প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম আর নেই
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনার দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম মারা গেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় স্বল্প সময়ের একটি আকস্মিক অসুস্থতার পর ৭১ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার দপ্তরের যোগাযোগ পরিচালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কঠিন সময়ে তারা সবার কাছে প্রার্থনা কামনা করছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন।
লিন্ডসি গ্রাহাম ২০০৩ সাল থেকে দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধিত্ব করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং বিচারবিষয়ক বিভিন্ন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রদের একজন হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
তার মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে দপ্তরের বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, তিনি স্বল্প সময়ের একটি আকস্মিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ১২৬ জন মৌসুমি কৃষিকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নেসবিট ফ্রুট ফার্মস (Nesbitt Fruit Farms)। প্রতিষ্ঠানটি আপেল সংগ্রহ, বাছাই ও বাগান পরিচর্যার কাজে কর্মী নেবে। ঘণ্টায় বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯.২৫ ডলার। তবে এইচ-২এ কর্মীদের জন্য ঘণ্টায় ১৭.৯১ ডলার উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট সিজনালজবসে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৬ অক্টোবর ২০২৬। চাকরির মেয়াদ ১০ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। কর্মস্থল নিউইয়র্কের ওয়াটারপোর্ট এলাকায়, যার ঠিকানা ১৩১০১ কেনড্রিক রোড, ওয়াটারপোর্ট, নিউইয়র্ক ১৪৫৭১। এটি নিউইয়র্ক সিটির বাইরে অবস্থিত। সরকারি ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি বর্তমানে অ্যাকটিভ দেখানো হচ্ছে। তবে সব পদ এখনো খালি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদের নাম অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্কার উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মীদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বাগান থেকে আপেল সংগ্রহ, ফল বাছাই, আপেলের কনটেইনার ওঠানো ও নামানো, বাগান পরিষ্কার এবং কৃষিকাজের অন্যান্য দায়িত্ব পালন। প্রয়োজনে উপযুক্ত ড্রাইভার লাইসেন্সধারী কর্মীদের যানবাহন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে আবেদন করার জন্য ড্রাইভার লাইসেন্স বাধ্যতামূলক নয়। চাকরিটি ফুলটাইম হলেও অস্থায়ী ও মৌসুমভিত্তিক। সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। প্রতিদিন কাজের নির্ধারিত সময় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আবহাওয়া ও ফসলের পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের সময় পরিবর্তিত হতে পারে। ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার হিসাবে সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টা কাজ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৮৪৭ ডলার। তবে প্রকৃত বেতন ও প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত নিয়োগের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আবেদনকারীদের অন্তত তিন মাসের যাচাইযোগ্য সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত ডিগ্রির শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রতিষ্ঠান বিনা খরচে সরবরাহ করবে। তবে কর্মীদের কাজের উপযোগী নিজস্ব পোশাক ব্যবহার করতে হবে। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-২এ কৃষিকর্মী কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্তে অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারে। তবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কর্মী নেওয়া হবে কি না কিংবা নতুন আবেদনকারীদের ভিসা স্পনসরশিপ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাই বিদেশ থেকে আবেদন করতে আগ্রহীদের বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। আবেদন করতে আগ্রহীরা সরাসরি নেসবিট ফ্রুট ফার্মসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ফোন নম্বর ৫৮৫-৬৮২-৯৭২৫ এবং ইমেইল nesbittfarms24@gmail.com। সরকারি জব অর্ডার নম্বর H-300-26278-279749। এই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সিজনালজবস ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির তথ্য যাচাই করা যাবে। আবেদনের নির্দিষ্ট শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। তবে চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তাই আগ্রহীদের আবেদন করার আগে পদ খালি থাকা, নিয়োগের শর্ত এবং কাজের অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত করার নামে কোনো মধ্যস্থতাকারীকে অগ্রিম অর্থ না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।
মৃত ছেলের দেহ ভেগাসের জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে, ‘প্রমাণ’ পাওয়ার দাবি মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও কঠিন, মর্টগেজ সুদ ৭.৫৫ শতাংশে পৌঁছানোয় বাড়ছে ঋণের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণদের চিকিৎসার খরচে সহায়তা, যোগ্যদের জন্য আসছে ৯০ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে মস্কো। আগামী নভেম্বরেও আরও কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগে জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত সফল হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং এরপরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর অবস্থা অনুকূলে থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও দুই দেশের মধ্যে ডিজেল ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে ট্রাম্প ঘোষিত সব চালানের নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যে এই ঘোষণা এলো। কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং বাড়ি গরম রাখার কাজে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ফলে এর দাম বাড়লে শুধু পরিবহন খরচ নয়, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। যুক্তরাষ্ট্রের মোটরচালক সংগঠন এএএর হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ২৮ সেন্টে পৌঁছায়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান যু দ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তা, কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের—বিশেষ করে কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের—জন্য দাম কমানো তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর মস্কোর জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল বিক্রি, সরবরাহ ও আমদানির অনুমতি দিয়ে একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে। এর ফলে ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্তে রাশিয়ার ডিজেল আমদানি করা যাবে। অর্থাৎ, জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ডিজেল উৎপাদন ও ব্যবহারের তুলনায় ঘোষিত প্রাথমিক চালানের পরিমাণ সীমিত। ফলে বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত ডিজেল এলেও দাম দীর্ঘ সময় কম থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এদিকে ডিজেলের উৎপাদন বাড়াতে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। শিল্প খাতের তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রধানদের ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিতে পারেন। এ নির্দেশনা প্রেসিডেন্টের স্মারকলিপির আকারে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে শীতল যু দ্ধের সময়কার প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ঋণ বা ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং জরুরি পণ্য সরবরাহে সরকারি চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করছে—এমন কিছু স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর উপায়ও খোঁজা হতে পারে। ইরানকে ঘিরে যু দ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নতুন শোধনাগার নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর দক্ষতা বাড়ানো বা সেগুলোর সম্প্রসারণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা বেশি কার্যকর হতে পারে বলে গত মাসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা। নতুন শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় বেশি এবং কাজ শেষ করতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রলের দামও কমার পূর্বাভাস দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর আশা, শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ১ ডলার ৮৫ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৯৫ সেন্টে নেমে আসবে। তবে শুক্রবার এএএর হিসাবে গড় দাম ছিল প্রায় ৪ ডলার ৩৭ সেন্ট। ফলে ট্রাম্পের এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডে সুযোগ দুই ধরনের দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীর, সঙ্গে পরিবার নেওয়ার সুবিধা
আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পরিকল্পনায় কমলা হ্যারিস, তবে স্বামী ডগ এমহফের রয়েছে আপত্তি
যুক্তরাষ্ট্রের রিও গ্র্যান্ডে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির সংকটে পড়তে পারেন দেড় কোটি মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ বাড়ছে আমেরিকানদের। অনেকেই দেশ ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনই নিচ্ছেন না। বরং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ রাখতে দ্বিতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন। তাঁদের একটি বড় অংশের জন্য এই সুযোগ তৈরি হয়েছে পূর্বপুরুষের সূত্রে লুক্সেমবার্গের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে। লুক্সেমবার্গের জাতীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে ৩ হাজার ৫৭৪ জন আমেরিকান দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। নাগরিকত্বের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৬৫৭ জন নতুন করে স্বেচ্ছায় আবেদন, নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার বা অন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লুক্সেমবার্গের নাগরিক হয়েছেন। দুই পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্যের কারণ নাগরিকত্ব পাওয়ার পদ্ধতি। জাতীয় নিবন্ধনে যাঁদের নাগরিক হিসেবে গণনা করা হয়েছে, তাঁদের সবাই ওই বছর নতুন করে আবেদন করে নাগরিকত্ব পাননি। তাঁদের অনেকেই আইন অনুযায়ী আগে থেকেই লুক্সেমবার্গের নাগরিক হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য ছিলেন। যেমন, জন্মের সময় বাবা বা মা লুক্সেমবার্গের নাগরিক হলে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক শর্ত পূরণ করে দেশটিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। তবে স্বেচ্ছায় আবেদন করে নাগরিকত্ব পাওয়া ৬৫৭ জনের সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিকল্প পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেনভারের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ক্যারিস ক্যাসিডির অভিজ্ঞতায় এই প্রবণতার ব্যক্তিগত দিকটি উঠে এসেছে। তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী। ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে বসবাসের চিন্তা তাঁর মনে ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ আরও জোরালো হয়। ক্যাসিডির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন নতুন কিছু নয়। তবে দেশটিতে সামাজিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ইউরোপের তুলনায় কম বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে নিজের অবস্থার উন্নতি করতে চাইলেও অনেক সময় বিপুল ঋণের বোঝা নিতে হয়, আবার কখনো বাসস্থান কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও কাটছাঁট করতে হয়। অনলাইনে পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে ক্যাসিডি জানতে পারেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন ছিলেন লুক্সেমবার্গের বাসিন্দা। তাঁর পাঁচ প্রজন্ম আগের এক পূর্বপুরুষের সূত্র ধরে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওই পূর্বপুরুষ ১৮১৫ সালের পর লুক্সেমবার্গে জন্মেছিলেন বলে নাগরিকত্বের জন্য প্রাসঙ্গিক বংশগত শর্তের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস মিলে যায়। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইনে নির্দিষ্ট বংশধারার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং পূর্বপুরুষের জন্মসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে নারীরাও তাঁদের সন্তানদের নাগরিকত্বের অধিকার দিতে পারেন। ক্যাসিডিকে পারিবারিক নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় দিতে হয়। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাঁকে ভাষা পরীক্ষা দিতে হয়নি কিংবা লুক্সেমবার্গে গিয়েও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়নি। মার্চে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগের কারণেই দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তবে ইউরোপে কোথায় স্থায়ীভাবে থাকবেন, সে বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা তখনও চূড়ান্ত হয়নি। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা ড্যানিয়েল অ্যাটজও এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন। নেব্রাস্কায় জন্ম নেওয়া অ্যাটজ নিজেও পূর্বপুরুষের সূত্রে দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তাঁর প্রপিতামহীর মা মার্গারিট ক্রুখটেন লুক্সেমবার্গে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি কানসাসে চলে যান। ২০০৮ সালে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট শর্তে ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি জীবিত থাকা লুক্সেমবার্গের নাগরিক পূর্বপুরুষের বংশধরদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়। ২০১৭ সালে পাস হওয়া আরেকটি আইনে যোগ্য বংশধরদের জন্য একই ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যার আবেদন করার সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ২০১৪ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অ্যাটজ লুক্সেমবার্গে তাঁর হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়দের খুঁজে পান। তাঁদের একজন অ্যানেটের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অ্যাটজের ভাষায়, এই নাগরিকত্ব তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্য আমেরিকানদের আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। অ্যাটজ জানান, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময়ও লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের আবেদন বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহের মাত্রা আরও বেশি। তাঁর প্রতিষ্ঠানে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর থেকে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর কর্মীর সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে ১৫ হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯০০ আমেরিকান নাগরিকত্বপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, যা মোট আবেদনকারীদের আনুমানিক ১৫ শতাংশ। লুক্সেমবার্গ সরকারের অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৬৯০। প্রতিবেশী জার্মানিতে বসবাসরত নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৯২৫। জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ৯৫২ জন বেড়েছে। তবে নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই লুক্সেমবার্গে চলে যাওয়া নয়। অ্যাটজের মতে, তাঁদের অধিকাংশই দেশটিতে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন না। অনেকেই স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশকে বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন। লুক্সেমবার্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি কাজের সুযোগও সবার পেশাগত চাহিদার সঙ্গে মেলে না। ক্যাসিডিও ভবিষ্যতে লুক্সেমবার্গে থাকার কথা ভাবছেন, তবে আর্থিক দিক থেকে তা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি জানান, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি। ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর কাছে কিছুটা ভীতিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবু যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা পুরোপুরি হারাননি ক্যাসিডি। তাঁর মতে, দেশটিতে অনেক কঠিন ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসনের বাকি সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ কেবল দেশত্যাগের প্রবণতা নয়; অনেকের কাছে এটি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একটি বিকল্প ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্বের সুযোগ থাকায় তাঁরা প্রয়োজনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাস ও কাজের পথ খোলা রাখতে চাইছেন।
বাড়ির সম্পত্তি কর ও আয়করে মিলতে পারে বড় ছাড়, ২০২৬ সালে করদাতাদের করণীয়
ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার