আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াল আরও, পাঁচ দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২:৫০
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াল আরও, পাঁচ দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াল আরও, পাঁচ দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনীর দাবি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানায়, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি এই অভিযানকে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের তৃতীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে একাধিক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদের গুদাম ও একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বাহরাইনেও যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া আইআরজিসির দাবি, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায়ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

 

অন্যদিকে, হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা প্রজেক্টাইল প্রতিহত করা হয়েছে এবং বিস্ফোরণের শব্দ মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে।

 

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। বাহরাইনেও সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

 

তবে ইরানের দাবি করা হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে, কারণ এ ধরনের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াল আরও, পাঁচ দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াল আরও, পাঁচ দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনীর দাবি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানায়, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি এই অভিযানকে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের তৃতীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।   একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে একাধিক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদের গুদাম ও একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বাহরাইনেও যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।   এ ছাড়া আইআরজিসির দাবি, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায়ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।   অন্যদিকে, হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা প্রজেক্টাইল প্রতিহত করা হয়েছে এবং বিস্ফোরণের শব্দ মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে।   নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। বাহরাইনেও সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।   তবে ইরানের দাবি করা হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে, কারণ এ ধরনের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২:৫০
প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম আর নেই

প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম আর নেই

মিশিগানের জনপ্রিয় শপিং মলে গুলিতে নিহত ১

মিশিগানের জনপ্রিয় শপিং মলে গুলিতে নিহত ১, আহত ১; সন্দেহভাজন আটক

উচ্চ সুদের ধাক্কায় কমছে নতুন Airbnb ব্যবসা

উচ্চ সুদের ধাক্কায় কমছে নতুন Airbnb ব্যবসা, বাড়ছে পুরোনোদের দাপট

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কমল বন্যপ্রাণী সুরক্ষা, ঝুঁকিতে ক্যালিফোর্নিয়ার শত শত বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ‘এনডেঞ্জারড স্পিসিজ অ্যাক্ট’ (Endangered Species Act) বা বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বিধান বাতিল করেছে। শুক্রবার চূড়ান্ত হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করে খনন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, বন উজাড় এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।   নতুন নিয়মে আইনের ‘ক্ষতি’ (harm) শব্দটির সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতদিন কোনো বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করাও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো। এখন থেকে শুধু প্রাণীকে সরাসরি হত্যা বা আহত করার ঘটনাই ‘ক্ষতি’ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে আবাসস্থল ধ্বংসের বিরুদ্ধে যে আইনি সুরক্ষা ছিল, তা কার্যত তুলে নেওয়া হয়েছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম বলেন, আগের সংজ্ঞা ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছিল এবং সাধারণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতার মধ্যে ফেলেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়বে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত বহু বিপন্ন প্রাণীকে বিলুপ্তির আরও কাছাকাছি ঠেলে দেবে। তাদের অভিযোগ, কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে এক ধাক্কায় দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।   সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্য। সেখানে ৬ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। এনডেঞ্জারড স্পিসিজ অ্যাক্টের আওতায় সুরক্ষাপ্রাপ্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৩০০টির আবাস ক্যালিফোর্নিয়ায়। এসবের মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া কনডর, ধূসর নেকড়ে, মরুভূমির কচ্ছপ, সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ, উত্তরাঞ্চলের স্পটেড পেঁচা, বিভিন্ন প্রজাতির সালামান্ডার, প্রজাপতি, মৌমাছি ও বিরল মাছ।   বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়া কনডর একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। আবাসস্থল রক্ষা ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে এ প্রজাতির সংখ্যা কয়েকশতে উন্নীত হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে সেই আবাসস্থল আবারও বন উজাড় ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উপকূলীয় আবাসন নির্মাণের কারণে এল সেগুন্দো ব্লু বাটারফ্লাই তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসস্থল হারিয়েছিল। সংরক্ষণ কর্মসূচির ফলে একসময় মাত্র এক হাজারে নেমে আসা এ প্রজাতির সংখ্যা এখন এক লাখ ২০ হাজারের বেশি হয়েছে।   পরিবেশবাদী সংগঠন আর্থজাস্টিসের আইনজীবী ক্রিস্টেন বয়েলস বলেন, কোনো প্রাণীর বসবাস, প্রজনন ও খাদ্য সংগ্রহের স্থান ধ্বংস করেও তাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় রাখা সম্ভব—এমন দাবি বৈজ্ঞানিক, আইনি বা জনসমর্থন—কোনোটিরই ভিত্তিতে টেকে না। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই করা হবে। সিয়েরা ক্লাবও ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা সংরক্ষণ নীতিকে দুর্বল করে করপোরেট উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত এলাকাগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।   এটি পরিবেশনীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বিতর্কিত পদক্ষেপ নয়। এর আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে নতুন করে তেল অনুসন্ধানের পরিকল্পনা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমি থেকে পুরোনো তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্পও পরিবেশবাদীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, এসব উদ্যোগ একত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার বহু বিরল প্রাণী ও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ২৩:১৪
অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। ছবি: সংগৃহীত

হিজাব খুলতে বাধ্য করায় ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে দুই মুসলিম নারীর মামলা

১৯১৯ সালে নির্মিত স্প্যানিশ রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহাসিক বাড়িটি ১৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

হলিউডের তারকাপাড়ায় বড় রিয়েল এস্টেট চুক্তি, অপরার সম্পত্তি কিনলেন অ্যাডাম লেভিন

ফিলাডেলফিয়ায় তীব্র বজ্রঝড়ে সড়কের ওপর উপড়ে পড়ে বিশাল গাছ। ছবি: সংগৃহীত

আকস্মিক বজ্রঝড়ে লন্ডভন্ড ফিলাডেলফিয়া, উপড়ে পড়ল অসংখ্য গাছ; বিদ্যুৎহীন হাজারো গ্রাহক

দুর্ঘটনার আগে ছোট বিমানে বাবা জিমি ডন লুইস ও ছেলে ব্রেইডেন লুইস। ছবি: সংগৃহীত
প্রিয় দলের খেলা দেখে আর বাড়ি ফেরা হলো না, বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে বেসবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের সিলোম স্প্রিংসের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী জিমি ডন লুইস এবং তার ২২ বছর বয়সী ছেলে ব্রেইডেন লুইস।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এবং স্থানীয় টেলিভিশন কেএসডিকে (KSDK News)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তারা সেন্ট লুইসের বুশ স্টেডিয়ামে সেন্ট লুইস কার্ডিনালস ও মিলওয়াকি ব্রিউয়ার্সের মধ্যকার বেসবল ম্যাচ দেখে নিজ শহরে ফিরছিলেন। পথে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মনরো কাউন্টির একটি মাঠে তাদের ছোট বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিমি ডন লুইস নিজেই বিচক্রাফট ৯৫-বি৫৫ (Beech 95-B55) মডেলের বিমানটি চালাচ্ছিলেন। বিমানটি ইলিনয়ের সেন্ট লুইস রিজিওনাল বিমানবন্দর থেকে আরকানসাসের সিলোম স্প্রিংস মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। ওই সময় এলাকাজুড়ে বৈরী আবহাওয়া এবং বজ্রঝড় বিরাজ করছিল।   মনরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার কিছু আগে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিক ফ্লাইট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিমানটি সম্ভবত ঝড় এড়ানোর চেষ্টা করে দিক পরিবর্তন করেছিল। এরপর এটি নিচের দিকে সর্পিলভাবে নামতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   বিমানটির খোঁজে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দমকল, জরুরি চিকিৎসা সেবা (ইএমএস) সদস্য এবং ড্রোন অপারেটররা অংশ নেন। তবে প্রবল বৃষ্টি ও কম দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকারীরা সঙ্গে সঙ্গে বিমানটি শনাক্ত করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মনরো কাউন্টির একটি মাঠে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়।   মনরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা তাদের সঙ্গে রয়েছে।"   দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ২০:৫০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে অমানবিক পরিবেশ থেকে উদ্ধার ১৬ শিশুর জন্য ১০ লাখ ডলার সহায়তা

নিউইয়র্কে খেলা দেখতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারালেন সাবেক ইউরোপিয়ান বাস্কেটবল তারকা I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে খেলা দেখতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারালেন সাবেক ইউরোপিয়ান বাস্কেটবল তারকা

কানসাসে আর্জেন্টিনা ম্যাচের ৪ ঘণ্টা আগেই সাংবাদিকে ভরে গেল মিডিয়া সেন্টার I ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা ম্যাচের ৪ ঘণ্টা আগেই সাংবাদিকে ভরে গেল মিডিয়া সেন্টার

0 Comments