যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ডে অবতরণের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা। নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। শুক্রবার পার্লামেন্টে বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি মাসের ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ দুটি যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। বিমানগুলো জিবুতিতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে আসার কথা ছিল এবং সেগুলোতে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা ছিল। প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা করতালি দেন। একই সময়ে ইরানও ৯ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ শ্রীলঙ্কায় ভেড়ানোর অনুমতি চেয়েছিল। ভারতের আয়োজিত একটি নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পর জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কায় আসতে চেয়েছিল। তবে সেই অনুরোধও নাকচ করে দেয় কলম্বো। প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, “আমরা যদি একটি পক্ষকে অনুমতি দিতাম, তবে অন্য পক্ষকেও একই সুযোগ দিতে হতো”—এই যুক্তিতেই উভয় অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি সরবরাহসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরুর পর শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি একটি ইরানি সামরিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী কয়েকজন ক্রুকে উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর শ্রীলঙ্কা সফর করছেন। তিনি সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা শ্রীলঙ্কা নতুন করে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবের মুখে পড়েছে। দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার, অন্যদিকে ইরান শ্রীলঙ্কার চায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা।
ডুবে যাওয়া একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ থেকে জীবিতদের এবং শ্রীলঙ্কার হেফাজতে থাকা আরেকটি ইরানি জাহাজের ক্রুদের ইরানে ফেরত না পাঠাতে শ্রীলঙ্কার সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রয়টার্সের দেখা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি অভ্যন্তরীণ তারবার্তায় এ তথ্য জানা গেছে। খবরে বলা হয়, বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর গ্যাল থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনাকে টর্পেডো হামলায় ডুবিয়ে দেয়। এতে কয়েক ডজন নাবিক নিহত হন। এরপর বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইরানি জাহাজ নৌ-সহায়ক আইআরআইএস বুশেহর থেকে ২০৮ জন ক্রু সদস্যকে নামানো শুরু করে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে আটকে পড়েছিল, যদিও তা দেশটির সামুদ্রিক সীমানার বাইরে অবস্থান করছিল। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে বলেন, বিপদে পড়া নাবিকদের গ্রহণ করা তার দেশের জন্য একটি মানবিক দায়িত্ব। তবে কলম্বোর মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেইন হাওয়েল জানান, ৬ মার্চের একটি অভ্যন্তরীণ পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় শ্রীলঙ্কা সরকারকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বুশেহরের ক্রু সদস্য বা ডেনা জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া ৩২ জন ব্যক্তিকে ইরানে ফেরত পাঠানো উচিত নয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এদিকে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক উপমন্ত্রী হানসাকা উইজেমুনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান ডেনা জাহাজে নিহত নাবিকদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে কলম্বোর কাছে সহায়তা চেয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। উল্লেখ্য, ডেনা যুদ্ধজাহাজটি গত মাসে বঙ্গোপসাগরে ভারতের আয়োজিত একটি নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল এবং ইরানে ফেরার পথে মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায়। সূত্র: রয়টার্স
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই শ্রীলঙ্কা উপকূলে তিনটি ইরানি জাহাজ বিপাকে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কায় নোঙর করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রীয় বার্তায় বলা হয়েছে, ৯ ও ১৩ মার্চ শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতি চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে তিনটি ইরানি জাহাজ। এ তথ্য জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট Anura Kumara Dissanayake। তিনি জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সফরের অনুমতি চেয়ে Iran সরকার শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল। বর্তমানে জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে আরও বলেন, মানবিক বিবেচনায় জাহাজের দুজন কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে দেশে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, চলমান বা ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতে শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড, সমুদ্রসীমা কিংবা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এদিকে ‘আইআরআইএস বুশেহর’ নামের একটি ইরানি জাহাজ কলম্বো বন্দরের কাছে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এলাকায় নোঙর করে আছে বলে জানান তিনি। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে। প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কা সরকারের আলোচনার পর জাহাজটির ক্রুদের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। সরকারি তথ্যমতে, জাহাজটিতে থাকা মোট ২০৮ জন ক্রুকে তীরে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৩ জন কর্মকর্তা, ৮৪ জন ক্যাডেট, ৪৮ জন সিনিয়র নাবিক এবং ২৩ জন নাবিক রয়েছেন। তাদের প্রথমে কলম্বো বন্দরে আনা হবে এবং পরে ত্রিনকমালি বন্দরের এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে New Delhi-এর সঙ্গে যৌথ মহড়া শেষে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। ওই হামলায় ৮৭ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন; তাদের মধ্যে ৩২ জনকে অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি।
শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি জাহাজে সাবমেরিন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে অন্তত ১০১ জন নিখোঁজ এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে একই দিনে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানান, নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমার ঠিক বাইরে ডুবতে থাকা ইরানি ফ্রিগেট ‘আইরিস ডেনা’ থেকে ৩০ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জাহাজটির সমস্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সাবমেরিন হামলার শিকার জাহাজ এবং ডুবতে থাকা ‘আইরিস ডেনা’ একই কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। হেরাথ পার্লামেন্টে বলেন, আহত নাবিকদের দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ১৮০ জন ক্রু-সদস্য নিয়ে ফ্রিগেটটি ভোরে বিপৎসংকেত পাঠায়। উদ্ধার অভিযানে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি বিমান অংশ নেয়। তবে ইরানি যুদ্ধজাহাজটি কেন ডুবেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। পার্লামেন্টে এক বিরোধী আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তোলেন, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার অংশ হিসেবে জাহাজটিতে বোমা হামলা হয়েছিল কি না। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সম্পাথ জানান, ভারত মহাসাগরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অঞ্চলের আওতায় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তারা বিপৎসংকেতে সাড়া দিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি জাহাজে সাবমেরিন থেকে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে ইরান নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটি থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার পর নাবিকদের উদ্ধারে নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ সংসদে জানান, ভোরের দিকে ‘আইআরআইএস ডেনা’ জাহাজ থেকে তারা বিপদ সংকেত পান। তিনি বলেন, জাহাজটিতে মোট ১৮০ জন আরোহী ছিলেন। আহত ৩০ জনকে উদ্ধার করে গ্যালে বন্দরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩২ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। বাকিদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানি নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেট (মাঝারি রণতরী) ডুবির ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী। বুধবার শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ দেশটির পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে জানান, ‘আইরিস দেনা’ নামক ওই ইরানি যুদ্ধজাহাজটিতে মোট ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। জাহাজটি থেকে বিপদসংকেত পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে জাহাজটি ঠিক কী কারণে ডুবতে শুরু করেছিল, সে বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেরাথ কেবল জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি নৌবাহিনীর এই ফ্রিগেটটি শ্রীলঙ্কার গল উপকূলে অবস্থানকালে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হয় এবং জরুরি সংকেত পাঠায়। বাকি নাবিকদের অবস্থা ও জাহাজটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ক্রিকেট সুপার এইটের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের সেমি-ফাইনালে খেলার আশা এখনো জীবিত থাকলেও শ্রীলঙ্কাকে শুধু হারানোই যথেষ্ট নয়। রান রেটের হিসাবও রাখতে হবে। শুক্রবার কলম্বোয় ইংল্যান্ড শেষ তিন ওভারে ৪৩ রানের সমীকরণ পূর্ণ করে ৪ উইকেটে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হওয়ার পাশাপাশি সেমি-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এর ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউ জিল্যান্ডের নেট রান রেটও +৩.০৪৫ থেকে ১.৩৯০-এ নেমে গেছে। পাকিস্তানের রান রেট -০.৪৬১। সাবধানতা অবলম্বন করে পাকিস্তানকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে আগে ব্যাট করলে অন্তত ৬৪ রানের ব্যবধান দিয়ে জিততে হবে। পরে ব্যাট করলে লক্ষ্য পূরণ করতে হবে ১৩.১ ওভারের মধ্যে। সেমি-ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কলম্বোয় খেলে, আর নিউ জিল্যান্ড সেমি-ফাইনালে উঠলে ম্যাচ হবে কলকাতায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিনের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা পাথুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি ও ব্যাটারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়া ১৮২ রানে ইনিংস শেষ করে। ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রাভিস হেড ৫৬ রানে ও মিচেল মার্শ ৫৪ রানে দলের জন্য দৃঢ় প্রতিরক্ষা গড়ে তোলেন। তবে মিডল অর্ডার ভেঙে গেলে অস্ট্রেলিয়া চাপের মধ্যে পড়ে। শ্রীলঙ্কার বোলার দুশান হেমন্ত সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওভারের পর কুশল পেরেরার উইকেট হারালেও ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস চাপে ফেলেননি। তারা ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগোতে সাহায্য করেন। মেন্ডিস ৫১ রানে আউট হন। এরপর নিশাঙ্কার সঙ্গে পাভান রত্নায়েক ৭৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দেন। পাথুম নিশাঙ্কা ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন, ইনিংসটি মাত্র ৫২ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছয়ে সাজানো। অপরাজিত রত্নায়েক ১৫ বলে ২৮ রান যোগ করেন। এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, জিম্বাবুয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ড দুই পয়েন্ট নিয়ে তিন ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ওমান এখনও কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় এক আইনপ্রণেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অন্তত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার গামপাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, ২০২২ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী কলম্বোর কাছের নিত্তাম্বুয়া শহরে ৫৭ বছর বয়সী আইনপ্রণেতা অমরকীর্তি আথুকোরালার গাড়ি আটকে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তিনি বিক্ষোভরত জনতার দিকে গুলি চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে জনতার হাতে তিনি গণপিটুনির শিকার হন। প্রাণ বাঁচাতে আথুকোরালা পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী তাকে ঘিরে ফেলেন। উন্মত্ত জনতার মধ্যে কয়েকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। একই ঘটনায় তার দেহরক্ষীকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ২০২২ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আদালত এই মামলায় ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং অপর ২৩ সন্দেহভাজনকে খালাস দেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্তরা চাইলে সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি, যদিও আদালত নিয়মিতভাবে ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে থাকে। ২০২২ সালের ওই বিক্ষোভের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সমর্থকদের সহিংসতার জেরে দেশজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারি দলের অন্তত ৭৫ আইনপ্রণেতার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও তার ভাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে সরকার ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছে। পরে প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বামপন্থী নেতা অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে পরাজিত হন। ক্ষমতা গ্রহণের পর দিসানায়েকে ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র: এএফপি
২০২২ সালের সেই উত্তাল শ্রীলঙ্কাকে হয়তো কেউই ভুলতে পারবেন না। অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যখন চরমে, তখন ঘটেছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংসদ সদস্য অমরকীর্তি আথুকোরালাকে পিটিয়ে হত্যার অপরাধে আজ বুধবার ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দেশটির আদালত। ঘটনার নেপথ্যে যা জানা যাচ্ছে: বিক্ষোভের সূত্রপাত: বৈদেশিক মুদ্রার অভাব, খাদ্য ও জ্বালানি সংকটে গোতাবায়ে রাজাপাক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল কয়েক লাখ মানুষ। সেই ভয়াবহ দিন: কলম্বোর কাছে নিত্তাম্বুয়া শহরে উত্তেজিত জনতা এমপি আথুকোরালার গাড়ি আটকে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গণপিটুনি: প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীর হাত থেকে বাঁচতে তিনি গুলি চালালে জনতা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তাকে এবং তার দেহরক্ষীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। যেখানে ১২ জনকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হলেও, প্রমাণের অভাবে ২৩ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সালের পর থেকে সরাসরি কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও গুরুতর অপরাধে আদালত নিয়মিত এই সাজা প্রদান করে আসছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। মূলত বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং সংহতি জানাতেই পিসিবি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল, যা আইসিসি নাকচ করে দেয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আইসিসি এক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। এদিকে, পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে থাকা দেশটির জন্য এই ম্যাচটি ছিল আয়ের বড় উৎস। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সিইও অ্যাশলে ডি সিলভা জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং হোটেল বুকিংও সম্পন্ন। ম্যাচটি বাতিল হলে দেশটির পর্যটন খাত বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে। ২০০৯ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বন্ধুত্বের খাতিরে পাকিস্তানকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে লঙ্কান বোর্ড।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।