দীর্ঘ উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সুযোগে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পুনরায় জ্বালানি তেলবাহী বিশালাকার ট্যাংকার চলাচল শুরু হয়েছে। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে রোববার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম এই ‘চোক পয়েন্ট’ বা সংকীর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন স্থবির হয়ে পড়া কয়েকশ ট্যাংকারের মধ্যে অন্তত তিনটি সুপারট্যাংকার ইতোমধ্যে এই এলাকা অতিক্রম করেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (LSEG) তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ও চীনের পতাকাবাহী তিনটি ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ (VLCC) শনিবার হরমুজ প্রণালীর ট্রায়াল অ্যাঙ্করেজ এলাকা পার হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘সেরিফস’ এবং চীনের ‘কসপিয়ার্ল লেক’ ও ‘হে রং হাই’। এর প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে ইরাকি তেল নিয়ে ‘ওশান থান্ডার’ নামক আরেকটি ট্যাংকার সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করার পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। বর্তমানে অন্তত তিনটি খালি জাহাজ তেল লোড করার জন্য পারস্য উপসাগরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে ইসলামাবাদে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কোনো রফাসূত্র ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের প্রস্তাব দিলেও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা (IMO) এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রবাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল পর্যবেক্ষণে ওমানের সাথে একটি বিশেষ প্রটোকল বা নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, শান্তি চলাকালেও উপকূলীয় দেশগুলোর ‘তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের’ অধীনে জাহাজ চলাচল করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার লক্ষ্য জাহাজ চলাচলে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা নয়, বরং কৌশলগত এই জলপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। গরিবাবাদি আরও উল্লেখ করেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে আরও উন্নত পরিষেবা প্রদান এবং যাত্রাপথকে আরও ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বাণিজ্যিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ওমান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে "কাণ্ডজ্ঞানহীনতা" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল এই বৈঠকের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন, তেহরানের বাধার কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া এই নৌপথটি পুনরায় চালুর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায় খুঁজতেই এই জরুরি আয়োজন। মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে ইরান বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত অচল করে রেখেছে। উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র উপস্থিত নেই।পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ইরানের এই অবিবেচকের মতো আচরণ এমন সব দেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে যারা এই সংঘাতের সঙ্গে মোটেও জড়িত নয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বর্তমানে চরম হুমকির মুখে। আলোচনার পাশাপাশি কুপার জানান, একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তা পর্যালোচনার জন্য শিগগিরই সামরিক পরিকল্পনাবিদদেরও এক টেবিলে বসানো হবে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য চীনের আরও সরাসরি এবং সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল নিকোলা ভোজুর। বুধবার প্যারিসে আয়োজিত ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে চীনের নৌযান সংখ্যা দেশটির চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। অ্যাডমিরাল ভোজুর বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত চীনের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। চীন ও ইরানের মধ্যে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সংলাপ চলছে, কিন্তু তা পুরো নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে যথেষ্ট নয়। তিনি আরও যোগ করেন, এই অবস্থায় চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য এবং প্রণালিটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের ফলে বিশ্বজ্বালানির বাজারে অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ থাকার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক সচলতা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই অঞ্চলে চলাচলকারী কিছু জাহাজে হামলা চালায়, যার ফলে ভয়াবহ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অসুবিধা মোকাবিলায় এশিয়া ও আফ্রিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা: স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অপ্রয়োজনীয় সরকারি অফিস বন্ধ; ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ কিউআর কোডে সীমিত পেট্রল বিতরণ। ভুটান: জেরি ক্যানের মাধ্যমে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ ও জরুরি সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেশনিং। পাকিস্তান: সরকারি দপ্তরে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো এবং চার দিনের কর্মসপ্তাহ। ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম: সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সীমিত কর্মসপ্তাহ, গণপরিবহন ব্যবহার আহ্বান। মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া: পেট্রলপাম্প সীমিত কার্যক্রম ও ‘জোড়-বিজোড়’ ভিত্তিতে রেশনিং। মিসর: সরকারি ভবন, বিপণিবিতান ও রেস্তোরাঁ বন্ধের সময় নির্ধারণ; বিলবোর্ডের আলো বন্ধ। কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা: রপ্তানি নিষিদ্ধ ও শিল্প খাতে নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি বরাদ্দ। নিউজিল্যান্ড: সপ্তাহে একদিন ‘গাড়িমুক্ত দিবস’; উচ্চ মূল্যের কারণে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল। স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া: ডিজেল মজুতদারি ও ব্যক্তিগত গাড়ি-ট্রাকের জন্য ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা রক্ষায় এসব পদক্ষেপে দেশগুলো কতদূর যেতে পারে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ শুরু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, কোনো আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবার কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ। ইরান কর্তৃক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং তেল-গ্যাস স্থাপনায় নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বিবৃতিতে দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল বা 'সেফ প্যাসেজ' নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এই জোট। মিত্র দেশগুলো ইরানকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা, মাইন স্থাপন এবং মিসাইল নিক্ষেপের মতো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবনা মেনে চলার জন্য তেহরানের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিত্র দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল ও কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিই সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি জানান, বর্তমানে ইরানের আইনপ্রণেতারা এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছেন। মূলত 'জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার' লক্ষ্যেই তেহরান তার এই সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চায়। শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাফিই বলেন, "আমরা আমাদের শত্রুদের আগের সেই আয়েশি দিনগুলো কেড়ে নিয়েছি। তারা এখন এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, চলমান উত্তেজনার অবসান ইরানের চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমেই হবে এবং এরপর থেকে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত শত্রুপক্ষর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের সিংহভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় ইরানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একজোট হয়েছে অঞ্চলের প্রভাবশালী ১২টি রাষ্ট্র। বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক জরুরি বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। কাতার, আজারবাইজান, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বিবৃতিতে তেহরানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ইরানকে অবশ্যই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে। বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর। মন্ত্রীরা ইরানকে সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত করা বা সমুদ্রপথে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই জলপথগুলোতে কোনো ধরনের অস্থিরতা কাম্য নয় বলে তারা একমত হন। একই বৈঠকে মন্ত্রীরা লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তারা লেবাননের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় দেশগুলো একযোগে ইরানকে সংযত হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য ধরা পড়েছে। ১৮ মার্চ ধারণ করা ওই ছবিতে দেখা গেছে, ‘সাফিন প্রেসটিজ’ নামক ১৭৫ মিটার দীর্ঘ বিশাল জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ওমানের রাস মাখবুক থেকে প্রায় ৪.৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে বর্তমানে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, গত ৪ মার্চ একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে প্রথম আগুন লাগে। প্রাণ বাঁচাতে জাহাজের সব ক্রু ইতোমধ্যেই সেটি ত্যাগ করেছেন। পাকিস্তানের ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অফিস বুধবার এক জরুরি নেভিগেশনাল সতর্কবার্তায় ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকে সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাওয়া এই নতুন আগুন ঠিক কখন শুরু হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিএনএন জাহাজের দৈর্ঘ্য এবং অবস্থান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, এটি সেই ক্ষতিগ্রস্ত ‘সাফিন প্রেসটিজ’ জাহাজই।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এই কৌশলগত জলপথটি সাধারণত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর কোনো জাহাজ এখান দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদ-এ প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নির্দিষ্ট মিত্রদের জন্য নিষিদ্ধ।" আরাঘচি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর যতদিন পর্যন্ত বৈরী দেশগুলোর হামলা বা চাপ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটে ইরানের এমন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরান এই নীতি বজায় রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহাড়ায় জাপানি নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি এক বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রোববার জাপানের সরকারি সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান, চীন, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানান, আইনি দিক থেকে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জাহাজ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সামরিক হস্তক্ষেপের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা জাপানের নেই। আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বৈঠকের আগে এই দাবি টোকিওকে বেশ চাপে ফেলেছে। শুল্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার কথা থাকলেও এখন ট্রাম্পের এই সামরিক দাবিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোবায়াশি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে জাপানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এখন আর কেবল বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওই পথে মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই আহ্বানে মিত্রদের পক্ষ থেকে এখনো মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, বরং প্রতিটি দেশই হাঁটছে সতর্ক পথে। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানি করে, সেই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে সরাসরি এই নিরাপত্তা মিশনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে কেবল সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়াটা মিত্রদের জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে বা জলসীমায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা আইনিভাবে অত্যন্ত দুরূহ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাপানি সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে না পড়লে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে না। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এখনই কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ফ্রান্স এই অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল জোট গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, আর যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের সাথে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইরানও পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পাল্টাপাল্টি হিসেবে রোববার ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও সৌদি আরবের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে, তবে তেহরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন এক অস্থির সময় পার হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের হাতে অবরুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যত অচল করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে সুরক্ষা দিতে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছেন। তবে এই পরিকল্পনাকে 'ভয়াবহ বিপজ্জনক এক মিশন' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক। তার মতে, এই সরু জলপথের উত্তর দিকে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান থাকায় তারা সহজেই ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে পারে। প্রণালীটি এতটাই সংকীর্ণ যে, উপকূল থেকে হামলা চালানো হলে মার্কিন বা অন্য দেশের যুদ্ধজাহাজের পক্ষে তা ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্প সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন যে, তিনি আশা করছেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও এই পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকার সাথে যোগ দেবে। যদিও কোন কোন দেশ প্রকৃতপক্ষে রাজি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ১৭টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের পতাকাবাহী সকল ধরনের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করেছে নরওয়ে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার ঝুঁকি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওসলো। নরওয়ের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নরওয়েজীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু প্রণালীতে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-ষষ্ঠাংশ এবং এলএনজির এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। নরওয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালীতে একটি থাই বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটি মারাত্মক সংকটে পড়লে ওমানের রাজকীয় নৌবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে ২০ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (ওএনএ) জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সকল নাবিকই থাইল্যান্ডের নাগরিক। হামলার ফলে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ওমান নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় রয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রসীমায় এমন হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।
পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাতের জেরে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং ১৫ হাজার প্রমোদতরীর (ক্রুজ শিপ) যাত্রী আটকা পড়ে আছেন। ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আইএমও-র মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আইএমও বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নির্দোষ নাবিকদের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং একটি বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে জাহাজে অন্তত সাতটি হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে আইএমও। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন। বিশ্ববাজারে মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ডমিঙ্গুয়েজ সকল শিপিং কোম্পানিকে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং ধৈর্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের হিসাব-নিকাশ বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরা এখন দেরিতে হলেও এটা উপলব্ধি করছেন যে, তেহরানকে সামরিক চাপে নতিস্বীকার করানো যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল, বাস্তবতা তার উল্টো। অপ্রতিরোধ্য সামরিক কাঠামো ও সমন্বয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার পরও দেশটির সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে তেহরান অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। এই সমন্বয় ও শৃঙ্খলা প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সহ্য ক্ষমতাকে অত্যন্ত হালকাভাবে নিয়েছিল। বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা ইরানের পক্ষ থেকে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিমা কোম্পানিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে। ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ফরেন পলিসি আরও দাবি করেছে, ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। যুদ্ধের খরচ এবং সক্ষমতার এই ভারসাম্য ধীরে ধীরে ইরানের অনুকূলে চলে যাচ্ছে, যা পেন্টাগনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিতে সরাসরি ‘আগুন ধরিয়ে দেওয়া’ হবে। সোমবার আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি এক বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালী এখন থেকে বন্ধ। যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে পার হওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিপ্লবী গার্ড এবং নৌবাহিনীর যোদ্ধারা সেই জাহাজগুলো পুড়িয়ে দেবে।” উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে ইরান দাবি করেছে, তারা ইতিমধ্যেই একটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ‘এথে নোভা’ (ATHE NOVA) নামক ওই ট্যাঙ্কারটি দুটি ড্রোনের আঘাতে বর্তমানে জ্বলছে বলে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। কেন এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সরকারের পতনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবর পাওয়া যায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর খবরের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতিমধ্যেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটের প্রভাবে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রুট দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।
বর্তমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রে চলে এসেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর 'হরমুজ প্রণালী'। প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের এক বিশেষ বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকীর্ণ জলপথটি কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণকারী এক শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি ধমনী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ (২০ মিলিয়ন ব্যারেল) এবং ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতি যেমন চীন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জ্বালানি চাহিদার জন্য এই পথের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। ইরানের কৌশলগত অবস্থান প্রণালীটির উত্তর উপকূলে ইরানের অবস্থান দেশটিকে এক অনন্য ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা এই পথে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। সমরবিদদের মতে, ইরানের নৌ-কৌশল মূলত এই প্রণালীর ওপর অসম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দ্রুতগতির আক্রমণকারী বোট, উপকূলীয় মিসাইল সিস্টেম এবং নৌ-মাইনের মাধ্যমে ইরান এই পথে যে কোনো সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এই পথে তাদের জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে এবং বিকল্প পথে চলাচলের কারণে বীমা ও জাহাজ ভাড়ার খরচ বহুগুণ বেড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা যদিও এই পথ এড়িয়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য কিছু পাইপলাইনের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে তা সামুদ্রিক পথে পরিবহনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য অবরুদ্ধ বা অস্থির থাকলে তা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামাতে পারে। উপসংহার প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান যদি এই প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে তা কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থাকবে না; বরং এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহাবিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। যুদ্ধের ময়দানে কে জিতবে তা হয়তো এই 'হরমুজ চোকপয়েন্ট' কার নিয়ন্ত্রণে থাকে তার ওপরই নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews