যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা
যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এবং বর্তমানে সেখানে কর্মরত পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। সদ্য পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বহুল আলোচিত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি (OPT) প্রোগ্রামেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই প্রকাশ হতে যাওয়া এই চূড়ান্ত নীতিমালায় এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্টের (EAD) স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের সুবিধাও বাতিল করা হবে।
নতুন এই নিয়মগুলো বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে বার্ষিক ৮৫ হাজার কোটার বাইরে যেসব বিশেষ ছাড় ছিল, সেগুলো সীমিত করা হতে পারে। পাশাপাশি থার্ড-পার্টি ক্লায়েন্টের কাছে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের আরও বেশি নথিপত্র দাখিলের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইএডি (EAD) বা কাজের অনুমতির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর বাড়বে না। ফলে বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর নতুন অনুমোদন না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না, যা অভিবাসীদের আর্থিক ও পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আসছে বড় ধরনের ধাক্কা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা বা প্রোগ্রাম শেষ হওয়া পর্যন্ত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (সম্ভবত চার বছর) বেঁধে দেওয়া হতে পারে। এরপর সেখানে থাকতে চাইলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।
এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা স্টেম (STEM) শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা দুই বছরের ওপিটি (OPT) মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাতেও কাঁটছাঁট করার কথা ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মেধাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে গৃহহীন মানুষদের জন্য এক অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানকার একটি পুরনো ও পরিত্যক্ত গুদামঘরকে রূপান্তর করা হয়েছে ১০০টি ছোট বা ‘টাইনি’ হোমে। ‘অ্যাভিভো ভিলেজ’ নামের এই বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রটি রাস্তায় থাকা অসহায় মানুষদের নিজস্ব, উষ্ণ এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি ব্যক্তিগত ঠিকানা নিশ্চিত করছে। তবে এটি কেবল একটি সাধারণ আশ্রয়কেন্দ্র বা রাত কাটানোর জায়গা নয়; বরং এটি নতুন করে জীবন শুরু করার এক পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র। এখানে বসবাসকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি এবং স্থায়ী বাসস্থান খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পেয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এরই মধ্যে শত শত গৃহহীন মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাদের অনেকেই এই সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানায় স্থানান্তরিত হতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্যোক্তারা বিশ্বাস করেন, সব হারিয়ে পথে বসা মানুষদের জীবন নতুন করে সাজানোর প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। ‘অ্যাভিভো ভিলেজ’-এর এই সফল উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করেছে যে, একটুখানি সহযোগিতা ও রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর মতো নিরাপদ জায়গা পেলে একজন মানুষ নিজের জীবনকে পুরোপুরি বদলে ফেলার সাহস ফিরে পান।
টাকোমায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি, চাকরি কাটার পাশাপাশি কর বাড়ানোর পরিকল্পনা
আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রে পানির বিল এক দশকে ৬২ শতাংশ বেড়েছে, বাড়ছে পরিবারের খরচের চাপ
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে শিক্ষিকার ছদ্মবেশে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৩ বছর বয়সী অ্যামি জোনস নামের ওই নারী মিলওয়াকির রুফাস কিং হাই স্কুলে বদলি শিক্ষিকার পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন এবং ক্লাসরুমে ঢুকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সেদিন স্কুলে কিছু নিয়মিত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বদলি শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছিলেন, আর এই সুযোগটাই কাজে লাগান অ্যামি। তিনি পর পর তিনটি পিরিয়ডে ক্লাস নেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ ও বর্ণের ভিত্তিতে আলাদা করেন এবং আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন। শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বর্ণবাদী মন্তব্য ও অশালীন গালিগালাজ করেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীকে বডি-শেম করে 'মোটা ছেলে' বলে ডাকেন এবং ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন যে তারা ভবিষ্যতে 'স্ট্রিপার' বা 'পতিতা' হতে চায় কি না। এছাড়া তিনি নিজের অপরাধমূলক অতীত নিয়ে গর্ববোধ করে শিক্ষার্থীদের বলেন যে জেলে যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ঘটনার ছয় দিন পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে উল্টো নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং জানান যে, তিনি বাচ্চাদের অপছন্দ করেন এবং স্রেফ 'মজা করার জন্য' এই কাজ করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ এবং শিশুদের সামনে ক্ষতিকর বিষয় উপস্থাপনের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এদিকে, আদালতে অ্যামির আইনজীবী মাইকেল চেরনিগলিয়া দাবি করেছেন, তার মক্কেল বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগছেন। ওষুধ সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তিনি ওষুধ সেবন করতে পারেননি, যার ফলে তার এমন গুরুতর মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে, স্কুলটির অধ্যক্ষ ডোরিন বাডিলো এই ঘটনাকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে স্বীকার করেছেন যে, বদলি শিক্ষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা স্কুলের নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
মিয়ামিতে বাংলাদেশি মালিকের দোকানে পিকআপ ট্রাক ঢুকে নারী আহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
২.৩ বিলিয়ন ডলারে উবার কিনছে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের স্টার্টআপ
নিউইয়র্কে হোম হেলথ এইড হিসেবে কাজ শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিনা টিউশন ফিতে প্রশিক্ষণ, নিউইয়র্ক স্টেট স্বীকৃত সনদ এবং চাকরিতে প্রবেশের সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নতুন অভিবাসীসহ যাদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে দ্রুত কর্মজীবন শুরু করতে চান, তাদের জন্য এসব কর্মসূচি একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ হতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের শর্ত এক নয়। কোথাও নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক, কোথাও হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন, আবার কিছু কর্মসূচিতে এসএনএপি সুবিধাভোগী হওয়ার শর্ত রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান যোগ্যতা, ক্লাসের তারিখ এবং আসন খালি আছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা জরুরি। নর্দার্ন ম্যানহাটন ইমপ্রুভমেন্ট করপোরেশন বা এনএমআইসি বর্তমানে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণের একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ দিচ্ছে। তাদের চার সপ্তাহের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করলে নিউইয়র্ক স্টেট হোম হেলথ এইড সনদ এবং স্টেট কেয়ার রেজিস্ট্রিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চাকরি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সহায়তা দেয়। সনদ পাওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত চাকরির সুযোগ খোঁজা এবং চাকরিতে টিকে থাকার সহায়তাও দেওয়া হতে পারে। অক্টোবর ২০২৬ অনুযায়ী এনএমআইসির পরবর্তী স্প্যানিশ ভাষার হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ অক্টোবরেই হওয়ার কথা এবং ইংরেজি ভাষার পরবর্তী সেশন নির্ধারিত রয়েছে ২০২৭ সালের শীতকালে। ক্লাস সম্পূর্ণ সরাসরি উপস্থিত হয়ে করতে হয়। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর বাসিন্দা হতে হবে, হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকতে হবে এবং বর্তমানে এসএনএপি সুবিধা পেতে হবে। পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাদানের নথিও লাগতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে কেয়ারিং প্রফেশনালস হোম কেয়ারের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস, নাসাউ কাউন্টি ও ওয়েস্টচেস্টারের বিভিন্ন স্টেট অনুমোদিত অংশীদার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে হোম হেলথ এইড কোর্সের খরচ বহন করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, যারা প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করবেন, তাদের কোর্সের টিউশন দিতে হয় না। কোর্স শেষ করে নিউইয়র্ক স্টেট সনদ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চাকরির সুযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অবস্থানভেদে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১ ডলার পর্যন্ত বেতনের কথা উল্লেখ করছে। নর্থওয়েল হেলথও বছরজুড়ে একাধিক স্থানে বিনা খরচে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তাদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, কোর্সে ৭৫ ঘণ্টার শ্রেণিকক্ষ প্রশিক্ষণের সঙ্গে ১৬ ঘণ্টার তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। নিবন্ধিত নার্সদের তত্ত্বাবধানে রোগীর যত্ন, নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, পুষ্টি, রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো বিষয় শেখানো হয়। নর্থওয়েলের হোম কেয়ার দলে কাজ শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য এই প্রশিক্ষণ চাকরির পথও তৈরি করতে পারে। সেলফহেল্প কমিউনিটি সার্ভিসেসেরও নিউইয়র্কে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। ম্যানহাটনের ৫২০ এইটথ অ্যাভিনিউ ঠিকানায় তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কুইন্সসহ অন্যান্য এলাকায়ও হোম কেয়ার সেবা রয়েছে। তবে বিনা খরচে প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট ব্যাচ বা বর্তমান ভর্তি পরিস্থিতি সময়ভেদে বদলাতে পারে। তাই আগ্রহীদের সরাসরি তাদের প্রশিক্ষণ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান সেশন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের প্রশিক্ষণ নির্দেশিকাতেও হোম হেলথ এইডকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রশিক্ষণযোগ্য পেশা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই বিভাগ এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মসূচি সাধারণ নতুন আবেদনকারীদের জন্য একই ধরনের হোম হেলথ এইড কোর্স নয়। কিছু উদ্যোগ বিশেষভাবে বর্তমানে পার্সোনাল কেয়ার এইড হিসেবে কর্মরতদের হোম হেলথ এইড হিসেবে উন্নীত করার জন্য তৈরি। ফলে শুধু বিনা খরচের অনলাইন কোর্স ভেবে আবেদন না করে নির্দিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা আগে যাচাই করা দরকার। নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কমপক্ষে ৭৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ থাকতে হয়। এর মধ্যে ৫৯ ঘণ্টা শ্রেণিকক্ষ প্রশিক্ষণ এবং ১৬ ঘণ্টা তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। প্রশিক্ষণ অবশ্যই নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ বা স্টেট এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। বেতনের ক্ষেত্রেও হোম হেলথ এইড পেশা নিউইয়র্কে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল একটি প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির সুযোগ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টারে হোম কেয়ার এইডদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১৯ দশমিক ৬৫ ডলার। নির্দিষ্ট চাকরি, অবস্থান, অভিজ্ঞতা, অতিরিক্ত সময়ের কাজ এবং অন্যান্য সুবিধার ওপর ভিত্তি করে মোট আয় আরও বেশি হতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির যারা দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ শুরু করতে চান, বিশেষ করে নতুন অভিবাসী নারী ও পুরুষদের জন্য হোম হেলথ এইড একটি সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের পথ হতে পারে। তবে কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে সেটি বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট অনুমোদিত কি না, কোর্স সত্যিই বিনা খরচে কি না, সনদের ধরন কী এবং চাকরির সুযোগ নিশ্চিত নাকি শুধু চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা দেওয়া হবে, এসব বিষয় যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
৭ অক্টোবরের ইসরাইলিদের স্মরণ বার্ষিকীতে গাজা নিয়ে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনায় মামদানি
অবৈধ মাইগ্রেন্টসদের টিউশন ১৫ হাজার ডলার, মার্কিন শিক্ষার্থীদের ৪২ হাজার! ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা