শাপলা কলি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
নির্বাচন কমিশনে ১১ দফা অভিযোগ দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ঢাকা-৮ আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।   অভিযোগে তিনি দাবি করেন, একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও তার নেতা-কর্মী, এজেন্ট এবং পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো অনিয়ম করেছেন।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং ও রিটার্নিং কর্মকর্তারাও এসব অনিয়মে জড়িত ছিলেন এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুনর্গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে।   উল্লিখিত ১১টি অভিযোগ ১. কেন্দ্র নং ২৮, আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শাহজাহানপুর: শাপলা কলির পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পথরোধ করে আটকে রাখা হয়। ভোট গণনার সময় দীর্ঘ বিলম্ব করা হয় এবং ওভাররাইটিং করা শিটে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।   ২. কেন্দ্র নং ২৯, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: দুইজন পোলিং এজেন্টকে বুথ থেকে বের করে দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ভোট রিগিংয়ের অভিযোগ।   ৩. কেন্দ্র নং ৩১, শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়: মহিলা কেন্দ্রে পুরুষ এজেন্ট রাখা যাবে না এমন অজুহাতে পাস দিতে দেড় ঘণ্টা বিলম্ব করা হয় এবং এ সময় কারচুপি করা হয়।   ৪. কেন্দ্র নং ৩২, শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়: শাপলা কলির পক্ষে মহিলা পোলিং এজেন্টকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট গণনা ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ।   ৫. কেন্দ্র নং ৩৪, আব্দুল গফুর শিক্ষা শিবির: ছয়জন পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে কারচুপিতে সহায়তার অভিযোগ।   ৬. কেন্দ্র নং ৩৮, মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ: পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে প্রার্থী স্বাক্ষরিত মূল ফাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। ওই সময়ে কারচুপির অভিযোগ করা হয়।   ৭. কেন্দ্র নং ৪০, দ্বীপশিখা প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুল: সাতজন পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ভোট গণনার সময় বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে গণনা করা হয় বলে অভিযোগ।   ৮. কেন্দ্র নং ৭৫, ইস্কাটন গার্ডেন স্কুল (মহিলা): মহিলা এজেন্টদের অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।   ৯. কেন্দ্র নং ৮৩, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল: প্রথম গণনার পর পুনরায় গণনা করে বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে যুক্ত করা হয় এবং জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।   ১০. কেন্দ্র নং ৮৮, সিদ্ধেশ্বরী বালক বিদ্যালয়: বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে যুক্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রার্থীর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বেআইনিভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ।   ১১. কেন্দ্র নং ৯৪ ও ৯৫, বিজ্ঞান ক্যাফেটেরিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা: পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে বের করে দেওয়া হয় এবং পরে বুথ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ভোট গণনা করা হয় এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের কারণে প্রকৃত ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ভোট পুনর্গণনার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ভুক্তভোগী করা ওই নারী হাসপাতালে
হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে এক গৃহবধূকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও সপরিবারে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।   ভাইরাল ভিডিওতে ওই নারী দাবি করেন, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে ‘কালা এমরান’, ‘রহমান’ ও ‘রুবেল’ নামে তিন ব্যক্তি তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তাঁর স্বামীকে পাশের রুমে আটকে রেখে রহমান তাঁকে ধর্ষণ করে এবং কালা এমরান দরজায় পাহারা দেয়। অভিযুক্তরা এ সময় ‘এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) করার স্বাদ মিটিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেয়। পরদিন সওকালে পুনরায় ১০-১২ জন এসে তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করে বলে জানান তিনি।   এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “হাতিয়াতে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপরাধে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালেও একইভাবে এক নারীকে হেনস্তা করা হয়েছিল। আমি সরকারকে বলব, অবিলম্বে হাতিয়াতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালাতে হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”   এদিকে, প্রধান অভিযুক্ত এমরান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে ভুগছেন এবং বর্তমানে থেরাপি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি ভোটের দিনই নিজের বাড়িতে চলে এসেছি। সঠিক তদন্ত হলে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব।”   ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। চানন্দী ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোরশেদ ও তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই শহীদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে ওই নারীকে মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশী বা তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।   নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজিব আহমেদ চৌধুরী জানান, ওই নারী প্রথমে ‘মারধরের রোগী’ হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তির দুই ঘণ্টা পর তিনি ধর্ষণের দাবি তোলেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং লেডি পুলিশের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরেই ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   নির্বাচন পরবর্তী এই অভিযোগ হাতিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
৮০% ভোটে জয়, এবার বাকি সবার মন জয়ের অঙ্গীকার
৮০% ভোটে জয়, এবার বাকি সবার মন জয়ের অঙ্গীকার

হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর তিনি বলেছেন, নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও যে ২০ শতাংশ ভোটার তাকে সমর্থন করেননি, তাদের আস্থা অর্জনই এখন তার অগ্রাধিকার।   দেবিদ্বারের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তার ভাষায়, এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে রাজনৈতিক ভিন্নমত বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণেও কেউ অবিচারের শিকার হবে না।   কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিজয় সনদ সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি জানান, গত বছরের ২৪ আগস্টের পর থেকে তার জীবন আর আগের মতো সাধারণ থাকবে না, কারণ এখন তার কাঁধে বড় দায়িত্ব এসে পড়েছে।   তিনি স্মরণ করেন সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতায় প্রাণ হারানো সহযোদ্ধাদের, যাদের তিনি ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারও করেন তিনি।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ভোট। প্রায় তিনগুণ বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ অর্জন করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ
মাত্র ২৬ বছরেই সংসদ সদস্য হলেন হান্নান মাসউদ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজপথ কাঁপানো সেই লড়াকু মুখটি এখন দেশের নীতিনির্ধারণী আসনে। ইতিহাস গড়লেন আবদুল হান্নান মাসউদ। ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে এনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে তিনি প্রমাণ করলেন—তারুণ্যের শক্তিতেই পরিবর্তন সম্ভব।   এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে যা যা থাকছে: সবচেয়ে কম বয়সী এমপি: ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া মাসউদের বর্তমান বয়স মাত্র ২৬ বছর ১ মাস। দেশের সংসদীয় ইতিহাসে তিনিই এখন কনিষ্ঠতম প্রতিনিধি। ভোটের লড়াই: নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মাহবুবের রহমান শামীমকে প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। বিপ্লব থেকে সংসদ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির এই ছাত্রনেতা নিজের ব্যবসায়িক পরিচিতি ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে জয় করেছেন হাতিয়ার মানুষের মন। ব্যক্তিগত জীবন: সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত, যিনি জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক।   তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে কি তবে বদলে যাবে আগামীর বাংলাদেশ? হাতিয়ার মানুষের স্বপ্নপূরণে কতটা সফল হবেন এই তরুণ তুর্কি? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
বিএনপি নেতা মুরাদ কাজী
শাপলা কলির প্রচারে বিএনপির বাধা, কেন্দ্র দখলের হুমকি

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে নির্বাচনি পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার সময় জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের কর্মীদের ওপর হামলা, লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া এবং ভোটকেন্দ্র দখলের প্রকাশ্য হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের জন্য সরাসরি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে জোটের নেতৃবৃন্দ।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পর খিলক্ষেত থানার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বরুয়া শেলুন পাড়া এলাকায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন একদল কর্মী। এ সময় বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে শাপলা কলি প্রতীকের লিফলেট বিতরণকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা মুরাদ কাজী তার দলবলসহ বাধা সৃষ্টি করেন এবং জোরপূর্বক লিফলেটগুলো ছিনিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গেলে তাদের ‘দেখে নেওয়া হবে’।   একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে বাদ আসর বরুয়া বাজার এলাকায়। সেখানে শাপলা কলি প্রতীকের প্রচারণায় নিয়োজিত একটি মাইকিং রিকশা বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রচারণার সময় জোটের নারী সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও কটূক্তি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, "নির্বাচনি প্রচারণার গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। আমাদের কর্মীদের মারধর ও ভবিষ্যতে এলাকায় না ঢোকার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি বিশেষ মহল সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভোটকেন্দ্র দখলের পায়তারা করছে।"   ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, "সারা দেশ যখন একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রহর গুনছে, তখন একটি কুচক্রী মহল নির্বাচন বানচাল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণজোয়ার দেখে ভীত হয়েই তারা এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা চালাচ্ছে।" তিনি অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।   রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রচারণায় এমন বিঘ্ন ঘটার ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0