সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ফ্লোরিডায় কুমিরের মুখ থেকে ছেলেকে ছিনিয়ে আনলেন বাবা, তবু বাঁচানো গেল না হাত

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৬:৫০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মাছ ধরার সময় ১১ বছর বয়সী এক কিশোরের ওপর বিশালাকার এক কুমির হামলা চালিয়েছে। তবে সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনের পরোয়া না করে খালি হাতেই কুমিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন পেনসিলভেনিয়া থেকে আসা বাবা পিটার ডিটুরি। গত ২৭ জুন ম্যারিয়ন কাউন্টিতে পরিবারের সাথে ছুটি কাটানোর সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই হামলায় কিশোর ব্রোডি ডিটুরির ডান হাতের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা পরে চিকিৎসকরা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে পিটার ডিটুরি জানান, ঘটনার দিন তারা বাবা-ছেলে মিলে মাছ ধরছিলেন। একটি মাছ ধরে পুনরায় পানিতে ছেড়ে দেওয়ার সময় আচমকা ৮ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা একটি কুমির ব্রোডির ডান হাত কামড়ে ধরে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে প্রবৃত্তিগতভাবেই কুমিরটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। সেটির বিশাল চোয়াল টেনে খোলার চেষ্টা করার পাশাপাশি জরুরি নম্বর ৯১১-তে কল করার জন্য সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। ঠিক তখনই কুমিরটি শিকারকে ডোবানো বা ছিঁড়ে ফেলার চিরাচরিত কৌশল হিসেবে পানিতে ঘুরপাক খেতে শুরু করে। এর ফলেই ব্রোডির হাতের ওই অংশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিটার যদি কুমিরটির ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়তেন, তবে সেটি ব্রোডিকে পুরোপুরি পানির গভীরে টেনে নিয়ে যেত। ছেলের এমন করুণ পরিণতিতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিটার উপস্থিত জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিপদের মুহূর্তে যারা দ্রুত সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন, তাদের প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ। ফ্লোরিডায় মাছ ধরা ব্রোডির ভীষণ প্রিয় হলেও, এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পর সে এখন এই জায়গাকে প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছে বলে জানান তার বাবা। বর্তমানে ব্রোডির হাতের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ বা ট্রান্সপ্লান্টের সম্ভাবনা নিয়ে চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করছে তার পরিবার।

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের

সাম্প্রতিক এক সভার কার্যবিবরণী বা মিনিটস থেকে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের অধিকাংশ কর্মকর্তাই চলতি বছর সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। গত বুধবার প্রকাশিত ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।   এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে গত ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের সভায় তারা তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৩.৯ শতাংশে উন্নীত করেছিল।   সুদের হার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত কমানোর আহ্বানের ঠিক উল্টো ছিল। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের সুদ-নির্ধারণী কমিটির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘অত্যন্ত রাজনীতিকরণ’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তার নিজেরই নিয়োগ দেওয়া বর্তমান ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি তিনি এখনও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।   আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক সাত সপ্তাহ আগে এই সুদের হার বৃদ্ধির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা মুদিপণ্য, জ্বালানি এবং বাসস্থানের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ইতিমধ্যেই দিশেহারা। এছাড়া সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল ঋণ গ্রহণ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটার সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদহারও গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ২৮-২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ডিসেম্বরের সভায় তা আবারও বাড়ানো হতে পারে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত বেশি রয়েছে এবং তা দ্রুত নামিয়ে আনতে কমিটি কাজ করছে।   যেহেতু মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনও আড়াই থেকে তিন শতাংশ বেশি রয়েছে, তাই অর্থনীতিকে কিছুটা শীতল করার জন্য একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে ফেডের অনেক নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৫:৩০
নিউইয়র্কে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এসে প্রেমিকা ও ৫ মাসের শিশুকে  ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

নিউইয়র্কে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এসে প্রেমিকা ও ৫ মাসের শিশুকে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চিকিৎসকের বদলে এআই দেবে প্রেসক্রিপশন, শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চিকিৎসকের বদলে এআই দেবে প্রেসক্রিপশন, শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পরিত্যক্ত গুদামঘর রূপান্তর করে গৃহহীনদের জন্য তৈরি হলো ১০০টি বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পরিত্যক্ত গুদামঘর রূপান্তর করে গৃহহীনদের জন্য তৈরি হলো ১০০টি বাড়ি

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর
টাকোমায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি, চাকরি কাটার পাশাপাশি কর বাড়ানোর পরিকল্পনা

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর প্রায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ঘাটতি সামাল দিতে শহর কর্তৃপক্ষ চাকরি কমানো, বিভিন্ন সরকারি সেবা পুনর্বিন্যাস এবং নতুন রাজস্বের পথ খুঁজছে। বিষয়টি স্থানীয় কর্মী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   শহরের আর্থিক চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয় এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম রাজস্বকে সামনে আনা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমাতে কর্মকর্তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   সম্ভাব্য চাকরি কাটার বিষয়টি সরকারি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। শহরের বিভিন্ন বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমানো হলে নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য স্থানীয় পরিষেবায় তার প্রভাব পড়তে পারে।   টাকোমার কর্মকর্তারা একই সঙ্গে কর ও অন্যান্য রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনা করছেন। এর অর্থ ভবিষ্যতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সরকারি কর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি কমলে স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের ব্যয় কমতে পারে। অন্যদিকে কর বাড়লে বাড়ির মালিক, ব্যবসা ও ভাড়াটিয়াদের ওপর জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়তে পারে।   টাকোমা সিয়াটল মহানগর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। তাই শহরের বাজেট সংকটের প্রভাব আশপাশের ব্যবসা ও শ্রমবাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, স্থানীয় পরিষেবা এবং সরকারি চুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরি, স্থানীয় ব্যবসা বা শহরের বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে।   শহর কর্তৃপক্ষের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে ৪ কোটি ডলারের ঘাটতি কমিয়ে নাগরিক সেবা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়। চাকরি কমানো এবং কর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, কোন সেবা অগ্রাধিকার পাবে এবং বাসিন্দাদের ওপর কতটা আর্থিক চাপ পড়বে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৩:৫
ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রে পানির বিল এক দশকে ৬২ শতাংশ বেড়েছে, বাড়ছে পরিবারের খরচের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ দেওয়া অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচিতে প্রথমবার অংশগ্রহণের জন্য ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর জন্য এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। নিয়মটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।    ইমিগ্রেশন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপ জানিয়েছে, কোনো এফ-১ শিক্ষার্থীকে প্রথমবার যেকোনো ধরনের ওপিটির জন্য সুপারিশ করার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার দিতে হবে। পরবর্তী প্রতিটি ওপিটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত ফি ৩০ হাজার ডলার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের স্টেম ওপিটির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে।    ওপিটির মাধ্যমে যোগ্য এফ-১ শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কাজে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাস অংশ নিতে পারেন। নির্ধারিত স্টেম বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে আরও ২৪ মাসের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে প্রথম ওপিটির পর একটি স্টেম এক্সটেনশন নিলে প্রস্তাবিত নতুন ফির মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ডলার।    ব্লুমবার্গ ল জানিয়েছে, অনেক বিদেশি স্নাতক ওপিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে নিয়োগদাতার স্পনসরশিপে এইচ-১বি কর্মসূচিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই কর্মসূচির আওতায় কাজের অনুমোদন ছিল।    প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সরকারি নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার নথিতে দেখা যায়, ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং ফিস’ শীর্ষক প্রস্তাবটি ২০ আগস্ট পর্যালোচনার জন্য জমা পড়ে। ১১ সেপ্টেম্বর সেই পর্যালোচনা শেষ হয়। নথিতে উদ্যোগটির অবস্থান এখনো প্রস্তাবিত বিধি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।    এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি ৮ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর ৩০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ফি আদায় শুরু হবে না। 

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৪১
সিসিটিভি ফুটেজ সহ দোকান।

মিয়ামিতে বাংলাদেশি মালিকের দোকানে পিকআপ ট্রাক ঢুকে নারী আহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

বাংলাদেশী-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার প্ল্যাটফর্মকে কিনে নিচ্ছে রাইড শেয়ারিং জায়ান্ট উবার। ছবি: সংগৃহীত

২.৩ বিলিয়ন ডলারে উবার কিনছে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের স্টার্টআপ

বৈধ কাজের অনুমতিসম্পন্ন প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাতে দ্রুত কর্মজীবন শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বিনা খরচে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ, সনদের পর চাকরিরও সুযোগ, জেনে নিন বিস্তারিত

0 Comments