সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও সময়নিষ্ঠার অভাবে শাস্তির মুখে পড়লেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের তিন কর্মকর্তা। বুধবার সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের আকস্মিক পরিদর্শনে অফিস তালাবদ্ধ পাওয়ার পর দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, অভিযুক্ত তিনজনকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট বুধবার সকালে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সরকার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি দেখেন অফিসের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘ ৩০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করার পর একজন কর্মচারী এসে তালা খোলেন, তবে তখনও মূল কর্মকর্তারা অনুপস্থিত ছিলেন। যারা শাস্তির আওতায় এলেন দায়িত্বে অবহেলার দায়ে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন: মো. নাসির উদ্দিন: ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (আড়াইহাজারে বদলি)। মো. ওমর ফারুক: উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (আড়াইহাজারে বদলি)। জান্নাতী: অফিস সহকারী (বন্দর উপজেলায় বদলি)। প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জনগণের সেবায় বিঘ্ন ঘটানো বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা সরকারের জনসেবামূলক লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি বা দায়িত্বহীনতার কোনো স্থান নেই।
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক অতিক্রম করার পর রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ এখন অস্তিত্ব রক্ষার নয়, বরং গুণগত রূপান্তরের। উন্নয়নকে টেকসই করা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক পরিসরে আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান তৈরি—এসবই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে অগ্রগতি সত্ত্বেও রাজনৈতিক মেরুকরণ, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রাজনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সংগ্রাম, ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজনীতি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তবে স্বাধীনতার পর বাস্তব রাজনীতিতে আদর্শের জায়গায় অনেক সময় দলীয় স্বার্থ ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতা প্রাধান্য পেয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি একদিকে প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে সংশয় তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন রাজনীতিকে জনকল্যাণভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নীতি, কর্মসূচি ও জবাবদিহি হবে আস্থার ভিত্তি। গণতন্ত্রের শক্তি কেবল ভোটের দিনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় আচরণে তার প্রতিফলন জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সক্রিয় সংসদীয় চর্চা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন মিলেই কার্যকর গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে ওঠে। নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল শর্ত। নিরপেক্ষ ও আস্থাভাজন নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানো সম্ভব নয়। তাই নীতিনির্ভর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণ সামাজিক বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সংসদে কার্যকর বিতর্ক, বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা এবং সংলাপভিত্তিক রাজনীতি একটি পরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষণ। বিরোধিতা শত্রুতা নয়, বরং বিকল্প নীতি প্রস্তাবের সুযোগ—এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। নেতৃত্ব বিকাশের কাঠামো শক্তিশালী করা এবং তরুণদের নীতিনির্ধারণে যুক্ত করা রাজনীতিকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আয় বৈষম্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠছে। উন্নয়ন যদি সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়, তবে সামাজিক অসন্তোষ বাড়ে। তাই বাজেট প্রণয়ন ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, সংসদীয় তদারকি ও জবাবদিহি জোরদার করা প্রয়োজন। দুর্নীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন রাজনীতির মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রভাবশালীদের দায়মুক্তি নাগরিক আস্থা ক্ষুণ্ন করে। তাই প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার, তদন্ত সংস্থার স্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য। একই সঙ্গে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর অংশগ্রহণ, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন—এসব মিলিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, সক্রিয় নাগরিক সমাজ ও সচেতন জনগণের সমন্বয়ে রাজনীতি যদি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারে, তবে সংকটের বদলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। মো: আবদুর রহমান মিঞা লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস