সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় লস অ্যাঞ্জেলেসে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে ১০ জন গ্রেপ্তার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৭:৯
সংগৃহীত
সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে বহু বছর ধরে সক্রিয় একটি মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, পালিয়ে যাওয়া শিশু এবং অসহায় নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করত।

 

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই অভিযানে একাধিক সংস্থা একযোগে অংশ নেয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয় এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পরিচিতজন এবং বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে কিশোরী ও তরুণীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনত। চাকরি, ভালো আয় কিংবা নিরাপদ জীবনের আশ্বাস দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলা হতো। পরে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, অপরাধচক্রটি কয়েক বছর ধরে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিত। কেউ ভুক্তভোগী সংগ্রহ করত, কেউ তাদের ওপর নজরদারি চালাত, আবার কেউ অর্থ লেনদেন ও থাকার ব্যবস্থা পরিচালনা করত। একটি মোটেলের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি জেনেশুনে কক্ষ ভাড়া দিয়ে এই অপরাধ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং কেউ কেউ পালিয়ে যাওয়া শিশু বা পালক পরিবারে বেড়ে ওঠা কিশোরী। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা এবং অর্থপাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েকজন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এই চক্রটি কেবল একজন বা দুজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো না। এটি ছিল একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করত। তদন্তের স্বার্থে ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের নথি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার বা নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

 

মানবপাচারকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুতর সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অসহায় মানুষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এমন অপরাধ দমনে ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। সর্বশেষ এই অভিযান সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে মানবপাচারের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডেন্টিস্টের পথে গাড়ি থামায় আইসিই, আতঙ্কে মেয়েকে বাসায় পড়াচ্ছেন মার্কিন পরিবার
ডেন্টিস্টের পথে গাড়ি থামায় আইসিই, আতঙ্কে মেয়েকে বাসায় পড়াচ্ছেন মার্কিন পরিবার

টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে আইসিই এজেন্টদের হাতে গাড়ি থামানোর ঘটনার পর দৈনন্দিন জীবন বদলে গেছে মার্কিন নাগরিক মনিক রামিরেজের পরিবারের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও আবার একই পরিস্থিতিতে পড়ার ভয় কাটেনি। মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে স্কুলে সরাসরি পাঠানোর বদলে বাসা থেকে অনলাইনে ক্লাস করার ব্যবস্থা করেছেন রামিরেজ।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনকে তিনি জানান, ঘটনার সময় তারা গাড়িতে ডেন্টিস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাচ্ছিলেন। তার ১৬ বছরের মেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু আইসিইর মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে মেয়েটি উদ্বেগ ও ভয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।   পরিবারের অনেকেই একই স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন বলে মেয়েকে সরাসরি ক্লাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেন রামিরেজ। তবে মেয়ের নিরাপত্তাবোধ ও স্বস্তিকে গুরুত্ব দিয়ে অনলাইন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    দ্য ইনডিপেনডেন্টকে রামিরেজ জানিয়েছেন, এখন তারা জন্মসনদ সঙ্গে রাখেন। ডিএইচএসের দাবি, গাড়িটি অনিয়মিত অভিবাসীর নামে নিবন্ধিত ছিল। রামিরেজ তা অস্বীকার করেন।    ইউনিভিশনের সঙ্গে কথোপকথনে রামিরেজ জানান, পরিবারের ছোট শিশুরাও বাইরে যেতে ভয় পায়। সাধারণ পুলিশের গাড়ি দেখলেও তারা ঘরে চলে আসে বলে তার ভাষ্য। সন্তানদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার পরও এমন ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে, বিষয়টি তাকে কষ্ট দিচ্ছে।    অভিবাসন অভিযান নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের একটি গবেষণাতেও মার্কিন নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচিত ঘটনায় ১৫৫ জন মার্কিন নাগরিক আটক, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বা আইন প্রয়োগে অসদাচরণের শিকার হয়েছেন। শিশুদের মধ্যে ৩২ জন মার্কিন নাগরিক ছিল। এগুলো সংগঠনের পর্যালোচিত ঘটনার হিসাব, দেশজুড়ে সব অভিযানের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:৪৬
২০২৭ সালের আগেই গ্রীন কার্ডে আসছে এই ৪ পরিবর্তন

২০২৭ সালের আগেই গ্রীন কার্ডে আসছে এই ৪ পরিবর্তন, জানুন বিস্তারিত

কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় আদালতে বাবা-মায়ের সাজা

মাতৃদুগ্ধ পানের পর নবজাতকের মৃ ত্যু, শরীরে কো কে ন; বাবা-মা গ্রে প্তা র

অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় আসছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিবর্তন

গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, অক্টোবর থেকে যেসব নিয়মে আসছে নতুন সুযোগ

জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি গ্রোসারিতে বাজারের আগে দেখে নিন সাপ্তাহিক অফার
জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি গ্রোসারির অফার, বাজারের আগে জেনে নিন

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গ্রোসারি কেনার আগে দোকানের উইকলি সার্কুলার দেখে নেওয়া সাশ্রয়ের একটি উপায়। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সব দোকানে একই পণ্য বা একই দামে ছাড় চলছে, এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি। তাই বাজারের তালিকা তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট শাখার অফারের মেয়াদ ও পণ্যের দাম মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।   ফুড বাজারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে শাখাভিত্তিক উইকলি সার্কুলার দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের দোকানটি ৩৪-২০ জংশন বুলেভার্ডে। প্রতিষ্ঠানটির স্টোর তালিকা অনুযায়ী, শাখাটি সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। দোকানে যাওয়ার আগে এই শাখার সার্কুলার নির্বাচন করে অফার দেখা যাবে।   সার্কুলারে শুধু পণ্যের দাম দেখলেই হবে না। কোন তারিখ পর্যন্ত অফার কার্যকর, প্যাকেটের ওজন কত এবং ছাড় পেতে একাধিক পণ্য কিনতে হবে কি না, সেগুলোও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। চাল, তেল বা মসলার দাম তুলনা করার সময় একই ব্র্যান্ড ও একই পরিমাণের পণ্য ধরলে প্রকৃত সাশ্রয় বোঝা সহজ হয়।   হালাল মাংসের জন্য এলাকার আরেকটি বিকল্প মিনা বাজার সুপারমার্কেট। শারিয়াহ বোর্ড নিউইয়র্কের তালিকায় দোকানটির ঠিকানা ৭১-১০, ৩৫তম অ্যাভিনিউ। সেখানে দোকানটিকে ২৪ ঘণ্টা খোলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, এর তাজা মুরগি, ভেড়া, খাসি, বাছুর ও গরুর মাংসের হালাল সনদ সক্রিয় রয়েছে; সনদের আওতা তাজা মাংসের মধ্যে সীমিত।   একই অ্যাভিনিউয়ের ৭১-০৮ নম্বরে রয়েছে মাছ বাজার। দোকানটির নিজস্ব অনলাইন অর্ডার পেজে স্থানীয় ডেলিভারির ব্যবস্থাও উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পণ্যের দামের সঙ্গে ডেলিভারি ও অন্যান্য ফি যোগ করে মোট খরচ তুলনা করা উচিত।   তবে ইলিশ, রূপচাঁদা, কালোজিরা চাল কিংবা খাসির মাংসে এই সপ্তাহে বিশেষ ছাড় রয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা থাকলে দোকানে ফোন করে দাম, মজুত ও অফারের শর্ত জেনে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনের তালিকা ধরে কেনাকাটা করলে ছাড়ের কারণে বাড়তি পণ্য কেনার খরচও এড়ানো যায়।   সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৮:২৭
নিজের আইকিউ সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

‘আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি, চাচার কাছ থেকেই বুদ্ধিমত্তা পেয়েছি’: ট্রাম্প

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

ওবামাকেয়ারের আওতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলারের রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে

৩০ রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ পাচ্ছেন ওবামাকেয়ারের ৫০০ ডলারের রিফান্ড, চেক পাঠানো শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রিন কার্ড আবেদনের শর্তগুলো স্পষ্ট করেছে ইউএসসিআইএস
এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন শরণার্থীরা, মানতে হবে যেসব শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের জন্য গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছর পর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করা আইনগতভাবে প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’। এর জন্য ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হয়।   গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে শরণার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রথমত, যথাযথভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২০৭ ধারার অধীনে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে হবে।   তৃতীয়ত, আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অন্তত এক বছর দেশটিতে শারীরিকভাবে অবস্থান করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, এই এক বছরের শারীরিক উপস্থিতির বিষয়টি আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও বিবেচনা করা হয়।   পঞ্চমত, আবেদনকারীর শরণার্থী হিসেবে ভর্তির মর্যাদা বাতিল বা সমাপ্ত হয়ে যাওয়া যাবে না। ষষ্ঠত, অন্য কোনো উপায়ে এরই মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া থাকলে এই একই ভিত্তিতে আবার আবেদন করা যাবে না।   সপ্তমত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কোনো কারণে আবেদনকারী গ্রহণযোগ্য না হলে এবং আইনের আওতায় সেই অযোগ্যতার জন্য ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েভারের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত কোনো ফাইলিং ফি দিতে হয় না। বায়োমেট্রিক সেবার ক্ষেত্রেও শরণার্থীদের জন্য ফি নেওয়া হয় না।   গ্রিন কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে একজন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান। যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই মর্যাদা ভবিষ্যতে আরও স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।   তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথি এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো ইউএসসিআইএস যাচাই করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও ফর্মের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৭:১১
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ ভি যা নের কারণ নিয়ে নতুন দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

পারমাণবিকের পাশাপাশি ‘মা দ কের কারখানা’ও ছিল ইরানে, হা ম লার পক্ষে ট্রাম্পের নতুন দাবি

প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনে অনলাইন সুবিধা আনছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করার সুযোগ , এআইভিত্তিক নতুন ওয়েবসাইট চালু

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের সুদ প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে

যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদ বাড়ল এক লাফে, বাড়তে পারে মাসিক কিস্তিও

0 Comments