সাদিক কায়েম

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
বদি-আইভীর জামিন নিয়ে ডাকসু সাদিক কায়েমের হুশিয়ারি

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের মামলায় অভিযুক্ত কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন পাওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।  বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই বিচারিক প্রক্রিয়া ও দেশের বর্তমান প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সাদিক কায়েম তার পোস্টে অভিযোগ করেন, একদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কার্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধাদের বিরুদ্ধেই সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বা 'নীল নকশা' চলছে। তিনি একে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করে বলেন, এই আত্মঘাতী পদক্ষেপের পরিণতি থেকে কেউই রেহাই পাবে না। বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক রদবদলের পর বিশেষ মহলের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানকে অন্যায্য সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এটি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এভাবে চলতে থাকলে জাতি আবারও দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রী ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম । ছবি: সংগৃহীত
‘ক্ষমতাসীন’ রাজনৈতিক দলকে কড়া বার্তা ডাকসু ভিপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি সাদিক কায়েম।   শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীরা এসব হামলার সঙ্গে জড়িত এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।   তিনি লিখেছেন, “আমরা আশা করি প্রত্যেক নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং তাঁদের নির্বাচনী এলাকাসহ সর্বত্র সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করে ভিন্নমতের সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।”   প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসু ভিপি। তিনি অভিযোগ করেন, হামলা বন্ধে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পরিস্থিতির অবনতি হলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ৭৭টিতে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৮টিতে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
আবু সাদিক কায়েম
বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দিবো না - সাদিক কায়েম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।   আবু সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে দাবি করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা নৃশংস হামলা পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিন্নমতের অনুসারী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।   তিনি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও জয়ী রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা আশা করি, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ তাঁদের নির্বাচনী ক্ষেত্রসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করবেন। ভিন্নমতের সবার জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।"   হামলা বন্ধে প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কড়া সমালোচনা করে ভিপি সাদিক আরও বলেন, "একের পর এক হামলা চলতে থাকা এবং সাধারণ নাগরিকদের রক্ত ঝরানোর ঘটনাপ্রবাহে প্রশাসন কেন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এভাবে যদি অরাজকতা চলতে থাকে, তবে আমরা সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"   বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, "জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদ ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।" নির্বাচনের পর উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে সাহস সঞ্চার করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
সাদিক কায়েম
একটি দলের মতো দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করবে না জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশ থেকে সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। গত রবিবার রাতে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার শ্যামপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   ডাকসু ভিপি বলেন, "জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। অতীতের কোনো সরকার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানালেও, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ হবে সমৃদ্ধ, উন্নত এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ। এখানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কোনো ঠাঁই হবে না।"   দেশবাসীকে ধোঁকায় না পড়ে বিবেক দিয়ে বিচার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমানের অতীত কার্যক্রম দেখুন। বন্যা, ভূমিকম্প কিংবা করোনাকালীন দুর্যোগ—মানুষের প্রতিটি বিপদে তিনি সবার আগে ছুটে গেছেন। এমন ইনসাফ কায়েমকারী নেতৃত্বের হাতে দেশ থাকলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।"   পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ওই এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ঢাকা-৪ এলাকায় গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা এবং উন্নত চিকিৎসার অভাব প্রকট। এখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, যার ফলে সাধারণ মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবেই আজ এই জনপদ অবহেলিত।"   সৈয়দ জয়নুল আবেদীন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিয়ে একটি আধুনিক ও উন্নত ঢাকা-৪ গড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম জীবনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
বিক্ষোভ মিছিলে কথা বলছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমান- ছিলেন মজলুম, জালিম হবেন না: সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম রবিবার গাজীপুরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির নেতা তারেক রহমান মজলুম ছিলেন, তাই জালিম হয়ে উঠবেন না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যদি কোনো মা-বোনের ওপর হামলা হয়, তাহলে সারাদেশের ১৮ কোটি জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের গণতন্ত্র নয়, বরং মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, ধর্ষণ এবং মামলাতন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের দাপট দেখাচ্ছে। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহিংসতা বন্ধের জন্য নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এছাড়া, শেরপুরে জামায়াত নেতার হত্যাকাণ্ডে বিএনপির জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং গাজীপুরে নারী হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। এই সময় জাকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা এখন দেশে এসে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করছে।” শিবির নেতারা আরও দাবি করেন, ধারাবাহিক ছাত্রসংসদ পরাজয়ের কারণে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে এবং দেশের ছয় কোটি নারী ভোটার দলটিকে বয়কট করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
সাদিক কায়েম
শহীদদের রক্তের সম্মান দিতে হলে আপনাকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বলতে হবে: সাদিক কায়েম

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়তে কুমিল্লায় গর্জে উঠলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।   সাদিক কায়েম সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করছেন, কথা বলছেন। অথচ তাদের সেই রক্তের সম্মান দিতে এবং চব্বিশের আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনি কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন না? আমরা কি তবে ধরে নেব আপনি হাসিনার সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোকেই ভেতরে ভেতরে লালন করছেন?”   বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাই পরবর্তী দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে ফিরে আপনি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছেন, অথচ আপনার দলের নেতাকর্মীরাই আজ আমাদের মা-বোনেদের ওপর হামলা করছে, তাঁদের বিবস্ত্র করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা আপনার দেওয়া ওই ভুয়া ফ্যামিলি কার্ড চাই না, আমরা প্রতিটি পরিবারের সদস্য বা ‘ফ্যামিলি মেম্বার’ হতে চাই।”   এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের আমিরে জামায়াত, আগামীর রাষ্ট্রপ্রধান গত ১৭ বছরে দেখিয়েছেন কীভাবে ১৮ কোটি মানুষের ফ্যামিলি মেম্বার হতে হয়। তিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, কোনো কার্ডের প্রলোভন দেখাননি।”   ভিপি সাদিক কায়েম হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা গণভোটে ‘না’ ভোটের দালালি করছে বা নীরব থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সুযোগ করে দিচ্ছে, তাদের জুলাই প্রজন্ম কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না। তিনি চব্বিশের বিপ্লবকে চূড়ান্ত রূপ দিতে এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করতে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য সিলেটবাসীর মতো কুমিল্লাবাসীকেও উদাত্ত আহ্বান জানান।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাদিক কায়েমের এই সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এই অনড় দাবি আগামী নির্বাচনের আগে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
হাসিনার মতোই লাত্থি দিয়ে বিদায় করা হবে: ‘না’ ভোটের সমর্থকদের সিলেটে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের হুঁশিয়ারি

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত গড়তে এবার সিলেটে গর্জে উঠলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গণজমায়েতে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।   সাদিক কায়েম সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আপনারা কি সেই হাসিনা হতে চান? তাহলে স্পষ্ট করে বলে দিন। মনে রাখবেন, হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাত্থি দিয়ে ভারতে পাঠাই দিছি, ঠিক সেভাবেই আমরা আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল পর্দার আড়ালে থেকে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা মূলত স্বাধীন বাংলাদেশে আবার দিল্লির আধিপত্য ফিরিয়ে আনার একটি গভীর চক্রান্ত।   বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “‘না’ মানে হচ্ছে ভারতের দালালি করা, দিল্লির পদলেহন করা এবং আবার স্বাধীন বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো বিভীষিকার বন্দোবস্ত করা। এই ‘না’ ভোট মানেই হলো বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবারও জাতীয় নেতাদের শহীদ করার সুপরিকল্পিত নীল নকশা।”   এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকার সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, “আমাদের সম্মানিত তারেক রহমান বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিচ্ছেন। কিন্তু লক্ষ্য করছি, সেই মঞ্চগুলো থেকে একবারের জন্যও ‘হ্যাঁ’-এর সপক্ষে কোনো স্লোগান বা বক্তব্য আসছে না। আমরা কি তবে ধরে নেব আপনি ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন? মনে রাখবেন, ‘না’ মানেই হলো হাসিনা, ‘না’ মানেই মোদি এবং ‘না’ মানে হাসিনার সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রাষ্ট্রের ভেতরে জিয়ে রাখা।”   জুলাই প্রজন্মের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, “চব্বিশের বীর শহীদদের রক্ত এখনো শুকায়নি। জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদি রাজনীতি ও ‘না’-এর পক্ষে দালালি করা কাউকে এদেশের মাটিতে কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।” সবশেষে তিনি সিলেটের প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে গণজোয়ার তৈরির আহ্বান জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ভিপি সাদিক কায়েম ও রায়হান উদ্দীন
জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপিকে নিয়ে ব্যঙ্গ: রায়হান উদ্দীনের তীব্র নিন্দা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গাত্মক গান বাজানোর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন।   শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে রায়হান উদ্দীন এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে লেখেন, “জগন্নাথ হলের মাঠে সরস্বতী পূজার পবিত্র অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে ব্যঙ্গ করে রচিত গান বাজিয়ে নাচানাচি করা হয়েছে। একটি ধর্মীয় উৎসবে এমন গানের প্রাসঙ্গিকতা কী, তা আমার বোধগম্য নয়।”   তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গ করার অধিকার সবার থাকলেও ধর্মীয় মঞ্চকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ঘৃণা ছড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় যখন নতুন স্বপ্নের দিকে এগোচ্ছে, তখন জগন্নাথ হলে এই ধরণের নিম্নরুচির প্রবণতা শুরু হওয়াকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তিনি।   এই ঘটনার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের উসকানি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি তুলেছেন রায়হান উদ্দীন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জগন্নাথ হল প্রশাসন এবং পূজা কমিটি এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।   বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভিপি সাদিক কায়েমের ব্যক্তিগত ও বিশেষ উদ্যোগেই এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি হলের প্রত্যেকটির জন্য ১ লক্ষ টাকা করে বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই অনুদান ব্যবহার করে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পরও খোদ আয়োজকদের একাংশের এমন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এক ধরণের বিভেদ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এ ধরণের ঘটনা ক্যাম্পাসের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সৌহার্দ্যকে বিনষ্ট করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0