকেই প্রতিফলিত করে।"
গ্রিস থেকে জার্মানির উদ্দেশে উড্ডয়ন করা রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ঘটে যাওয়া এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাঝআকাশে হঠাৎ একটি জানালা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ৬১ বছর বয়সী এক যাত্রী আংশিকভাবে উড়োজাহাজের বাইরে ছিটকে যেতে থাকেন। সেই সংকটময় মুহূর্তে তার স্ত্রী দুই পা শক্ত করে ধরে রাখেন। পরে অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাকে কেবিনের ভেতরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। দ্রুত জরুরি অবতরণ করিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি ঘটে ১০ জুলাই গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর যাত্রীরা বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনতে পান। এর পরপরই একটি জানালা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ দ্রুত কমে যায়। প্রবল বায়ুচাপের কারণে জানালার পাশে বসা ওই যাত্রী বাইরে টেনে নেওয়া হতে থাকেন। যাত্রীর স্ত্রী সভেতলানা ম্যাকসিমোভিচ জানান, সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল যে চিন্তা করার সময়ও ছিল না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্বামীর পা শক্ত করে ধরে ফেলেন। প্রায় দুই মিনিট ধরে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে স্বামীকে ধরে রাখেন। পরে পাশের সারিতে থাকা আরও দুই যাত্রী এগিয়ে এসে আহত ব্যক্তিকে কেবিনের ভেতরে টেনে আনতে সহায়তা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জানালা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই চিৎকার শুরু করেন এবং অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসে। কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং সবাইকে আসনে বসে নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেন। পাইলট পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। উড়োজাহাজটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পর চিকিৎসাকর্মীরা আহত যাত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীর মাথা, ঘাড়, হাত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তবে দ্রুত উদ্ধার এবং সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক ট্রমার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছেন। রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিকল্প একটি উড়োজাহাজের মাধ্যমে অন্য যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে জানালায় আঘাত করলে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেবিনে হঠাৎ বায়ুচাপ কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এটি এখনও তদন্তাধীন বিষয় এবং চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি। গ্রিসের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা উড়োজাহাজের প্রযুক্তিগত তথ্য, ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। আধুনিক উড়োজাহাজে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে এই ঘটনায় কেবিন ক্রু, পাইলট, যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা এবং একজন স্ত্রীর অসাধারণ সাহসিকতার কারণে একটি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা বড় ট্র্যাজেডিতে রূপ নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের পাসাডেনা শহরের বিলাসবহুল ল্যাংহাম হোটেলের মালিক প্রতিষ্ঠান দাবানলের সময় অতিরিক্ত কক্ষভাড়া আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তিতে ৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা আইনজীবীর কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভয়াবহ দাবানলের সময় বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য হোটেলটিতে অবস্থান নেন। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকায় আইন অনুযায়ী কক্ষভাড়া ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, কিছু অতিথির কাছ থেকে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, মোট ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের মধ্যে ২ লাখ ১৬ হাজার ডলার অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধকারী অতিথিদের ফেরত দেওয়া হবে। অবশিষ্ট অর্থ জরিমানা, তদন্ত ব্যয় এবং আইন প্রয়োগসংক্রান্ত খাতে ব্যয় করা হবে। জেলা আইনজীবী নাথান হখম্যান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অসহায় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংকটের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দুর্ভোগ থেকে লাভ করা নয়। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বীকার করেনি। তাদের দাবি, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া নির্ধারণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে কিছু কক্ষের ভাড়া বেড়ে গিয়েছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর তা দ্রুত সংশোধন করা হয় এবং যেসব অতিথির কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছিল, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, দাবানলের সময় উদ্ধারকর্মী, জরুরি সেবাকর্মী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য এক হাজার একশোর বেশি বিনা মূল্যের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ক্রমেই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থার সময় আশ্রয়, খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য জরুরি সেবার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে নিয়মিত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই সমঝোতাও সেই কঠোর নীতিরই একটি উদাহরণ।