সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ভারতের জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননায় সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, রাজ্যসভায় নতুন বিল পাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২৩:২৩
ভারতের সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননাবিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননাবিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অবমাননা করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনতে নতুন আইন প্রণয়নের পথে এগিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ লক্ষ্যে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যসভায় কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি পাস হয়। এখন এটি লোকসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে বিলটি আইনে পরিণত হবে।

 

বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় রাজ্যসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী সদস্যরা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ চললেও স্পিকার অধিবেশন চালিয়ে যান এবং সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

পরে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে উঠলে বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করে।

বিলের জবাবি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সম্মান এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু বিপ্লবী ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মৃত্যুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করেছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্ব অপরিসীম। কংগ্রেস কেন এ সংগীতের বিরোধিতা করছে, তা তার বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-সহ জাতীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা বা অসম্মানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

আইনটি কার্যকর হলে এসব জাতীয় প্রতীক অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা প্রদান করা।

 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর এটি লোকসভার অনুমোদন এবং পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নতুন আইন কার্যকর হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ভারত-চীন সীমান্তে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
শি’র দিল্লি সফরের মধ্যেই অরুণাচল সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে চীনা সেনারা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের মধ্যেই অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় চীনের অবকাঠামো নির্মাণ ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণের বরাতে বলা হয়েছে, ভারত-চীন সীমান্তের কাছাকাছি কয়েকটি এলাকায় চীন নতুন ভবন, সড়ক ও হেলিপ্যাডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।   তবে এসব স্থাপনা ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে এবং সেগুলোর অবস্থান নিয়ে দুই দেশের দাবির মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। ভারত বা চীন কেউই সাম্প্রতিক এসব উপগ্রহচিত্রকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এমন কোনো বক্তব্য দেয়নি যে চীনা সেনারা নতুন করে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও উপগ্রহচিত্রের বিশ্লেষণকে দাবির পর্যায়েই দেখা হচ্ছে।   হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলের এই সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে উল্লেখ করে। ভারত অবশ্য চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নথিতেও বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে চীন প্রায় ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডের দাবি করে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে অরুণাচলের আপার সুবনসিরি জেলার প্রত্যন্ত এলাকা, বিশেষ করে গেলেমো ও তাকসিংয়ের আশপাশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চীনা বাহিনী ও অবকাঠামোর উপস্থিতি বাড়তে থাকায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত চারণভূমি ও শিকারের এলাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ছে।   স্থানীয় বাসিন্দা তাকোক ম্রা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, তাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। তার দাবি, চীনা বাহিনী সীমান্তের ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার দিকে এগিয়ে এসেছে। তবে তিনি ঠিক কতটা এলাকা দখল করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করতে পারেননি।   সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানও চালানো হয়েছে। অরুণাচলের তাগিন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একটি দল আগস্টের ১১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত গেলেমো ও তাকসিং এলাকায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে। দলটি স্থানীয় বাসিন্দা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং সেনাবাহিনীর রসদ বহনকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে।   তাদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, আগে যেখানে ভারতীয় সেনারা নিয়মিত টহল দিত, এমন কিছু এলাকায় চীনা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আপার সুবনসিরির জেলা প্রশাসন এবং অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতিকে শুধু স্থানীয় উন্নয়ন সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।   উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণেও সীমান্তের চীনা নিয়ন্ত্রিত অংশে অবকাঠামো সম্প্রসারণের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জেনসের বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিব্বতের লহুনজে কাউন্টির ঝারি শহরের আশপাশে বেশ কিছু নতুন নির্মাণকাজ শনাক্ত হয়েছে।   কিছু এলাকায় জমি সমতল করা, নির্মাণযন্ত্রের উপস্থিতি এবং নির্মাণকাজের সহায়ক স্থাপনা দেখা গেছে। একটি এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢাল কেটে রাস্তা তৈরির কাজ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি এলাকায় হেলিপ্যাড নির্মাণ বা সম্প্রসারণের চিত্র পাওয়া গেছে।   উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনার কিছু সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভবনের নকশা, আশপাশে সামরিক ধরনের যানবাহন এবং প্রশিক্ষণ এলাকার মতো কিছু বৈশিষ্ট্য তাদের এমন ধারণার দিকে নিয়ে গেছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে কোনো স্থাপনার প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়। ফলে এগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক অবকাঠামো হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। একই এলাকায় কয়েক বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার প্রমাণও পাওয়া গেছে।   চীন ও ভারতের সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে ভারতীয় ও চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি ঘটে। এরপর কয়েক বছর ধরে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, অবকাঠামো নির্মাণ এবং কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলেছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ে। চলতি সেপ্টেম্বরেই অরুণাচল সেক্টরে ভারত ও চীনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচা এবং চীনের দিকের দামাই এলাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   এরপরই দিল্লিতে শুরু হয় ব্রিকস সম্মেলন। ১২ সেপ্টেম্বর সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি ছিল শির প্রথম ভারত সফর। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীনের পক্ষ থেকেও দুই দেশকে অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে একদিকে যখন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে অরুণাচল সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন অভিযোগ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে। ভারত ও চীন দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন অংশের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন দাবি করে আসছে। এ কারণে কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা বা সেনা অবস্থানকে কোন দেশের ভূখণ্ডে পড়ছে, তা নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রে জটিল।   অরুণাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় সড়ক, হেলিপ্যাড ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ তাই শুধু স্থানীয় উন্নয়ন নয়, দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার সঙ্গেও যুক্ত। নতুন উপগ্রহচিত্রে চীনের অবকাঠামো সম্প্রসারণের যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটি ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশ্যে আসেনি।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৫:৪৭
অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণের পাশাপাশি কাজের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা, সুযোগ পাচ্ছে ৩০ দেশের নাগরিক

ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপের সূবর্ণ সুযোগ

ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপের সূবর্ণ সুযোগ, শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের জন্য রয়েছে ভাতা

ব্রিটিশ শাসন নিয়ে মার্কিন শিল্পীর মন্তব্য ভাইরাল

‘ভারত দরিদ্র ছিল না’, ব্রিটিশ শাসন নিয়ে মার্কিন শিল্পীর মন্তব্য ভাইরাল

বাংলাদেশের ইসলামী বক্তাদের নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু
বাংলাদেশের ইসলামী বক্তাদের নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কোনো ইসলামি বক্তা বা ধর্মীয় বক্তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তার দাবি, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইসলামি বক্তারা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গে আসতেন। বর্তমান বিজেপি সরকারের সময়ে এমন সুযোগ আর দেওয়া হবে না।    শুভেন্দু অধিকারী ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটেও তাকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    শনিবারের বক্তব্যে শুভেন্দু দুই বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আসা এক বক্তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। তার দাবি, ওই বক্তা জনসংখ্যা বাড়িয়ে জনবিন্যাস পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। শুভেন্দু ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুভেন্দু তার বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে আসা ধর্মীয় বক্তাদের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে বাংলাদেশ থেকে ইসলামি বক্তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ ধরনের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।    তবে বসিরহাটের ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বক্তার বক্তব্য সম্পর্কে শুভেন্দুর করা দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফলে বক্তার পরিচয়, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং ওই বক্তব্যের পর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ কারণে বিষয়টি শুভেন্দুর বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।   বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় যোগাযোগ রয়েছে। দুই দেশের মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের অংশগ্রহণের নজির রয়েছে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা, অভিবাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।   শুভেন্দুর সাম্প্রতিক বক্তব্য বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতার মধ্যেই সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তার সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।    এদিকে বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় বক্তাদের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের বিষয়ে শুভেন্দুর এই বক্তব্যের ফলে দুই দেশের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মানুষের আন্তঃদেশীয় যাতায়াতের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।   শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কোনো অনুষ্ঠানে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নতুন কোনো সরকারি আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৩:২৬
কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ

কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ, শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে কানাডা সরকারের উদ্যোগ

কলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য, পরে কক্ষে ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ

কলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য, পরে কক্ষে ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ

বন্যা থেকে বাঁচতে ড্রেন কাটতে গিয়ে মাটির নিচে মিলল প্রাচীন বাণিজ্যিক নৌকা!

বন্যা থেকে বাঁচতে ড্রেন কাটতে গিয়ে মাটির নিচে মিলল প্রাচীন বাণিজ্যিক নৌকা!

জালিয়াতির বিরুদ্ধে ট্রাকিং খাতে বড় অভিযান, সতর্ক করল এইচএসআই
জালিয়াতির বিরুদ্ধে ট্রাকিং খাতে বড় অভিযান, সতর্ক করল এইচএসআই

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআই বাণিজ্যিক ট্রাকিং খাতে জালিয়াতি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে। ফেডারেল সরকার বলছে, বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে যারা আইন ভাঙছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক সংস্থা যৌথভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।    এই উদ্যোগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, বিচার বিভাগ, ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং এইচএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে। ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স ক্রসরোডস অব আমেরিকা’ নামে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাণিজ্যিক ট্রাকিং খাতে সিডিএল জালিয়াতি, ভুয়া পরিচয়পত্র, অননুমোদিত কর্মসংস্থান, অর্থপাচার, শ্রমিক শোষণ এবং অন্যান্য অপরাধ শনাক্ত করা।    এইচএসআইয়ের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সহযোগী পরিচালক জন এ. কনডন বলেছেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীরা শুধু আইন ভাঙছে না, তারা আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে। তিনি বলেন, এইচএসআই তাদের তদন্ত, আর্থিক বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এমন ব্যক্তি ও অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।    ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট একদিনে ২৩টি অঙ্গরাজ্যের ২০০টির বেশি ড্রাইভিং স্কুলে সমন্বিত অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি সিডিএল-সংক্রান্ত ব্যবসার বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।    ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানিয়েছে, গত দেড় বছরে ২৮ হাজারের বেশি চালককে বিভিন্ন কারণে সড়ক থেকে সরানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে ইস্যু করা ৩০ হাজারের বেশি সিডিএল বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৮ হাজারের বেশি অযোগ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে ফেডারেল রেজিস্ট্রি থেকে সরানো হয়েছে বলে পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে।    এই অভিযানের আওতায় শুধু চালকরাই নয়, ট্রাকিং কোম্পানি, সিডিএল প্রশিক্ষণ স্কুল, ক্যারিয়ার এবং নিয়োগদাতাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র, ভুয়া লাইসেন্স, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ট্রাকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।    তবে ফেডারেল সরকারের প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই তদন্ত, অভিযোগ ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে। তাই কোনো নির্দিষ্ট চালক বা কোম্পানিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন না করে তদন্তের অবস্থান উল্লেখ করাই সঠিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৮:১
কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন তথ্যচিত্র

কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন তথ্যচিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ দাবি নির্মাতাদের

কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

কানাডায় ভাড়াটিয়া গরুর মাংসের বারবিকিউ করাতে উ/ত্ত/প্ত হয়ে হা/তা/হা/তি করায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

গণেশ বারাইয়া ছবি: সংগৃহীত

উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট, বলা হয়েছিল ডাক্তার হওয়া সম্ভব নয় - আজ তিনিই রোগী দেখছেন

0 Comments