সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য স্বস্তির আভাস, যুক্তরাষ্ট্রেই গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬ ২২:৪৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজারো বিদেশি পেশাজীবীর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। তবে নতুন ব্যাখ্যায় মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন।

 

মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন একটি নীতিগত নির্দেশনা জারি করে, যেখানে দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন সাধারণভাবে নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

 

এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও আর্থিক খাতে কর্মরত বহু বিদেশি কর্মীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করে আসছিলেন।

 

তবে রোববার ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রশাসন মূলত কংগ্রেসের “মূল উদ্দেশ্য” পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন অথবা জাতীয় স্বার্থে ভূমিকা পালন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

জ্যাক কাহলার বলেন, “যেসব আবেদন অর্থনৈতিকভাবে উপকারী অথবা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব আবেদনকারী সম্ভবত বর্তমান পথেই এগোতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু আবেদনকারীকে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে।”

 

এই বক্তব্যের পর অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিখাতের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে নতুন নীতির কারণে যদি কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারত বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

 

অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবস্থান মূলত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রচেষ্টার অংশ। প্রশাসনের দাবি, কংগ্রেস কখনোই অস্থায়ী ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের “স্বয়ংক্রিয় পথ” হিসেবে বিবেচনা করেনি। তাই ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা দেখা যেতে পারে।

 

তবে এখনো অনেক বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন আবেদনকারী “জাতীয় স্বার্থ” বা “অর্থনৈতিক অবদান” ক্যাটাগরিতে পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাস্তব প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

 

আইনজীবীদের আশঙ্কা, যদি আবেদনকারীদের বিদেশে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেকেই দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আটকে পড়তে পারেন। কারণ ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ জট রয়েছে। আবার কিছু দেশে মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে।

 

এ ছাড়া নতুন নীতির কারণে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, চাকরিতে অনিশ্চয়তা এবং করপোরেট কার্যক্রমে বিঘ্নের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে পড়াশোনা করছে এবং পরিবার নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হলে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও সর্বশেষ ব্যাখ্যা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্ভর করবে ইউএসসিআইএস ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্দেশিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে তার ওপর।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের পর হত্যার অভিযোগে দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করা এক নারী অবশেষে ১৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে গর্ভের সন্তান হারানোর পর পেশেন্স রুশো নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে নেভাদার হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের সমঝোতা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী পেশেন্স রুশো ২০১৮ সালে নেভাদার উইনেমুকা শহরে বসবাস করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ওই বছরের এপ্রিল মাসে গর্ভের সন্তান হারানোর প্রায় এক মাস পর স্থানীয় শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।   এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি করা হয়েছিল নেভাদার ১৯১১ সালের একটি পুরোনো আইনের ভিত্তিতে। ওই আইনে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে গর্ভপাত ঘটানোর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনার বিধান রয়েছে।   ঘটনার শুরু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন দুই সন্তানের মা রুশো জানতে পারেন, তিনি আবারও অন্তঃসত্ত্বা। তবে গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর নিশ্চিত ধারণা ছিল না।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশো ওই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখতে চাননি। এ কারণে তিনি রেনো শহরের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করানোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে তাঁর গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হতে পারেননি।   পরে ইন্টারনেটে গর্ভপাতের উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশো ভারী জিনিস তোলা এবং অতিরিক্ত দারুচিনি খাওয়ার মতো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে আদালতে জানান, দারুচিনি খাওয়ার কারণে গর্ভপাত ঘটে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।   ওই বছরের এপ্রিল মাসে রুশোর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। তিনি একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করেন। শিশুটির নাম রেখেছিলেন অ্যাবেল। পরে সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়ির পেছনের উঠানে সমাহিত করেন।   ঘটনার প্রায় এক মাস পর এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৬ মে কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। তিন দিন পর রুশোকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তদন্তের সময় শিশুটির দেহাবশেষে মেথামফেটামিন ও মারিজুয়ানার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, রুশো ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করেছিলেন।   তবে মামলার শুনানিতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কারণে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। শিশুটির মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণও নিশ্চিত করা যায়নি।   রুশো স্বীকার করেছিলেন, তিনি নিয়মিত মারিজুয়ানা এবং মাঝেমধ্যে মেথামফেটামিন ব্যবহার করতেন। তবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক গ্রহণ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।   ২০১৯ সালে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিফেন্স আইনজীবীর পরামর্শে রুশো অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।   লাস ভেগাসের ফ্লোরেন্স ম্যাকক্লুর উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে অন্য কয়েদিদের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অনেকেই তাঁকে নিজের সন্তান হত্যাকারী হিসেবে দেখতেন।   পরবর্তী সময়ে প্রজনন অধিকারবিষয়ক আইনজীবী লরা ফিটজসিমন্স তাঁর মামলার বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেন।   নতুন আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রুশোর মাদক ব্যবহারের কারণে গর্ভপাত ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। একই সঙ্গে রুশো নিজেই জানতেন না তাঁর গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হয়েছিল কি না।   আইনজীবীরা আরও বলেন, আগের ডিফেন্স আইনজীবী তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই যুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালে তাঁর দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়।   একই বছরের ৮ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান রুশো। তত দিনে দুই বছরের বেশি সময় তাঁকে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে।   দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিচারক চার্লস ম্যাকগি মামলাটিকে বিচারব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, দারিদ্র্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন রুশো।   মুক্তির পরও রুশোর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। কারাভোগের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে।   দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টকে তিনি জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় তাঁর দুই সন্তানও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন।   এদিকে চলতি বছরের মার্চে রুশোর আইনজীবীরা হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।   দীর্ঘ আলোচনার পর আগস্ট মাসে ১৬ লাখ ডলারে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সম্প্রতি সেই অর্থ পেয়েছেন রুশো।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেভাদা রাজ্য সরকারও তাঁকে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটি হামবোল্ট কাউন্টির সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা থেকে আলাদা।   তবে এত অর্থ পাওয়ার পরও হারিয়ে যাওয়া সময় এবং পরিবারের ওপর পড়া ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রুশো।   ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে বাড়ির খরচ মেটানো, নতুন ব্যবসা শুরু করা এবং মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   এই মামলায় আরও একটি বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে। রুশোর আইনজীবীদের দাবি, তদন্তে যুক্ত একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভে মারা যাওয়া শিশুটির দেহাবশেষ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার সময়ও তা সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।   সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ সমঝোতার অংশ হিসেবে ওই দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ আদালতে আলাদাভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।   রুশোর মামলা যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতসংক্রান্ত আইন এবং গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   নেভাদার যে আইনের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি ১৯১১ সালে প্রণীত। প্রজনন অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের মতে, আইনটির প্রয়োগ গর্ভপাত ও স্বাভাবিক গর্ভপাতের মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।   তবে রুশোর দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত নেভাদার সংশ্লিষ্ট আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। তাঁর মামলায় পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি দণ্ডাদেশ বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল।   দীর্ঘ আট বছর পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মাধ্যমে রুশোর আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে কারাভোগের কারণে তাঁর পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা এখনো তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:২৫
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড পাবেন যেখানে, জেনে নিন যোগাযোগ ও আবেদনের নিয়ম

নিউইয়র্কে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড পাবেন যেখানে, জেনে নিন যোগাযোগ ও আবেদনের নিয়ম

মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন

মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন

নিউ ইয়র্কে নতুন সরকারি বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৫১ হাজার ডলার থেকে, সময় সীমিত

নিউ ইয়র্কে নতুন সরকারি বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৫১ হাজার ডলার থেকে, সময় সীমিত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর, নতুন নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়াতে আইসিই এজেন্টদের নতুন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন আগের তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৈনিক তিন হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করেছে, অভিবাসী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই।   বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আইসিই নেতৃত্ব দেশজুড়ে কর্মরত এজেন্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের পুরোনো লক্ষ্য আবারও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সংখ্যা আরও এক হাজার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে মোট ১৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে এজেন্টদের।   সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে সাধারণত অভিযান কম হয় এবং মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক কমসংখ্যক এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে দৈনিক তিন হাজারের লক্ষ্য থাকলেও সাপ্তাহিক হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার।   সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিপোর্টেশনের উদ্দেশ্যে যত বেশি সম্ভব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করতে এজেন্টদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।   তবে এই নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সিএনএনের প্রতিবেদনে এটিকে আইসিই নেতৃত্বের মৌখিক নির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য এবারই প্রথম সামনে আসেনি। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিইকে একই লক্ষ্য অর্জনের নির্দেশ দিয়েছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করার লক্ষ্য পূরণে সংস্থাটি আগেও সমস্যার মুখে পড়েছে। এবার নতুন করে সেই লক্ষ্য সামনে আসায় আইসিইর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত জুনের শেষ দিকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ জনের কিছু বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছিল আইসিই। ওই সময়ের হিসাবে এটি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা।   নতুন সাপ্তাহিক লক্ষ্য সেই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা আর বাস্তবে সমসংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিদিন তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাস্তবে কতটা অর্জন করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা নিয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র সরাসরি দাবি করেছেন, আইসিইর কোনো গ্রেপ্তার কোটা নেই।   ওই মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।   তাঁর দাবি, প্রশাসন আইনসম্মত সব উপায় ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর করছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে।   ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে সিএনএনের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদন এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক নির্দিষ্ট সংখ্যার লক্ষ্য থাকার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ডিএইচএস এ ধরনের কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।   নতুন নির্দেশনার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ইমিগ্রেশন নীতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতার মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের গ্রেপ্তার ও ডিপোর্টেশনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   কৃষি ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর খাতের প্রতিনিধিরাও এর আগে জানিয়েছেন, ব্যাপক ইমিগ্রেশন অভিযানের কারণে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে।   এদিকে অভিযান বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইসিই তাদের বিভিন্ন অফিসে আটক ব্যক্তিদের রাখার জায়গা সম্প্রসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিযান ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব জায়গায় আটক ব্যক্তিদের রাখা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনার ব্যবস্থা থাকতে পারে।   তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে আইসিই সম্প্রতি গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনায় নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এজেন্টদের গাড়ি থামানোর অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে আইসিই এজেন্টদের দ্রুতগতিতে গাড়ি ধাওয়া করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামানোর অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় সংস্থাটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির জন্য নতুন গ্রেপ্তারের লক্ষ্যের খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যাবে কি না, তা তাঁর নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। দৈনিক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাড়ানোর খবরের অর্থ এই নয় যে সব অভিবাসী একই ধরনের আইনি ঝুঁকিতে রয়েছেন।   ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা চলমান থাকা, ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকা, অ্যাসাইলামের আবেদন বিচারাধীন থাকা কিংবা বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।   এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুমোদিত ইমিগ্রেশন লইয়ারের পরামর্শ নেওয়া এবং কোর্টের নোটিশ ও শুনানির তারিখ সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   সিএনএনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া বিষয় হলো, আইসিই নেতৃত্ব প্রতিদিনের গ্রেপ্তার বাড়ানোর জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট গ্রেপ্তার কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।   এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান বাস্তবে কতটা বাড়বে এবং দৈনিক তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, তা পরবর্তী সরকারি পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থেকে পরিষ্কার হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৭:২০
নিউইয়র্কে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ধাপ

নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড, জেনে নিন পারমিট থেকে রোড টেস্টের নিয়ম

ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যস্ততা

ফ্লাইট দেরি, বাতিল আর দীর্ঘ যাত্রাপথে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ যে বিমানবন্দর

ট্রাম্প ও আবদুল এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

ব্যঙ্গ করে ‘মোহাম্মদ’ নামে আবদুল এল-সাইয়েদকে সম্বোধন ট্রাম্পের, সঙ্গে দিলেন ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ তকমাও

দারিদ্র্য ও কঠিন পারিবারিক বাস্তবতা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
বাবাহীন শৈশব, মায়ের মাদকাসক্তি, দারিদ্র্য পেরিয়ে যেভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জেডি ভ্যান্সের উত্থানের গল্প অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। ওহাইওর মিডলটাউনে আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। তাঁর মা মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন। আর বাবার অনুপস্থিতিতে জীবনের বড় একটি সময় দাদা-দাদির সান্নিধ্যেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। শৈশবের সেই অভিজ্ঞতাগুলোই পরে তাঁর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’র অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।   জেডি ভ্যান্সের পুরো নাম জেমস ডেভিড ভ্যান্স। ১৯৮৪ সালের ২ আগস্ট ওহাইওর মিডলটাউনে তাঁর জন্ম। একসময় শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের জন্য পরিচিত ছিল শহরটি। তবে সময়ের সঙ্গে সেখানে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে ভ্যান্সের পরিবারেও। মায়ের আসক্তি ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় স্থিরতার জায়গা হয়ে ওঠেন দাদা-দাদি। বিশেষ করে তাঁর দাদি, যাকে ভ্যান্স ‘মামাও’ নামে উল্লেখ করেছেন, তাঁর বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।   উচ্চবিদ্যালয় শেষ করে ভ্যান্স সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেন। প্রায় চার বছর সামরিক বাহিনীতে কাজ করেন তিনি এবং ইরাকেও দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবন শেষ করার পর উচ্চশিক্ষায় মন দেন ভ্যান্স। ভর্তি হন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইয়েল ল স্কুল।   ইয়েলে পড়ার সময় ভ্যান্সের জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় উষা ভ্যান্সের। ২০১৩ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। পরে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতেও কাজ করেন। একই সময়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষের জীবন নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন।   ২০১৬ সালে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়। বইটিতে ওহাইও ও অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং সামাজিক পরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরেন ভ্যান্স। বইটি দ্রুত বেস্টসেলার হয়ে ওঠে। পরে ২০২০ সালে এটি চলচ্চিত্রেও রূপ নেয়।   লেখক ও বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন ভ্যান্স। ২০২২ সালে ওহাইও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন তিনি। এর মাত্র দুই বছর পর, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে রিপাবলিকান দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন। সে সময় ভ্যান্সের বয়স ছিল ৩৯ বছর।   ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটি জয়ী হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ৪০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন জেডি ভ্যান্স। এর মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এক তরুণের জীবনে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ।   ভ্যান্সের জীবনকে অনেকেই ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। কারণ তাঁর জীবনের পথচলায় রয়েছে কঠিন শৈশব, মেরিন কোরে কাজ, উচ্চশিক্ষা, ইয়েল ল স্কুল থেকে ডিগ্রি, লেখালেখি, ব্যবসা এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান। তবে তাঁর গল্পকে শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। দাদা-দাদির সহায়তা, শিক্ষা এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া সুযোগও তাঁর এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   আজ জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া জীবন থেকে মেরিন কোর, ইয়েল ল স্কুল, লেখালেখি, ব্যবসা ও সিনেট হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে পৌঁছানো তাঁর যাত্রা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৩:৪৭
নির্বাচনী সমাবেশে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে অদ্ভুত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্ত্রী মেলানিয়া তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকেন, টেক্সাসের সমাবেশে জানালেন ট্রাম্প

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তে ২ কোটির বেশি মেডিকেয়ার গ্রাহক এককালীন ৯০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার সহায়তা বিতরণ শুরু, বাদ পড়ছেন লাখো সুবিধাভোগী

মা ম্যাডিসন মালমগ্রেনের কোলে সানি, জন্মের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ছবি: গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা

‘মেয়েকে হয়তো ঘরে নিতে পারব না’, শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি চার সন্তানের মা

0 Comments