ধর্ষক নূরাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, নরসিংদীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও পরে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতা জড়িত বলে জানা যাচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মহিষাশুরা ইউনিয়নের মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান। সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও লেখেন, প্রায় ১৫ দিন আগে নরসিংদীর মাধবদীতে নূরার নেতৃত্বে ৫–৬ জনের একটি বখাটে দল কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটির বাবা স্থানীয় মেম্বারের কাছে বিচার চাইলে ধর্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আপসের নামে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন আহম্মদ আলী দেওয়ান। এ সময় মামলা করতে বাধা দেওয়া হয় এবং মেয়েটির পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এসব ঘটনার পর চাপে পড়ে বুধবার বিকেলে কিশোরী মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। এ সময় নূরা তাকে আবার তুলে নেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সরিষা ক্ষেতে মেয়েটির লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশ মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে এটি যথেষ্ট নয়। পোস্টের শেষ অংশে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ষক নূরাকে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে আহম্মদ আলী দেওয়ানের শক্তির উৎস থাকা বিএনপি নেতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন তোলেন—বিএনপি নেতাদের প্রশ্রয়ে ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ কবে বন্ধ হবে?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি লিখেছেন, “সবকিছুই সমঝোতা।” এই মাত্র দুই শব্দের পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন মহলে তার সম্ভাব্য অর্থ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়। এর আগের রাতে একই দলের প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ফেসবুকে হাসনাতকে উল্লেখ করে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “হাসনাত কই? লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে। নির্বাচন তো হয়ে গেছে, এবার সংস্কার ও বিচার হবে।” তার এই পোস্টও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় আকস্মিক সফরে গিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির শীর্ষ সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে বিভিন্ন স্থানে দেখা গেলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তিনি প্রথমে লামা উপজেলা–র ইয়াংছা চেকপোস্ট সংলগ্ন একটি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। পরে তাকে লামা বাজার ও আলীকদম উপজেলা–র বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে অল্পসংখ্যক সঙ্গী ছিলেন এবং তিনি সাধারণ পোশাকে চলাফেরা করেন। জনপ্রিয় এ নেতার আকস্মিক সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নাকি ব্যক্তিগত ভ্রমণ—তা স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানাতে পারেনি। এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র লামা উপজেলা সমন্বয়কারী মো. নাজমুল হোসেন জানান, সফরটি সম্পর্কে আগে থেকে সাংগঠনিকভাবে অবহিত করা হয়নি। তিনি এটিকে ব্যক্তিগত সফর বলেই উল্লেখ করেন। হঠাৎ এ সফরের পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় জনপদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে যোগ হলো এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী অধ্যায়। প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার সব নিয়ম ভেঙে নিজের সেই চিরচেনা ‘বিপ্লবী জার্সি’ পরেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ সচিবালয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে যে সবুজ জার্সিটি পরে তিনি রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, সেই একই পোশাকে তাঁকে দেখা গেল সংসদ ভবনে। জার্সির পেছনে লেখা ছিল তাঁর নাম এবং ১০ নম্বর জার্সি নম্বর। মূলত আন্দোলনের স্মৃতি এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের বার্তা পৌঁছে দিতেই তাঁর এই বিশেষ পোশাক নির্বাচন। উল্লেখ্য, এদিন বিএনপির সংসদ সদস্যরাও শপথ নিয়েছেন এবং তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে সবার মাঝে আলাদা করে নজর কেড়েছে হাসনাত আবদুল্লাহর এই সাধারণ অথচ শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর এক ব্যতিক্রমী ও বলিষ্ঠ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ১১ দলীয় জোটের এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর এলাকায় দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সঙ্গে সমান আচরণ করা হবে এবং কোনো ধরনের বেইনসাফি সহ্য করা হবে না। ভোটের পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর এই ঐতিহাসিক বিজয়ের নেপথ্য লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনটি ছিল হাসনাত আবদুল্লাহ বনাম এক শক্তিশালী অশুভ সিন্ডিকেটের লড়াই। আমার বিরুদ্ধে একদিকে ছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ, অন্যদিকে ছিল লুটেরা, চাঁদাবাজ, মাদক সম্রাট এবং ব্যাংক লুটেরারা। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে জনগণ আমার ওপর আস্থা রেখেছে, তাই আজ আমি বিজয়ী।” রাজনীতিতে নতুন শিষ্টাচার প্রবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সমাজে প্রকৃত ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। আমি এমন একটি সিস্টেম তৈরি করতে চাই, যেখানে আমার কট্টর শত্রুর সঙ্গেও যেন কোনো অবিচার না হয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে নতুন করে বিনির্মাণ করা।” ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বিলুপ্তিই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। এনসিপি জনগণের প্রতি যে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে জিরো টলারেন্স। আমরা পুরো রাষ্ট্র কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেব, যাতে সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।” দেবিদ্বারের এই জয়কে ‘নতুন বাংলাদেশের’ নতুন রাজনীতির সূচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তরুণ এই নেতার এমন সাহসী ও ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্যে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত–এনসিপি জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এলাকায় ব্যাপক হারে কালো টাকা ছড়ানো এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, দেবিদ্বারের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনি ফলাফল প্রভাবিত করতে বিপুল পরিমাণ ‘কালো টাকা’ ঢুকছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "জাফরগঞ্জ এলাকায় কিছু স্বর্ণকারের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বরকামটা ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রিজাইডিং অফিসার এরই মধ্যে ‘বিক্রি হয়ে গেছেন’ বলে আমরা খবর পেয়েছি।" এছাড়া সুলতানপুর, রাজামেহের ও ফতেয়াবাদ ইউনিয়নেও একই কায়দায় অর্থের লেনদেন শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, "ভোট একটি পবিত্র আমানত। অর্থের বিনিময়ে এই আমানত কেনাবেচা হতে দেওয়া হবে না। আমি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, এই কালো টাকার জোয়ার প্রতিরোধে আপনারা কঠোর হোন।" তিনি সাধারণ ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, কোথাও অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখলে সাথে সাথে এনসিপি নির্বাচনি কন্ট্রোল রুমে জানান এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করুন। ভিডিওতে আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা এই তরুণ নেতা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা টাকা নিয়ে বের হবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জনতাকে সাথে নিয়ে তাদের পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, যারা অর্থের মাধ্যমে নির্বাচনকে কলুষিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের নাম ও পরিচয় উপযুক্ত প্রমাণসহ দেশবাসীর সামনে উন্মোচন করা হবে। নিজের রাজনৈতিক সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "আমি এখন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে সশরীরে অবস্থান করব। ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল এবং জনগণের বিজয় নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমি মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরব না।" নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হাসনাত আবদুল্লাহর এমন মারমুখী অবস্থান ও গুরুতর অভিযোগ দেবিদ্বারের ভোটের মাঠে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ১২ তারিখ আমরা নিচ্ছি ব্যালটের প্রস্তুতি, একটা দল নিচ্ছে বুলেটের প্রস্তুতি। আমরা এই বুলেট বিপ্লবকে ব্যালট বিপ্লব দিয়ে প্রতিরোধ করব। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। শনিবার বিকেলে খুলনার ফুলতলায় ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, ভুয়া ভোট হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এসব কাজ ওপর মহলের নির্দেশে করা হয়েছিল। এবার জনগণের কাতারে নেমে এসে জনতার নির্বাচন করুন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সহজ অর্জন নয়। এই নির্বাচন পেতে সহস্র মানুষ শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন শহীদদের রক্তে লেখা।” ২০০৯ সালের আগে লগি-বৈঠার রাজনীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদির শাহাদাত পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, কিছু মিডিয়া মালিকপক্ষের চাপে জনগণের পক্ষে কথা বলতে পারছে না। তিনি দাবি করেন, জনগণ যখন জাগে, তখন জনগণই মিডিয়া হয়ে ওঠে। ডুমুরিয়া ও ফুলতলার ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি পক্ষ কালোটাকা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে। ভোট বিক্রি করলে পাঁচ বছর গোলামি করতে হবে। শহীদদের রক্তের দোহাই দিয়ে বলছি—ভোট কেনাবেচা করবেন না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি জনগণের অর্থ ও সমর্থনের ওপর ভর করেই রাজনীতি করবেন, তবে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা তদবির গ্রহণ করবেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের খয়রাবাদ মাদ্রাসা মাঠে শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, মানুষ আমাকে সহযোগিতা করছেন রাজনীতিকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য। কেউ যদি মনে করেন অর্থ দিয়ে পরে কোনো সুবিধা আদায় করবেন—তা সম্পূর্ণ ভুল। আইন ও ন্যায়ের প্রশ্নে আমি নিজের আত্মীয়কেও ছাড় দেব না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয়ে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এক ভাই এক দলে, আরেক ভাই অন্য দলে—যে দল ক্ষমতায় আসে, সুবিধা নেয় তারাই। এই অপসংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না। মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যারা ভুল পথে আছেন, তারা সঠিক পথে ফিরে এলে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব। কিন্তু কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। কে কোন দলের, তা বিবেচ্য নয়—জনগণের জন্য যে রাস্তা বা কাজ বেশি জরুরি, সেটাই আগে করা হবে। ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভোটের আগের দিন যদি টাকার প্রলোভন দেওয়া হয়, তা প্রত্যাখ্যান করুন। ঘুষের বিরুদ্ধে থাকলে ভোটের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে।
যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই আহ্বান জানান। হাসনাত বলেন, আমরা প্রত্যেকটা ভোটারের কাছে যাবো। বার বার যাবো। এই জুলাই যোদ্ধারা, যারা মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে এসেছে, তাদেরকে ভাট দখলের ভয় দেখায়েন না। যারা ভোট দখল করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে আমাদের ছাত্র শক্তি ও শিবিরের ভাইয়েরাই যথেষ্ট। সমাবেশে উপস্থিত মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সন্তান নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে আপনারা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, সেভাবে এই শাপলা কলিকে জেতানোর জন্য ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দিয়ে বাসায় গিয়ে নাস্তা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের আচলে পরম মমতায় আমাদের আগলে রাখবেন। যারা মা-বোনের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখাবেন। যারা আপনাদের বিবস্ত্র করতে চাই, তারা ক্ষমতায় এলে সমগ্র বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করে ফেলবে। যারা আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করতে চাই, মাথার হিজাব খুলে ফেলতে চাই, তাদের ভোট দিয়ে জবাব দেবেন।’
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতির সামনে বলছেন, আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের কোনো হ্যাকিং হয়নি। বাঁচার জন্য আপনারা মিথ্যা কথা বলছেন। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পরে কী পরিমাণ মিথ্যা বলতে পারে—তা সহজেই অনুমেয়।’ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার উপশহর কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। সে কারণেই দলটির শীর্ষ নেতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অথচ এখন সেই দলই আবার নিজেদের নারী কর্মীদের গ্রামে গ্রামে পাঠাচ্ছে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের জন্য। তিনি অভিযোগ করেন, হয়তো কাউকে সামান্য অর্থও দেওয়া হতে পারে, কিন্তু পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরাও ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে অংশ নেন। সে ক্ষেত্রে তাদের দলের নেতারা নারীদের সম্পর্কে কী ধরনের মানসিকতা পোষণ করেন, সে প্রশ্ন তোলার অধিকার সবার রয়েছে। তারেক রহমান ইসলামের ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন কর্মজীবী ও সফল ব্যবসায়ী নারী। বদরের যুদ্ধে মুসলমান বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রসদের ব্যবস্থাপনা তিনি করেছিলেন। একই যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও হজরত আয়েশা (রা.)–এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল, যা আজকের নার্সিং ব্যবস্থার প্রাথমিক রূপ। তিনি বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামের এক নেতা বাংলাদেশের কর্মজীবী নারী, মা ও কন্যাদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যারা নিজেদের দেশের মানুষকে এভাবে অবমাননাকর ভাষায় চিহ্নিত করে, তাদের কাছ থেকে জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারে না। নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারী সমাজকে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারে থাকাকালে মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে চালু করেছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের একজন মা বা গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে বাংলাদেশ কখনো এগোতে পারবে না। নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই কেবল দেশ এগোবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে যেভাবে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, এখন আবার একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ উদ্দেশ্যে জামায়াত তাদের লোকজনকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহে পাঠাচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভোট গণনা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট গণনায় দেরি হওয়ার অজুহাতে কেউ যদি সুযোগ নিতে চায়, তাহলে তা প্রতিরোধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ভোট দেওয়ার ও ভোট গণনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনসভায় তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। কৃষিকার্ডের মাধ্যমে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে। যুবক-যুবতীদের জন্য আইটি পার্ক স্থাপনসহ কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারে এলে যশোরের উলাশী খাল পুনঃখননসহ সারাদেশে হাজার হাজার খাল খনন করে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে এবং জিয়াউর রহমানের আমলে চালু ‘জিকে প্রকল্প’ পুনরায় কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন। মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবার—মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের। ঐক্যবদ্ধভাবেই দেশ স্বাধীন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনসভার শেষ পর্বে তিনি যশোরের ছয়টি আসনসহ বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার ২২টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে এক পথযাত্রায় তারা এসব মন্তব্য করেন। পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘দেশের এক পক্ষ যখন ভারতীয় গোলামি করার জন্য মুখিয়ে আছে, অন্য পক্ষ তখন আজাদী বা স্বাধীনতার আকঙ্ক্ষায় অবিচল। বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের নামে জনগণের অর্থ লুটপাটের এক নতুন মিশন শুরু হয়েছে। এটি মূলত চাঁদাবাজির নতুন লাইসেন্স ছাড়া আর কিছুই নয়।’ স্থানীয় চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর মানুষ আজ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। আগে যেখানে ১০০ টাকা দিতে হতো, এখন সেখানে ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ভয়ে ব্যবসা ছেড়ে ঘরে বসে থাকছেন। তাই জনগণের এখন ফ্যামিলি কার্ড নয়, বরং চাঁদাবাজি বন্ধের কার্ড প্রয়োজন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই অঞ্চলে দেশের বড় খনি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি, বরং লুটেরারা সম্পদ পাচার করেছে। সমাবেশে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা করা হলে তা ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনবে। যারা দেশের মানুষকে ১৫ বছর নির্যাতন করেছে, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা শুভ ফল দেবে না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের। যারা বিকল্প পথে ক্ষমতা দখলের পায়তারা করছে, তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দিল্লির মদদে ফ্যাসিবাদ ফেরার চেষ্টা করলে তাদেরও হাসিনার মতো দিল্লি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’ নির্বাচনী এই পথযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর-৫ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোটের ইশতেহার তুলে ধরেন। সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের’ লক্ষ্যে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।
আসন্ন গণভোটে বিএনপি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও গোপনে ‘না’-এর কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার রাতে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রাত আটটার দিকে কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ পথসভায় তিনি বলেন, বিএনপি ওপেনে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু গোপনে তারা না-এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ওপেন-গোপনের খেলা বন্ধ করে জনতার কাতারে নেমে এসে গণভোটে মুখে যেটা বলবেন, কাজে সেটাই করে হ্যাঁকে জিতিয়ে আগামী সংসদে ক্ষমতার কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। দেশে দুর্নীতি বন্ধ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোটারদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ভারতের যে রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই জাতীয় পার্টিকে ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করতে হবে। তারা ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে মৃত; ১২ তারিখ হবে তাদের জানাজা। এ পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খানসহ দলটির অন্যান্য নেতারা। সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ রংপুর-৪ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে আখতার হোসেনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আখতার হোসেন শুধু কাউনিয়ার জন্য নয়, বরং দেশের যেকোনো আসন থেকে নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখেন। হাসনাত বলেন, “তিনি শুধু নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হননি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে। যখন মিডিয়া নীরব ছিল, প্রশাসন ও মূলধারার শক্তিগুলো হাসিনাকে সমর্থন দিচ্ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যারিয়ারের চিন্তায় নির্যাতনের বিষয় উপেক্ষা করছিল, তখন একাই যিনি দাঁড়িয়েছিলেন নিপীড়নের বিরুদ্ধে—তিনি আমাদের মজলুম নেতা আখতার হোসেন।”
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস